সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ০৯:৪৪ অপরাহ্ন

সাতক্ষীরায় গৃহবধূকে হত্যা

ক্রাইম এক্সপ্রেস ডেস্ক :
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১ মে, ২০২০
  • ১২৩

ঘটনার পর স্থানীয়রা নিহতের স্বামীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে সদর উপাজেলায় ভোমরা দাসপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান।

নিহত মেহেনাজ পারভিন মুন্নী (১৯) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা দাসপাড়ার শ্রমিক রিপন হোসেনের স্ত্রী ও দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের মুকুল হোসেনের মেয়ে।

নিহতার ভাই সুমন হোসেন জানান, তিন মাস আগে তার বোন মুন্নীর সঙ্গে রিপনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নগদ টাকা ও সোনার গহনাসহ এক লাখ টাকার যৌতুক দেওয়া হয়। মুন্নীর শ্বশুরবাড়িতে একইসঙ্গে থাকতেন রিপনের বোন রুপা ও তার স্বামী হযরত আলী। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে মুন্নীকে নির্যাতন করতেন রিপন, তার বোন রুপা, বোনের স্বামী হযরত, শ্বশুর রবিউল ও শাশুড়ি খাদিজা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাকে (মুন্নীর মা) রিপন ফোন করে জানান, যে মেয়েকে নিয়ে না গেলে তাকে মেরে ফেলা হবে। রাত ৯টার দিকে নির‌্যাতনের এক পর্যায়ে তারা বালিশ চাপা দিয়ে মুন্নীকে মেরে ফেলেন।

এরপর মুন্নীর শ্বশুর মোবাইল ফোনে ছোট মাকে (মুন্নীর সৎ মা) সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে যেতে বলেন। রাত ১০টার দিকে সদর হাসপাতালে যাওয়ার আগেই মুন্নী মারা গেছে বলে তারা খবর পান।

১১টার দিকে মুন্নীর লাশ লক্ষীদাড়িতে এনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে প্রচার করে মাটি দেবার চেষ্টা চালায় তারা।

একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন এসে রিপন ও তার পরিবারের সদস্যদের আটক করে একটি ঘরে রাখে। রিপনের চাচা বাবলুর সহযোগিতায় ঘরের জানালা ভেঙে রিপনের পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যায়। কিন্তু রিপনকে আটক করে পুলিশে দেয় তারা।

স্থানীয়রা জানান, রিপন ভোমরা বন্দরে খুচরো পেঁয়াজ বিক্রি করতেন। করোনার কারণে কাজ ছিল না তার। অভাবের তাড়নায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ লেগেই থাকতো।  এ কারণে মুন্নীকে মারপিট করতো। বৃহস্পতিবার মুন্নীকে নির্যাতনের একপর্যায়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা জেনেছেন।

তবে আটক রিপন হোসেন জানান, তার স্ত্রীর শ্বাসকষ্ট হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় সে মারা গেছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান জানান, মৃতের লাশ উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। সে অনুয়ায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

আরো খবর