সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস

রাজনীতি

চিফ হুইপের বক্তব্যের নিন্দা জানাল জামায়াত

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জয়ী না হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে উন্নয়নকাজ না করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনির বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার, ১৭ অক্টোবর দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ১৫ অক্টোবর বামনা আসমাতুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয় মাঠে বিএনপির এক কর্মীসভায় নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, দলীয় মনোনীত প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী না হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে কোনো উন্নয়নকাজ করা হবে না। জামায়াতের এই নেতা বক্তব্যটিকে দায়িত্বজ্ঞানহীন উল্লেখ করে বলেন, এটি জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে নেওয়া শপথের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও অভিযোগ করেন, চিফ হুইপ তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, দলীয় প্রার্থী জয়ী না হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের মানুষ উন্নয়নকাজের জন্য তাঁর কাছে আসতে পারবেন না। আরও পড়ুন,অধিকার সুরক্ষিত থাকলে সমর্থন জানাবেন হিন্দুরা: সালাহউদ্দিনঅন্য প্রার্থী নির্বাচিত হলে ওই ইউনিয়নের ভাগ্য পুড়বে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।জামায়াতের এই নেতা বলেন, এ ধরনের বক্তব্য স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের হুমকি এবং নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। একই সঙ্গে এটি জনগণের স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা। বিবৃতিতে বর্তমান সরকারের কয়েকজন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর বক্তব্য নিয়েও সমালোচনা করেন এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তাঁর অভিযোগ, অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার মতো বক্তব্য গণতান্ত্রিক উত্তরণকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করে কেউ কেউ নব্য ফ্যাসিবাদের পরিচয় দিচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জামায়াতের এই নেতা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এমন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনেরও আহ্বান জানান তিনি। তবে এ ঘটনায় নূরুল ইসলাম মনির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা সরবরাহ করা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

ইলিশ সংরক্ষণে মাঠপর্যায়ে এমপিদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান

ইলিশ সংরক্ষণে মাঠপর্যায়ে এমপিদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান

মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে দেশের ৩৮টি জেলার ১১১ জন সংসদ সদস্যকে ডিও লেটার বা আধা-সরকারি পত্র দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ। রোববার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের কাছে এসব নির্দেশনা পাঠানো হয়। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ সফলভাবে বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়াতে সংসদ সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী। ডিও লেটারে আমিন উর রশিদ উল্লেখ করেন, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মৎস্যসম্পদ এবং ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য। দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, পুষ্টিনিরাপত্তা ও সংস্কৃতির সঙ্গে ইলিশের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পদের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ৮ অক্টোবর থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, অভিযান চলাকালে নির্ধারিত এলাকায় সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও আইনত নিষিদ্ধ।আরও পড়ুন,দুর্নীতির মামলায় কাতারে গ্রেপ্তার সাবেক বিমানপ্রধানইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখা এবং ভবিষ্যতে উৎপাদন ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে এ অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিও লেটারে তিনি আরও বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণের মতো জাতীয় কর্মসূচি সফল করতে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা মৎস্য অধিদপ্তরের কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং সামাজিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জেলেদের আইন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা এবং অবৈধভাবে ইলিশ আহরণ নিরুৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মন্ত্রী। সংশ্লিষ্টদের আশা, জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান আরও কার্যকর হবে। এতে ইলিশের প্রজনন সুরক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...
ড্রোন হামলায় রুশ তেল টার্মিনালে আগুন

ড্রোন হামলায় রুশ তেল টার্মিনালে আগুন

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ ও আশপাশের লেনিনগ্রাদ অঞ্চলে ইউক্রেনের ১২৬টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ। রোববার ১৮ অক্টোবরের এ ঘটনায় সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি তেল টার্মিনালে আগুন ধরে যায়। পাশাপাশি দেশটির অন্যতম ব্যস্ত পুলকোভো বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলও ব্যাহত হয়েছে। লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার দ্রোজদেনকো জানান, বড় পরিসরে চালানো ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে অভিযান চালানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ বাড়িঘর, গাড়ি ও বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়েছে। এতে কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকজান্ডার বেগলভ জানান, ইউক্রেনের হামলায় সেন্ট পিটার্সবার্গ অয়েল টার্মিনালে আগুন ধরে যায়। গত জুনেও এই টার্মিনালে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। আরও পড়ুন,বিদেশি কর্মীদের ‘দাস’ বলা নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন ভ্যান্সহামলার পর নিরাপত্তার কারণে শহরটির প্রধান বিমানবন্দর পুলকোভোর কার্যক্রম সীমিত করা হয়। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, বিমানবন্দরটিতে উড়োজাহাজের বহির্গমন ব্যাহত হয়েছে। এদিকে, রাশিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিকে দাবি করেছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ওই অঞ্চলে তাদের একটি ডেটা সেন্টার। তবে কেন্দ্রটির কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে আবারও হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদপত্র ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার জবাবে ইউক্রেন দেশটির ভূখণ্ডে পাল্টা হামলা চালাবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও তেলের ডিপোতে ইউক্রেনের হামলার সমালোচনা করেছেন। শুক্রবার রাশিয়ার জ্বালানি খাতের আয় লক্ষ্য করে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক স্থগিত করার বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন তিনি। এ পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে সমালোচনার মুখে পড়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

৯ ঘন্টা আগে
বিদেশি কর্মীদের ‘দাস’ বলা নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন ভ্যান্স

বিদেশি কর্মীদের ‘দাস’ বলা নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন ভ্যান্স

এইচ-১বি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করা বিদেশি কর্মীদের ‘চুক্তিবদ্ধ দাস’ বলার বিষয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি স্বীকার করেছেন, বক্তব্যের ভাষা হয়তো যথাযথ ছিল না। একই সঙ্গে নিজের ভারতীয় শ্বশুর-শাশুড়ির কথা উল্লেখ করে তাদের প্রতি ভালোবাসার কথাও জানিয়েছেন তিনি। রোববার ১৮ অক্টোবর ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসননীতিতে এমন ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন, যাতে বিদেশি কর্মীদের প্রতি সম্মান বজায় রাখার পাশাপাশি মার্কিন কর্মীদের স্বার্থও সুরক্ষিত থাকে। ভ্যান্সের স্ত্রী ঊষা ভ্যান্সের পরিবারের শিকড় দক্ষিণ ভারতে। তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়েছিলেন। ভ্যান্স বলেন, দক্ষিণ ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা তাঁর শ্বশুর-শাশুড়িকে তিনি ভালোবাসেন। তাঁদের মেয়ে ঊষা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে দেশটির সেকেন্ড লেডি। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি গর্বিত বলেও জানান। ভ্যান্সের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রে অবদান রাখতে আগ্রহী বিদেশি কর্মীদের স্বাগত জানানো উচিত। তবে বিদেশি কর্মী নিয়োগের অজুহাতে কোনো প্রতিষ্ঠান আগে থেকে কর্মরত মার্কিন নাগরিকদের চাকরিচ্যুত করতে পারে না।আরও পড়ুন,মৃত যমজ ভাইয়ের পরিচয়ে ১৯ বছর পালিয়ে অবশেষে গ্রেপ্তারতাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বিদেশি ও মার্কিন উভয় কর্মীর জন্যই ক্ষতিকর। এই বিতর্কের সূত্রপাত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অভিবাসনসংক্রান্ত কঠোর অবস্থান থেকে। চলতি মাসের শুরুতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম বা পিইআরএমের আওতায় আবেদনপ্রক্রিয়া স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। তালিকায় মাইক্রোসফট, কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস, উইপ্রো, এইচসিএল ও ক্যাপজেমিনির মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় পিইআরএম গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। এর মাধ্যমে নিয়োগকর্তারা নির্দিষ্ট শর্তে বিদেশি কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের আবেদনে স্পনসর করতে পারেন। বিদেশি পেশাজীবীদের ‘চুক্তিবদ্ধ দাস’ হিসেবে বর্ণনা করার ঘটনায় এর আগে প্রতিবাদ জানিয়েছিল ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মন্তব্যটিকে অযৌক্তিক ও গভীরভাবে আপত্তিকর বলে উল্লেখ করে। ভারতের বক্তব্য, দেশটিতে জন্ম নেওয়া বহু দক্ষ পেশাজীবী যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও উদ্ভাবন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। ভ্যান্সের সর্বশেষ বক্তব্যে ভাষার জন্য দুঃখ প্রকাশের ইঙ্গিত থাকলেও অভিবাসননীতিতে মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষার অবস্থান তিনি বজায় রেখেছেন। ফলে এইচ-১বি ভিসা, বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ এবং গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বিতর্ক অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত মিলছে।

