বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন

করোনার নমুনা সংগ্রহে টেকনোলজিস্ট সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় শনিবার, ৯ মে, ২০২০
  • ১০৩

দেশজুড়ে করোনার প্রভাব। সব জেলাতেই করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাচ্ছে। করোনা শনাক্তে ল্যাবের সংখ্যা বাড়ালেও প্রয়োজনীয় মেডিকেল টেকনোলজিস্টের অভাবে ঠিকভাবে রোগীর নমুনা সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। মাঠপর্যায়ে যাদের দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে সেগুলো যথাযথভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে কি না? তা নিয়েও রয়েছে সংশয়। বিশিষ্ট  ভাইরোলজিস্ট এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি  অধ্যাপক ডা. নজরুল  ইসলাম বলেন, দেশে করোনা টেস্টের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। মেডিকেল টেকনোলজিস্টের সঙ্কট রয়েছে। বর্তমানে  বিদ্যমান সাধারণ স্বাস্থ্যকর্মী দিয়ে করোনার টেস্ট করা হচ্ছে। ফলে নমুনা সংগ্রহে ধীরগতি রয়েছে।

এটা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর থেকেই করোনা  শনাক্তে রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে আসছেন সরকারি হাসপাতালে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি হাসপাতালে কর্মরত রমডিকেল  টেকনোলজিস্টদের দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে স্বল্প পরিসরে করোনা রোগীর পরীক্ষা নিরীক্ষা সম্ভব হলেও বর্তমানে করোনা রোগী দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ায়, রোগীর সংখ্যা এবং পরীক্ষা কেন্দ্র বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি পর্যায়ে সীমিত সংখ্যক মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের দিয়ে সুষ্ঠুভাবে এ কাজ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাছাড়া করোনা রোগীর নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষায় নিয়োজিত ১২৫ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং অনেকে কোয়ারেন্টিনে আছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী ১ জন চিকিৎসকের বিপরীতে ৫ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট থাকার কথা থাকলেও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের মোট পদ (৬টি শাখা মিলিয়ে) ৭৯২০ টি। কর্মরত আছেন ৫১৬৫ জন।  পদ শূন্য আছে ২৭৫৫ টি। এর মধ্যে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাবরেটরি) মোট পদ ২১৮২ টি, কর্মরত ১৪১৭ জন, পদ শূন্য আছে ৭৬৫ টি। নমুনা সংগ্রহ করছেন ৫০০ জনের মতো। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১০ বছর ধরে মেডিকেল টেকনোলজস্ট নিয়োগ হচ্ছে না।  দেশে দেড় লাখ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ৫১৬৫ জন। অপরদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়াধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ৩ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন  মেডিকেল টেকনোলজি (ল্যাবরেটরি) কোর্স সম্পন্ন করা ১৫ হাজার প্রশিক্ষিত মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের   করোনা রোগীর নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা নিরীক্ষার কাজে না লাগিয়ে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করার ফলে করোনা রোগীর নমুনা সংগ্রহ ও সঠিক রোগনির্ণয়ের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

করোনা রোগীর নমুনা সংগ্রহ অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। করোনা রোগীর নাক এবং গলার ভেতর থেকে নমুনা সংগ্রহকারীদের এনাটমি ও ফিজিওলজি বিষয়ে জ্ঞান থাকা আবশ্যক। নমুনা সংগ্রহকারীদের এই জ্ঞান না থাকলে  রোগীর ক্ষতি হতে পারে। নমুনা সংগ্রহকারী নিজেও করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন।  ওদিকে করোনা রোগীর নমুনা সংগ্রহ সঠিকভাবে  না করায় পরীক্ষার ফলাফল পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে করোনা রোগী শনাক্তকরণে জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং ব্যাপকভাবে করোনা ছড়িয়ে পরছে। এক্ষেত্রে করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ ব্যাহত হচ্ছে। মেডিকেল টেকনোলজিস্টরাই সর্বপ্রথমে রোগীর নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পরে চিকিৎসক চিকিৎসা এবং নার্স সেবা প্রদান করেন। এ বিষয়ে  বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব মো. সেলিম মোল্লা মানবজমিনকে বলেন, সরকার করোনা মোকাবিলায় দেশের স্বার্থে ২ হাজার ডাক্তার এবং ৬ হাজার নার্স নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও করোনা যুদ্ধের প্রথম সারির প্রথম সৈনিক মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের নিয়োগের বিষয়টি উপেক্ষিত হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। করোনা মোকাবিলায় পর্যাপ্ত সংখ্যক মেডিকেল টেকনোলজিস্ট  নিয়োগ দেয়ার দাবি তুলেন তিনি।

সূত্র মতে, হবিগঞ্জ জেলায় ৮ টি উপজেলা রয়েছে। সেখানে ২০টি পদের মধ্যে ১৬টি শূন্য। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নমুনা সংগ্রহ করতেন ৩ জন। এরমধ্যে দুইজন মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট, আরেকজন ইপিআই টেকনিশিয়ান ভয়ে পালিয়ে গেছেন।

নারায়ণগঞ্জে দুটি সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। একটি নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, আরেকটি ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল। দুই হাসপাতাল মিলিয়ে মোট মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রয়েছেন ৮ জন। এর মধ্যে ৩ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। ৫ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট করোনা শনাক্তে নমুনা সংগ্রহ রাতদিন করছে। এ পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা নিরীক্ষায় জড়িত ১২৫ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট  করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

শেয়ার করুন

আরো খবর