দেশের বিভিন্ন জেলায় চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। সোমবার (১৩ জুলাই) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যায় জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অসংখ্য পরিবার গৃহহীন হয়েছেন এবং বহু এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেঢাবি প্রতিনিধি। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।
সংগঠনটির দাবি, এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে হাজারো পরীক্ষার্থী চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে বন্যাকবলিত এলাকার অনেক শিক্ষার্থী নিজ নিজ পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারবে না। অনেকের বই-খাতা, শিক্ষা উপকরণ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রও বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা উপেক্ষা করে পরীক্ষা নিলে তা শিক্ষার মৌলিক ন্যায়বিচার ও সমঅধিকারের পরিপন্থি হবে।
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক সানজিদুল হক সারোয়ার বন্যাকবলিত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে চলমান এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা অন্তত এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর সংশোধিত পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
সংগঠনটি আশা প্রকাশ করে, শিক্ষার্থীদের জীবন, নিরাপত্তা ও শিক্ষার অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার দ্রুত একটি মানবিক, দায়িত্বশীল ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেবে। পাশাপাশি বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সব ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
মন্তব্য করুন