মোঃ আবু জাফর মন্ডল গাইবান্ধা; গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর হরিরামপুর ইউনিয়নের উত্তর হরিপুর গ্রামে অবস্থিত হরিপুর শহরভানিয়া দাখিল মাদ্রাসা দীর্ঘ চার দশকের শিক্ষা কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করে এলাকায় একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ১৯৮২ সালে এলাকার শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক জমিদাতা মোঃ আলম উদ্দিন প্রধানের অনুপ্রেরণায় এবং প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ওসমানগনি প্রধানের ঐকান্তিক উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষিত ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বহু প্রতিকূলতা, আর্থিক সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে দীর্ঘ ৪০ বছর শিক্ষাসেবা প্রদানের পর ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটি সরকারের এমপিওভুক্ত হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এমপিওভুক্তির মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে যেমন নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নও বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে মোট ২২ জন শিক্ষক ও কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে ১৭ জন অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিক্ষক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিদ্যালয়ের সুপার মোঃ আনিছুর রহমান প্রধানের পরিচালনায় শিক্ষক মন্ডলীগন নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছেন। তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সার্বিক সহযোগিতায় শিক্ষা কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলছে।
প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মোঃ ইমরান আলীর দক্ষ দিকনির্দেশনা, সুষ্ঠু তত্ত্বাবধান এবং উন্নয়নমুখী পরিকল্পনার ফলে মাদ্রাসাটি শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করেছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে তিনি শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ৩৭৬ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে শ্রেণিকক্ষ বৃদ্ধি পায়নি। ফলে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাবে অনেক সময় একই কক্ষে একাধিক শিফটে পাঠদান পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পাঠদান এবং পাঠগ্রহণে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকাল ও গ্রীষ্ম মৌসুমে সংকীর্ণ কক্ষে পাঠদান অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
এদিকে বিগত কয়েক বছর ধরে, বিশেষ করে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষার ফলাফল অত্যন্ত সন্তোষজনক ও আশাব্যঞ্জক। প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ফলাফলের এই ধারাবাহিক সাফল্য প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের আন্তরিক প্রচেষ্টারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সচেতন মহল, অভিভাবক, শিক্ষক-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের অভিমত, অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হলে ভবিষ্যতে শিক্ষার এই অগ্রযাত্রা ব্যাহত হতে পারে। তাই শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি আধুনিক বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। নতুন ভবন নির্মিত হলে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক পাঠদান ব্যবস্থা, বিজ্ঞানাগার, আইসিটি ল্যাব, গ্রন্থাগার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে হরিপুর শহরভানিয়া দাখিল মাদ্রাসার জন্য একটি বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন ও বরাদ্দ প্রদান করা হয়।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, সরকারের যথাযথ সহযোগিতা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত হলে হরিপুর শহরভানিয়া দাখিল মাদ্রাসা শুধু গোবিন্দগঞ্জ নয়, সমগ্র গাইবান্ধা জেলার অন্যতম আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশিক্ষিত, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মন্তব্য করুন