১০ ঘন্টা আগে
মৃত যমজ ভাইয়ের পরিচয়ে ১৯ বছর পালিয়ে অবশেষে গ্রেপ্তার

মৃত যমজ ভাইয়ের পরিচয়ে ১৯ বছর পালিয়ে অবশেষে গ্রেপ্তার

মৃত যমজ ভাইয়ের পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘ ১৯ বছর পুলিশের চোখ এড়িয়ে চলা চীনের এক পলাতক ডাকাত অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন। মৃত ভাইয়ের সাবেক প্রেমিকার দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে ২০০২ সালের একটি ডাকাতির ঘটনার ২৪ বছর পর তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা সামনে আসার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনাটি ২০০২ সালের। চীনের পূর্বাঞ্চলীয় ঝেজিয়াং প্রদেশের ইউহুয়ানে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে নগদ অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটের ঘটনায় সাতজন জড়িত ছিলেন। পুলিশ দ্রুত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করতে পারলেও চেন নামের সপ্তম সন্দেহভাজন পালিয়ে যান। দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পাওয়ায় একপর্যায়ে তদন্ত থমকে যায়। এর পাঁচ বছর পর, ২০০৭ সালে মধ্য চীনের আনহুই প্রদেশ থেকে পুলিশ জানতে পারে, সড়ক দুর্ঘটনায় চেনের মৃত্যু হয়েছে এবং তার নাগরিক নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে তাকে মৃত ধরে তদন্ত স্থগিত করা হয়। আরও পড়ুন,অভিবাসন পথে শিশু মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা অজানাতবে দীর্ঘদিন পর মামলাটি পুনরায় পর্যালোচনা করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, আনহুইয়ের এক ব্যক্তি তার মৃত যমজ ভাইয়ের পরিচয় ব্যবহার করে বসবাস করছেন। পুরোনো মামলার নথি যাচাই করে তদন্তকারীরা ওই ব্যক্তির পরিচয়, জন্মস্থান ও পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে মিল খুঁজে পান। তদন্তে আরও জানা যায়, ২০০৭ সালে কথিত মৃত্যুর মাত্র নয় দিন পর চেনের নাম পরিবর্তনের আবেদন করা হয়েছিল। পুরোনো ও নতুন পরিচয়পত্রের ছবি তুলনা করে তদন্তকারীরা চেহারা ও অভিব্যক্তির কিছু পার্থক্য শনাক্ত করেন। এতে তাদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পেয়ে পুলিশ চেনের মৃত যমজ ভাইয়ের সাবেক প্রেমিকা দেং-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে। দুর্ঘটনার আগে ওই ভাইয়ের সঙ্গে দেং-এর বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। পুলিশকে তিনি জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন বড় ভাই, আর বেঁচে থাকা ব্যক্তিই ছিলেন পলাতক চেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে গত জুন মাসে চেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। চীনের ফৌজদারি আইন অনুযায়ী, ডাকাতির অপরাধে তার তিন থেকে দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে সাবেক প্রেমিকার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, পলাতক আসামির পরিচয় গোপন রাখতে পরিবারের সদস্যরা সহায়তা করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।

১০ ঘন্টা আগে
অভিবাসন পথে শিশু মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা অজানা

অভিবাসন পথে শিশু মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা অজানা

উন্নত জীবন ও নিরাপত্তার আশায় ঝুঁকিপূর্ণ পথে অভিবাসনের চেষ্টা করতে গিয়ে গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে চার হাজার ৪১৪ জনের বেশি শিশু মারা গেছে অথবা নিখোঁজ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএমের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক তথ্য। তবে নিখোঁজের ঘটনা এবং বয়স-পরিচয় শনাক্ত করতে না পারার কারণে শিশু মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন অভিবাসন রুটে এসব শিশু মৃত্যুর ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ, মরুভূমির তীব্র গরম, পানিশূন্যতা, অনাহার এবং মানব পাচারকারীদের নির্যাতন বিভিন্ন কারণে প্রাণ হারাচ্ছে শিশুরা। শিশুদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক অভিবাসন রুট হিসেবে উঠে এসেছে ভূমধ্যসাগর। উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে দুই হাজারের বেশি শিশুর মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার সময় মরুভূমির চরম আবহাওয়া ও নদীতে ডুবে অন্তত ৮৫০ শিশুর মৃত্যুর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আরও পড়ুন,ভূমিকম্পে কাঁপল খুজদারসহ আশপাশের এলাকাসাহারা মরুভূমি ও হর্ন অব আফ্রিকার দুর্গম পথেও পানিশূন্যতা ও তীব্র গরমে প্রাণ হারাচ্ছে বহু শিশু। আইওএম ও জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহ কিংবা দুর্ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের বড় একটি অংশের বয়স ও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। ফলে প্রকৃত চিত্র নথিভুক্ত পরিসংখ্যানের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মৃত শিশুদের মধ্যে যাদের বয়স শনাক্ত করা গেছে, তাদের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুও রয়েছে। তবে বহু ঘটনার ক্ষেত্রে বয়স ও লিঙ্গের তথ্য পাওয়া যায়নি। গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮১ হাজার অভিবাসীর মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে আইওএম। এর মধ্যে ৪৪ হাজার ৮৬২টি ঘটনায় বয়সসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। আইওএমের মহাপরিচালক বলেছেন, আইনি ও নিরাপদ অভিবাসনের সুযোগের অভাব শিশুদের চরম ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যদিকে সংস্থাটির ডেটা ও পলিসি বিভাগের প্রধান স্টুয়ার্ট ক্যাম্পো প্রতিটি শিশুর মৃত্যুর তথ্য সঠিকভাবে নথিভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। শিশুদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সীমান্তে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার, মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং দেশগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।

