ক্রাইম এক্সপ্রের্স
১১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৯ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বস্ত্র খাতে বেড়েছে প্রণোদনা

নিজস্ব প্রতিবেদক; বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের জোরালো দাবি ও দেনদরবারের মুখে অবশেষে বড় ধরনের সুখবর দিল সরকার। দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত তৈরি পোশাকশিল্পের প্রতি বিশেষ নজর দিয়ে এবার নগদ সহায়তার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হচ্ছে। রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পে দেশি সুতা বা কাপড় ব্যবহারে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তার হার বর্তমানের ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও অভ্যন্তরীণ নানান চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা বস্ত্র খাতের জন্য সরকারের এ সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োপযোগী একটি বড় প্রণোদনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা। সরকারের এ নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দেশি বস্ত্রকলগুলো যেমন চাঙা হবে, তেমন তৈরি পোশাক রপ্তানিতেও নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চূড়ান্ত নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের কাছে পাঠানো হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রপ্তানিকারকদের এ নতুন সুযোগ ও বাড়তি প্রণোদনা নেওয়ার আগে অবশ্যই দেশি উৎস থেকে সুতা বা কাপড় সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। নতুন এ বর্ধিত সুবিধা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। এর আগে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে জরুরি সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে বিটিএমএ নেতারা দেশি সুতা ও কাপড়ের ব্যবহার উৎসাহিত করতে এবং এ খাত টিকিয়ে রাখতে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য নগদ সহায়তা বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করাসহ মোট ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। ব্যবসায়ীদের যুক্তি ছিল, দেশি সুতা ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্প আরও শক্তিশালী এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

বস্ত্র খাতের অতীত পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আড়াই বছর আগেও স্থানীয় সুতা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানির বিপরীতে ৪ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেওয়া হতো। তবে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এবং আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এ সহায়তার হার কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছিল। এর মাত্র ছয় মাস পর সেই সহায়তা আরও কমিয়ে মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। ফলে দেশি সুতা ও কাপড়ের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজারের বেশি

এনআইডি সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবার ফি পুনর্নির্ধারণ

বন্ধ কারখানা চালু ও বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

স্কুলে যাওয়ার পথে বাসচাপায় প্রাণ গেল শিক্ষকের

দুই স্ত্রীর যৌতুক মামলা, ডিএমপির কনস্টেবল কারাগারে

ঢাকাসহ ৯ জেলায় দুপুরের মধ্যে বজ্রবৃষ্টির আভাস

অভিনেতা রতনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন মুক্তি

চিরিরবন্দরে কৃষকলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

নেতি আর ইতি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সুযোগ রাখতে ইসির সঙ্গে বৈঠকে জামায়াত

১০

জিয়াউর রহমান হত্যা তদন্ত কমিশনের অপ্রকাশিত প্রতিবেদনে কী আছে

১১

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ ঠিক হয়নি, তবে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন : সিইসি

১২

বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

১৩

গুলশানে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় থামছে না রত্না ও বাহারের স্পা সিন্ডিকেট

১৪

ইরানে হামলা বন্ধের ‘আসল কারণ’ জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

১৫

সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫৬তম জন্মদিন আজ

১৬

ঢালাইয়ের পরই সেতুর পাটাতনে ধস, তদন্তে ২ কমিটি

১৭

চিরিরবন্দরে গ্রামীণ সড়কের কোর রোড নেটওয়ার্ক ও তথ্য যাচাই বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

১৮

ভান্ডারিয়ার এতিমখানায় সরকারি বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন, সুবিধাভোগীর সংখ্যা নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগ

১৯

দেশে অস্থিরতা, লন্ডনে ফুরফুরে ‘কিং’ শাহরুখ

২০