রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন

মেয়র পদ হারাচ্ছেন জাহাঙ্গীর

অনলাইন ডেস্ক:
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২১
  • ১৮
জাহাঙ্গীর আলম। ছবি: সংগৃহীত

দল থেকে আজীবন বহিষ্কারের পর এবার জাহাঙ্গীর আলমের সিটি করপোরেশনের মেয়র পদও যাচ্ছে। একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। দোষী প্রমাণিত হলে আইনের ২১ ধারায় তাকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাভোগ করতে হতে পারে।

সরকারের হাইকমান্ডের নির্দেশে জাহাঙ্গীরকে মেয়র পদ থেকে সরাতে আইন পর্যালোচনা করছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। মেয়র পদ থেকে বরখাস্ত করতে হলে তা স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের বিধানেই করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনে নৈতিক স্খলনজনিত কারণ বা অসদাচরণের দায়ে তাকে অপসারণের সুযোগ রয়েছে। তবে যে অপরাধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে জাহাঙ্গীর দল থেকে বহিষ্কার রয়েছেন সেটা সিটি করপোরেশন আইনে নৈতিক স্খলন বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুরের মেয়র থাকছেন কিনা, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯’ পর্যালোচনার পর দু-একদিনের মধ্যে সেই বিষয়ে জানা যাবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। গতকাল সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষ থেকে মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘আইনটা (সিটি করপোরেশন আইন) দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের ১৩ ধারায় মেয়র ও কাউন্সিলর পদ থেকে অপসারণের কারণগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো-(ক) যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া সিটি করপোরেশনের পর পর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকেন; (খ) নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে আদালতে দণ্ডিত হন; (গ) দায়িত্ব পালন করতে অস্বীকার করেন অথবা শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন; (ঘ) অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন; (ঙ) নির্বাচনের অযোগ্য ছিলেন মর্মে নির্বাচন অনুষ্ঠানের তিন মাসের মধ্যে প্রমাণিত হলে; (চ) বার্ষিক ১২টি মাসিক সভার পরিবর্তে ন্যূনতম ৯টি সভা গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া অনুষ্ঠান করতে বা ক্ষেত্রমতো সভায় উপস্থিত থাকতে ব্যর্থ হলে।

এখানে অসদাচরণ বলতে ক্ষমতার অপব্যবহার, আইন অনুযায়ী বিধিনিষেধ পরিপন্থী কার্যকলাপ, দুর্নীতি, অসদুপায়ে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ, পক্ষপাতিত্ব, স্বজনপ্রীতি, ইচ্ছাকৃত অপশাসন, নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব দাখিল না করা বা অসত্য দেওয়াকে বোঝাবে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তান দলের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

শেয়ার করুন

আরো খবর