১৭ অক্টোবর ২০২৬
ভূমিকম্পে কাঁপল খুজদারসহ আশপাশের এলাকা

ভূমিকম্পে কাঁপল খুজদারসহ আশপাশের এলাকা

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শনিবার ১৭ অক্টোবর স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৬ মিনিটে এ কম্পন অনুভূত হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া যায়নি। পাকিস্তানের আবহাওয়া দপ্তরের সিসমিক শাখা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল বেলুচিস্তানের খুজদার জেলা থেকে ৪৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি হওয়ায় আশপাশের এলাকায় তুলনামূলক তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, খুজদার ছাড়াও আশপাশের খারান ও কালাত জেলায় ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়। বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি কিংবা প্রাণহানির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আরও পড়ুন,ইরানের হামলায় গোপন হুমকিতে ছিল আমিরাততবে খুজদারের কাছাকাছি গ্রামীণ এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূপৃষ্ঠের ৭০ কিলোমিটারের কম গভীরে সংঘটিত ভূমিকম্পকে অগভীর ভূমিকম্প বলা হয়। এ ধরনের ভূমিকম্পের তরঙ্গ ভূপৃষ্ঠে পৌঁছানোর সময় তুলনামূলক কম শক্তি হারায়। ফলে দুর্বল কাঠামোর ভবনে ফাটল দেখা দেওয়া এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। উল্লেখ্য, প্রায় ৩ লাখ ৪৭ হাজার ১৯০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বেলুচিস্তান ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও অ্যারাবিয়ান—এই তিনটি বড় টেকটোনিক প্লেটের সক্রিয় সংযোগস্থলে অবস্থিত। প্লেটগুলোর নড়াচড়ার কারণে অঞ্চলটিতে প্রায়ই মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়। বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, ৬ মাত্রার বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্প তুলনামূলক বিরল হলেও বেলুচিস্তানে ৫ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প মাঝেমধ্যে আঘাত হানে।

১৭ অক্টোবর ২০২৬
ইরানের হামলায় গোপন হুমকিতে ছিল আমিরাত

ইরানের হামলায় গোপন হুমকিতে ছিল আমিরাত

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় একাধিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইউএই। আকাশপথে হামলার পাশাপাশি ইরানি বাহিনীকে সহায়তাকারী গুপ্তচর ও ‘স্লিপার সেল’-এর মতো গোপন হুমকিও মোকাবিলা করতে হয়েছিল দেশটিকে। শুক্রবার ১৬ অক্টোবর গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দুবাইয়ে ইউএই করেসপন্ডেন্টস কাউন্সিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় দেশটির ফেডারেল ন্যাশনাল কাউন্সিলের প্রতিরক্ষা, অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ডক্টর আলী রশিদ আল নুয়াইমি এসব নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কথা জানান। তিনি বলেন, হামলার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও দেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিল সরকার। শপিং মল, রেস্তোরাঁ ও সমুদ্রসৈকত খোলা রেখে জনজীবন সচল রাখা হয়। আল নুয়াইমি জানান, হামলার সময় আবুধাবির গ্যালেরিয়া মলে তাঁর উপস্থিতি এক ইসরায়েলি পরিচিতজনকে বিস্মিত করেছিল। আরও পড়ুন,মোদি সরকারের সমালোচনা করে বিতর্কে সালমান রুশদিতাঁর মতে, সংঘাতের মধ্যেও এ ধরনের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে সামাজিক সহাবস্থান ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ইতিবাচক দিক তুলে ধরে। তিনি আরও জানান, উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতেও সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর লক্ষ্যে সম্প্রতি পৃথকভাবে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। এদিকে, উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশ ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুপ্তচরবৃত্তি ও নাশকতামূলক নেটওয়ার্ক ধ্বংসের কথা জানিয়েছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে কুয়েত, বাহরাইন ও কাতার। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ক্রাইসিস অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাভাবিক জনজীবন বজায় রাখা উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১৭ অক্টোবর ২০২৬
মোদি সরকারের সমালোচনা করে বিতর্কে সালমান রুশদি

মোদি সরকারের সমালোচনা করে বিতর্কে সালমান রুশদি

ভারতে অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক সালমান রুশদি। ভারতের তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনকে আশার আলো হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করেছেন। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এশিয়ান আমেরিকান রাইটার্স ওয়ার্কশপের তহবিল সংগ্রহে আয়োজিত এক নৈশভোজে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন রুশদি। অনুষ্ঠানে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে কথা বলেন তিনি। সালমান রুশদি বলেন, ভারতে বর্তমানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত। তবে দেশটির তরুণ-তরুণীরা দীর্ঘদিন পর মানুষের মধ্যে আশার আলো জাগিয়েছেন। এ সময় তিনি ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকে উদ্‌যাপন এবং এর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন সাংবাদিক ও লেখক অমিতাভ কুমার। রুশদির এই বক্তব্যের পর ভারতের হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক মহল ও ডানপন্থী চিন্তকদের একাংশের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অতীতে ইসলামি কট্টরপন্থার সমালোচনার কারণে যাঁরা তাঁকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে প্রশংসা করেছিলেন, তাঁদের একাংশ এখন মোদি সরকারের সমালোচনায় তাঁর অবস্থানের বিরোধিতা করছেন। ভারতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অতীত স্মৃতিও তুলে ধরেন সালমান রুশদি। আরও পড়ুন,৭০ বছর পর চালু হলো বাংলাদেশ-আসাম নৌবাণিজ্যপথশৈশবে বোম্বেতে বেড়ে ওঠার সময় বিভিন্ন ধর্মের মানুষের একসঙ্গে উৎসব উদ্‌যাপনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন কে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিষ্টান কিংবা পার্সি তা বিবেচনা না করে সবাই একসঙ্গে আনন্দে অংশ নিতেন। কিন্তু বর্তমান ভারতে সেই চিত্র আর আগের মতো দেখা যায় না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপূজায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্কও সামনে এসেছে। একটি সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এবার পূজামণ্ডপে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কট্টরপন্থীদের একাংশের প্রচারণাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির মা চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ারও ওই নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে তিনি নিজেকে ‘ককরোচদের মা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভারতে ‘আরশোলারা’ গণতন্ত্রের জন্য লড়ছে। তাঁদের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সালমান রুশদির বক্তব্যের পক্ষে অনেকে সমর্থন জানালেও, তাঁর মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশ্নে এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

