শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ০২:১৩ পূর্বাহ্ন

মোস্তাফিজের তারকা হওয়ার গল্প

স্পোর্টস ডেস্ক:
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২০
  • ৮২

এলাম, দেখলাম, জয় করলাম। ক্যাটার মাস্টার  মোস্তাফিজুর রহমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার বলা যায় তেমনি। যেদিন তার আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল ড্রসিং রুমে অনেক ক্রিকেটারই চিনতেন এই তরুণকে! হঠাৎ একটা ফোন কল পেয়ে সাতক্ষীরা থেকে ঢাকার রাস্তা ধরে কয়েক দিনের মধ্যেই সুপারস্টার বনে গেলেন ১৯ বছরের সেই অচেনা ছেলেটি।
২০১৫ সালের এপ্রিলের ঘটনা। বিশ্বকাপের কোয়ারটার ফাইনাল খেলে আসা বাংলাদেশ তখন আত্মবিশ্বাসে ফুটছে। পূর্নাঙ্গ সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ এলো পাকিস্তান দল। পাকিস্তানের বিপক্ষে একজন বামহাতি পেসার খুঁজছিলেন বাংলাদেশের তৎকালিন কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। বিসিবির গেম ডেভলপম্যান্টের চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজন হাথুরুর সামনে হাজির করেন মোস্তাফিজকে।
রোববার ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালের সঙ্গে ফেসবুকে লাইভ আড্ডায় যুক্ত হয়েছিলেন সাবেক তিন অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন, খালেদ মাহমুদ সুজন ও নাইমুর রহমান দুর্জয়।

তামিমের এক প্রশ্নের উত্তরে মোস্তাফিজের উঠে আসার বর্ণনা দিতে গিযে সুজন বলেন, ‘আমি তখন গেম ডেভলপম্যান্টের চেয়ারম্যান ছিলাম। হাথুরুসিংহে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, বামহাতি পেসার আছে কি না। আমি বললাম যে, দুই জন আছে। একজন মোস্তাফিজ অপরজন আবু হায়দার রনি। সে বলল কার বিশেষত্ব কী? আমি বললাম রনি সুইং বোলার। আর মোস্তাফিজ জোরে বোলিং করে। ছেলেটার সুইং এর পাশাপাশি খুব ধারালো কাটারও আছে। সে (হাথুরুসিংহে) বলল, তুমি কি ছেলেটাকে কাল দেখাতে পারবে? আমি বললাম, অবশ্যই। মোস্তাফিজ তখন সাতক্ষীরাতে, আমি ওকে ফোন করে দ্রুত ঢাকায় আসতে বলি। ও আসল, নেটে বোলিং করল। দেখে হাথুরুসিংহে বলল, এই ছেলে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলছে। এভাবেই আসলে মোস্তাফিজের উঠে আসা।’
এর পরের গল্পটা তো সবারই জানা। অভিষেকে শহীদ আফ্রিদির উইকেটসহ দুই উইকেট পান মোস্তাফিজ। তারকা বনে যান ভারত সিরিজে। জুনে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসে ভারত। বাংলাদেশ প্রথমবার ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জেতার গৌরব অর্জন করে মোস্তাফিজের কল্যাণেই। তিন ওয়ানডেতে ১১ উইকেট নেওয়া মোস্তাফিজের সামনেই কাবু হয়েছিল ভারত। কাটার আর স্লোয়ারে ভারতীয়দের নাস্তানুবাদ করেছিলেন মোস্তাফিজ।

শেয়ার করুন

আরো খবর