সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ০৫:৩১ অপরাহ্ন
প্রধানমন্ত্রীর আদর্শেই আমার পথ চলা

কারো ক্ষতি না করা,প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাটাই মূল- লিটু

আতাউল করিম অশ্রুঃ
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২০
  • ৫২৪

মানুষ শব্দের ক্রিয়াপদ ‘মানুষ করা’। মানুষ করা অর্থে- লালন পালন করা ও উপযুক্ত শিক্ষা দান করা। মানুষ শব্দের দ্বিতীয় ক্রিয়াপদ ‘মানুষ হওয়া’। মানুষ হওয়া মানে সত্য বলা, কারো ক্ষতি না করা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা,আপদে-বিপদে অন্যকে সাহায্য করা, সদাচরণ করা ইত্যাদি। আর সেটি কেবল মাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই দেখিয়েছেন। তার মত এমন সকলে যদি প্রকৃত মানুষ হতো তাহলে পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ,ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে মানব সেবায় এগিয়ে আসত এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া দেশ আজ করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় রামপুরা থানার স্বেচ্ছা সেবক লীগের সভাপতি কে.এম. কামরুল ইসলাম লিটু আজ ত্রান বিতরনকালে একথা বলেন।

ক্রাইম এক্সপ্রেস : আপনি ভাল মন্দ বলতে কি মনে করেন?

কামরুল ইসলাম লিটু: তবে ভালো-মন্দের ধারণা অনেকটা আপেক্ষিক, আমার কাছে যা ভালো, অন্যজনের কাছে তা ভালো নাও হতে পারে। আমার কাছে যা মন্দ তা আরেকজনের কাছে মন্দ নাও হতে পারে। তারপরও নৈতিকতার সার্বজনীন গ্রহণযোগ্য একটা সংজ্ঞা আছে। ভালো মানুষের সংজ্ঞায় বলা যায়, “নিজের বিবেককে কাজে লাগিয়ে যে ব্যক্তি বা সত্তা তার নৈতিক দায়িত্ব-কর্তব্যগুলো যথাযথভাবে পালন করেন, চরিত্রের ভালো উপাদানগুলো গ্রহণ ও মন্দ উপাদানগুলো বর্জন করেন তিনিই প্রকৃত বা ভালো মানুষ। আর মানুষকে যতই ভালবাসা যায়, তেমনি তাদের কাছ থেকে সমাজ সেবায় সম্মানও পাওয়া যায়। আর মানুষের এই দু:সময়ে যদি তাদের পাশে না দাড়াতে পারি তাহলে আমার বাবার আদর্শ বলতে কিছুই থাকল না। তাই তার আদর্শ নিয়েই আমার এই পথচলা।

ক্রাইম এক্সপ্রেসঃ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কিছু বলেন?

কামরুল ইসলাম লিটু: আমার জম্ম গোপালগঞ্জ টুঙ্গিপাড়ায়। আমার বাবা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর ছিলেন এবং বঙ্গবন্ধু টুঙ্গিপাড়ায় যে বাসাতেই থাকতেন সেই বাসাতেই আমার বাবা থাকতেন। এমনকি আমার বাবাকে নিয়ে গিয়েই অনেক সুন্দর সুন্দর বক্তব্য দিতেন, আর বলতেন খায় দায় চাঁনমিয়া মোটা হয় জব্বার। কারন আমার বাবার নাম ছিল চাঁনমিয়া। তাছাড়া আমার বাব আমাদের পরিবারকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এত প্রসংসা করতেন। সেই আদর্শ এখনও আমি ভুলেনি। আর যতদিন রাজনিতি করব আদর্শ ও সততা নিয়েই করব।

 

ক্রাইম এক্সপ্রেসঃ রাজনীতিতে কিভাবে অংশ নিলেন?

কামরুল ইসলাম লিটু: আসলে আমি ছাত্র জিবন থেকেই রাজনীতি করি। আর রাজনীতি এমনই একটা প্লাটফর্ম যদি ভাল কিছু করা যায় তাহলে সম্মানটাও তেমন পাওয়া যায়। কিন্তু রাজনীতি করে ভোগবিলাশী করবেন সেটা কোন রাজনীতি না। যেমন:আমি রাজনীতি করি ভোগ বিলাশীর জণ্য নয়, মানুষকে সেবা করার জণ্য। তবে একটা মজার বিষয় কি? দেশের অনেক জায়গায় ঘুরে বেড়াই। কাজের কারণেই অনেক তরুণ তরুণীদের সাথে মেশার সুযোগ হয়। কাজ শেষে এক দুই কথায় দেশের কথা আসে। সংগত কারণেই আসে রাজনীতির কথা। ভেবে অবাক লাগে এই রাজনৈতিক অকালেও কিছু তরুণরা রাজনীতিতে আগ্রহ দেখায়। জিজ্ঞেস করে রাজনীতি বুঝতে চাই, করতে চাই, কিভাবে সম্পৃক্ত হব, কিভাবে এগিয়ে যাব, ভবিষ্যৎ কি, ইত্যাদি।

ক্রাইম এক্সপ্রেস ঃ দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে আপনি কাকে ভালবাসেন?

