মাথাব্যথা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। তবে মাথাব্যথা হলেই যে তা মাইগ্রেন, এমন ধারণা ঠিক নয়। চিকিৎসকদের মতে, মাথাব্যথার ১৫০টিরও বেশি ধরন রয়েছে। এর মধ্যে মাইগ্রেন একটি বিশেষ ধরনের প্রাইমারি মাথাব্যথা, যা দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক জীবনযাপন, কিছু নিয়ম মেনে চলা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনের মাধ্যমে মাইগ্রেন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
মাইগ্রেন হলো এক ধরনের প্রাইমারি মাথাব্যথা, যা অন্য কোনো রোগের কারণে হয় না। তাই এটি শনাক্ত করতে সাধারণত রক্ত পরীক্ষা বা বিশেষ কোনো পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। তবে মাথাব্যথা মানেই যে মাইগ্রেন, এমন ধারণা ভুল। বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণেও মাথাব্যথা হতে পারে।
মাইগ্রেনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্কের স্নায়ু ও রক্তনালির কার্যক্রমে সাময়িক পরিবর্তনের কারণে এ সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া কিছু বিষয় মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে। যেমন
গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে মাইগ্রেনের প্রবণতা প্রায় তিন গুণ বেশি। বিশেষ করে মাসিক, গর্ভাবস্থা ও মেনোপজের সময় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে অনেক নারীর মাইগ্রেনের ব্যথা বেড়ে যায়।
মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হওয়ার আগে বা চলাকালে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন—
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনের পাশাপাশি কিছু নিয়ম মেনে চললে মাইগ্রেনের আক্রমণ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
খাদ্যতালিকায় কলা, ওটস, বাদাম, বিভিন্ন বীজ ও ডার্ক চকলেট রাখতে পারেন। বমিভাব কমাতে আদাও উপকারী।
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। মাথাব্যথার সময় ঠান্ডা পানির জলপট্টিও সাময়িক আরাম দিতে পারে।
অতিরিক্ত ক্যাফেইন ও কোমল পানীয় মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়াতে পারে। তাই এগুলো পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত।
নিয়মিত মেডিটেশন, যোগব্যায়াম বা হালকা ব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে, যা মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর।
একটানা কম্পিউটার বা মোবাইলের স্ক্রিনে কাজ না করে মাঝেমধ্যে বিরতি নিন। প্রয়োজনে সানগ্লাস বা পাওয়ার চশমা ব্যবহার করুন।
কখন, কী কারণে বা কী খাওয়ার পর মাথাব্যথা হচ্ছে, তা লিখে রাখুন। এতে নিজের ট্রিগারগুলো সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং চিকিৎসকের কাছেও সঠিক তথ্য দেওয়া সহজ হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজে থেকে অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস ক্ষতিকর হতে পারে। মাইগ্রেনের ব্যথা বারবার হলে বা তীব্রতা বেড়ে গেলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, মাইগ্রেন পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও সঠিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং ট্রিগারগুলো এড়িয়ে চললে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
মন্তব্য করুন