শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস

অর্থনীতি

নতুন দামে কত হলো এক ভরি স্বর্ণ

নতুন দামে কত হলো এক ভরি স্বর্ণ

দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। এবার প্রতি ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা। নতুন এই দাম বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুস। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৪২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪৮ টাকা। বাজুস আরও জানিয়েছে, অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী নির্ধারিত মজুরি প্রযোজ্য হবে। আরও পড়ুন,এফটিএ চুক্তিতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনাবিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এ ছাড়া অলঙ্কার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ অর্থ বাদ দিতে হবে। এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে আবারও বড় অঙ্কের মূল্যবৃদ্ধি হলো। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ১৩৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ বার দাম বেড়েছে, ৬৭ বার কমেছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।এদিকে স্বর্ণের দাম বাড়লেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা, ২১ ক্যারেট ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ হাজার ৯১৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২১৬ টাকায়।

এফটিএ চুক্তিতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে দুই দেশ। ২০২৭ সালের মধ্যে একটি আধুনিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থসম্মত চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন উভয় দেশের প্রতিনিধিরা। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে তিন দিনব্যাপী প্রথম দফার আলোচনা উদ্বোধন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার ৩১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের প্রধান ও দেশটির চিফ নেগোশিয়েটর ড. রশিদি সাইদ এবং বাংলাদেশের চিফ নেগোশিয়েটর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অধিবেশনে আলোচনার কাঠামো ও কার্যপরিধি নির্ধারণে টার্মস অব রেফারেন্স বা টিওআর স্বাক্ষরিত হয়। বাণিজ্য সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও অভিন্ন সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে। দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আশাব্যঞ্জক হলেও বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বহুমুখীকরণের সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। আরও পড়ুন,বেবিচকের ১১৪ কোটি টাকা বকেয়াতিনি জানান, গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি টেকসই ও পারস্পরিক স্বার্থরক্ষাকারী মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বর্তমান উদ্যোগ সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। বাণিজ্য সচিবের মতে, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এফটিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল বাণিজ্য, লজিস্টিকস এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।মালয়েশিয়ার প্রধান আলোচক ড. রশিদি সাইদ বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তি শুধু শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার কৌশলগত পদক্ষেপ। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের প্রধান আলোচক খাদিজা নাজনীন বলেন, চুক্তি কার্যকর হলে বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ হবে, বাণিজ্য বাধা কমবে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, পণ্যের উৎপত্তিবিধি এবং শুল্ক প্রক্রিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা চলছে। প্রথম দফার আলোচনা চলবে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত।

এফটিএ চুক্তিতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা

বেবিচকের ১১৪ কোটি টাকা বকেয়া

বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার এবং উড়োজাহাজ অবতরণের ফি বাবদ ২৭টি বিদেশি এয়ারলাইনসের কাছে প্রায় ১১৪ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক)। ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ১৯৮৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে এসব বকেয়া জমেছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এর মধ্যে ১৮টি এয়ারলাইনস ইতোমধ্যে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ায় ৬৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা আদায় নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ফ্লাইট চালু রাখা স্পাইসজেট, অ্যালায়েন্স এয়ার ও তুর্কমেনিস্তান এয়ারলাইনসের কাছে বকেয়া রয়েছে ৪২ কোটি টাকা, যার মধ্যে একাই ভারতের স্পাইসজেটের কাছে পাওনা ৩৪ কোটি টাকা। বেবিচকের বিধান অনুযায়ী, উড়োজাহাজের আকার ও ওজন ভেদে প্রতিবার আকাশসীমা ব্যবহারের জন্য ৩০০ থেকে ৪৫০ ডলার ফি দিতে হয় এবং বিল পাওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে তা পরিশোধের নিয়ম। আরও পড়ুন,অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও প্রবৃদ্ধিতবে অর্থ বিভাগের মতে, অনেক এয়ারলাইনস দেউলিয়া হয়ে যাওয়া বা একীভূত হওয়ার কারণে দূতাবাসে চিঠি পাঠিয়েও বকেয়া আদায় কঠিন হয়ে পড়ছে। সাবেক চেয়ারম্যানদের মতে, ম্যানুয়ালি বিলিং পদ্ধতির কারণে দীর্ঘদিন বকেয়া জমেছে; যার সমাধান হিসেবে স্বয়ংক্রিয় পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু ও বকেয়া রাখা চালু এয়ারলাইনসের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বকেয়া থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে আকাশসীমা ব্যবহারের ফি থেকে বেবিচকের সামগ্রিক আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, গত বছরের প্রথম আট মাসে এ খাতে ৫০২ কোটি ৩২ লাখ টাকা আয় হলেও চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫৮ কোটি ৬১ লাখ টাকায়। মূলত জানুয়ারিতে নতুন আধুনিক রাডার চালুর পর আকাশসীমা পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে উড়োজাহাজ চলাচলের তথ্য নিখুঁতভাবে নথিভুক্ত হচ্ছে এবং ফি আদায়ের ক্ষেত্রে আয় বাদ পড়ার ঝুঁকি বা ভুল হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশে কমে এসেছে।

