সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ০৮:২৬ অপরাহ্ন

হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি

বরিশাল প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় রবিবার, ৩ মে, ২০২০
  • ১০৫

প্রেমিকাকে ছিনিয়ে নেয়ায় বরিশালের মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের বালিয়াতলির চর গ্রামের ইমরান বেপারীকে গলাকেটে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে মামলার প্রধান আসামী যুবরাজ খলিফা।

শনিবার বিকেলে বরিশাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মওদুদ আহমেদের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ার পর যুবরাজকে কারাগারে পাঠানো হয়। এদিকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোড়া ও নিহত ইমরানের মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।

মুলাদী থানা সূত্র থেকে জানা গেছে, উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের বজ্রমোহন গ্রামের আলাউদ্দিন সরদারের মেয়ে আফরোজার সাথে দির্ঘ ৭ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিলো যুবরাজের। গত এপ্রিল মাসে মোবাইলে সৌদি ফেরত ইমরানের সাথে পরিচয় এবং প্রেমের সম্পর্ক হয় আফরোজার। এরপর থেকে আফরোজা যুবরাজকে এড়িয়ে চলছিলো। ঘটনার রাতে (গত বুধবার) ইমরান তার প্রেমিকার বাড়ি গিয়ে জানালার পাশে দাড়িয়ে আফরোজার সাথে লুকিয়ে দেখা করতে যায়। এর আগে থেকেই আফরোজার গতিবিধি দেখার জন্য গোপনে পাহাড়া দিচ্ছিলো যুবরাজ।

আফরোজার সাথে লুকিয়ে কথা বলার দৃশ্য দেখে হাতে থাকা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয় যুবরাজ। এ সময় ইমরান দৌড়ে পালালেও হাতে সামান্য ক্ষত হয় আফরোজার। এরপর ইমরানকে ধাওয়া করে যুবরাজ। এক পর্যায়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে ইমরান। সেই অবস্থায় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুটি কোপ দেয় যুবরাজ। এতে তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মনের ক্ষোভে তাকে জবাই দেয়। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে ইমরানকে হত্যার দায় এভাবে স্বীকার করে যুবরাজ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মুলাদী থানার ওসি ফয়েজ উদ্দিন মৃধা জানান, নিহতের এক ঘনিষ্ঠজনের তথ্য মতে আফরোজাকে আটক করে তার মোবাইলের কললিষ্ট ধরে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মামলার প্রধান আসামী যুবরাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। যুবরাজকে জিজ্ঞাসাবাদে তার স্বিকারোক্তি অনুযায়ী তার ঘরের খেসারী ডালের ভূসিপালার নিচে মাটির ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয় হত্যায় ব্যবহৃত ছোড়া ও নিহতের মোবাইল। এছাড়া আসামীর রক্ত মাখা গেঞ্জি, লুঙ্গি ও টর্চ লাইটও উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, যুবরাজ হত্যাকাণ্ডের দায়ে স্বিকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাত ১১টার দিকে খাবার শেষে ঘরের বারান্দায় ঘুমাতে যায় ইমরান। এ সময় তার মোবাইলে কল আসলে কথা বলতে বলতে সে ঘরের বাইরে চলে যায়। এরপর থেকে তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার সকালে লেকাজন বাজারে যাওয়ার সময় বালিয়াতলীর চরে ইমরানের মস্তকবিহীন মরদেহ মাঠের মাঝে দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

শেয়ার করুন

আরো খবর