বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১০:১৪ পূর্বাহ্ন

সিলেটে ঝুঁকি নিয়ে নমুনা সংগ্রহ করছেন

ক্রাইম এক্সপ্রেস ডেস্ক :
  • আপডেট সময় শনিবার, ১৬ মে, ২০২০
  • ১২৫

এ দুইজন সিলেটের সীমান্তবর্তী কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত। করোনা সংকটের শুরু থেকেই পরিবারের কথা না ভেবে সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। করোনার উপসর্গ দেখা দিলে তারা ছুটে যাচ্ছেন নমুনা সংগ্রহ করতে। আবার করোনা পজিটিভ আক্রান্তদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে হাসপাতালে আসা উপসর্গের রোগীদের নমুনা সংগ্রহের পর সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে পাঠানোর দায়িত্বও পালন করছেন তারা।

হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের ল্যাব টেকনোলজিস্ট আব্দুর রহমান দিপলু। আর বিলাল উদ্দিন ইপিআই বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট। তাদের পরিবারের সদস্যরা নিজেরা করোনা আতঙ্কে থাকলেও নমুনা সংগ্রহের এ দায়িত্ব পালনে সম্মতি দেন। আর এতে নিষ্টার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারছেন এই দুইজন টেকনোজিস্ট।

আব্দুর রহমান দিপলু বলছিলেন, ‘‘আমি এই রকম মহৎ কাজে জড়িত হয়ে মানুষের সেবা দিয়ে যেতে পারছি বলে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। সতর্কতা অবলম্বন করে আমরা নমুনা সংগ্রহ করে যাচ্ছি।’’

টেকনোলজিস্ট বিলাল উদ্দিন বলেন, ‘‘সরকারি চাকরির পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতাও রয়েছে। এই কারণে আমরা যত্ন সহকারে উপসর্গের রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করি। এজন্য বন্ধু-বান্ধব প্রতিবেশী কেউই আমাদের কাছে আসতে চায় না। তাদের ধারণা আমরা যেন করোনাভাইরাস নিয়ে বসে আছি; তখন কষ্ট পাই।’’

‘‘তবে এতকিছুর পরও করোনা মোকাবিলায় মাঠে দায়িত্ব পালন করছি বলে নিজেকে গর্বিত মনে করি।’’- যোগ করেন তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শেখ শরফুদ্দিন নাহিদ বলেন, কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই দুইজন সার্বক্ষণিক নমুনা সংগ্রহের কাজ করছেন। সংক্রমণ ঝুঁকি নিয়ে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়েও নমুনা সংগ্রহ করছেন।

এ পর্যন্ত উপজেলায় দেড় শতাধিক নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করার জন্য পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পর্যন্ত তিনজনের পজিটিভ এসেছে। পজিটিভ তিনজনই সুস্থ আছেন। তারা বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

আরো খবর