বেবিচকের ১১৪ কোটি টাকা বকেয়া

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও প্রবৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাথাপিছু জিডিপির দিক থেকে এশিয়ার অন্যতম বড় অর্থনীতি ভারতকে পেছনে ফেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পরিসংখ্যান হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের গড় মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২,৮৮৬ ডলার, যা ভারতের ক্ষেত্রে ২,৭৪৯ ডলার। সামগ্রিক অর্থনীতির আয়তনে ভারত বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় আট গুণ বড় হলেও, বিশাল জনসংখ্যার ব্যবধানের কারণে মাথাপিছু আয়ের এই সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বিশেষ করে গত দুই দশকে তৈরি পোশাক শিল্পের প্রসার, প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের বিপুল অংশগ্রহণ বাংলাদেশের এই অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জনে মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। তবে মাথাপিছু জিডিপিতে এগিয়ে থাকা মানেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ স্থানীয় বাজারের কেনাকাটা এবং মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতার বিচারে ভারত এখনো বেশ খানিকটা এগিয়ে।আরও পড়ুন,ঋণের প্রতিশ্রুতি হ্রাস পাশাপাশি বাংলাদেশে প্রায় ৮.৭ শতাংশের মতো উচ্চ মূল্যস্ফীতি থাকায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ মেটাতে সাধারণ মানুষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। যেখানে ভারত চলতি বছর ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা করছে, সেখানে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা প্রতিকূলতায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৯ সালের দিকে ভারত হয়তো মাথাপিছু আয়ে পুনরায় বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে দেবে। দুই দেশের অর্থনীতির কাঠামোতেও বড় পার্থক্য বিদ্যমান। বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত এককভাবে রপ্তানিমুখী পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল, অন্যদিকে ভারত প্রযুক্তি, বড় সেবা খাত ও নিজস্ব বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারের কারণে বেশ বৈচিত্র্যময়। অধিকন্তু, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক নৌপথে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া দুই দেশের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সর্বাপরি, মাথাপিছু আয়ের এই হিসাব সমাজের প্রকৃত আয়বৈষম্য বা ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকাশ করে না। তাই কেবল পরিসংখ্যানের অগ্রগতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বৈষম্য কমানোই এখন বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও প্রবৃদ্ধি

ঋণের প্রতিশ্রুতি হ্রাস

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবাহে বড় ধরনের স্থবিরতার চিত্র ফুটে উঠেছে চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই–সেপ্টেম্বর) বিদেশি ঋণের হালনাগাদ তথ্যে। আজ সোমবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, আলোচিত তিন মাসে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), চীন, রাশিয়া কিংবা ভারতের মতো প্রধান কোনো আন্তর্জাতিক উন্নয়ন-সহযোগী নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। বড় উন্নয়ন-সহযোগীদের মধ্যে কেবল জাপান মাত্র ৩৫ লাখ ডলারের নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকালে আগামী ৫ বছরে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের বড় ধরনের বিনিয়োগ চুক্তির প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যা এই মন্দা কাটাতে সহায়ক হতে পারে। নতুন প্রতিশ্রুতির গতি শ্লথ হলেও আগের প্রতিশ্রুত ঋণ ছাড় করার ক্ষেত্রে বড় অর্থায়নকারী সংস্থাগুলো এগিয়ে রয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি ১৯ কোটি ৬৫ লাখ ডলার ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক। ১৬ কোটি ২১ লাখ ডলার ছাড় করে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে এডিবি। এছাড়া ভারত সাড়ে ১০ কোটি ডলার, রাশিয়া ২ কোটি ডলার এবং চীন দেড় কোটি ডলার ছাড় করেছে। আরও পড়ুন,ই-টিন থাকলেই সবার ৫ হাজার টাকা জরিমানা নয়: এনবিআরসব মিলিয়ে তিন মাসে বিভিন্ন উন্নয়ন-সহযোগী দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে মোট ৬৬ কোটি ডলার অর্থছাড় পেয়েছে বাংলাদেশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের (১১৫ কোটি ডলার) তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। সব মিলিয়ে জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে মোট বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে মাত্র ১২৭ কোটি ডলারের। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদের দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া পরিশোধের বোঝা। একই সময়ে প্রাপ্ত অর্থছাড়ের দ্বিগুণেরও বেশি টাকা বাংলাদেশকে শোধ করতে হয়েছে। ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে পূর্ব গৃহীত ঋণের আসল ও সুদ বাবদ বাংলাদেশকে পরিশোধ করতে হয়েছে প্রায় ১৩৫ কোটি ডলার। একদিকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতির ঘাটতি ও অর্থছাড় অর্ধেকে নেমে আসা, অন্যদিকে শোধের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে দেশের সার্বিক বৈদেশিক মুদ্রার ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