কামরুল ইসলাম লিটু: দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে একজনই ছিল জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু। এখন দেশরত্ম মননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তিনি যে তার বাবার আদর্শকে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন আমাদের শোনার বাংলা শোনার বাংলাই থাকবে। আমি বিশ্বাস করি সচেতন ও দেশপ্রেমিক মানুষ মানেই, রাজনীতিতে তার অংশগ্রহণ থাকবেই। হতে পারে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ। আমার মত পেশার, নিরস কাঠখোট্টা মানুষগুলোও চিন্তা করবে কোন পথে গেছে বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তি, কোন পথে যেতে পারতো, এখন কোন পথে যাওয়া দরকার? তাই কেউই রাজনীতির বাইরে না। যিনি বাংলাদেশে থাকবেন, কাজ করবেন, নিজের ভবিষ্যৎ চিন্তা করবেন তিনি যদি দায়িত্ববান হন, তবে তার কোনভাবেই রাজনীতির বাইরে চিন্তা করার সুযোগ নেই।

ক্রাইম এক্সপ্রেসঃ রাজনীতি সচেতন দায়িত্ববান কি?

কামরুল ইসলাম লিটুঃ রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হবার এটাই প্রথম ধাপ। এর মানে সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া না। রাজনীতির বোধবুদ্ধি সম্পন্ন হওয়া ও চলমান রাজনীতি সম্পর্কে সচেতনতা। এই গ্রুপের লোকেরা দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের রাজনীতিতে (ডেভেলপমেন্ট পলিটিক্স) বিশেষ কোন প্রভাব ফেলেন না। তবে স্বল্পমেয়াদী উন্নয়নের রাজনীতিতে এদের যথেষ্ট প্রভাব আছে। বিশেষ করে ভোটের ক্ষেত্রে (ইলেকট্রোরাল পলিটিক্সে) তারা সচেতন ও দায়িত্বপূর্ণ ভুমিকায় নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন। এদের রাজনৈতিক অবস্থান সচরাচর নিরপেক্ষ। কোন নির্দিষ্ট নীতি কিংবা আদর্শের একনিষ্ঠ সমর্থক নন। সচরাচর কোন দলকে স্থায়ীভাবে সমর্থন করেন না। তবে সচেতনতার এক পর্যায়ে নিজের প্রত্যাশার কাছাকাছি দলটির জন্য মানসিক সমর্থন তৈরি হতে পারে। এ অবস্থাতে যাবার জন্য-অর্থনীতি,রাজনীতি,রাজনৈতিকদল, রাজনৈতিক নীতি আদর্শ, ইতিহাস ইত্যাদি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করতে হবে। এছাড়া রাষ্ট্রব্যবস্থা,সরকারি মেশিনারি, বিভিন্ন ধাপ, কিভাবে চলে, কারা চালায়, তাতে আমাদের কি এসে যায় ইত্যাদি সম্পর্কে জানা দরকার।

এদিকে কে.এম কামরুল ইসলাম লিটু তিনি আরো বলেন,কেউ যদি দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অনৈতিক কার্যকলাপ বা কোন অপরাধ করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর হস্তে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে যক বড় ক্ষমতাশালী হোক না কেন। কারন আদেও নেত্রী কখোনো বলেনি দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কোন অপরাধ করতে এবং নেত্রীর নির্দেশ দেওয়া আছে এধরনের কোন ব্যক্তি যদি কোন অন্যায় করে তাহলেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা। তাই জননেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া আমি কোনভাবেই নষ্ট হতে দিব না। স্ইে ভেবে চিন্তেই আমি রাজনীতিতে পা রেখেছি। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর আদর্শেই আমার রাজনীতিতে আশা।

বিদ্রঃ সাক্ষাতকার নিয়েছেন আমাদের বিশেষ প্রতিনিধিঃ আতাউল করিম অশ্রু। (পর্ব-2)

শেয়ার করুন

আরো খবর