শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন
আক্রান্তের সংখ্যায় রেকর্ড গড়ছে

করোনার বাংলাদেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুহার তুলনামূলক কম

ক্রাইম এক্সপ্রেস ডেস্ক :
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৮ মে, ২০২০
  • ৯৭

করোনার সংক্রমণ ক্রমেই বাড়ছে। আক্রান্তের সংখ্যাও রেকর্ড গড়ছে। মে মাসের শুরুর দিকে মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমে এলেও গতকাল বৃহস্পতিবার তা আবার বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৩ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯৯ জনে পৌঁছেছে। দেশে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর দুই মাসের মধ্যে একদিনে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। এর আগে ১৭ এপ্রিল একদিনে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭০৬ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সংক্রমণের দুই মাসের মাথায় আক্রান্তের সংখ্যা ১২ হাজার ৪২৫ জনে পৌঁছাল।

বিশ্বে সর্বোচ্চ করোনা সংক্রমণের শিকার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ৮ দেশ, প্রতিবেশী ভারত, বাংলাদেশসহ ১০ দেশের প্রথম দুই মাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি বিশ্নেষণে দেখা যায়, ভারত ছাড়া বাকিদের তুলনায় সংক্রমণ শুরুর পর এই সময়কালে বাংলাদেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুহার কম। তবে ওইসব দেশে এত সংক্রমণ শনাক্তের জন্য যে পরিমাণ নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, বাংলাদেশ তা থেকে যোজন যোজন পিছিয়ে রয়েছে। নমুনা পরীক্ষা কম হওয়ার কারণে শনাক্তও কম হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে চিকিৎসকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহবুব বলেন, বর্তমানে দেশে কতসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, তা আমরা জানি না। কারণ, আক্রান্তের সঠিক হিসাব জানতে হলে নমুনা পরীক্ষা করতে হয়। নমুনা পরীক্ষার পর্যাপ্ত সুবিধা মানুষ পাচ্ছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্নিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা কারও পরীক্ষা করালে তবেই একজন এর আওতায় আসার সুযোগ পাচ্ছেন। এর বাইরে চাইলেও কেউ পরীক্ষা করাতে পারছেন না। প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন- এমন হাজার হাজার মানুষ পরীক্ষার আওতার বাইরে রয়েছেন। তাই অন্য দেশের তুলনায় সংক্রমণ কম হয়েছে, সেটি এই সীমিত পরীক্ষার মাধ্যমে বলে দেওয়া সমীচীন হবে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মুজাহেরুল হক বলেন, করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিভাগের পরিকল্পনা যে সঠিক ছিল না, তা প্রমাণিত হয়েছে। কারণ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভাইরাসটি প্রতিরোধে যেখানে নমুনা পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে, সেখানে বাংলাদেশ পরীক্ষার বিষয়ে সবচেয়ে অমনোযোগী ছিল। একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরের মাধ্যমে তারা নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার কাজ করছিল। কিন্তু আইইডিসিআরের কাজ তো নমুনা সংগ্রহ ও তা পরীক্ষা করা কিংবা সংবাদ সম্মেলন করা নয়। তাদের মূল কাজ হলো- রোগতাত্ত্বিক গবেষণা করা। কিন্তু সেটি না করে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা নমুনা পরীক্ষা ও সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। নমুনা পরীক্ষার ল্যাবের সংখ্যা যেটুকু বাড়ানো হয়েছে, তাও অপ্রতুল। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ হাজার নমুনা পরীক্ষার প্রয়োজন। কারণ, পরীক্ষার মাধ্যমে পজিটিভ ব্যক্তিকে আইসোলেশন এবং তার সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইন করে রোগটি প্রতিরোধ করতে হবে।

আক্রান্ত ১০ দেশের মধ্যে দুই মাসের তুলনামূলক পর্যালোচনা : বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস সংক্রমণের তথ্যভিত্তিক পর্যালোচনা করছে আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারস ডট ইনফো। এই ওয়েবসাইটের তথ্য-উপাত্ত বিশ্নেষণ করে যে চিত্র পাওয়া যায়, তা এখানে তুলে ধরা হলো।

যুক্তরাষ্ট্র : চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হন। দেশটিতে প্রথম ২৯ ফেব্রুয়ারি একজনের মৃত্যু হয়। দুই মাস পর ২১ মার্চ আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়ায় ২৪ হাজার ৪১৮ জনে। মৃত্যু ৩৭৪ জন।

