বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১২:৩৭ অপরাহ্ন

ঢাকাগামী পোশাক শ্রমিক বহনকারী ৯ নৈশ কোচ আটক

 গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
  • আপডেট সময় শনিবার, ২ মে, ২০২০
  • ১০৯

সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা জানান, রংপুরের পীরগাছা উপজেলার চৌধুরাণী, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের হাসানগঞ্জ, বামনডাঙ্গা ও সাদুল্লাপুরের নলডাঙ্গা থেকে সাড়ে শতাধিক যাত্রী (পোশাক শ্রমিক) নিয়ে ৬টি নৈশ কোচ ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। খবর পেয়ে পথে সাদুল্লাপুরের নলডাঙ্গা ঘাঘট ব্রিজে বাস ৬টি আটক করা হয়।

তিনি আরও জানান, রাতেই যাত্রীদের বাড়ি পাঠানো হলেও বাস ৬টি আটক করে নতুন পরিবহন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গাইবান্ধা সদর থানার ওসি খাঁন মোহাম্মদ শাহারিয়া জানান, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে কোন প্রকার অনুমতি ছাড়াই ৩টি ঢাকাগামী নাইটকোচ প্রায় ১৫০ জন যাত্রী (পোষাক শ্রমিক) নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। খবর পেয়ে শহরের নতুন ব্রীজ এলাকা থেকে নাইটকোচসহ যাত্রীদের আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

তিনি আরও জানান, রাতেই ওইসব পরিবহনের যাত্রীদেরকে বাড়ি পাঠানো হয়। অন্যদিকে ওই বাস তিনটি থানায় আটক করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

চৌধুরাণী থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়া শ্রীপুরের ডিবিএল গার্মেন্টসের শ্রমিক বাবলু মিয়া জানান, শনিবার তাদের কারখানায় যোগ দিতে বলা হয়েছে। না হলে ছাঁটাই করা হতে পারে। এ সময় চাকরি গেলে ঈদের আগে পরিবার পরিজন নিয়ে মহাবিপাকে পড়তে হবে। তাই ঝুকি নিয়ে ৫০০ টাকার জায়গায় দেড় হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য রওনা হয়েছি।

হাসানগঞ্জ থেকে সাভারের উদ্দেশে রওনা হওয়া নুর মোহাম্মদ সাভারের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার একটি পোষাক কারখানায় কাজ করেন।

তিনি বলেন, চাকুরিটা চলে গেলে কি খাব। এছাড়া করোনা মহামারী শেষে তো নতুন করে আবারও চাকুরি পাওয়া যাবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে মরার চেয়ে মাথায় আর কোন ভোগান্তির কথা এসময় আসে না।

বামনডাঙ্গা থেকে গাজীপুরে উদ্দেশে আযাদ পরিবহনে রওনা হওয়া সোহাগী বেগম জানান, কাজে যোগ না দিলে বেতন ভাতা দিবেন না। তাই হাজারো দুর্ভোগ সহ্য করে ৩০০ টাকার ভাড়া ১হাজার দিয়ে এই বাসে রওনা হয়েছে।

নাম পরিচয় প্রকাশ করার শর্তে গাইবান্ধার জনৈক এক শ্রমিক নেতা জানান, দীর্ঘদিন থেকে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় আমরা কর্মহীন হয়ে পরেছি। সংসার তো আর চলছে না। তাই সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ম্যানেজ করে কিছু বাস যাত্রী পরিবহন করছে।

টি আই (ট্রাফিক ইন্সপেক্টর) অ্যাডমিন নুর আলম সিদ্দিক জানান, এ পর্যন্ত ৪ মাইক্রোবাসসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীবাহী (পোষাক শ্রমিক) ২০টি বাস আটক করা হয়েছে। এসব গাড়ীর মধ্যে রয়েছে ফাতেমা পরিবহন, সুর্য্য পরিবহন, আযাদ পরিবহন, নিউ সাফা, আনন্দ পরিবহন, অভি পরিবহনসহ বেশকিছু পরিবহন।

তিনি আরও জানান, যাত্রীদের বাড়ীতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে নতুন পরিবহন আইনে এসব গণ পরিবহনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া চলমান রয়েছে এই অভিযান।

শেয়ার করুন

আরো খবর