সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ০৮:৩৮ অপরাহ্ন

না খেয়ে রোজা পালন করছেন মরচাঁন

ক্রাইম এক্সপ্রেস ডেস্ক :
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২০
  • ১২৫

করোনা পরিস্থিতিতে বৃদ্ধা মরচাঁনের ঘরে খাবার নেই। খেয়ে না খেয়ে রোজা পালন করছেন তিনি।

এমন সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পথে বের হচ্ছেন হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার পশ্চিম বিরামচর গ্রামের মৃত মওলা মিয়ার স্ত্রী মরচাঁন। পথে কাউকে পেলেই কিছু একটা বলতে চান তিনি।

বুধবার (৬ মে)  জানান, কেউ তার জন্য খাবার নিয়ে আসেন না। তার ঘরে নেই খাবার। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাকে যেন না খেয়ে মরতে না হয়, এমন চিন্তায় তার দিন অতিবাহিত হচ্ছে এখন।

মরচাঁনের এক ছেলে এক মেয়ে। এই অভাবের সময়ে ছেলে তার কোনো খোঁজ খবর করে না বলে আক্ষেপ করে তিনি জানান, এক ছেলে বিয়ে করে চট্টগ্রাম রয়েছে। এই কঠিন সময়ে ছেলে তার খোঁজ খবর নেয় না। এক মেয়ে আগুরার বাড়িতে এক ঝুপড়ি ঘরে তার বসবাস। জামাতা চটপটি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। করোনায় তার ব্যবসা বন্ধ। তাই যেখানে তারাই (তার মেয়ের পরিবার) খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে, এখানে তাকে তারা কি খাওয়াবে?

এই কথাগুলো বলতে বলতে মরচাঁনের চোখ বেয়ে অশ্রু পড়তে থাকে। আর তিনি ময়লা শাড়ির আঁচলে তা বার বার মুছতে থাকেন।

মরচাঁন আরও জানান, করোনার শুরুতে এক হৃদয়বান ব্যক্তি কিছু খাবার দিয়েছিলেন। সেগুলো মেয়ে পরিবারসহ কয়েক দিন খেয়েছেন। এখন তার ঘরে খাবার নেই। তাই এখন তিনি খাবার চান।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রহমতের মাস রমজান। এই সময় খেয়ে না খেয়ে রোজা রাখি। কেউ খোঁজ নেয় না। কোনো কোনো দিন শুধু পানি খেয়ে রোজা থাকি। কী করবো? আল্লার কাছে তো জবাব দিতে হবে?’

সমাজসেবক আব্বাস উদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘এ বৃদ্ধার ঘরে একবার কিছু খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছিলাম। প্রয়োজনে আবারও তার কাছে খাবার নিয়ে যাব।’

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ গাজীউর রহমান ইমরান জানান, মরচাঁনের বিষয়টি জানতাম না। উপজেলা পরিষদ থেকে তালিকা করে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এখানে তিনি (মরচাঁন) ত্রাণ না পেয়ে থাকলে দ্রুত তার ঘরে পৌঁছানো হবে।

 

শেয়ার করুন

আরো খবর