রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০৬:১০ অপরাহ্ন

স্বাস্থ্যবিধি তদারকির সামর্থ্য নেই ঢাকার দুই সিটি

জাকিয়া সুলতানা (ইভা):
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৮ মে, ২০২০
  • ১০৮

স্বাস্থ্যবিধি মেন চলার নির্দেশনা দিয়ে করোনা সংক্রমণ রোধে ঘোষিত বিধি-নিষেধ শিথিল করে দোকানপাট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১০ মে থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। তবে এজন্য স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেগুলো তদারকির দায়িত্বে থাকা দুই সিটি করপোরেশনের কোনও প্রস্তুতি নেই। তাদের যে সামর্থ্য রয়েছে তা দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ বা তদারকি করা সম্ভব হবে না। এমনটাই জানিয়েছেন দুই সিটি করপোরেশনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা।

দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা পরিস্থিতিতে মূল দায়িত্বপালন করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতর। তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে সিটি করপোরেশন। কিন্তু সরকার স্বাস্থ্যবিধি পালন করে দোকানপাট খোলার যে নির্দেশনা দিয়েছে সেটি পালিত হচ্ছে কিনা—তা শুধু সিটি করপোরেশনের পক্ষে দেখাশোনা বা তদারকি করা সম্ভব হবে না। কারণ করপোরেশনের সে জনবল নেই। তবে সংস্থা দুটি যেসব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন তারা সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছেন। দোকানপাট খুললেও তারা কাজ করবেন।

এদিকে দোকানপাট খোলার বিষয়ে সরকারের প্রজ্ঞাপনে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেগুলো হচ্ছে: সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টার ভেতর দোকানপাট ও শপিং মল বন্ধ করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধির প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি শপিং মলের প্রবেশপথে হাত ধোয়াসহ হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শপিং মলে আগত যানবাহনকে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে বর্তমানে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় সোয়া ৫ লাখ দোকানপাট রয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটিতে রয়েছে দুই লাখ ৪৩ হাজার। আগামী ১০ মে থেকে বড় বড় কিছু শপিং মল ছাড়া প্রায় সবকটি দোকানপাট খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। ব্যাপক সংখ্যক দোকানপাট এক সঙ্গে তদারকি করার কোনও সামর্থ্য বা প্রস্তুতি নেই দুই সিটি করপোরেশনের।

জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র জামাল মোস্তফা বলেন, আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে আছেন। আমাদের বাজার সেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ও ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করছেন। কিন্তু মানুষের মাঝে কোনও সচেতনতা নেই। তারা স্বাস্থ্যবিধি পালন করছে না। তারা যদি সচেতন না হয় তাহলে তো সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে কোনও কিছুই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। আমাদের কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিভাবে এটা করতে পারবেন?

অপরদিকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. এমদাদুল হক বলেন, করোনা মহামারিতে মূল কাজ করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাদেরকে সরকার সহযোগিতা করছে। আমরাও দায়িত্বপালন করে আসছি। সিটি করপোরেশন এলাকার প্রতিটি দোকানপাট যেহেতু সিটি করপোরেশন থেকে লাইসেন্স নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে সেহেতু সেগুলো দেখাশোনার দায়িত্ব আমাদেরও আছে। কিন্তু আমাদের যে জনবল রয়েছে তা দিয়ে কোনওভাবেই স্বাস্থ্যবিধি পালন করে দোকানপাট পরিচালিত হচ্ছে কিনা সেটা তদারকি করা সম্ভব নয়। তবে আমাদের যেসব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন তারা মাঠে রয়েছেন এবং কাজ করছেন। কয়েকজন ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া আমাদের আর কোনও প্রস্তুতি নেই।

এদিকে সরকার ঘোষিত সময় অনুযায়ী ১০মে থেকে দোকানপাট খোলার কথা থাকলেও এরই মধ্যে নগরীর অলিগলির প্রায় সব দোকানপাট খুলে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা কেউ স্বাস্থ্যবিধির  তোয়াক্কা করছে না। আর এসব কারণেই নগরীতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে বলে অভিযোগ নগরবাসীর।

শেয়ার করুন

আরো খবর