রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০৮:৪০ অপরাহ্ন

বনানীতে প্রশাসনের আড়ালে ক্ষমতার দাপটে থেমে নেই জেএমপি স্পা বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২১
  • ৭৭
বনানীতে প্রশাসনের নজরদারীতে ক্ষমতার দাপটে থেমে নেই মিলনের স্পা বাণিজ্য
ছবি: ক্রাইম এক্সপ্রেস

বনানীতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারীতে থাকা স্বত্ত্বেও ক্ষমতার দাপটে থেমে নেই আবাসিক পাড়ায় গড়ে ওঠা ১৮নং রোডে মিলন ও পাখির অনুমোদনবীহিন স্পা বাণিজ্য। তবে স্পার বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসন নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখলেও প্রতিষ্ঠানগুলো তালাবদ্ধভাবে পরিচালনা করে আসছে দালাল চক্রের সিন্ডিকেটরা। প্রতিষ্ঠানটির ভিতরে ছোট ছোট ঘরের আদলে গড়ে তোলা হয়েছে কেবিন। কিন্তু বাইরে থেকে ভিতরে কি হচ্ছে তা কোনোভাবেই বোঝার উপায় নাই। বিভিন্ন রংয়ের আলোয় ঝলমল করছে স্পা সেন্টারগুলো।

সূত্র জানায়, খদ্দেরদের আকর্ষণ বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারও চালায় তারা। পরিচয় গোপন রেখে বনানীর ১৮ নাম্বার সড়কে “জেএমপি” নামের একটি স্পা সেন্টারে গেলে সেন্টারটির তত্বাবধায়ক মিজানুর রহমান মিলন জানান, আমরা মূলত বডি মেসেজের ব্যাপারে কথা বলি। বাকি বিষয়গুলো ভেতরে কথা বলে নিতে হবে। এ ব্যাপারে আমরা কোনো কথা বলব না। এখানে শুধু কেন মেয়েরাই বডি মেসেজ করে ছেলেরা কেন নয় এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলে, মেয়েদের চাহিদা বেশি। গ্রাহকদের বড় অংশই ছেলে তাই মেয়েদের চাহিদা বেশি। পুলিশের ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, সেটা আমাদের ব্যাপার পুলিশের বিষয়টি আমরা ম্যনেজ করে চলি। সে ব্যপারে কোনো সমস্যা নাই।

এদিকে উক্ত স্পা সেন্টারে মালিক মিজানুর রহমান (মিলন) তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এবং একটি পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে থাকেন। আবার অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম ভাঙ্গিয়ে পাপচার কাজ করা সমাজের কাছে বোধগম্য নয়। উক্ত বিষয়ে গনমাধ্যমকর্মীরা ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সংবাদকর্মীদের হয়রানীর চেষ্টাসহ বিভিন্ন মাধ্যম হুমকি দিয়ে আসছেন। এভাবে সমাজের বড় বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম ভাঙ্গিয়ে তিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্পার নামে গড়ে তুলেছেন স্পার নামে মিনি পতিতালয়। এতে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সমাজের একটি বড় ধরনের সম্নানহানিকর।

তবে মিনি পতিতালয়ে সর্বক্ষনিক খদ্দেরদের রিসিভ করেন তার সহধর্মীনি পাখি নামের একটি মেয়ে। যিনি গুলশান-বনানীর বিভিন্ন স্পা সেন্টারে কাজ করতেন। সেখান থেকে পরিচয় হয় উক্ত মিলনের। পাখি বলেন, আমি এই লাইনে নতুন এবং ৬ মাস হয়েছে আমি আসছি। নাম পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক গুলশানের একটি স্পা সেন্টারে কাজ করে এমন একজন জানান, শুধু বডি মেসেজ করলে যা বেতন পাই তা দিয়ে চলে না। বাড়তি কিছু কামাই করার জন্যই এ সব করি। যারা এ সব জায়গায় আসেন তাদের বডি মেসেজের দিকে আকর্ষণ কম থাকে। যার ফলে আমরাও সেই দিকে গুরুত্ব বেশি দেই। এদিকে স্পা সেন্টারগুলো বৈধ না অবৈধ এমন প্রশ্নের উত্তরে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এ সব বন্ধের ব্যাপারে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি।

আরো পড়ুন: বাসে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের হুমকির অভিযোগ

শেয়ার করুন

আরো খবর