পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গুলশানের বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে পরিচালিত কিছু স্পা সেন্টারকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানে অনৈতিক কর্মকান্ড, বৈধতা, লাইসেন্স, কর্মীদের পরিচয় ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ আসার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় গুলশান থানা পুলিশ। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গুলশান থানার ওসি দাউদ হোসেনের দিক নির্দেশনায় পুলিশ সদস্যরা নির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র, কর্মীদের পরিচয় এবং সেখানে চলমান কার্যক্রম যাচাই করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তাদের মধ্য থেকে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, কোনো প্রতিষ্ঠান বৈধ ব্যবসার আড়ালে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে মাদক, প্রতারণা, মানবপাচার, অনৈতিক কর্মকাণ্ড কিংবা অন্য কোনো অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা না করে তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানের বিষয়ে গুলশান থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “গুলশান এলাকায় অপরাধ দমনে পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠান আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে ছাড় দেওয়া হবে না। আবার বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারী কোনো প্রতিষ্ঠানকেও হয়রানি করা হবে না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন জানান, গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলেও সেগুলোর কার্যক্রম নিয়মিতভাবে নজরদারির আওতায় থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে আবাসিক ভবনে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বিত তদারকি জরুরি। পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে বৈধ ব্যবসার পাশাপাশি কিছু প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে নানা ধরনের অভিযোগ মাঝেমধ্যে সামনে আসে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও প্রচলিত আইন মেনে চলা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশ জানিয়েছে, গুলশান এলাকায় অপরাধবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অভিযানের নামে যাতে বৈধ ব্যবসায়ীরা অযথা হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
অভিযানে গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
গুলশান পুলিশের এই অভিযানকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয়দের অভিযোগ দ্রুত যাচাইয়ের মাধ্যমে গুলশান এলাকায় অপরাধপ্রবণতা আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
গুলশান থানার ওসি বলেন, অপরাধ দমনে গুলশান থানা পুলিশ নিয়মিতভাবে অভিযান ও নজরদারি চালাচ্ছে। কোনো স্পা সেন্টার বা প্রতিষ্ঠান আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৈধ ব্যবসা পরিচালনাকারীদের অযথা হয়রানি করা হবে না। গুলশানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
