
গাজীপুর প্রতিনিধি: রাজনীতির মাঠে যখন অনেকেই পদ-পদবি আর ক্ষমতার মোহে অন্ধ, ঠিক তখনই এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী ও রাজপথ কাঁপানো সাবেক ছাত্রনেতা নাসিম মন্ডল। দলের দুর্দিনের ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন ও বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে তিনি প্রমাণ করলেনরাজনীতি কেবল ক্ষমতার জন্য নয়, রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য, মানবতার জন্য। একসময় রাজপথে দলের জন্য সক্রিয় ছিলেন। প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যার উপস্থিতি ছিল অবধারিত। কিন্তু সময়ের নির্মম পরিহাসে আজ তিনি অসুস্থ, অসহায় এবং দলের অনেকের কাছেই এক ভুলে যাওয়া মানুষ। দীর্ঘ ৪-৫ বছর ধরে মারাত্মক অসুস্থ শরীর নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন শ্রীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বীর মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সক্রিয় কর্মী কামরুল খান। শুধু শরীরে বাসা বাঁধা মরণব্যাধি অসুস্থতাই নয়, কামরুল খানের বসবাসের জরাজীর্ণ ঘরটিও এখন তার দুর্ভোগের আরেক নাম। সামান্য বৃষ্টি হলেই ফুটো টিনের চালা দিয়ে ঘরের ভেতরে অঝোরে পানি পড়ে। জীবনের এই কঠিন মুহূর্তে চিকিৎসা, নিরাপদ আশ্রয় কিংবা একটু সান্ত্বনা কোনোটিই যেন তার ভাগ্যে জোটেনি। একসময় যাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজনীতি করেছেন, তাদের অনেকেই আজ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। নিজ দলেই চরম অবহেলিত ও কোণঠাসা হয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরছিলেন এই ত্যাগী কর্মী। বিপদের দিনে দলের সবাই যখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তখন এই অসহায় কর্মীর ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হলেন শ্রীপুর পৌরসভার আপামর জনতার প্রিয় মুখ নাসিম মন্ডল। গত শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে কামরুল খানের এমন অবর্ণনীয় ও অসহায় অবস্থার খবর পেয়ে আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি এই মানবিক নেতা। সব ব্যস্ততা ফেলে তিনি ছুটে যান ১ নম্বর ওয়ার্ডের বীর মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় কামরুল খানের ভাঙা ঘরে। সেখানে গিয়ে নাসিম মন্ডল নিজে অসুস্থ এই বিএনপি কর্মীর বিছানার পাশে বসেন, তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং দীর্ঘক্ষণ পরম মমতায় তাঁর হাত ধরে কথা বলেন। একজন প্রথম সারির নেতার এমন আন্তরিকতা ও ভালোবাসা দেখে উপস্থিত স্থানীয় সাধারণ মানুষও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
কান্নায় ভেঙে পড়লেন অবহেলিত কামরুল খান নেতাকে কাছে পেয়ে এবং তাঁর বুকভরা ভালোবাসা দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি অবহেলিত যুবদল কর্মী কামরুল খান। তিনি অশ্রুসিক্ত চোখে ও কাঁপানো কণ্ঠে বলেন:
আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক, সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত বিএনপির একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে মাঠে ছিলাম। আজ আমি বছরের পর বছর অসুস্থ। আমার ভাঙা ঘরে বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে, সারা রাত ঘুমাতে পারি না। কিন্তু এতদিন আমার খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ ছিল না। আজ নাসিম মন্ডল যেভাবে আমার ঘরে এসে পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমি তাঁর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। তিনি নেতার মতো নেতা, মানুষের মতো মানুষ।
কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর চোখের জল আর অসহায় মুখ যেন দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বেদনারই এক নীরব প্রতিবাদী সাক্ষী হয়ে ওঠে। কামরুল খানের এমন করুণ ও হৃদয়বিদারক অবস্থা দেখে নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি মহানুভব নেতা নাসিম মন্ডল । তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে বলেন: কামরুল খান ভাইয়ের মতো একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত রাজনৈতিক কর্মীর এমন দুর্দশা সত্যিই অত্যন্ত কষ্টের ও লজ্জাজনক। তিনি নিজে যেমন মরণব্যাধিতে আক্রান্ত, তেমনি তাঁর মাথার ওপরের ছাদটির অবস্থাও অত্যন্ত করুণ। দলের জন্য যারা জীবন-যৌবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের এই হাল আমরা মেনে নিতে পারি না। আমি আমাদের বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং গাজীপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছি, যাতে দ্রুত সরকারি ও দলীয়ভাবে তাঁর উন্নত চিকিৎসা ও টেকসই বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। তিনি আরও দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা দেন, “দল বা অন্য কেউ পাশে থাকুক আর না থাকুক, আমি নাসিম মন্ডল ব্যক্তিগত উদ্যোগে কামরুল ভাইয়ের পাশে আছি। অতি দ্রুত আমি তাঁর ঘরের জন্য নতুন টিনের ব্যবস্থা করে দেবো, যাতে চলমান এই বর্ষাকালে তিনি অন্তত শান্তিতে ও স্বস্তিতে ঘুমাতে পারেন। ভবিষ্যতেও তাঁর যেকোনো প্রয়োজনে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। নাসিম মন্ডলের এই অনন্য মানবিক উদ্যোগের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা ও প্রশংসার জোয়ার বইছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ক্ষমতার লোভ না করে নাসিম মন্ডল যেভাবে তৃণমূলের অবহেলিত কর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন এবং নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সাহায্য করছেন, তাতে তিনি ইতিমধ্যেই শ্রীপুর পৌরসভার সাধারণ মানুষের মনে “মানবতার ফেরিওয়ালা” হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এমন দরদী ও কর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা নেতাই শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র হিসেবে পাওয়ার যোগ্য।