১৭ অক্টোবর ২০২৬
৭০ বছর পর চালু হলো বাংলাদেশ-আসাম নৌবাণিজ্যপথ

৭০ বছর পর চালু হলো বাংলাদেশ-আসাম নৌবাণিজ্যপথ

দেশভাগের পর দীর্ঘ ৭০ বছর বন্ধ থাকার পর আবারও সচল হলো বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক নৌবাণিজ্যপথ। ভারতের আসাম রাজ্যের ডিব্রুগড় থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে সরাসরি বাংলাদেশের বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে পণ্যবাহী জাহাজ। এই উদ্যোগকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ৫ অক্টোবর আসামের ব্রহ্মপুত্র নদের বগিবিল টার্মিনাল থেকে ৫৪০ মেট্রিক টন মিথানল নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেয় ‘ডিএলবি পাটকাই’ নামের একটি কার্গো জাহাজ। জাহাজটিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে ‘কুশল কোঁয়র’ নামের একটি শক্তিশালী টাগবোট। মিথানল উৎপাদন করেছে আসাম সরকারের প্রতিষ্ঠান আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেডের নামরূপ কারখানা। ভারতের বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রণালয় এই যাত্রাকে ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। কারণ, স্বাধীনতার পর এই প্রথম আসামের ডিব্রুগড় থেকে উৎপাদিত কোনো বাণিজ্যিক পণ্য সরাসরি বাংলাদেশের বন্দরের উদ্দেশে নদীপথে পাঠানো হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাহাজটি ভারতের জাতীয় নৌপথ-২ ধরে প্রায় ৭৬৮ কিলোমিটার অতিক্রম করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছাবে। এরপর দুই দেশের অভ্যন্তরীণ নৌ ট্রানজিট ও বাণিজ্য প্রটোকল রুট ব্যবহার করে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পানগাঁও বন্দরের দিকে এগিয়ে যাবে। বগিবিল থেকে পানগাঁও পর্যন্ত মোট দূরত্ব প্রায় এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার।আরোও পড়ুন,যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা কমাতে ভারতের সঙ্গে চুক্তিতে কানাডা এই নৌপথ চালুর ফলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পণ্য পরিবহনে নতুন বিকল্প তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডোর দিয়ে সড়ক ও রেলপথে পণ্য পরিবহনের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বাজারে আসামের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি পণ্য সরবরাহও সহজ হতে পারে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এই উদ্যোগকে রাজ্যের জন্য গর্বের মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে নৌপথটি কতটা লাভজনক হবে, তা নির্ভর করবে পণ্য পৌঁছানোর সময়, পরিবহন খরচ এবং নিয়মিত জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর। এর আগে ২০২২ সালে বাংলাদেশের জলপথ ব্যবহার করে টাটা স্টিলের পণ্যবাহী বার্জ ভারতের পান্ডুতে পৌঁছেছিল। ২০২৩ সালে পর্যটকবাহী ‘এমভি গঙ্গা বিলাস’ও বাংলাদেশ অতিক্রম করে ডিব্রুগড়ের পথে যাত্রা করেছিল। তবে এবারের বিশেষত্ব হলো, আসাম থেকে সরাসরি বাংলাদেশের উদ্দেশে বাণিজ্যিক পণ্য পাঠানো। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি চালানের মাধ্যমে এই নৌপথের পূর্ণ সম্ভাবনা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। নিয়মিত পণ্য পরিবহন এবং ফিরতি পথে পণ্য বহনের সুযোগ তৈরি হলে দুই দেশের বাণিজ্য আরও গতিশীল হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ঐতিহাসিক এই যাত্রা কত দ্রুত একটি নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বাণিজ্যপথে পরিণত হয়।

১৫ অক্টোবর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা কমাতে ভারতের সঙ্গে চুক্তিতে কানাডা

যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা কমাতে ভারতের সঙ্গে চুক্তিতে কানাডা

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাণিজ্যিক নির্ভরতা কমাতে ভারতের সঙ্গে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে কানাডা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংরক্ষণবাদী বাণিজ্যনীতির প্রেক্ষাপটে নিজেদের বাণিজ্য বহুমুখীকরণে জোর দিচ্ছে দেশটি। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে অটোয়ার। নয়াদিল্লিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনিতা আনন্দ বলেন, ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বাণিজ্য বহুমুখীকরণ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আগামী ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্যান্য দেশের সঙ্গে কানাডার বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় ভারত ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ করতে চায় কানাডা। তবে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে দেশটি। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। আরোও পড়ুন,সার পরিবহনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘের আহ্বানসম্প্রতি ভারতের বাণিজ্য আলোচকেরা কানাডা সফর করেছেন। অন্যদিকে, কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী মানিন্দর সিধু একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল নিয়ে বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও নরেন্দ্র মোদিও এ চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন। আগামী ডিসেম্বরে মোদির কানাডা সফরের কথা রয়েছে। কানাডার হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের পণ্য ও সেবাবাণিজ্য বছরে সাত হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২৫ সালে এই বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৪০ কোটি ডলার। দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে কানাডার প্রতিষ্ঠান কামেকো ও ভারতের মধ্যে ২৬০ কোটি কানাডীয় ডলারের ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তির কথাও উল্লেখ করেছেন অনিতা আনন্দ। পাশাপাশি ভারতের আইডিবিআই ব্যাংকের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা অধিগ্রহণে কানাডার ফেয়ারফ্যাক্স ফাইন্যানশিয়াল হোল্ডিংসের চুক্তিও অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কানাডা ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। বর্তমানে সেই সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনের শাসনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হলে কানাডার বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও নতুন গতি আসতে পারে।

১৫ অক্টোবর ২০২৬
সার পরিবহনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘের আহ্বান

সার পরিবহনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘের আহ্বান

হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় এশিয়া ও আফ্রিকার কয়েকটি অঞ্চলে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর প্রভাবে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির প্রস্তাব, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে সার পরিবহনের ব্যবস্থা করা হোক। বুধবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংকের বৈঠকের ফাঁকে রয়টার্সকে এ কথা জানান জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল হোর্হে মোরেইরা দা সিলভা। তিনি বলেন, বীজ বপনের মৌসুম ঘনিয়ে আসায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবে সম্মত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। নির্ধারিত সময়ে কৃষকেরা সার না পেলে ফসলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়বে খাদ্যের বাজারেও, বাড়তে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। জাতিসংঘের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওমানে সংস্থাটির কর্মীদের পরিচালনায় একটি সমন্বয়কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এই কেন্দ্র থেকে জাহাজ নিবন্ধন এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচল তদারকি করা হবে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হলে মাত্র সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে এ ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন দা সিলভা।আরোও পড়ুন,জ্যোতিনগর কলোনিতে পানিসংকট, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগতাঁর মতে, প্রতিদিন মাত্র পাঁচটি জাহাজ চলাচল করতে পারলেও জরুরি ভিত্তিতে সার প্রয়োজন এমন দেশগুলোতে সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। এদিকে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দামও বাড়ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার খাদ্যমূল্য সূচক সেপ্টেম্বরে প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কা এর অন্যতম কারণ। এল নিনোর প্রভাবে চিনির দাম ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। অন্যদিকে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের কারণে গমের ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তির দামও তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ইউরিয়া ও সালফারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সার এবং সার তৈরির কাঁচামাল পরিবহনও সংকটে পড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট ইউরিয়া পরিবহনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত সালফারের প্রায় অর্ধেক এই প্রণালি দিয়ে যেত। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং খাদ্যনিরাপত্তার সংকট আরও গভীর হতে পারে। তাই সম্ভাব্য বড় ধরনের খাদ্যসংকট এড়াতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার পরিবহন স্বাভাবিক করতে দ্রুত আন্তর্জাতিক সমঝোতার ওপর জোর দিচ্ছে জাতিসংঘ।

১৫ অক্টোবর ২০২৬
“

মক্কা-মদিনার পবিত্রতা রক্ষায় ঢাকায় সেমিনার

পবিত্র মক্কা মুকাররমা ও মদিনা মুনাওয়ারার নিরাপত্তা, মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারের বক্তারা। তাঁরা বলেছেন, পবিত্র দুই মসজিদের নিরাপত্তার প্রতি যেকোনো হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় মুসলিম বিশ্বের সংহতি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। গত শনিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে ‘হারামাইন শরীফাইনের নিরাপত্তা ও মর্যাদায় মুসলিম উম্মাহর করণীয়’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সৌদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি, বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি ড. মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ। সেমিনারে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ইসলামি স্কলার ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মানযুর এ ইলাহী, প্রফেসর ড. আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া, প্রফেসর ড. মুসলেহুদ্দীন, অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ ফারুক, ড. শহীদুল্লাহ খান মাদানীসহ অন্যরা। বক্তারা বলেন, মক্কা ও মদিনা শুধু সৌদি আরবের নয়, বরং বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের ঈমান, ভালোবাসা ও ধর্মীয় অনুভূতির কেন্দ্রবিন্দু। আরও পড়ুন,ইশরাকের পিস্তল উঁচানোর ঘটনায় জামায়াতের নিন্দাতাই পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সচেতনতা, সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা ও সশস্ত্র সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা ইয়েমেনের হাউছি গোষ্ঠীর হামলার ঘটনাগুলোকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁদের মতে, পবিত্র স্থান, বেসামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর ও তৈলশোধনাগারে হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক শান্তির পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। সেমিনারে মুসলিম বিশ্বের বিভেদ ও পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর করে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, সংলাপ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, আবেগনির্ভর প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ, দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজতে হবে। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়ে তাঁরা বাংলাদেশ সরকারকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে পবিত্র দুই মসজিদের নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সংস্থা, মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দ ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন সেমিনারের বক্তারা।

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ২ জন
লিংক কপি করা হয়েছে!

