মো. আবু জাফর মন্ডলঃ জীবনের শুরুটা ছিল নদীভাঙনের নির্মম বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে। সেই সংগ্রামকে শক্তিতে পরিণত করে দীর্ঘ তিন দশকের কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে এবার গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চলতি বছরের শ্রেষ্ঠ জারিকারক নির্বাচিত হয়েছেন রাজস্ব শাখার কর্মচারী শফিকুল ইসলাম। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রবেশ করলেই সেরা কর্মচারীদের তালিকায় তাঁর ছবিটি সবার নজর কাড়ে। দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব শাখায় দায়িত্ব পালনকারী শফিকুল ইসলাম কর্মস্থলে সময়ানুবর্তিতা ও নিষ্ঠার জন্য সহকর্মীদের কাছেও সুপরিচিত। শফিকুল ইসলাম জানান, তাঁর জন্ম ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের উড়িয়া গ্রামে। শৈশবে যমুনা নদীর ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে পরিবারকে উত্তর বুরাইল গ্রামে আশ্রয় নিতে হয়। পরবর্তীতে চাকরির সুবাদে গাইবান্ধা সদর উপজেলার নারায়ণপুর এলাকায় দুই শতক জমি কিনে ছোট একটি বাড়ি নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন। তিনি বলেন, ১৯৯২ সালে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অফিস সহায়ক হিসেবে চাকরিজীবন শুরু করেন। পরে এড়েন্ডাবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিস, তুলশিঘাট তহশিল অফিস, বল্লমঝাড় ইউনিয়ন ভূমি অফিস, জেলা প্রশাসকের আরএম শাখাসহ সুন্দরগঞ্জ ও সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখায় জারিকারক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
সহকর্মীদের ভাষ্য, কর্মজীবনের শুরু থেকেই দায়িত্ব পালনে সততা ও আন্তরিকতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন শফিকুল ইসলাম। দীর্ঘদিনের সেই নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবেই চলতি বছরে তাঁকে জেলার শ্রেষ্ঠ জারিকারক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে শফিকুল ইসলাম তিন সন্তানের জনক। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে লেখাপড়া করিয়ে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন। তাঁর মেয়ে গাইবান্ধা সরকারি কলেজে অনার্স শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত। বড় ছেলে এইচএসসি পাস করেছেন এবং ছোট ছেলে একই কলেজে অনার্সে ভর্তি হয়েছেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সততা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন। সরকারি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পেরেছি বলেই আজ এই সম্মান পেয়েছি। ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের সেবা করে যেতে চাই।
মন্তব্য করুন