ঋণের প্রতিশ্রুতি হ্রাস

ই-টিন থাকলেই সবার ৫ হাজার টাকা জরিমানা নয়: এনবিআর

ই-টিন (e-TIN) থাকা সত্ত্বেও আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে সবার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৫ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন তথ্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আয়কর আইন, ২০২৩ ও এনবিআরের নিয়ম অনুযায়ী সবার ক্ষেত্রে একই অঙ্কের বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা আরোপের কোনো বিধান নেই। মূলত বিভিন্ন প্রয়োজনে ই-টিন নেওয়ার পর পরবর্তীতে আয় করমুক্ত সীমার নিচে নেমে গেলেও নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির করদাতার ক্ষেত্রে রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক থাকে। আইন অনুযায়ী, বার্ষিক আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করলে, আগের বছরগুলোতে করযোগ্য আয় থাকলে, কোনো কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক, অংশীদার, সরকারি চাকরিজীবী এবং সুনির্দিষ্ট কিছু সেবা পেতে ই-টিনধারীদের রিটার্ন দাখিল করতে হয়। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৬৬(১) অনুযায়ী, যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া নির্দিষ্ট সময়ে রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে উপকর কমিশনার জরিমানা করতে পারেন। তবে এই জরিমানার পরিমাণ সবার জন্য এক নয়। আরও পড়ুন,২০২৭ সালজুড়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতির চাপের শঙ্কাআগে আয় নিরূপণ হয়নি এমন নতুন করদাতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানা হতে পারে ৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে, পূর্বে আয় নিরূপিত হয়ে থাকলে সর্বশেষ করের ৫০ শতাংশ অথবা ১ হাজার টাকা এর মধ্যে যেটি বেশি, সেটিই সর্বোচ্চ জরিমানার সীমা। পাশাপাশি ন্যূনতম জরিমানা ১ হাজার টাকা হতে পারে এবং ব্যর্থতা চলমান থাকলে প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত ৫০ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। সাধারণত স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় ৩০ নভেম্বর নির্ধারিত থাকে। যাদের শুধু ই-টিন আছে কিন্তু কোনো আয় নেই বা করযোগ্য নয়, তারা প্রথমে যাচাই করে দেখবেন তাদের জন্য রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক কি না। ভবিষ্যতে আর রিটার্ন দেওয়ার প্রয়োজন না হলে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে। এছাড়া এনবিআরের অফিশিয়াল ই-রিটার্ন পোর্টালের (etaxnbr.gov.bd) মাধ্যমে ঘরে বসেই অনলাইনে অতীতে রিটার্ন জমার অবস্থা যাচাই করা সম্ভব। অপ্রমাণিত তথ্যে আতঙ্কিত না হয়ে করদাতাদের নিজ নিজ কর-সংক্রান্ত অবস্থা যাচাই করে আইনসম্মত উপায়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ই-টিন থাকলেই সবার ৫ হাজার টাকা জরিমানা নয়: এনবিআর