ইতালি : ইউরোপের দেশ ইতালিতে প্রথম করোনাভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে দেশটিতে। কয়েকদিন ধরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও আক্রান্ত ও মৃত্যুর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। ইতালিতে প্রথম রোগী শনাক্ত হন ৩১ জানুয়ারি। দুই মাসের মাথায় ১ এপ্রিল আক্রান্ত বেড়ে এক লাখ ১০ হাজার ৫৭৪ জনে পৌঁছায়। মৃত্যু হয় ১৩ হাজার ১৫৫ জনের।

স্পেন : স্পেনকে এখনও কাঁদাচ্ছে করোনা মহামারি। ইতালির মতো এই দেশেও প্রথম করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হন ৩১ জানুয়ারি। দুই মাসের মাথায় ১ এপ্রিল তা বেড়ে এক লাখ ৪ হাজার ১১৮ জনে পৌঁছায়। মৃত্যু হয় ৯ হাজার ৩৮৭ জনের।

ফ্রান্স : ইউরোপের আরেক দেশ ফ্রান্সে ২৪ জানুয়ারি প্রথম করোনা আক্রান্ত এক ব্যক্তি শনাক্ত হন। দুই মাসের মাথায় ২৪ মার্চ আক্রান্ত বেড়ে ২২ হাজার ৩০৪ জনে পৌঁছায়। মৃত্যু হয় এক হাজার ১০০ জনের।

জার্মানি : করোনাভাইরাস প্রতিরোধে অপেক্ষাকৃত সফলতা দেখিয়েছে জার্মানি। ইউরোপের অন্যান্য দেশে ভাইরাসটি মহামারি আকার ধারণ করলেও জার্মানি ছিল ব্যতিক্রম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশটিতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। জার্মানিতে ২৭ জানুয়ারি প্রথম করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হন। দুই মাসের মাথায় ২৭ মার্চ ৫০ হাজার ৮৭১ জনে পৌঁছায় আক্রান্তের সংখ্যা। মোট মৃত্যু ৩৫১ জনের।

যুক্তরাজ্য : শুরুতে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পরে যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করে। সেখানে ৩১ জানুয়ারি প্রথম করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত করা হয়। দুই মাসের মাথায় ৩১ মার্চ আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ হাজার ১৫০ জনে। মৃত্যু হয় ২ হাজার ৪২৫ জনের।

ইরান : ইরানে ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম দু’জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। দুই মাসের মাথায় ১৮ এপ্রিল আক্রান্ত বেড়ে হয় ৮০ হাজার ৮৬৮ জন। মৃত্যু হয় ৫ হাজার ৩১ জনের।

রাশিয়া : ৪ মার্চ প্রথম একজনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। দুই মাসের মাথায় ৪ মে আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ ৪৫ হাজার ২৬৮ জন। মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৩৫৬ জনের।

তুরস্ক : তুরস্কে প্রথম করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হন ১১ মার্চ। আগামী ১১ মে দুই মাস হবে। এক মাস ২৬ দিনের মাথায় এসে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটিতে আক্রান্ত এক লাখ ৩১ হাজার ৭৪৪ জনে পৌঁছেছে। মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৫৮৪ জনের। প্রতি ১০ লাখে পরীক্ষা করা হয়েছে ১৪ হাজার ৬৪০ জনের।

ব্রাজিল : লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে প্রথম করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হন ২৭ ফেব্রুয়ারি। দুই মাসের মাথায় ২৭ এপ্রিল দেশটিতে ৬৬ হাজার ৫১০ জন আক্রান্ত হন। মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৫৪৩ জনের। প্রতি ১০ লাখে পরীক্ষা করা হয়েছে এক হাজার ৫৯৭ জনের।

বাংলাদেশ : বর্তমানে বাংলাদেশেও করোনার সংক্রমণ চলছে। দেশে প্রথম ৮ মার্চ তিনজনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। ১৮ মার্চ প্রথম করোনায় একজনের মৃত্যু হয়। সংক্রমণ শুরুর দুই মাসের মাথায় ৭ মে আক্রান্ত বেড়ে ১২ হাজার ৪২৫ জনে পৌঁছাল। মৃত্যু বেড়ে ১৯৯ জনে পৌঁছেছে।

