রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন

দেশের মানুষ আবারো জাতীয় পার্টিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে চায়: জিএম কাদের

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৩৮

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী কয়েকটি দেশ সফর করে করোনার টিকা না পেয়ে দেশে এসে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। গণমাধ্যমের সামনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ধনীদেশগুলো নাকি বাংলাদেশকে টিকা দিতে রাজি হচ্ছে না। যদি তাই হয় তাহলে, বিশ্বে বাংলাদেশ বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে।

গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেছেন, বিশ্বে নাকি বাংলাদেশের মর্যাদা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, ১৯৯৬ সালে পাসপোর্ট ভিত্তিক জরিপে বাংলাদেশের অবস্থান ছিলো ৯৬তম। একই জরিপে বাংলাদেশের অবস্থান নিম্নগামী হতে হতে বর্তমানে ১০৬ তম অবস্থানে এসেছে। গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, বিশ্বে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী পরিষদের মর্যাদা বাড়তে পারে কিন্তু সাধারণ মানুষের মর্যাদা মোটেই বাড়েনি, বরং কমেছে। তাই এখন বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে কেউ দেশের বাইরে গেলে তাকে নানা রকম হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ আবারো জাতীয় পার্টিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে চায়।

আজ দুপুরে রাজধানীর বারিধারায় দৈনিক যুগান্তর ভবন মিলনায়তনে জাতীয় যুব সংহতির এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এ কথা বলেন।

জাতীয় যুব সংহতির আহবায়ক ও জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক সংসদ সদস্য এইচ এম শাহরিয়ার আসিফ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরো বলেন, দলীয়করণের কারনে দেশে সুশাসন নেই। সরকারি দল না করলে, পরীক্ষায় প্রথম হয়েও চাকরী পাওয়া যায় না। সরকারি দল না করলে সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েও টেন্ডারে কাজ পাচ্ছে না ঠিকাদাররা। আবার টেন্ডার ছাড়া কাজ দেয়ার বিধান করেছে, যা সম্পূর্ণ সংবিধান পরিপন্থি। তিনি বলেন, সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা অপরাধ করেও খালাস পেয়ে যায়, সবার জন্য আইন সমানভাবে প্রযোজ্য হচ্ছে না।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরো বলেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এর দেশ পরিচালনার সময়ে দেশে তুলনামূলকভাবে বেশি সুশাসন ছিল। জাতীয় পার্টির শাসনামলে কেউই আইনের উর্ধে ছিলো না। তাই দেশের মানুষ মনে প্রাণে জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিকল্প শক্তি হিসেবে প্রত্যাশা করছে। দেশের মানুষ আবারো জাতীয় পার্টিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চায়। তাই দলকে শক্তিশালী করতে নির্দেশনা দেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সকল জেলা কাউন্সিল সম্পন্ন করতে হবে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ৮টি বিভাগীয় শহরে কর্মী সমাবেশ করা হবে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে বিভাগীয় শহরে জনসভা করা হবে। তখন জাতীয় পার্টি রাজনীতির রোডম্যাপ ঘোষণা করবে। তিনি বলেন, প্রতিটি নির্বাচনে অংশ নেবে জাতীয় পাটি। নির্বানের মাধ্যমে গণমানুষের কাছে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এর উন্নয়ণ ও সুশাসনের চিত্র তুলে ধরা হবে। নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সর্বাত্মক কাজ করতে সবার প্রতি আহবান জানান তিনি। বলেন, যারা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধাচারণ করবে তাদের পার্টির শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সভার শুরুতে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ-এর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন তিনি। এসময় করোনা আক্রান্ত জাতীয় পার্টি মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু’র রোগমুক্তি কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেন, দেশের মানুষ আর আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চায়না। দেশের মানুষ জাতীয় পার্টিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চায়। জাতীয় পার্টি রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই তৃণমূলে জাতীয় পার্টিকে আরো শক্তিশালী করতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। জাতীয় পার্টি কারো ক্ষমতার সিড়ি হবে না, জাতীয় পার্টি এককভাবেই রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাবে। দেশের মানুষ জাতীয় পার্টির দিকে তাকিয়ে আছে। সভা পরিচালনা করেন- জাতীয় যুব সংহতির সদস্য সচিব আহাদ ইউ চৌধুরী শাহিন।

আরও পড়ুন: বনানীতে অনুমোদনহীন বকুল ভিলায় গেষ্ট হাউসের নামে অশ্লীলতা

শেয়ার করুন

আরো খবর