বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

মাদকবিরোধী প্রচারণায় মাদকব্যবসায়ী

রাজশাহী প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৮ মে, ২০২০
  • ১৯০

মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার রাজু আহম্মেদ (৩০) নিজেই মাদক ব্যবসায়ী বলে নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শনিবার দিবাগত রাতে র‌্যাব-৫ রাজশাহীর মোল্লাপাড়া ক্যাম্পের একটি অপারেশন দল রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বিদিরপুরের নিজ বাড়ি থেকেই রাজুকে গ্রেফতার করে। সে ওই গ্রামের লবণ বিক্রেতা আবদুল মান্নান ওরফে সেন্টুর ছেলে। তার কাছ থেকে ৮০০ গ্রাম হেরোইন এবং ৩০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।

র‌্যাব-৫, রাজশাহীর কোম্পানী অধিনায়ক এটিএম মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যখন জানি একবার মাদকসহ রাজু গ্রেফতার হয়েছিল এবং আবারো মাদকের কারবারে জড়িত, তখন তাকে হাতেনাতে গ্রেফতারের চেষ্টা শুরু করি। তার পেছনেও সোর্স নিয়োগ করি। শনিবার রাতে আমরা খবর পাই, পাঁচ কেজি হেরোইন নিয়ে এক এলাকা থেকে আসবে। তখন আমরা সাদাপোশাকে তাকে অনুসরণ করি। কিন্তু সে বুঝতে পেরে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আমরা নিশ্চিত হই সে হেরোইন নিয়ে বাড়িতে ঢুকেছে। তাই প্রতিবেশি চার-পাঁচজনকে নিয়ে আমরা তার বাড়িতে ঢুকি। তার ঘরেই পাওয়া যায় ৮০০ গ্রাম হেরোইন ও ৩০০ পিস ইয়াবা। তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় সে একটা কথাও বলেনি।’ নিজ বাড়িতে ঢুকেই রাজু ফেসবুক আইডিতে দুটি স্ট্যাটাস দিয়েছে। একটিতে লিখেছে, ‘পৃথিবীতে কেউই খারাপ হয়ে জন্মায় না। পরিবেশ আর পরিস্থিতি জীবনটাকে পাল্টে দেয়।’ আরেক স্ট্যাটাসে লিখেছে, ‘ সব অপরাধের ক্ষমা আছে! কিন্তু বিশ্বাসঘাতকতার কোনো ক্ষমা নাই।’

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, মাদক ব্যবসার পাশাপাশি রাজু নিজেকে র‌্যাবের সোর্স পরিচয় দিত। তারপর ধরিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বা র‌্যাবের নাম ভাঙিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলতো। আবার মাদককে না বলুন নামে ফেসবুক আইডিতে সে নিজেই র‌্যাব পরিচয় দিত। এই আইডি দিয়ে সে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীকে ম্যাসেজ পাঠাতো এবং টাকা আদায় করতো। রাজুর দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। যেসব মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতো সেগুলোর স্ক্রিনশট নিয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়া মাদককে না বলুন নামের ফেসবুক আইডিতে র‌্যাবের লোগো ব্যবহার করে যেসব কর্মকাণ্ড করতো তারও স্ক্রিনশট নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, রাজুর বিরুদ্ধে গোদাগাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। মামলাটি তারা নিজেরাই তদন্ত করতে চান। প্রয়োজনে রাজুকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান। মামলার তদন্তভার পাওয়া গেলে রাজুর ফোন দুটি ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে। এই পরীক্ষায় ভুয়া ফেসবুক আইডিতে র‌্যাবের লোগো ব্যবহারসহ অনলাইনে অন্যান্য অপরাধের সবপ্রমাণ হাতে আসলে তার বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইনেও ব্যবস্থা নেয়া যাবে।

জানা যায়, রাজু প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের ছবি পোস্ট করতো। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদকদ্রব্য জব্দ করলে ফেসবুকে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ দিয়ে মন্তব্য এমনকি অভিনন্দনও জানাতো। এর আগে ২০১৫ সালে রাজু ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার হয়। কিন্তু জামিনে বের হয়েই ফেসবুকে মাদকবিরোধী প্রচারণা শুরু করে।

শেয়ার করুন

আরো খবর