ছয় কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে বেগবান করতে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ছয় কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার দুটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড এবং কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে এই এলএনজি কেনা হবে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ৫১তম সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপস্থাপিত এই প্রস্তাব দুটিতে সম্মতি প্রদান করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম প্রস্তাবে সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬ এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি অনুসরণ করে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন,২০২৭ সালজুড়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতির চাপের শঙ্কাএকইসঙ্গে উভয় পক্ষের পারস্পরিক সম্মতিতে প্রয়োজনবোধে অতিরিক্ত কার্গো সংগ্রহের সুযোগ রাখা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) নির্ধারিত সূচক মূল্য থেকে ০.১৭ মার্কিন ডলার কম পড়বে।অন্যদিকে, দ্বিতীয় প্রস্তাবটিতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে অতিরিক্ত এক কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী ২০২৬ সালের ২০ ডিসেম্বরের সরবরাহের জন্য নির্ধারিত এই কার্গোটির দাম বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ভিন্ন দামে কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী কাতার থেকে কেনা প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দর পড়বে জেকেএম সূচক মূল্য থেকে ০.১০ মার্কিন ডলার কম। উভয় প্রস্তাবেই সরবরাহকারী দুটি প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশকৃত দরদাতা হিসেবে অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা কমিটি। এই এলএনজি আমদানির ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি শিল্প কারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি সংকট অনেকটাই লাঘব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

ছয় কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন

২০২৭ সালজুড়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতির চাপের শঙ্কা

যুদ্ধ, জ্বালানি ও সারের মূল্যবৃদ্ধি এবং এল নিনোর প্রভাবে খরার আশঙ্কা সব মিলিয়ে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে এই চাপ তীব্র হতে পারে। এমনকি এর প্রভাব পুরো ২০২৭ সালজুড়েও থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন নিম্ন আয়ের মানুষ। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার ৬৩ বছর বয়সী পার্কিংকর্মী মুহাম্মদ ইয়াসিনের জীবনে এর প্রভাব ইতোমধ্যে স্পষ্ট। আগে চাল, টেম্পে ও টোফু কিনতে যেখানে তাঁর খরচ হতো ৭ থেকে ৮ হাজার রুপিয়া, এখন একই খাবারের জন্য দিতে হচ্ছে ১৫ হাজার রুপিয়া। চার সন্তানের বাবা ইয়াসিনের সাপ্তাহিক আয় ২ লাখ থেকে ৩ লাখ রুপিয়া। ফলে সংসারের খরচ সামলাতে তাঁকে খাবারের পরিমাণ কমাতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের কারণে গম পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। লোহিত সাগরে নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে জাহাজকে দীর্ঘ পথ ঘুরে চলতে হচ্ছে। আরও পড়ুন,আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দামপাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত জ্বালানি ও সার সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর সঙ্গে এল নিনোর প্রভাবে খরার আশঙ্কা যুক্ত হওয়ায় কৃষি উৎপাদন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো জানিয়েছেন, এসব কারণে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা উল্লেখযোগ্য চাপের মুখে পড়েছে। সংস্থাটির খাদ্যমূল্য সূচক গত সেপ্টেম্বরে ১৩৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এশিয়ার প্রধান চাল রপ্তানিকারক দেশগুলোতে চালের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৩ শতাংশ। ইন্দোনেশিয়ায় ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে ৭ শতাংশ। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে রান্নার তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। যুদ্ধের ঝুঁকি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নৌপথে পণ্য পরিবহনের ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এতে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর খাদ্য সংগ্রহের খরচ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক মাসে বিভিন্ন দেশ আবার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে খাদ্যশস্য আমদানি বাড়ালে চাহিদার ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। সয়াবিন ও ভুট্টার মজুত আপাতত পর্যাপ্ত থাকলেও ভবিষ্যৎ সরবরাহ নির্ভর করবে প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোর ফলনের ওপর। সব মিলিয়ে, খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকলে নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা আগামী দিনগুলোতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

২০২৭ সালজুড়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতির চাপের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম সামান্য বেড়েছে। তেলের দাম কমে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। এর প্রভাবে সোমবার ১৯ অক্টোবর স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭১ ডলার ৬৫ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্য শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৯১ ডলার ৯০ সেন্টে পৌঁছেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। তবে স্বর্ণের বাজারে এখন বিনিয়োগকারীদের প্রধান নজর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন মুদ্রানীতিবিষয়ক বৈঠকের দিকে। ধারণা করা হচ্ছে, বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে ফেড। বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হারের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ও শ্রমবাজারের নতুন তথ্য স্বর্ণের দামের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভো বলেন, তেলের দাম কমে যাওয়ায় ফেডের ওপর মূল্যস্ফীতিজনিত চাপ কিছুটা কমেছে, যা স্বর্ণের বাজারের জন্য ইতিবাচক। তাঁর মতে, ডলারের দাম শক্তিশালী থাকা সত্ত্বেও স্বর্ণের দাম ধরে রাখা উল্লেখযোগ্য বিষয়। আরও পড়ুন,গ্রাহকদের পেনশন হিসাবে যুক্ত হলো মুনাফার টাকানিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়ায় ডলার ও স্বর্ণ দুটিই সুবিধা পাচ্ছে। সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে স্বর্ণকে নিরাপদ সম্পদ মনে করেন বিনিয়োগকারীরা। তবে সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হওয়ায় স্বর্ণের আকর্ষণ কিছুটা কমে যেতে পারে। এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছর অন্তত আরও একবার সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়াতে পারে। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। সোমবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৭ ডলার ৪৯ সেন্টে দাঁড়ায়। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকায়। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা। দেশে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ১৯৯ টাকায়। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে ফেডের সিদ্ধান্ত এবং মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

