সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
ছাত্র আন্দোলন অব্যাহত

ছাত্র আন্দোলন অব্যাহত

ভারতের দিল্লির ঐতিহাসিক সংখ্যালঘু কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়া-তে দুই সপ্তাহ ধরে চলা প্রবল ছাত্র আন্দোলনের মুখে অবশেষে নতিস্বীকার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের পর আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ মাহতাব আলম রিজভী ঘোষণা করেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা হবে। একই সাথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিল করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তাও পর্যালোচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের পর থেকে এই ক্যাম্পাসে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি, যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমে ছিল। তবে কর্তৃপক্ষের মৌখিক প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা তাঁদের আন্দোলন ও অনশন কর্মসূচি এখনই স্থগিত করছেন না। আরও পড়ুন,কমপ্লায়েন্ট স্বীকৃতি পেল প্রায় ৩৯ হাজার কুয়েতি প্রতিষ্ঠানঅনশনরত এবং আন্দোলনকারী ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেওয়া এই নির্দেশ বিভ্রান্তিকর এবং তা আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত আকারে দেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীরা কেবল নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখই চান না, বরং আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নেওয়া সমস্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার, বহিস্কৃতদের পুনর্বাহাল এবং প্রধান প্রক্টর ও নিরাপত্তা উপদেষ্টার অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। ১৭ অক্টোবর ভোরে শিক্ষার্থীদের বলপ্রয়োগ করে সরানোর চেষ্টা এবং গত শনিবার বিশ্বাবদ্যালয়ের ৭ নম্বর গেটে নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশের সাথে সংঘাতের ঘটনারও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে। ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে ও সংকটজনক। গত শনিবার থেকে ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাইরে থেকে খাবার বা রসদ ঢুকতে না দেওয়ায় ভেতরের শিক্ষার্থীরা খাদ্য সংকটে পড়েছেন বলেও জানা গেছে। এরই মধ্যে রাসায়নিক বিজ্ঞান বিভাগের দেয়ালে 'ফ্রি কাশ্মীর' ও 'ফ্রি শারজিল ইমাম'-এর মতো বিতর্কিত গ্রাফিতি আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা শিক্ষার্থীরা স্পষ্টত ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সার্বিকভাবে, লিখিত নিশ্চয়তা এবং অন্যান্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের 'গুলস্তাঁ-ই-গালিব' ভবনে অবস্থান ধর্মঘট ও গালিব লনে অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন।