সাকিব জামাল
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (স ও জ) এর সেতু ডিজাইন বিভাগ-১,পূর্বাঞ্চল ঢাকায় মাস্টার রোলে কর্মরত কর্মচারী ফরহাদ হাসান রুবেল শ্যামলী স্টাফ কোয়ার্টারের ০৩ নম্বর সরকারি বাসাটি বরাদ্দ প্রাপ্ত না হয়েও টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে দখল করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১৪/০৫/২০২৫ ইঃ তারিখে
স ও জ এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এ এস এম তানভীর হামিদ স্বাক্ষরিত একটি স্মারক পত্রে অভিযোগের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়। স্মারক ন: ৩৫.০১.২৬০২.৭৭৫.৪৩.০০১.২৫-১৯৫(১০)
উক্ত অভিযোগ পত্রের মাধ্যমে জানা যায় শ্যামলী স্টাফ কোয়ার্টারের ০৩ নম্বর সরকারি বাসাটি বরাদ্দ প্রাপ্ত ছিলেন মজিবুর রহমান অফিস সহায়ক সেতু ডিজাইন বিভাগ-১,পূর্বাঞ্চল সড়ক বিভাগ তেজগাঁও ঢাকা।এক বছর পূর্বে মজিবুর রহমান মৃত্যু বরণ করলে তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বাসাটি না ছেড়ে আটকে রাখে। বাসাটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বুঝিয়ে না দিয়ে, মজিবুর রহমানের স্ত্রী অজুফা রহমান ও তার পুত্র ওমর রহমান, গঘ-২৪৬৮২৮৩,গঘ-২৪৬৮২৮৪,ও গঘ-২৪৬৮২৮৫ নং এ ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে চুক্তি নামার মাধ্যমে সেতু ডিজাইন বিভাগ-১,পূর্বাঞ্চল ঢাকায় মাস্টার রোলে নিয়োজিত কর্মচারী ফরহাদ হাসান রুবেলের নিকট বিক্রয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন।
যথাসময়ে সরকারি বাসা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বুঝিয়ে না দেওয়ার জন্য মজিবুর রহমানের পরিবারের পেনশন সহ অন্যান্য সুবিধাদি স্থগিত করা প্রয়োজন বলে অভিযোগ পত্রে জানানো হয়। একই সাথে সরকারি সম্পত্তির অবৈধ দখল ও বিক্রয়ের অভিযোগে অজুফা রহমান ও তার পুত্র ওমর রহমানের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
সেতু ডিজাইন বিভাগ-১, পূর্বাঞ্চল সড়ক ভবন, তেজগাঁও ঢাকা এর মাস্টার রোলে নিয়োজিত কর্মচারী মোঃ ফরহাদ হোসেন রুবেল, বরাদ্দ বিহীনভাবে অবৈধ পন্থায় সরকারি সম্পত্তি ভোগদখল করার চেষ্টা করায়,তার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিধি মোতাবেক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি আবেদনপত্রে উল্লেখিত হয়।
উল্লেখ্য উক্ত অভিযোগ পত্রের সাথে বাসা ছাড়ার জন্য অত্র দপ্তরের তাগিদপত্র ও বায়না চুক্তিপত্র ও সংযুক্ত করা হয় বলে জানা যায়। বর্তমানে ফরহাদ হাসান রুবেল উক্ত বাসায় বসবাস করছেন বলে সূত্র মতে জানা যায়। এ বিষয়ে ফরহাদ হাসান রুবেলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদক কে জানান কোনরকম অর্থনৈতিক লেনদেন তিনি করেননি, যে বায়না নামাটি সংযুক্ত করা হয়েছে তা মিথ্যা বানোয়াট। তিনি একাধিকবার একটি সংগঠনের দায়িত্বশীল পদে থাকার কথা উল্লেখ করেন।
এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে,তিনি নিজেও এই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন বলে জানান এবং সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে এভাবে অবৈধভাবে বাসা হস্তান্তর ও বাসা পাওয়ার জন্য অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয়টি সরকারি চাকুরী বিধি লঙ্ঘনের শামিল বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। বিষয়টি আমলে নিয়ে অত্র দপ্তরের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপকর্ম সংঘটিত হবে না বলে সংশ্লিষ্ট সকলের অভিমত।