সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ০৯:২১ অপরাহ্ন

করোনা: পাঁচ লাখ টেস্টিং কিট সংগ্রহের পরামর্শ টেকনিক্যাল কমিটির

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২০
  • ১৩৪

নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় স্বল্প মেয়াদে পাঁচ লাখ টেস্টিং কিট সংগ্রহ করা জরুরি বলে মনে করে বাংলাদেশে করোনাভাইরোসের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন এর পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শ কমিটি। মঙ্গলবারের (২৮ এপ্রিল) কমিটির দ্বিতীয় সভায় পাঁচটি সাব-কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনা করে এই সুপারিশ করা হয়।সুপারিশে বলা হয়, ‘নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্তে টেস্ট আরও বাড়ানো দরকার। যে জায়গাগুলোতে এখন পরীক্ষা করা হচ্ছে সেখানে টেস্টের পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে এবং টেস্টের জন্য স্থানও বাড়াতে হবে; যাতে আক্রান্তরা দ্রুত শনাক্ত হন। বর্তমানে শুধু করোনার উপসর্গ নিয়ে আসাদেরই পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কমিউনিটিতে যেসব মানুষের উপসর্গ আছে, কিন্তু রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে আসছেন না, তাদের খুঁজে বের করে টেস্ট এর আওতায় আনতে হবে।’

টেকনিক্যাল কমিটির সুপারিশে বলা হয়, ‘রেফারেন্স ল্যাবরেটরিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নমুনা পাঠিয়ে প্রতিটি ল্যাবরেটরির কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স করা জরুরি। স্যাম্পল কালেকশন, ট্রান্সপোর্টেশন স্টোরেজ যথাযথ হওয়ার জন্য জনবলকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হবে। ল্যাবরেটরি যাতে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে তার ব্যবস্থা করতে হবে। টেস্ট এর কেন্দ্র সংখ্যা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনে উন্নয়ন সহযোগীদের সাহায্য নিতে হবে।’

সুপারিশে হাসপাতাল সেবার মান বৃদ্ধির বিষয়ে বলা হয়, ‘স্বয়ংসম্পূর্ণ ও প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালসমূহকে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্বাচন করাই যুক্তিযুক্ত ও সমীচীন। মেকশিফট হাসপাতালসমূহ মৃদু থেকে মাঝারি আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য রাখা বাঞ্ছনীয়। কোভিড-১৯ এ আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য যে হাসপাতালগুলো নিয়োজিত আছে, সেখানে বিভিন্ন বিষয়ের যথেষ্ট সিনিয়র ও জুনিয়র চিকিৎসক থাকতে হবে। স্বাস্থ্য সেবার জন্য নিয়োজিত ওয়ার্ড বয় ও পরিচ্ছন্নকর্মীদের সংখ্যা বাড়িয়ে সেবার মান উন্নত করতে হবে।’

‘এছাড়া স্বাস্থ্য সেবাকর্মী, চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত মানসম্মত সুরক্ষাসামগ্রী, বিশেষত: কাভারঅল, ফেসশিল্ড, গগলস, সু কাভার যথেষ্ট সংখ্যায় সরবরাহ করতে হবে। যারা মুমূর্ষু রোগীর চিকিৎসায় নিয়োজিত ও সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন, তাদের জন্য রেসপিরেটরি মাস্ক সরবরাহ নিশ্চিত করা দরকার।’

সুরক্ষা সামগ্রীসমূহ যাতে মানসম্পন্ন হয় তা নিশ্চিত করার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি থাকা দরকার উল্লেখ করে সুপারিশে বলা হয়েছে, ‘কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত হাসপাতালসমূহে রোগী, চিকিৎসক ও অন্যান্য সবার জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এ জন্য যথেষ্ট সংখ্যক পানি-ফিল্টার এর ব্যবস্থা করা দরকার।’

‌‘কোভিড-১৯ আক্রান্তদের চিকিৎসায় নিয়োজিত হাসপাতালসমূহে  অতিপ্রয়োজনীয় টেস্ট এর ব্যবস্থা থাকা বাঞ্ছনীয় (যেমন-সিবিসি, ক্রিয়েটেনিন, সিআরপি, চেস্ট এক্সরে, ইসিজি) এবং এই সব পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এ হাসপাতালগুলোর ল্যাবরেটরিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মাইক্রোবায়োলজিস্ট, ভাইরোলজিস্ট পদায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে।’—বলা হয় সুপারিশে।

এতে বলা হয়, ‘বর্তমানে বিশ্বের উন্নত দেশসমূহে রোগীর উপসর্গ ও বুকের এক্সরের ভিত্তিতে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা শুরু করা হচ্ছে। কমিউনিটি ট্রান্সমিশন এর এই সময়ে এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা শুরু করা অতি জরুরি। কোভিড পরীক্ষা ভর্তির পরও করা যেতে পারে। অধিক সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট ও স্বাস্থ্যকর্মী কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য পূর্বপরিকল্পনা ও প্রস্তুতি থাকা দরকার।’

সেবার মান বৃদ্ধির জন্য কয়েকটি কর্মপদ্ধতি তৈরি করা হয়েছে জানিয়ে সুপারিশে বলা হয়, ‘এর মধ্যে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত মা, শিশু, নবজাতক, হৃদরোগ ও কিডনি ফেইলর রোগীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা আলাদা সুপারিশ প্রদান করা হয়েছে। তীব্রভাবে আক্রান্ত বা মুমূর্ষু রোগীদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন। এ জন্য যথেষ্ট নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র সারাদেশের সব কোভিড রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত হাসপাতালে তৈরি করা দরকার। এখানে যথেষ্ট সংখ্যক আইসিইউ ও যন্ত্রপাতি থাকা প্রয়োজন, একইসঙ্গে যথেষ্ট সংখ্যক অবেদনবিদ ও নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। অবেদনবিদ হিসেবে নিয়োগের উপযুক্ততা সম্পন্ন বেশ কিছু সংখ্যক জনবল দেশে আছে এবং তাদের জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।’

সুপারিশে আরও বলা হয়, ‘কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত হাসপাতালগুলোতে তিন-শিফটে ভাগ করে স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজ করার ব্যবস্থা থাকা দরকার এবং প্রতি শিফটে সমন্বয়ের জন্য প্রশাসনের একজন সিনিয়র সদস্য থাকা প্রয়োজন।’

সামাজিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে যে সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা পর্যায়ক্রমে শিথিল করার জন্য বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ রোগের জন্য ভ্যাকসিন তৈরির প্রক্রিয়ায় ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুরু হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলোও যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ ও বৈজ্ঞানিকদের এ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সংযুক্ত হওয়ার প্রচেষ্টা থাকা প্রয়োজন বলেও সুপারিশে বলা হয় ।

শেয়ার করুন

আরো খবর