গ্রাহকদের পেনশন হিসাবে যুক্ত হলো মুনাফার টাকা

সর্বজনীন পেনশন স্কিমের গ্রাহকদের জন্য সুখবর। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিনিয়োগের বিপরীতে সর্বনিম্ন ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ মুনাফা অর্জিত হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ এই মুনাফা গ্রাহকদের মধ্যে বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিমধ্যে অর্জিত মুনাফার অর্থ গ্রাহকদের নিজ নিজ পেনশন হিসাবে যুক্ত করা হয়েছে। সোমবার ১৯ অক্টোবর জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় বিনিয়োগ করা অর্থ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ২৮ কোটি ৯৬ লাখ ৫৫ হাজার ৪৮ টাকা ৮০ পয়সা মুনাফা অর্জিত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভায় এ মুনাফা গ্রাহকদের মধ্যে বণ্টনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী, প্রত্যেক গ্রাহকের জমা রাখা অর্থের পরিমাণ এবং কত সময় ধরে সেই অর্থ জমা ছিল, তার ভিত্তিতে মুনাফা হিসাব করা হয়েছে। আরও পড়ুন,অষ্টমী পূজায় আজ বন্ধ দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানপরে অর্জিত মুনাফা গ্রাহকদের নিজ নিজ পেনশন হিসাব বা করপাস হিসাবে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, সর্বজনীন পেনশনব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করা এবং গ্রাহকদের জমাকৃত অর্থের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও যৌক্তিক মুনাফা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ নিষ্ঠা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, মুনাফা বণ্টনের ফলে এই স্কিমের গ্রাহকেরা সরাসরি উপকৃত হবেন। পাশাপাশি সর্বজনীন পেনশনব্যবস্থার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মুনাফার অর্থ ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের পেনশন হিসাবে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে গ্রাহকেরা তাঁদের জমার পরিমাণ ও জমা রাখার সময় অনুযায়ী নির্ধারিত মুনাফার সুবিধা পাবেন। সর্বজনীন পেনশন স্কিমের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে মুনাফা বণ্টনের এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ।

গ্রাহকদের পেনশন হিসাবে যুক্ত হলো মুনাফার টাকা

অষ্টমী পূজায় আজ বন্ধ দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান

শারদীয় দুর্গোৎসবের অষ্টমী পূজা উপলক্ষে আজ সোমবার ১৯ অক্টোবর দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বাজুস। সংগঠনটির সভাপতি এনামুল হক খানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে অষ্টমী পূজার দিন দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়েছে বাজুস। দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবের বিভিন্ন আয়োজনে অষ্টমী পূজা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। আরও পড়ুন,বিশ্বের খেলনার বাজারে পিছিয়ে বাংলাদেশএ উপলক্ষে ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজুসের এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্ধারিত দিনে দেশের সোনার দোকান ও অন্যান্য জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলো কখন থেকে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করবে, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আলাদা কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। দেশের জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের সংগঠন হিসেবে বাজুসের এ সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রযোজ্য। তাই অষ্টমী পূজার দিনে সোনা বা গয়না কেনাকাটার পরিকল্পনা থাকলে ক্রেতাদের বিষয়টি বিবেচনায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

