স্বাধীনতার ৫৭ বছর পেরিয়ে গেলেও পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভরিপাশা-তালতলী সড়কটি এখনো পাকা হয়নি। প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কাঁচা সড়কের কারণে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষ। শুধু এই সড়কই নয়, ওয়ার্ডটির অন্য কোনো সড়কও এখন পর্যন্ত পাকাকরণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভরিপাশা ও তালতলী এলাকায় ভরিপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, তালতলী-ভরিপাশা দাখিল মাদ্রাসাসহ মোট সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি সরকারি এবং চারটি এমপিওভুক্ত। এছাড়া এলাকাবাসীর যাতায়াতের জন্য একটি খেয়াঘাট ও একটি লঞ্চঘাট রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে কাঁচা সড়কটি কাদা ও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না, ফলে তাদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। একই সঙ্গে অসুস্থ রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয়দের দাবি, আধুনিক যুগেও জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতার কারণে এলাকাটি উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।
ভরিপাশা এলাকার শিক্ষক বশির উল্লাহ বলেন, বর্ষাকালে রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে অংশ নিতে পারে না। আবহাওয়া খারাপ থাকলে বিদ্যালয়ে স্বাভাবিকভাবে পাঠদানও ব্যাহত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু জাফর মিঠুন বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও এই ওয়ার্ডে এক ইঞ্চি সড়কও পাকা হয়নি। সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও একটি লঞ্চঘাট থাকার পরও যোগাযোগ ব্যবস্থার কোনো উন্নয়ন হয়নি। জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতায় আমরা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, সড়কগুলো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আইডিভুক্ত না থাকায় এখন পর্যন্ত পাকাকরণ সম্ভব হয়নি। তবে সড়কগুলো দ্রুত গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। আইডিভুক্তির পর জেলা এলজিইডির সঙ্গে আলোচনা করে সড়ক পাকাকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন