
জাহাঙ্গীর আলম কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ; কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অভ্যান্তরে বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় পালিত হলো ১১ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান। শনিবার রাত ১২ টা ১ মিনিটে বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় ১১ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের উদ্ধোধন করেন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ। রাত ১২ টা ১ মিনিটে ৬৮ টি মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসময় আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ দাসিয়ারছড়াকে স্বতন্ত্র ইউনিয়ন দাবির বিষয়টি বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কে জানাবেন বলে স্থানীয়দের আশ্বাস প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাসিম পারভেজ তারা, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান জোবায়ের হিমেল, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি লোকমান হোসেন সরকার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান মুকুল, উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি শামসুজ্জামান হাসু প্রমূখ উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন।
বাংলাদেশ ভারত ছিটমহল বিনিময় আন্দোলনের দাসিয়ারছড়ার সাবেক সভাপতি মোঃ আলতাফ হোসেন জানান, ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই রাষ্ট্রহীন জীবনের অবসান হলেও স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি একটি স্বতন্ত্র ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার দাবি আজও পূরণ হয় নি। বর্তমান সরকারের নিকট একবুক আশা নিয়ে আছি একটি ইউনিয়নের জন্য। উল্লেখ্য,২০১৫ সালের ৩১ শে জুলাই তৎকালীন বাংলাদেশ ভারতের সরকার প্রধানগণ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর এবং ভারতের অভ্যান্তরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ভারতের নিকট হস্তান্তর করা হয়। ফলে দুদেশের অবরুদ্ধ মানুষের ৬৮ বছরের বঞ্চনার পরিসমাপ্তি ঘটে।
অন্যদিকে ভারতের ১৭ হাজার ১৬০ দশমিক ৬৩ একর আয়তনের ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড় জেলায় অন্তর্ভুক্ত হয়। এর মধ্যে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অন্তর্ভুক্ত দাসিয়ারছড়া ছিটমহল সবচেয়ে বড়। এর আয়তন ১ হাজার ৬৪৩ দশমিক ৪৪ একর। এখানকার ৬ হাজার ৫২৯ জন অধিবাসী বাংলাদেশি নাগরিকত্ব পেয়েছেন। এ ছিটমহল গুলোতে তখনকার সময় ছিল না স্বাধীন জীবনযাপন, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যবস্থা। আধুনিক ঘরবাড়ী তো দূরের কথা, চলাচলের রাস্তাও ছিল না। পরিচয় গোপন রেখে দাসিয়ার ছড়ার অনেক বাসিন্দা বাংলাদেশে জন্মনিবন্ধন করে বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করতেন। পরিচয় গোপন করে বয়স্করাও হতেন বাংলাদেশের নাগরিক।