অষ্টমী পূজায় আজ বন্ধ দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান

বিশ্বের খেলনার বাজারে পিছিয়ে বাংলাদেশ

বিশ্বের ১২ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের খেলনার বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি মাত্র ৬ কোটি ২৯ লাখ ডলার। বিপরীতে, গত বছর চীন একাই রপ্তানি করেছে ৩ হাজার ৪৮২ কোটি ডলারের খেলনা। বিশাল এই বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখনো খুবই সীমিত। তবে গত অর্থবছরে দেশের খেলনা রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৬ কোটি ২৯ লাখ ডলারের খেলনা রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ বেশি। বিশ্বের ৪১টি দেশে বাংলাদেশের খেলনা রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের খেলনা গেছে ইতালিতে। খেলনার বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারিত হলেও বাংলাদেশ এখনো বড় অংশীদার হতে পারেনি। উদ্যোক্তাদের মতে, বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানির জটিলতা, নীতিসহায়তার অভাব, পণ্যের মানোন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনার ঘাটতি এবং ঘন ঘন লোডশেডিং এ শিল্পের বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববাজারে খেলনা রপ্তানিতে চীনের আধিপত্য দীর্ঘদিনের। গত বছর দেশটি রপ্তানি করেছে ৩ হাজার ৪৮২ কোটি ডলারের খেলনা। আরও পড়ুন,আইএমএফের হিসাবে রিজার্ভ ৩১.৫৮ বিলিয়ন ডলারতালিকায় চীনের পর রয়েছে চেক প্রজাতন্ত্র, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও মেক্সিকো। সেই তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো অনেক পিছিয়ে। দেশের খেলনা রপ্তানিতে বিদেশি বিনিয়োগে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ৪ কোটি ২১ লাখ ডলারের খেলনা রপ্তানি করেছে সনিক বাংলাদেশ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি নীলফামারীর উত্তরা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় বিভিন্ন গাড়ির ক্ষুদ্র মডেল তৈরি করে। এ ছাড়া উইন চ্যাম্পিয়ন প্রায় ৭৫ লাখ ডলার এবং বিপি ম্যানুফ্যাকচারিং ৪৮ লাখ ডলারের খেলনা রপ্তানি করেছে। অন্যদিকে, জার্মান-বাংলাদেশি বিনিয়োগে গড়ে ওঠা কাপকেক এক্সপোর্টস এবং চীনা বিনিয়োগের মেইগো বাংলাদেশও এ খাতে রপ্তানি করছে। এদিকে, দেশীয় উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও গত অর্থবছরে বাংলাদেশে ১ কোটি ১৬ লাখ ডলারের খেলনা আমদানি হয়েছে। অর্থাৎ, উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারেও দেশীয় খেলনার চাহিদা পূরণের সুযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তাদের মতে, কাঁচামাল আমদানি সহজ করা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের খেলনা শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি খেলনাকে রপ্তানি আয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে গড়ে তুলতে এখন প্রয়োজন কার্যকর নীতিসহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

বিশ্বের খেলনার বাজারে পিছিয়ে বাংলাদেশ

আইএমএফের হিসাবে রিজার্ভ ৩১.৫৮ বিলিয়ন ডলার

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের শনিবার ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ এখন ৩৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত মোট রিজার্ভের হিসাব এবং আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তুলনাযোগ্য হিসাব পেতে বিপিএম৬ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। আরও পড়ুন,মাতারবাড়ী ঘিরে জাপানের বড় পরিকল্পনাবৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একটি দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক। আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের প্রয়োজন মেটাতে এই রিজার্ভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও রিজার্ভের গুরুত্ব রয়েছে। তবে রিজার্ভের বর্তমান পরিমাণ দিয়ে অর্থনীতির সামগ্রিক অবস্থা মূল্যায়ন করতে হলে আমদানি ব্যয়, রেমিট্যান্স প্রবাহ, রপ্তানি আয় এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের মতো বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার এবং আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে তা ৩১ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার। রিজার্ভের পরবর্তী পরিবর্তন নির্ভর করবে বৈদেশিক মুদ্রার আয়-ব্যয় এবং দেশের আন্তর্জাতিক লেনদেনের পরিস্থিতির ওপর।