এই চিত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, উল্লিখিত ১০ দেশের মধ্যে ভারত ছাড়া বাকিদের তুলনায় সংক্রমণ শুরুর পরবর্তী দুই মাসে বাংলাদেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুহার কম। তবে ওইসব দেশে এত সংক্রমণ শনাক্ত করার জন্য যে পরিমাণ নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, বাংলাদেশ তার তুলনায় অনেক পিছিয়ে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে এক লাখ ৫ হাজার ৫১৩ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। ভারতে প্রতি ১০ লাখে ৯৮৪ জন, যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ হাজার ১৮৬, ইতালিতে ৩৮ হাজার ২২১, স্পেনে ৪১ হাজার ৩৩২, যুক্তরাজ্যে ২১ হাজার ৩৩০, জার্মানিতে ৩২ হাজার ৮৯১, ফ্রান্সে ১৬ হাজার ৮৫৬, রাশিয়ায় ৩২ হাজার ৯১৩ এবং ইরানে ৬ হাজার ৪৮৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশে প্রতি ১০ লাখে মাত্র ৬৪১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা কম হওয়ার কারণে শনাক্তও কম হয়েছে।

দেশে প্রথম করোনার সংক্রমণ : গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম সংক্রমণ শুরু হয়। ওইদিন তিনজনের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়।

প্রথম মৃত্যু : ১৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমিত প্রথম এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। একই দিন নতুন করে আরও চারজনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হলে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে পৌঁছায়।

আক্রান্ত অর্ধশত ছাড়ায় : ৩১ মার্চ নতুন করে আরও দু’জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৫১ জনে পৌঁছায়। মৃতের সংখ্যা ৫।

আক্রান্ত ১০০ ছাড়ায় : ৬ এপ্রিল একই সঙ্গে ৩৫ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ পাওয়া যায়। আক্রান্তের সংখ্যা ১২৩ জনে পৌঁছায়। মৃত্যু হয় আরও তিনজনের। মোট মৃত্যু ১২ জনের।

আক্রান্ত ২০০ ছাড়ায় : ৮ এপ্রিল নতুন করে আক্রান্ত হন ৫৪ জন। মোট আক্রান্ত ২১৮ জন। এদিন ৩ জনসহ মোট মৃত্যু ২০ জনের।

আক্রান্ত ৩০০ ছাড়ায় : ৯ এপ্রিল ১১২ জন আক্রান্ত হন। মোট আক্রান্ত ৩৩০। একজনের মৃত্যু হয়। মোট মৃত্যু ২১।

আক্রান্ত ৪০০ ছাড়ায় : ১০ এপ্রিল আক্রান্ত হন ৯৪ জন। মোট আক্রান্ত ৪২৪ জনে পৌঁছায়। ৬ জনের মৃত্যু হয়। মোট মৃত্যু ২৭।

আক্রান্ত বেড়ে ৪৮২ : ১১ এপ্রিল আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়। মোট মৃত্যু ৩০ জনে পৌঁছায়। আক্রান্ত হন ৫৮ জন। মোট আক্রান্ত ৪৮২ জন।

আক্রান্ত ৬০০ ছাড়ায় : ১২ এপ্রিল ৪ জনের মৃত্যু হয়। মোট মৃত্যু ৩৪ জনে পৌঁছায়। ওইদিন নতুন করে ১৩৯ আক্রান্ত হয়। মোট আক্রান্ত ৬২১ জনে পৌঁছায়।

আক্রান্ত ৮০০ ছাড়ায় : ১৩ এপ্রিল নতুন করে ১৮২ জন আক্রান্ত হয়। মোট আক্রান্ত ৮০৩ জনে পৌছায়। ওইদিন ৫ জনের মৃত্যু হয়। মোট মৃত্যু ৩৯ জনে পৌঁছায়।

আক্রান্ত হাজার ছাড়ায় : ১৪ এপ্রিল আক্রান্তের সংখ্যা হাজার অতিক্রম করে যায়। ওইদিন ২০৯ জন আক্রান্ত হয়। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ১২ জনে পৌঁছায়। মৃত্যু হয় ৭ জনের। মোট মৃত্যু ৪৬ জনে পৌঁছায়।

মৃত্যু অর্ধশত : ১৫ এপ্রিল আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ জনে পৌঁছায়। আক্রান্ত হয় আরও ২১৯ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ২৩১ জনে পৌঁছায়।

আক্রান্ত দেড় হাজার ছাড়ায় : ১৬ এপ্রিল শনাক্ত হয় আরও ৩৪১ জন। মোট আক্রান্ত ১ হাজার ৫৭২ জন। ওইদিন আরও ১০ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা ৬০ জনে পৌঁছায়।