জেলার খবর

আইএমএফের হিসাবে রিজার্ভ ৩১.৫৮ বিলিয়ন ডলার

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের শনিবার ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ এখন ৩৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত মোট রিজার্ভের হিসাব এবং আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তুলনাযোগ্য হিসাব পেতে বিপিএম৬ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। আরও পড়ুন,মাতারবাড়ী ঘিরে জাপানের বড় পরিকল্পনাবৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একটি দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক। আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের প্রয়োজন মেটাতে এই রিজার্ভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও রিজার্ভের গুরুত্ব রয়েছে। তবে রিজার্ভের বর্তমান পরিমাণ দিয়ে অর্থনীতির সামগ্রিক অবস্থা মূল্যায়ন করতে হলে আমদানি ব্যয়, রেমিট্যান্স প্রবাহ, রপ্তানি আয় এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের মতো বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার এবং আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে তা ৩১ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার। রিজার্ভের পরবর্তী পরিবর্তন নির্ভর করবে বৈদেশিক মুদ্রার আয়-ব্যয় এবং দেশের আন্তর্জাতিক লেনদেনের পরিস্থিতির ওপর।

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চিফ হুইপের বক্তব্যের নিন্দা জানাল জামায়াত
মাঠের বাইরেও ধাক্কা ভিনিসিয়ুসের, প্রেমিকা ভার্জিনিয়ার সঙ্গে বিচ্ছেদ

মাঠের বাইরেও ধাক্কা ভিনিসিয়ুসের, প্রেমিকা ভার্জিনিয়ার সঙ্গে বিচ্ছেদ

মাঠের ভেতরে লাল কার্ডের বিতর্ক, মাঠের বাইরে প্রেমের সম্পর্কে বিচ্ছেদ সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার করছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ডের সঙ্গে প্রেমিকা ভার্জিনিয়া ফনসেকার সম্পর্কের ইতি টানার খবর নিশ্চিত করেছে ফনসেকার দপ্তর। ফরাসি সংবাদমাধ্যম আরএমসি স্পোর্টের বরাতে জানা গেছে, ফনসেকার দপ্তর ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে কোনো ঝগড়া বা বিবাদ হয়নি। বরং দুজনের সম্মতিতেই সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন,আবুধাবিতে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান তৃতীয় টেস্ট আজতবে এ বিষয়ে ভিনিসিয়ুস কিংবা ভার্জিনিয়া—কেউই এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। ভিনিসিয়ুস ও ভার্জিনিয়ার সম্পর্ক নিয়ে ব্রাজিল ও স্পেনের সংবাদমাধ্যমে আলোচনা চলছিল গত বছরের অক্টোবর থেকে। তাঁদের সম্পর্কে এর আগেও বিচ্ছেদ ঘটেছিল। গত মে মাসে আলাদা হয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশ্যে এলেও জুলাইয়ে আবার একসঙ্গে দেখা যায় দুজনকে। এরপর বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও একসঙ্গে উপস্থিত হয়েছেন তাঁরা। সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি স্প্যানিশ ফর্মুলা ওয়ান গ্রাঁ প্রিতে হাত ধরে হাজির হয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস ও ভার্জিনিয়া। তাঁদের সেই উপস্থিতি নতুন করে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তবে এক মাস পার হওয়ার আগেই আবার বিচ্ছেদের খবর সামনে এল। এদিকে মাঠের পারফরম্যান্সের বাইরেও শাস্তির শঙ্কায় রয়েছেন ভিনিসিয়ুস। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখার পর রেফারির দিকে আক্রমণাত্মকভাবে তেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ম্যাচে নাথান সালিবার চুল টেনে ধরার ঘটনায় লাল কার্ড দেখানো হলে তা মেনে নিতে পারেননি এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। পরে রেফারি তাঁর প্রতিবেদনে ভিনিসিয়ুসের আক্রমণাত্মক আচরণের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

জ্যোতির বদলে নেতৃত্বে নাহিদা সহ-অধিনায়ক সোবহানা

জ্যোতির বদলে নেতৃত্বে নাহিদা সহ-অধিনায়ক সোবহানা

বাংলাদেশ নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট দলের নতুন অধিনায়ক হয়েছেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার। তিনি নিগার সুলতানা জ্যোতির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে দলের নতুন সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যাটার সোবহানা মোস্তারি। রোববার ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বরাত দিয়ে ক্রিকেটবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিসিবির নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, নির্বাচক প্যানেলের সঙ্গে বৈঠক শেষে নাহিদা আক্তারকে টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সোবহানা মোস্তারিকে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিসিবি মনে করছে, নাহিদার হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার উপযুক্ত সময় এখনই। ২০২২ সালে নিগার সুলতানা জ্যোতি টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হওয়ার পর থেকেই সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করে আসছেন নাহিদা। দীর্ঘদিন নেতৃত্বের সহায়ক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবার কাজে লাগাতে পারবেন তিনি। আরও পড়ুন,আবুধাবিতে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান তৃতীয় টেস্ট আজএদিকে এশিয়ান গেমসের পর টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। নিজের খেলায় আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার লক্ষ্যেই নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান তিনি। তবে টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব ছাড়লেও বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জ্যোতি। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও তার নেতৃত্বে খেলেছে বাংলাদেশ দল। নতুন অধিনায়ক নাহিদা আক্তারের সামনে এখন দলকে আরও সুসংগঠিত করা এবং আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ভালো ফল অর্জনের চ্যালেঞ্জ। সহ-অধিনায়ক সোবহানা মোস্তারিকে সঙ্গে নিয়ে নতুন নেতৃত্বে দল কতটা এগিয়ে যেতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। বাংলাদেশ নারী দলের পরবর্তী বড় লক্ষ্য আইসিসি উইমেন্স এমার্জিং নেশনস ট্রফি। থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় এই প্রতিযোগিতায় আগামী ১২ নভেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। নতুন নেতৃত্বের অধীনে এই টুর্নামেন্ট দিয়েই দলের সামনে নিজেদের সামর্থ্য তুলে ধরার সুযোগ আসছে।

