বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১০:২৫ পূর্বাহ্ন

কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে কার্যকর মাউথওয়াশ

লাইফষ্টাইল ডেস্ক:
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৮ মে, ২০২০
  • ১২৫
করোনা ভাইরাসকে ধ্বংস করে কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ প্রতিরোধে মাউথওয়াশ কার্যকর হতে পারে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ ইউনিভার্সিটির একদল বিজ্ঞানী। নতুন এই গবেষণায় কার্ডিফ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিন বিভাগের সঙ্গে নটিংহাম, কলোরাডো, অটোয়া, বার্সেলোনা ও ক্যামব্রিজের বাবরাহাম ইনস্টিটিউেটের ভাইরোলজি, লিপিড ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যুক্ত রয়েছেন। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইলের খবরে এ কথা বলা হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসগুলো এনভেলপড ১২ পৃষ্ঠার পর

ভাইরাস শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত; অর্থাত্ এরা চর্বিযুক্ত স্তর দ্বারা আচ্ছাদিত, যা নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিকের মাধ্যমে ধ্বংস করা যায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাউথওয়াশের কার্যকারিতা প্রমাণের জন্য জরুরি ভিত্তিতে পরীক্ষা চালানো দরকার। গবেষণায় বিজ্ঞানীরা মাউথওয়াশে করোনা ভাইরাস ধ্বংস করার দাবি করলেও এটি সফল হবে কি না, এখনো এমন কোনো ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা হয়নি।

কার্ডিফ ইউনিভার্সিটির অধীনে পরিচালিত গবেষণাটির বিজ্ঞানীরা বলেছেন, মাউথওয়াশ দিয়ে গারগল করার মাধ্যমে করোনা ভাইরাস ধ্বংসের বিষয়টি এখনো গবেষণা পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। এর জন্য আরো অনেক বেশি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার দরকার রয়েছে। গবেষণাপত্রটির প্রধান ও কার্ডিফ ইউনিভার্সিটির সিস্টেম ইমিউনিটি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহপরিচালক অধ্যাপক ও’ডোনেল বলেন, মাউথওয়াশের নিরাপদ ব্যবহার, অর্থাত্ গারগলের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস ধ্বংসের বিষয়টি এখনো যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগে বিবেচিত হয়নি। এখন পর্যন্ত এসংক্রান্ত বিষয় কেবল পরীক্ষাগারে এবং খুবই সীমিত পরিসরে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, কিছু মাউথওয়াশে পর্যাপ্ত পরিমাণ রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা কিনা মুখে থাকা ভাইরাসজাতীয় কোনো কিছুকে ধ্বংস করতে সক্ষম। তাই ধারণা করা হচ্ছে, মাউথওয়াশের এই উপাদান ইনভেলপড ভাইরাস-করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধেও কার্যকর হবে। তবে তারা এও বলছেন, যদিও আমরা এখনো জানি না যে বাজারে বিদ্যমান মাউথওয়াশগুলো কোভিড-১৯-এর ভাইরাস সার্চ-কোভ-২ ভাইরাসের লিপিড আস্তরণের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর হবে।

গবেষকেরা বলছেন, ডেন্টাল মাউথওয়াশগুলোতে সাধারণত ক্লোরহেস্কিডিন, সেটিলপিরিডিনিয়াম ক্লোরাইড, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ও পোভিডন-আয়োডিন রয়েছে; এই উপাদানগুলোর বেশির ভাগেরই যে কোনো ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায়ও এর সফলতা আশা করা যায়।

করোনা ভাইরাসের শরীরের বাইরের আবরণই মূলত মানবদেহের কোষের ওপর প্রথম আক্রমণ করে সেখানে প্রবেশের রাস্তা তৈরি করে। এরপর কোষের প্রতিরোধক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয়। এ কারণে করোনা ভাইরাসের শরীরের বাইরের অংশকেই সবচেয়ে ভয়ানক অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আর মাউথওয়াশের সবচেয়ে বড়ো গুণ এরা এজাতীয় ভাইরাসের চর্বিতে গড়া বাইরের আবরণকে ধ্বংস করে দিতে পারে। মূলত করোনা ভাইরাসের বাইরের অংশ ধ্বংস করে দিতে পারলেই বাজিমাত। ভাইরাসের শরীরের ‘গ্লাইকোপ্রোটিন’ খ্যাত বাইরের স্পাইক প্রোটিনই মূলত মানবদেহের কোষের পর্দার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সংক্রমিত করে। মাউথওয়াশের রাসায়নিক ভাইরাসের স্পাইককে মানবদেহের কোষে আক্রমণ রোধ করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে এখনো অনেক গবেষণার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, মাউথওয়াশের ব্যবহার করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করবে এমন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। সংস্থাটি বলছে, এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯-এর চিকিত্সায় কোনো ওষুধ প্রমাণিত হয়নি।—ডেইলি মেইল

শেয়ার করুন

আরো খবর