সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন

নদী রক্ষায় অবহেলা নয়

ক্রাইম এক্সপ্রেস ডেস্ক :
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২১
  • ৩৯

নদী হলো বিশ্বমানবতার সম্পদ। তাই আড়াই হাজার বছর আগের জাস্টিনিয়ান কোড বলেছিল নদী, জলাশয়, বায়ু- এসব হলো অহস্তান্তরযোগ্য সম্পদ। তা সর্বদাই রাষ্ট্রের। এর ওপর কোনো ব্যক্তির মালিকানা কায়েম হতে পারে না। কারণ কোনো ধরনের বিক্রি, ইজারা, বন্ধক বা অন্য কিছু দ্বারা এসবের ওপর জনগণের সর্বজনীন ও কালোত্তীর্ণ এখতিয়ার খর্ব করা যাবে না।

উঠতে-বসতে আমরা সারাক্ষণ অনুভব করি, নদীই বাংলাদেশ। নদী বাঁচলে বাংলাদেশের মানুষ ও জীববৈচিত্র্য বাঁচবে। তবু নদী দখল ও দূষণ বন্ধ হয়নি। এটি দুঃখজনক যে, নদী বা জলাশয় সুরক্ষায় সরকার কিংবা সংসদগুলোর তেমন কোনো সংবেদনশীলতা দেখা যায় না। বাংলাদেশে নদীব্যবস্থার ওপর প্রথম আঘাত আসে ইংরেজ আমলের ভুল নদী ব্যবস্থাপনায়। এর পর ষাটের দশকে সবুজ বিপ্লবের নামে ক্ষতিকর বাঁধ, আশির দশকে বিশ্বব্যাংকের বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নদীগুলোর ভালোর বদলে মন্দই করেছে বেশি। গত দুই দশকে শিল্পকারখানা ও বাণিজ্য প্রসারের জন্য নদীর দখল-দূষণ ঘটেছে ব্যাপক হারে। ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি দেশের সব নদনদী, খালবিল ও জলাশয় রক্ষার জন্য জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে ‘আইনগত অভিভাবক’ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত রবিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ দেশের সব নদীর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে আগামী বছরের ৫ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে নদীকে দখলমুক্ত ও যথাযথভাবে নদীর সীমানা নির্ধারণ করতে সময় ও যথাযথ প্রক্রিয়া বর্ণনাপূর্বক কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করতে অর্থ মন্ত্রণালয়, নদী রক্ষা কমিশন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ ও সব বিভাগীয় কমিশনারের প্রতি নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

আরো পড়ুন: পণ্য রপ্তানিতে বেশি প্লেনভাড়া বাংলাদেশে

শেয়ার করুন

আরো খবর