শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৫২ অপরাহ্ন

পানির সাথে বাড়ছে দুর্ভোগ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় বুধবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৪১

ভারী বর্ষণ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থেকে বিপদসীমার ৪৯সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যা একদিনের ব্যাবধানে বেড়েছে আরও ৯সেন্টিমিটার।

এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় অভ্যন্তরীণ নদ-নদী ও চলনবিলের পানি বৃদ্ধিও অব্যাহত রয়েছে। এরমধ্যেই পানি বন্দি হয়ে পড়েছে জেলার অর্ধ লাখেরও বেশি মানুষ, তলিয়ে গেছে প্রায় সাড়ে ৪হাজার হেক্টর জমির ফসল।

বেশিরভাগ বন্যা কবলিত মানুষই নৌকা ছাড়া বের হতে পারেন না বাড়ি থেকে। বন্যা কবলিত এলাকা গুলোতে নিরাপদ পানির টিউবওয়েল ও টয়লেট ডুবে যাওয়ায় বেড়েছে কষ্ট ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি। এভাবেই দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি।

অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের জন্য জেলা শহর ও ৫টি উপজেলায় মজুদ রাখা হয়েছে ১৭৬ মেট্রিকটন চাল ও সাড়ে সাত লক্ষ নগদ টাকা। তবে এখনো কোথাও কোনও ত্রাণ বিতরণের খবর পাওয়া যায়নি।

কিন্তু বন্যা কবলিতদের বাড়িঘর ছেড়ে উচু রাস্তা বা স্কুল মাদ্রাসার মাঠে খোলা আকাশের নিচে মাথার উপরে কোনও রকমে একটি ছাউনি দিয়ে থাকতে দেখা গেছে। পায়নি কোনও সহযোগিতাও। তবুও জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা বলছেন সৃষ্টি হয়নি ত্রাণ দেয়ার মতো অবস্থা।

এছাড়াও বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টের গেজ মিটার (পানি পরিমাপক) আব্দুল লতিফ আমার সংবাদকে জানান, গত ২৪ ঘন্টায় যমুনা নদীর পানি শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে ৯সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪৯সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি আরও বাড়বে বলেও জানান তিনি।

গত ১৪ আগস্ট থেকে শুরু করে আজ বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার নদী তীরবর্তী আরও কিছু নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। এ সকল এলাকার বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাটে পানি উঠে পড়ায় ভীষণ বিপাকে পড়েছেন বন্যা দুর্গতরা। বন্যা কবলিত এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় নষ্ট হচ্ছে রোপা আমন ক্ষেত, বীজতলা, আখ, পাট, তিল ও সবজিবাগানসহ বিভিন্ন ফসল।

আরো পড়ুন:মমেক হাসপাতালে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত কমেছে

শেয়ার করুন

আরো খবর