২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি মেসির

বার্সেলোনার জার্সিতে যেমন ছিলেন আপন মহাতারকা তেমনি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ছিলেন সমালোচনার কেন্দ্রে। ক্লাবের হয়ে একের পর এক ব্যক্তিগত ও দলীয় সাফল্য পেলেও দেশের হয়ে শিরোপা জিততে না পারায় আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে একসময় চক্ষুশূল হয়ে উঠেছিলেন লিওনেল মেসি। সেই দুঃখ আর অভিমানে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরও নিয়েছিলেন তিনি। তবে অবসর ভেঙে ফিরে আসার পর যেন নতুন এক মেসির জন্ম হয়। একের পর এক রেকর্ড গড়ে আর্জেন্টিনাকে এনে দেন শিরোপা। শেষ পর্যন্ত ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জিতে পূর্ণ করেন আজন্ম স্বপ্ন। ২০০৫ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় ১৮ বছর বয়সী মেসির। কিন্তু অভিষেকটা ছিল দুঃস্বপ্নের। বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ৪৪ সেকেন্ডের মধ্যে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ২০০৬ বিশ্বকাপে সর্বকনিষ্ঠ আর্জেন্টাইন হিসেবে বিশ্বকাপে অভিষেক করেন মেসি।আরও পড়ুন,অভিযোগের পর এসেক্সের হয়ে আর মাঠে নামেননি রবিনসার্বিয়ার বিপক্ষে ৬-০ গোলের জয়ে করেন বিশ্বকাপের প্রথম গোল। ২০০৮ সালে নাইজেরিয়াকে হারিয়ে অলিম্পিকের স্বর্ণপদক জেতেন তিনি। এরপর আসে হতাশার সময়। ২০১০ বিশ্বকাপ ও ২০১১ কোপা আমেরিকায় কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। ২০১৪ বিশ্বকাপে দলকে ফাইনালে তুললেও জার্মানির কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়। এরপর ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালেও ব্যর্থ হয় আর্জেন্টিনা। টানা ফাইনাল হারের পর ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। কিন্তু ২০১৮ বিশ্বকাপের আগে ফিরে আসেন জাতীয় দলে। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে আর্জেন্টিনার ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটান। এরপর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ। ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। মেসি জেতেন গোল্ডেন বল। ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের উত্তরাধিকার আরও সমৃদ্ধ করেন।

২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি মেসির

চার ওভার পিছিয়ে ভারত জরিমানা ২০ শতাংশ

তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে স্লো ওভার রেটের কারণে জরিমানার মুখে পড়েছে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল। নিউ চন্ডিগড়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওভার শেষ করতে না পারায় ভারতের খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ২০ শতাংশ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়দের ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় ভারত চার ওভার কম বল করেছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পিছিয়ে ছিল দুই ওভার। অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে দুই দলের জন্য ভিন্ন অঙ্কের জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।তবে জরিমানার এই ঘটনা ম্যাচের উত্তেজনাকে ছাপিয়ে যায়নি। সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে হেরে আগেই সিরিজ খুইয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।আরও পড়ুন,মেসির ঝুলিতে এবার সম্মানসূচক ডক্টরেট শেষ ম্যাচে অবশ্য দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নেয় ক্যারিবীয় দল।ভারতের দেওয়া ৩৫১ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শাই হোপের ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে পাঁচ উইকেটের জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এর মধ্য দিয়ে সিরিজের শেষ ম্যাচটি নিজেদের করে নেয় তারা।তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ভারত সিরিজ নিশ্চিত করেছিল। শেষ ম্যাচে জয় পেলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ টি-টোয়েন্টি সিরিজ।আগামী ৬ অক্টোবর লখনউতে শুরু হবে দুই দলের পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ওয়ানডেতে সিরিজ হারলেও টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য থাকবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। অন্যদিকে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর টি-টোয়েন্টিতেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাইবে ভারত।

 চার ওভার পিছিয়ে ভারত জরিমানা ২০ শতাংশ

স্প্যানিশ ক্লাব এলদেনসের মালিক হলেন লিওনেল মেসি

স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব এলদেনসে মালিকানা অর্জনের প্রক্রিয়া শেষ করেছেন লিওনেল মেসি। বৃহস্পতিবার ক্লাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, মেসি ক্লাবটি অধিগ্রহণ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে শত বছরের বেশি পুরোনো ক্লাবটির ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।এক বিবৃতিতে এলদেনসে জানিয়েছে, ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব লিও মেসির মালিক হিসেবে স্প্যানিশ পেশাদার ফুটবলে আগমন ক্লাবটির ক্রীড়াগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের সূচনা করেছে।বর্তমানে এলদেনসের মালিকানা কলম্বিয়ান বিনিয়োগ গ্রুপ গ্রুপো টিএইচের হাতে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কলম্বিয়া ও সুইজারল্যান্ডেও ক্লাব রয়েছে। তবে মেসির অধিগ্রহণের চুক্তিটি স্পেনের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।এলদেনসে স্পেনে মেসির মালিকানাধীন দ্বিতীয় ক্লাব। এর আগে বার্সেলোনা শহরের পঞ্চম বিভাগের দল কর্নেলার মালিকানা কিনেছেন আর্জেন্টাইন এই তারকা। আড়ও পড়ুন,মেসির ঝুলিতে এবার সম্মানসূচক ডক্টরেটচলতি বছরের শুরুতে কর্নেলার মালিকানা নেন তিনি।এটি মেসির প্রথম কোনো পেশাদার ফুটবল ক্লাবে বিনিয়োগ। কর্নেলা বর্তমানে আধা-পেশাদার পর্যায়ে রয়েছে। দুই ক্লাবের মধ্যে তিন বিভাগের ব্যবধান থাকায় একই মালিকানার কারণে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিযোগিতাগত জটিলতার আশঙ্কা কম।১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এলদেনসে ক্লাবের ইতিহাসের বেশিরভাগ সময় স্পেনের শীর্ষ দুই বিভাগের বাইরে কেটেছে। ২০২৩ সালে দীর্ঘ ৫৯ বছর পর দলটি দ্বিতীয় বিভাগে উন্নীত হয়। তবে ২০২৫ সালে অবনমিত হয়ে বর্তমানে তৃতীয় বিভাগে খেলছে এলদেনসে।এলদা শহরের ৫ হাজার ৭৭৬ আসনের নুয়েভো পেপিকো আমাত স্টেডিয়ামে নিজেদের হোম ম্যাচ খেলে ক্লাবটি। মেসির মালিকানায় এখন ক্লাবটির ক্রীড়া ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, সেটিই দেখার বিষয়।

স্প্যানিশ ক্লাব এলদেনসের মালিক হলেন লিওনেল মেসি
আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...
হর্ষদীপের সঙ্গে রণবীরের গান মুগ্ধ করল দর্শকদের

