বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন

এবার ট্রাম্পের দাবি নাকচ করলেন ড. ফাউচি

অনলাইন ডেঙ্ক;
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২০
  • ৯২

এবার যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজ’-এর পরিচালক এবং রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যান্থনি ফাউচি বললেন, করোনাভাইরাস চীনের ল্যাবরেটরি থেকে ছড়িয়েছে; এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, ভাইরাসটি বনাঞ্চল থেকে গবেষণাগারে আনা হয়েছে কিংবা গবেষণাগার থেকে উহানে ছড়িয়ে পড়েছে এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি।

উহান শহরের একটি ভাইরোলোজি গবেষণাগার থেকে করোনাভাইরাসের সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ করে আসছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অন্যান্য মার্কিন নেতারা। চীনসহ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের বেশিরভাগই তা অস্বীকার করে আসছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে। এবার স্বনামধন্য বিজ্ঞানী ড. ফাউচিও সেই তালিকায় যুক্ত হলেন।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফাউচি বলেন, ‘আপনি যদি বাদুড় কিংবা অন্য কিছুর মধ্যে এই ভাইরাসের (করোনা-প্রজাতির) বিবর্তনের দিকটা খেয়াল করেন, তাহলেই আপনি ভালোভাবে বুঝতে সক্ষম হবেন কেন এটাকে কৃত্রিমভাবে বানানো সম্ভব না। সেই পর্যায়ক্রমিক বিবর্তনসূত্র থেকেই শক্তভাবে প্রমাণিত হয় যে করোনাভাইরাস প্রকৃতি থেকেই প্রাণীদেহে এসেছে। ’

কেউ কেউ বলতে চান, বনাঞ্চলের প্রাণীদেহ থেকে করোনাভাইরাস এনে উহানের ল্যাবে গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। ফাউচি সেই দাবিও নাকচ করে দিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স পরিচালকের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, করোনাভাইরাস মানবসৃষ্ট বা জিনগতভাবে পরিবর্তিত হওয়ার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ওইদিনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন চীনের ভাইরোলোজি গবেষণাগার থেকে করোনাভাইরাসের সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি প্রমাণ দেখতে পেয়েছেন। রবিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও একই দাবি করে বলেন, এই সংক্রান্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রমাণ রয়েছে তাদের কাছে।

সোমবার ডব্লিউএইচও’র বিশেষজ্ঞ ডা. মাইক রায়ান বলেন, ‘করোনাভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনও তথ্যনির্ভর প্রমাণ পাইনি। সুতরাং আমাদের দিক থেকে এই দাবি অনুমান নির্ভর।’ তিনি বলেন, ‘প্রমাণ নির্ভর সংস্থা’ হিসেবে ডব্লিউএইচও ভাইরাসটির উৎপত্তি নিয়ে যেকোনও তথ্য পেতে আগ্রহী। ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।  রায়ান বলেন, ‘ফলে সেই তথ্য ও প্রমাণ যদি থেকে থাকে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে কবে এবং কোথায় তা দেখানো হবে।’

শেয়ার করুন

আরো খবর