বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:৩৩ অপরাহ্ন

রাজধানীর উত্তরা বিভাগে আশরাফের একাধিক হোটেলের অশ্লিলতার অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় শনিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২২
  • ৫২
আবাসিক হোটেল

রাজধানীর উত্তরা আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ব্যঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে অনুমোদনহীন নামে বে—নামে আবাসিক হোটেল। নেই কোনো প্রশাসনের নজরদারী। ঝুলছে আনাচে কানাচে হোটেলগুলোর সাইনবোর্ড। ঢাকার অদূর থেকে ছুটে আসা অনেকেই হোটেলে অবস্থান করতে লক্ষ করা যায়। তবে এসব হোটেলে ভাড়া কম থাকলেও নেই কোনো থাকার পরিবেশ। নেই কোন নিরাপত্তার ব্যবস্থা। তবে ডিএমপির নির্দেশনা অনুযায়ী রুম বর্ডারদের নাম ও ঠিকানা নিয়মিত নিকটস্থ থানায় জমা দেওয়ার কথা থাকিলেও তার কোনটাই মিলছে না এসব হোটেলে। এমনকি বর্ডারদের নাম ঠিকানা খাতায় লিপিবদ্ধ করার কথা থাকলেও সেটিও নেই। এতে যেকোন মুহুর্তে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের অপরাধ। যাহা রাজধানীর অনেক আবাসিক হোটেলেই খুন ও মাদক ব্যবসার ঘটনা ঘটে থাকে। তবে হোটেলগুলো জেলা প্রশাসকের নিকট হইতে কোন অনুমোদন নেই বলে সূত্রে জানা গেছে। শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই চলছে এসব আবাসিক হোটেল। যাহার কোনো বৈধতা নেই বললেই চলে। এর পাশাপশি চলছে স্বর্ট গেষ্ট বাণিজ্য অর্থাত কপত—কপতীদের আসামাজিক কর্মকান্ড। যাদের কাছ থেকে রুম ভাড়া নিচ্ছে ঘন্টা চুক্তি ভিক্তিক। তেমনই চানচল্যকর তথ্য উঠে আসে উল্টরা পূর্ব থানা মধ্যে আব্দুল্লাহপুর অবস্থিত হোটেল হোয়াইট প্যালেজ এবং উত্তরা পূর্ব থানার আওয়াতাধীন আব্দুল্লাহপুরে হেটেল সিটি প্যালেজ এবং হাউজ বিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল হসপিটালের অপরজিটে হোটেল মনপুরা।

জানা গেছে, হোটেল গুলোর সাইনবোর্ডে ফ্রেস লেখা থাকলেও ভিতরে অণ্য চিত্র। হোটেল গুলোতে প্রবেশ কেও দেখা যায় অগ্নি নির্বাপক থাকার কথা থাকলেও তার কোনোটাই চোঁখে পড়েনি। শুধু চোখে পড়েছে কপত—কপতীদের অসামাজিক কার্মকান্ডসহ নানান অপরাধ। যাহা সমাজের জণ্য বোধগম্য নয়। ডিএমপির নির্দেশনা নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করেই চলছে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ড। একটি দালাল চক্র সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হোটেল মালিকরা তাদেরকে ব্যবহার করে নতুন কৌশল অবলম্বন করে স্বর্ট গেষ্ট বাণিজ্যে মরিয়া হয়ে উঠছে। যাহা সমাজের একটি বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।

এবিষয়ে এক হোটেল ব্যবসায়ী জানান, আমরা দির্ঘ দিন ধরে এভাবেই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। মাঝে মধ্যে আমরা দু একটি স্বর্ট গেষ্ট দিয়ে থাকি। আবার পুলিশি ঝামেলাও হয়। যাতে পুলিশি ঝামেলা না হয় সেজন্য থানা পুলিশকে মাশোহারা দিতে হয়। উক্ত হোটেল মালিক আশরাফ একসময় গাজীপুরে আবাসিক হোটেলের নামে নারী বাণিজ্য করতেন। যাহা কারো অজানা নয়। সেই হোটেলগুলো পুলিশের কঠোর অভিযানে বন্ধ হয়ে যায় এবং তার বিরুদ্ধে গাজীপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় নারী বাণিজ্যসহ নানা অপরাধের মামলাও হয়েছে।
এদিকে এলাকাবাসি অভিযোগ করে বলেন, উক্ত হোটেলগুলো প্রতি নিয়ত বহিরাগত কপত কপতিকে স্বামী—স্ত্রীী সাজিয়ে অধিক লোভের আশায় হোটেল মালিকগণ ম্যানেজারের মাধ্যম রুম বরাদ্দ দিয়ে থাকেন। এতে এলাকার সামাজিক পরিবেশও অনেকটা অবনতির দিকে ঢলে পড়ছে। আবার মাঝে মধ্যে স্কুল—কলেজগামী শিক্ষার্থীরা হোটেলগুলোতে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার দৃশ্য দেখা যায়। তারা অভিযোগ করে আরো বলেন, উক্ত হোটেলগুলোতে মাঝে মধ্যেই ঝামেলার সৃষ্টি হয় এবং বহিরাগত বর্ডারদের চাহিদা মেটাতে হোটেল কর্তৃপক্ষ কলগার্লদের জোগান দিয়ে থাকেন।

আরো পড়ুন: গ্যাস সরবরাহে এরদোগানের প্রতি পুতিনের আহ্বান

সম্প্রত্তি, হোটেলগুলোর গোপন কক্ষে দুই একটি উঠতি বয়সের মেয়ে রেখেই প্রশাসনের চোঁখ ফাকি দিয়ে তাদের দিয়ে দেহ ব্যবসার কাজে লিপ্ত করায়। কিন্তু বোঝার কোনো উপায় নেই। মাঝে মধ্যে পুলিশি অভিযান থাকলেও কোনো এক অদৃশ্যর কারণে ধরা ছোয়ার বাহিরে থেকে যায় এরা। আবার দেখা যায়, হোটেলগুলোর কাজের বুয়াদের মাধ্যমে অশ্লিলতা বাণিজ্য করে থাকেন। তবে হোটেল কর্তৃপক্ষগণ এবিষয়ে অস্বিকার করে। এভাবেই ক্রমেই বাড়ছে অনুমোদনহীন আবাসিক হোটেলের আড়ালে নানা অপরাধ। (ধারাবাহিক প্রতিবেদন—১)

আরো পড়ুন: দেশ দুর্নীতিমুক্ত হয়নি: তাজুল ইসলাম

শেয়ার করুন

আরো খবর