অমিত হাওলাদার পিরোজপুর; পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলায় দাম্পত্য কলহ ও স্ত্রীর পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঢাকায় এক যুবক ভিডিও কলে থাকা অবস্থায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।
নিহত সজল কুমার দেউরী (প্রায় ৪০) নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাপিঠানিয়া গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও স্বপন কুমার দেউরীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাটিং মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে ঢাকার ভাড়া বাসায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন সজল। ঘটনার সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ত্রী রঞ্জিতা রানী হালদারের সঙ্গে ভিডিও কলে যুক্ত ছিলেন। নিহতের ছোট ভাই তুহিন দেউরী দাবি করেন, প্রায় ১০ বছর আগে নাজিরপুর উপজেলার রঞ্জিতা রানী হালদারের সঙ্গে সজলের বিয়ে হয়। তাদের তিন বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে থাকতেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী শোভন বেপারীর সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে পরিবারে অভিযোগ ছিল। এ নিয়ে একাধিকবার পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা হলেও দাম্পত্য কলহ অব্যাহত ছিল। তার অভিযোগ, আত্মহত্যার আগে সজল মৃত্যুর কথা বললে ভিডিও কলে থাকা স্ত্রী তাকে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলেন। পরিবারের সদস্যরা এসব কথা শুনেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। স্থানীয় ইউপি সদস্য মনোজ ঢালী বলেন, নিহতের স্ত্রীর সঙ্গে শোভন বেপারীর সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ছিল। বিষয়টি নিয়ে স্বামী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে স্থানীয়দের ধারণা। ঘটনার পর অভিযুক্ত শোভন বেপারী ও রঞ্জিতা রানী হালদার এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন বলেও জানান তিনি। তবে শোভন বেপারী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “রঞ্জিতা রানীর সঙ্গে আমার কোনো অনৈতিক সম্পর্ক নেই। আমি তাকে সবসময় ‘দিদি’ বলে সম্বোধন করতাম।” আত্মগোপনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। অভিযোগের বিষয়ে রঞ্জিতা রানী হালদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি বাড়িতে না থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, আত্মহত্যার পেছনে দাম্পত্য কলহ বা পরকীয়ার অভিযোগের বিষয়গুলো বর্তমানে স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি। এ বিষয়ে পুলিশের তদন্ত বা আদালতের মাধ্যমে এখনো কোনো অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়নি।
মন্তব্য করুন