খন্দকার আউয়াল হোসেন (টাঙ্গাইল); টাঙ্গাইলের মধুপুরের আনারস শুধু একটি সুস্বাদু ও জনপ্রিয় ফল নয়; এটি এ অঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি, মানুষের জীবনযাপন এবং দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা এক অনন্য পরিচয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মধুপুরের কৃষকেরা আনারস চাষের মাধ্যমে দেশের ফলের বাজারে এ অঞ্চলের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। মধুপুরের বিস্তীর্ণ লালমাটির জমি ও সবুজে ঘেরা আনারসের বাগান এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে যেমন সমৃদ্ধ করেছে, তেমনি হাজারো কৃষকের জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন হয়ে উঠেছে। বছরের পর বছর কৃষকের পরিশ্রম, পরিচর্যা ও অভিজ্ঞতার হাত ধরে এখানকার আনারস পেয়েছে আলাদা সুনাম। স্থানীয় কৃষকদের কাছে আনারস চাষ শুধু কৃষিকাজ নয়, এটি অনেক পরিবারের জীবন-জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আনারসের বাগানকে ঘিরে গড়ে উঠেছে স্থানীয় অর্থনীতির নানা কর্মকাণ্ড। উৎপাদন, সংগ্রহ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন অসংখ্য মানুষ। মধুপুরের আনারসের ঐতিহ্য ও স্বাতন্ত্র্যকে আরও মর্যাদা দিয়েছে এর ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি। ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর মধুপুরের আনারস জিআই পণ্যের স্বীকৃতি লাভ করে। এর ফলে দেশের কৃষিপণ্যের তালিকায় মধুপুরের আনারসের নিজস্ব পরিচয় আরও সুদৃঢ় হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্য, স্বাদ ও উৎপাদন ঐতিহ্যের কারণে মধুপুরের আনারস দেশের মানুষের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়। মৌসুমে মধুপুরের বাগানগুলোতে আনারসের সমারোহ সৃষ্টি হয়। দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা আসেন আনারস সংগ্রহ ও কেনাবেচার জন্য। এতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে স্থানীয় হাট-বাজার ও কৃষিপ্রধান এলাকাগুলোতে। কৃষি ও ঐতিহ্যের এই সমন্বয় মধুপুরের আনারসকে একটি সাধারণ ফলের পরিচয়ের বাইরে নিয়ে গেছে। এটি এখন মধুপুরের মানুষের শ্রম, ভালোবাসা ও সাফল্যের প্রতীক; একই সঙ্গে টাঙ্গাইল জেলার কৃষি ঐতিহ্যেরও উজ্জ্বল একটি অংশ। মধুপুরের আনারস তাই শুধু ফল নয় এটি মাটির গন্ধ, কৃষকের ঘাম এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বহন করে আসা এক সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের নাম।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মাছুম বিল্লাহ
ফোন: +8801715184181
ইমেইল: crimeexpressbd@gmail.com
ওয়েবসাইট: www.crimeexpress.net
প্রধান কার্যালয় : ৩৮৯/এ/১ ডি আইটি রোড, পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।