সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ০৯:২৬ অপরাহ্ন

করোনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২০
  • ৯৪

সারাবিশ্বে মহামারী রূপ নিয়েছে করোনাভাইরাস। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৯৯ জনের। আর আক্রান্তের সংখ্যা মোট ১২ হাজার ৪২৫ জন। আর এই ভয়াবহ দুর্যোগের সময়ও দেশের রাজনৈতিক দলগুলো করোনা নিয়ে রাজনীতি করছে।

করোনা নিয়ে এক দল আরেক দলের প্রতি দোষারোপ করছে। যেমন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বলছে, বিএনপি করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নানা ধরনের বিদ্বেষমূলক-দায়িত্বহীন কথাবার্তা বলছে, তারা করোনা নিয়ে রাজনীতি করছে। অন্যদিকে বিএনপি বলছে, করোনায় আওয়ামী লীগ সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

আমাদের দেশের দুই বড় দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাদের বক্তব্য থেকেই এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সরকারকে বার বার বলেছি যে, আপনারা সবাইকে নিয়ে আলোচনা ও পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। কিন্তু তারা সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন না। আর তারা অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ বা যারা এক্সপার্টস আছেন তাদেরও কারো সাথে পরামর্শ না করেই এই কাজগুলো করছেন। আজকের এই দুঃসময়ে আমি কোনো সমালোচনা করতে চাই না। শুধু যে ক্রটিগুলো, যে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো আমরা দেখিয়ে দিচ্ছি।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দেশের এই পরিস্থিতিতে কারও রাজনীতি করা উচিত নয়। কিন্তু বিএনপি করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নানা ধরণের বিদ্বেষমূলক-দায়িত্বহীন কথাবার্তা বলছে, রাজনীতি করছে। আসলে এখন সব রাজনৈতিক দলের উচিত দলমত নির্বিশেষে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এগিয়ে আসা।’

এদিকে করোনা মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি অফিসে সাধারণ ছুটির মেয়াদ ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আর সরকারের পক্ষ থেকে সবাইকে করোনা বিস্তাররোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। এজন্য দেশের সব রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সকল কর্মসূচি অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিত করেছে। যেমন করোনাভাইরাসের জন্য সারাদেশে সকল পর্যায়ের কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন কার্যক্রম আগামী ২৫ মে পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেছে বিএনপি। তবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা প্রতিনিয়তই ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলছেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বেশিরভাগ নেতাকর্মীরা রাজধানীতেই রয়েছেন। আর কিছু সংখ্যক নেতাকর্মীরা নিজ নিজ জেলায় অবস্থান করছেন বলে দল দুটির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সরকার কি করেছে, তা বিএনপিকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর প্রয়োজন নেই। ফোর্বস, ইকোনোমিস্টসহ প্রেস্টিজিয়াস বিশ্ব সাময়িকীগুলোতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের এবং তার সরকারের কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা প্রচারে বিশ্বাসী নন, তিনি কাজে বিশ্বাসী। আর বিএনপির রাজনীতি এখন টেলিভিশন নির্ভর। সরকার অনেক টিভি চ্যানেলের অনুমতি দিয়েছে বলেই বিএনপি অস্তিত্ব প্রকাশের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছে। টেলিভিশন না থাকলে বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আরো গুরুত্বহীন হয়ে পড়তো।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার কোথায়? সরকার এখন রাস্তাতেও নেই। অর্থাৎ গোড়ায়-আগায়, মনে-গোপনে, কার্যালয়ে নেই। সরকার এক জায়গায় আছে, শুধু টেলিভিশনে। আর কিন্তু তারা কোথাও নেই।’

এছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকার জনসমর্থিত সরকার নয়, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার নয় বলেই জনগণের কষ্টের মধ্যেও দুঃশাসন জারি রেখেছে। রাজশাহীতে ছাত্রদল নেতা আবদুল মালেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর যেখানেই বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদল-যুবদল- স্বেচ্ছাসেবক দল ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছে সেখানে পুলিশকে লেলিয়ে দেয়া হচ্ছে।

তবে রিজভীর এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপিকে ত্রাণ কাজে বাধা দেয়া হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেছে, আমি বলতে চাই কে বাধা দিয়েছে? কোথায় বাধা দিয়েছে? তথ্য প্রমাণ দিন। এই অমানবিক কাজ যারা করেছে বা করছে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব। এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’

শেয়ার করুন

আরো খবর