আক্রান্ত ২ হাজার ছাড়ায় : ১৮ এপ্রিল আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে যায়। এদিন আক্রান্ত হয় ৩০৬ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ হাজার ১৪৪ জন। আরও ৯ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা ৮৪।

মৃত্যু শতাধিক : ২০ এপ্রিল ১০ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্য দিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছে ১০১ জনে। ওইদিন নতুন করে ৪৯২ জন আক্রান্ত হন। মোট আক্রান্ত ২ হাজার ৯৪৮ জন।

আক্রান্ত ৩ হাজার ছাড়ায় : ২১ এপ্রিল মৃত্যু হয় ৯ জনের। নতুন করে আক্রান্ত ৪৩৪ জন। মোট আক্রান্ত ৩৩৮২ এবং মৃত্যু ১১০ জনের।

আক্রান্ত ৪ হাজার ছাড়ায় : ২৩ এপ্রিল নতুন করে আক্রান্ত ৪১৪ জন হয়। মৃত্যু হয় ৭ জনের। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত ৪১৮৬ জনে পৌঁছায়। মৃত্যু ১২৭ জনের।

আক্রান্ত ৫ হাজার ছাড়ায় : ২৬ এপ্রিল ৪১৮ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫ হাজার ৪১৬ জনে পৌঁছায়। একই সঙ্গে ৫ জনের মৃত্যু হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয় ১৪৫।

দেড় শতাধিক মৃত্যু : ২৭ এপ্রিল আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়। মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫২ জনে। আক্রান্ত হয় ৪৯৭ জন। মোট আক্রান্ত ৫ হাজার ৯১৩ জন।

আক্রান্ত ৬ হাজার ছাড়ায় : ২৮ এপ্রিল ৫৪৯ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৪৬২ জনে পৌঁছায়। ৩ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছায় ১৫৫ জনে।

আক্রান্ত ৭ হাজায় ছাড়ায় : ২৯ এপ্রিল নতুন করে ৬৪১ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ১০৩ জনে পৌঁছায়। ৮ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা হয় ১৬৩।

মৃত্যু বেড়ে ১৭০, আক্রান্ত ছাড়ায় আট হাজার : ১ মে ২ জনের মৃত্যু হয়। মোট মৃত্যু ১৭০ জনের। ওইদিন আক্রান্ত হয় ৫৭১ জন। মোট আক্রান্ত ৮ হাজার ২৩৮ জন।

মৃত্যু বেড়ে ১৭৫ : ২ মে ৭ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭৫ জনে পৌঁছায়। ৫৫২ জন নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৮ হাজার ৭৯০ জনে পৌঁছায়।

আক্রান্ত ৯ হাজার ছাড়ায় : ৩ মে ৬৬৫ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণের মধ্য দিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৫৫ জনে পৌঁছায়। একই সঙ্গে ২ জনের মৃত্যু হয়। মৃতের সংখ্যা হয় ১৭৭।

আক্রান্ত ১০ হাজার ছাড়াল : ৪ মে নতুন করে আরও ৬৮৮ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১০ হাজার ১৪৩ জনে পৌঁছায়। একই সঙ্গে আরও ৫ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮২ জনে।

আক্রান্ত বেড়ে ১০ হাজার ৯২৯ : ৫ মে আক্রান্ত হয় ৭৮৬ জন। মৃত্যু হয় ১ জনের। মোট আক্রান্ত ১০ হাজার ৯২৯ এবং মৃত্যু ১৮৩ জন।

আক্রান্ত ১১ হাজার ছাড়ায় : ৬ মে এক দিনে সর্বোচ্চ ৭৯০ জন শনাক্ত হয়। এদিন ৩ জনের মৃত্যু হয়। মোট আক্রান্ত ১১ হাজার ৭১৯ এবং মৃত্যু ১৮৬ জনের।

মৃত্যুসংখ্যা বেড়ে ১৯৯, আক্রান্ত ১২ হাজার ছাড়াল : গতকাল ৭ মে আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়। আক্রান্ত হয় ৭০৬ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১২ হাজার ৪২৫ জনে পৌঁছেছে। মৃত্যুসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৯৯। গতকাল করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানান। তবে বুলেটিনে তিনি মৃত্যুর সংখ্যা জানাননি। পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১৩ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়।

ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আরও ১০৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ১ হাজার ৯১০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

শেয়ার করুন

আরো খবর