হর্ষদীপের সঙ্গে রণবীরের গান মুগ্ধ করল দর্শকদের

দুর্গাপূজার মণ্ডপে জনপ্রিয় গান ‘কাবিরা’ গেয়ে দর্শকদের চমকে দিলেন বলিউড অভিনেতা রণবীর কাপুর। ভারতের মুম্বাইয়ে নর্থ বম্বে সর্বজনীন দুর্গাপূজার আয়োজনে সংগীতশিল্পী হর্ষদীপ কৌরের সঙ্গে মঞ্চে উঠে গানটি পরিবেশন করেন তিনি। শনিবার সন্ধ্যার এই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। মুম্বাইয়ের মুখার্জি-সামার্থ পরিবার আয়োজিত এই দুর্গাপূজা প্রায় আট দশক ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবারের আয়োজনে উপস্থিত হয়ে প্রথমে দেবী দুর্গার আশীর্বাদ নেন রণবীর। এ সময় লাল-সোনালি রঙের কুর্তা ও সাদা পায়জামায় দেখা যায় অভিনেতাকে। পরে আলোকচিত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং ছবিও তোলেন। অনুষ্ঠানে নির্মাতা অয়ন মুখার্জির সঙ্গেও দেখা হয় তাঁর। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, মঞ্চে ‘কাবিরা’ গানটি গাইছিলেন হর্ষদীপ কৌর। একপর্যায়ে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মেলান রণবীর কাপুর। গানের একটি অংশে দর্শকদের দিকে মাইক্রোফোন এগিয়ে দেন তিনি, যাতে উপস্থিত দর্শকরাও গানের সঙ্গে গলা মেলাতে পারেন। আরও পড়ুন,আট বছর পরও অপূর্ণ আইয়ুব বাচ্চুর গিটার স্কুলের স্বপ্নপরে রণবীরের পরিবেশনার জন্য দর্শকদের হাততালি দিতে উৎসাহিত করেন হর্ষদীপ। গানের কঠিন অংশগুলোতে অবশ্য হর্ষদীপকেই এগিয়ে দেন রণবীর। অভিনেতার এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পূজামণ্ডপের পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত। ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ইয়ে জাওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘কাবিরা’। অয়ন মুখার্জি পরিচালিত এই সিনেমায় কাবির ‘বানি’ থাপারের চরিত্রে অভিনয় করেন রণবীর কাপুর। তাঁর বিপরীতে ছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন। এ ছাড়া আদিত্য রয় কাপুর ও কাল্কি কোচলিনও অভিনয় করেন সিনেমাটিতে। ‘কাবিরা’র পাশাপাশি সিনেমার ‘বাদতামিজ দিল’, ‘বালাম পিচকারি’ ও ‘ইলাহি’ গানগুলোও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এদিকে রণবীর কাপুরকে সামনে দেখা যাবে পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ: পার্ট ১’ সিনেমায়। এতে ভগবান রামের চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। সীতার ভূমিকায় রয়েছেন সাই পল্লবী। সিনেমাটিতে আরও রয়েছেন যশ, সানি দেওল, রবি দুবে ও রাকুল প্রীত সিং। সিনেমাটি আগামী ৫ নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

৩৭ টিকিটের ৩৫টিই কিনল সিনেমার টিম

৩৭ টিকিটের ৩৫টিই কিনল সিনেমার টিম

উৎসবের আমেজেও প্রেক্ষাগৃহে দর্শকখরা। নতুন মুক্তি পাওয়া ‘স্নেহের বন্ধন’ ও ‘কাটপিস’ সিনেমা দুটি দর্শক টানতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে জানা গেছে। রাজধানীর কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাসে ছবি দুটির টিকিট বিক্রির চিত্রে উঠে এসেছে হতাশাজনক পরিস্থিতি। প্রেক্ষাগৃহটির প্রতিষ্ঠাতা মির্জা আবদুল খালেক জানান, মুক্তির প্রথম দিন সিনেমা দুটির একাধিক প্রদর্শনীতে কোনো দর্শকই ছিলেন না। শনিবার সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত ছবি দুটির দুটি প্রদর্শনীতে একটি টিকিটও বিক্রি হয়নি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার একটি শোতে ‘স্নেহের বন্ধন’ সিনেমার ৩৭টি টিকিট বিক্রি হয়। তবে এর মধ্যে ৩৫টি টিকিট কিনেছেন সিনেমাটির নিজস্ব টিমের সদস্যরা। সাধারণ দর্শক ছিলেন মাত্র দুজন। অন্যদিকে, একই দিনে ‘কাটপিস’ সিনেমার টিকিট বিক্রি হয়েছে মাত্র আটটি। সিনেমা মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট পেজে ছবিগুলো নিয়ে নানা প্রচারণামূলক দাবি দেখা গেছে। কোথাও বলা হয়েছে, সিনেমা দেখে দর্শক আবেগাপ্লুত হয়ে প্রেক্ষাগৃহ থেকে বের হচ্ছেন।আরও পড়ুন,হর্ষদীপের সঙ্গে রণবীরের গান মুগ্ধ করল দর্শকদেরআবার কোথাও পরিবার নিয়ে দেখার মতো ছবি হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব প্রচারণার সঙ্গে প্রেক্ষাগৃহের টিকিট বিক্রির হিসাবের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। মির্জা আবদুল খালেকের ভাষ্য, সিনেমা চালানোর আগে পোস্টার ছাপানোসহ বিভিন্ন প্রচারণায় অর্থ ব্যয় হয়। কিন্তু দর্শক না এলে সেই উদ্যোগের সুফল পাওয়া যায় না। দর্শকশূন্য প্রদর্শনীতে বিদ্যুৎ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার খরচসহ প্রেক্ষাগৃহের পরিচালন ব্যয়ও লোকসানের বোঝা বাড়ায়। স্নেহের বন্ধন’ সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয় চৌধুরী ও মৌ খান। কামরুজ্জামান পরিচালিত ছবিটির প্রযোজক শাহ আলম। মুক্তির আগে ছাদখোলা বাসে ঢাকা শহরে প্রচারণাও চালান ছবিটির অভিনয়শিল্পী ও প্রযোজক। লায়ন সিনেমাস ছাড়াও দেশের আরও ১৩টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। তবে সেখানেও দর্শক উপস্থিতি খুব একটা সন্তোষজনক নয় বলে জানা গেছে। একইভাবে দর্শকসংকটে রয়েছে ‘কাটপিস’ সিনেমাটিও। প্রেক্ষাগৃহমালিকের মতে, দেশের চলচ্চিত্রের দর্শক ফেরাতে মানসম্মত সিনেমা নির্মাণের পাশাপাশি কার্যকর প্রচারণা জরুরি। একই সঙ্গে সিনেমা দেখার পর দর্শকের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও মুখে মুখে প্রচারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এআই ভিডিও ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরীমনি

এআই প্রযুক্তিতে তৈরি দুই তারকার বিকৃত ও আপত্তিকর ভিডিও একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের চিত্রনায়িকা পরীমনি। পেজ হ্যাক হওয়ার দাবি তুলে শুধু দুঃখপ্রকাশ করলেই সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম দায় এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। সম্প্রতি নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে লাইভে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ও আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা এবং টেলিভিশন চ্যানেলটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পরীমনি। অভিনেত্রীর দাবি, ভিডিওটি অনেক আগের একটি ভুয়া ক্লিপ হলেও প্রভাবশালী একটি গণমাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সেটি নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, ভিডিওটি টানা ১১ ঘণ্টা ইনস্টাগ্রাম পেজে থাকার পরও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। লাইভে পরীমনি প্রশ্ন তোলেন, একটি বড় গণমাধ্যমের পেজ হ্যাক হয়ে থাকলে সেটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে কেন এত সময় লাগল? তাঁর মতে,আরও পড়ুন,সাত বছরের প্রেম ভাঙার অভিযোগে আলোচনায় সাবিলা নূরএমন ঘটনার পর শুধু পেজ হ্যাক হওয়ার দাবি করে দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে আলোচনা ও প্রচার চালানো ব্যক্তিদেরও সমালোচনা করেন এই অভিনেত্রী। তাঁর ভাষ্য, অনেকে ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন না তুলে বরং সেটিকে আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত করেছেন। এমনকি বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক পোস্টের মন্তব্যের ঘরেও ভিডিওটির লিংক খোঁজা ও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা তাঁকে হতাশ করেছে। কটূক্তিকারীদের উদ্দেশে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও করেন পরীমনি। তবে দীর্ঘ সময় লাইভে থাকার পর তিনি নিজের ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি সরিয়ে নেন। পরদিন সকালে সংক্ষিপ্ত এক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘ওপস সরি, ডিলেট করে দিয়েছি। শুভ সকাল।’ উল্লেখ্য, পরীমনি সম্প্রতি নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিমের নতুন ওয়েব চলচ্চিত্র ‘সেপারেশন’-এর কাজ শেষ করেছেন। এতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ।

এআই ভিডিও ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরীমনি

সাত বছরের প্রেম ভাঙার অভিযোগে আলোচনায় সাবিলা নূর

ঢাকাই শোবিজে অভিনেত্রী সাবিলা নূর ও তাঁর স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহেরের দাম্পত্য জীবন নিয়ে গুঞ্জনের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছেন চিত্রগ্রাহক আবদুল মামুন। তাঁর বিরুদ্ধে সাত বছরের প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের প্রস্তুতি ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন দীর্ঘদিনের প্রেমিকা তিশা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিশার দাবি, সাবিলা নূর অভিনীত ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিং শেষ হওয়ার পাঁচ দিন পর তাঁদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। শাকিব খানের মতো জনপ্রিয় তারকার সঙ্গে কাজের সুযোগ বিবেচনায় তিনি নিজেই বিয়ের তারিখ পিছিয়ে দিতে রাজি হয়েছিলেন। দুই পরিবারের পক্ষ থেকেও বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিশার অভিযোগ, শুটিং শেষ হওয়ার পর হঠাৎ করেই আবদুল মামুন তাঁকে জানান, তিনি আর বিয়ে করতে চান না। এর কারণ জানতে চাইলেও স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাননি তিনি। পরে সাবিলা নূরের সঙ্গে মামুনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠার কথা জানতে পারেন বলে দাবি করেন তিশা। তিশা আরও বলেন, পরিবারের সদস্যরা মামুনকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য বোঝানোর চেষ্টা করলেও তাতে কোনো ফল হয়নি। তাঁর অভিযোগ, আরও পড়ুন,জেলার’-এর রেকর্ড ভাঙল রজনীকান্তের নতুন সিনেমাসাবিলা নূর তাঁদের সম্পর্কের বিষয়ে জানতেন। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের এমন পরিণতিতে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন বলেও জানান। তবে তিশার এসব অভিযোগের বিষয়ে সাবিলা নূর, তাঁর স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহের কিংবা আবদুল মামুনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে সাবিলা নূর ও নেহাল সুনন্দ তাহেরের দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়েও সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নানা খবর প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রেমের পর ২০১৯ সালে বিয়ে করেন এই দম্পতি। তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে এবং তাঁরা আলাদা থাকছেন—এমন খবরও ছড়িয়েছে। তবে নিজেদের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানাননি তাঁরা। অন্যদিকে সাবিলা নূর ও শাকিব খানের সম্পর্ক নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। ‘তাণ্ডব’ ও ‘রকস্টার’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজের সূত্র ধরে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিভিন্ন দাবি উঠলেও সেগুলোর পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সাত বছরের প্রেম ভাঙার অভিযোগে আলোচনায় সাবিলা নূর

জেলার’-এর রেকর্ড ভাঙল রজনীকান্তের নতুন সিনেমা

বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে দক্ষিণী সুপারস্টার রজনীকান্তের নতুন সিনেমা ‘জেলার ২’। মুক্তির প্রথম দিনেই বিশ্বজুড়ে ১২৫ কোটি রুপির বেশি আয় করা সিনেমাটি দ্বিতীয় দিনের আয় কিছুটা কমলেও দুই দিনেই ২০০ কোটি রুপির মাইলফলক পেরিয়েছে। বক্স অফিস ট্র্যাকার স্যাকনিল্কের ১৭ অক্টোবরের হিসাব অনুযায়ী, দুই দিনে ছবিটির বিশ্বব্যাপী আয় দাঁড়িয়েছে ২০৯ কোটি ১০ লাখ রুপি। এর মধ্য দিয়ে আগের সিনেমা ‘জেলার’-এর প্রথম দুই দিনের আয়ের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে সিক্যুয়েলটি। নেলসন দিলীপকুমার পরিচালিত সিনেমাটি ১৫ অক্টোবর মুক্তি পায়। প্রথম দিনেই বিশ্বব্যাপী ছবিটির আয় ছিল ১২৫ কোটি ২৫ লাখ রুপি। এর মধ্যে ভারতের বাজার থেকে এসেছে ৭০ কোটি ২৫ লাখ রুপি এবং বিদেশের বাজার থেকে ৫৫ কোটি রুপি। রজনীকান্তের সিনেমার মধ্যে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়। এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে তাঁর অভিনীত ‘কুলি’, যার প্রথম দিনের আয় প্রায় ১৫১ কোটি ১০ লাখ রুপি। তবে দ্বিতীয় দিনে ছবিটির আয় কমেছে প্রায় ৪০ দশমিক ৪ শতাংশ। ১৬ অক্টোবর ভারতের বাজারে সিনেমাটির নিট আয় হয়েছে ৩৫ কোটি ৬০ লাখ রুপি। প্রথম দিনের তুলনায় আয় কমলেও বিদেশের বাজার থেকে আরও ৪০ কোটি রুপি আসায় বিশ্বব্যাপী মোট আয় ২০০ কোটি রুপি ছাড়িয়ে যায়।আরও পড়ুন,কুরুকের অভিযান নিয়ে আসছে নতুন অ্যানিমেশন স্যাকনিল্কের হিসাবে, দুই দিনে ভারতের বাজারে ছবিটির নিট আয় ৯৫ কোটি ৩০ লাখ রুপি। গ্রস আয় দাঁড়িয়েছে ১১২ কোটি ১০ লাখ রুপি। অন্যদিকে, বিদেশের বাজার থেকে এসেছে ৯৭ কোটি রুপি। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জেলার’ সিনেমাটি রজনীকান্তের ক্যারিয়ারে বড় বাণিজ্যিক সাফল্য এনে দিয়েছিল। এবার সিক্যুয়েলটি সেই জনপ্রিয়তাকে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়ার পথে এগোচ্ছে। ২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়া তামিল সিনেমাগুলোর মধ্যে মাত্র দুই দিনে ২০০ কোটি রুপির বিশ্বব্যাপী আয় করা দ্রুততম ছবিও এটি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সিনেমাটিতে অবসরপ্রাপ্ত কারা কর্মকর্তা মুথুভেল পান্ডিয়ান ওরফে টাইগার চরিত্রে ফিরেছেন রজনীকান্ত। পরিবার ও নিজের উত্তরাধিকার রক্ষায় অপরাধজগতের শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াইকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে গল্প। ছবিতে রজনীকান্তের সঙ্গে অভিনয় করেছেন রম্যা কৃষ্ণন, বিদ্যা বালান, মিঠুন চক্রবর্তী, বিজয় সেতুপতি, মোহনলাল, শিবরাজকুমার ও জ্যাকি শ্রফসহ একঝাঁক তারকা। সংগীত পরিচালনা করেছেন অনিরুদ্ধ রবিচন্দর। বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পেলেও সিনেমাটির দ্বিতীয়ার্ধের চিত্রনাট্য ও গল্পের কিছু অসংগতি নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনগুলোতে ‘জেলার ২’ আয়ের এই গতি ধরে রেখে আরও কত নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।

জেলার’-এর রেকর্ড ভাঙল রজনীকান্তের নতুন সিনেমা
কোন পোস্ট নেই !