আইএমএফের হিসাবে রিজার্ভ ৩১.৫৮ বিলিয়ন ডলার

মাতারবাড়ী ঘিরে জাপানের বড় পরিকল্পনা

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা করছে জাপান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে শিল্প ভ্যালু চেইন গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে চায় টোকিও। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের আগে দেশটির কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু। দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশটিকে শিল্প উৎপাদন ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে মাতারবাড়ী বন্দর বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৬ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে মাতারবাড়ীকেন্দ্রিক শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য জাপানের কাছে আর্থিক সহায়তা চাইতে পারে বাংলাদেশ সরকার। সফরের প্রস্তুতি হিসেবে গত আগস্টে মাতারবাড়ী পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। আরও পড়ুন,আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনাসেখানে তাঁকে প্রকল্পের পরবর্তী ধাপের কাজ ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবহিত করা হয়। নির্মাণকাজ শেষ হলে মাতারবাড়ী হবে বাংলাদেশের একমাত্র গভীর সমুদ্রবন্দর। বর্তমানে বড় জাহাজ ভেড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কার কলম্বো এবং মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বন্দরের ওপর নির্ভর করতে হয়। নতুন বন্দরটি চালু হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জাপানি পরিকল্পনায় মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে এমন একটি অর্থনৈতিক করিডর গড়ে তোলার কথা বলা হচ্ছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যোগাযোগ বাড়বে। এ ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের ব্যাংকককে কেন্দ্র করে কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের সঙ্গে গড়ে ওঠা উন্নয়ন করিডরকে একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছে জাপান। এ ছাড়া বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারের মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা জোরদার করার সম্ভাবনাও দেখছেন জাপানি কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়লে মাতারবাড়ী বন্দরের বাণিজ্যিক গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে। তবে এ পরিকল্পনার বাস্তবায়নে আঞ্চলিক রাজনৈতিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। ফেনী নদীর ওপর নির্মিত মৈত্রী সেতু চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ী বন্দরের সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি করলেও দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েনের কারণে সেতুটি এখনো অব্যবহৃত রয়েছে। এদিকে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এই সফরে মাতারবাড়ী বন্দর ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা কতটা গুরুত্ব পায়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

মাতারবাড়ী ঘিরে জাপানের বড় পরিকল্পনা

আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

দেশের বাজারে কমেছে সোনার দাম। ভরিতে তিন হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা। গত মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে। আজ রবিবারও দেশের বাজারে নির্ধারিত এ দামেই বিক্রি হচ্ছে সোনা। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম তিন হাজার ১৪৯ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দুই হাজার ৬৮২ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা। আরও পড়ুন,রুফটপ সোলারে ৫০০ কোটি টাকার ঋণ চুক্তিএ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম দুই হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা। এর আগে গত ৯ অক্টোবর দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় ভরিতে দুই হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয় দুই লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা। একই সময়ে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দুই হাজার ৯৯ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছিল দুই লাখ ২০ হাজার ৯১৬ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম এক হাজার ৮০৮ টাকা বাড়িয়ে করা হয় এক লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছিল এক লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা। সোনার দাম কমায় ক্রেতাদের জন্য কেনাকাটায় কিছুটা স্বস্তি তৈরি হতে পারে। তবে গয়না কেনার সময় নির্ধারিত সোনার দামের পাশাপাশি মজুরি ও প্রযোজ্য ভ্যাটের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

রুফটপ সোলারে ৫০০ কোটি টাকার ঋণ চুক্তি

দেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বা রুফটপ সোলারের প্রসারে সহজ শর্তে ও কম সুদে ঋণ দিতে ৫০০ কোটি টাকার চুক্তি করেছে সরকার ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড ইডকল। এ ঋণের সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ। এর মাধ্যমে বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। রোববার ১৮ অক্টোবর ইডকলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও ইডকলের মধ্যে এ ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রুফটপ সোলার কর্মসূচির আওতায় ইডকল এবং বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড বিআইএফএফএল যৌথভাবে অর্থায়ন করবে। এ জন্য অর্থ বিভাগ থেকে প্রতিষ্ঠান দুটিকে মোট এক হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে।আরও পড়ুন,কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি বিক্রিতে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগএর মধ্যে ইডকলের সঙ্গে ৫০০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই অর্থ ইডকল তাদের ডিমান্ড এগ্রিগেটরদের মাধ্যমে রুফটপ সোলার স্থাপনে আগ্রহী গ্রাহকদের ঋণ হিসেবে দেবে। সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদে এ অর্থায়নের ফলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের প্রাথমিক ব্যয় মেটানো তুলনামূলক সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’ গ্রহণ করেছে। এই কৌশলপত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে নতুন করে ১০ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট সক্ষমতা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বাসাবাড়ি ও বেসরকারি খাতে রুফটপ সোলারের ব্যবহার বাড়ানোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে বিদ্যুতের বিকল্প উৎস ব্যবহারে উৎসাহিত হবে গৃহস্থালি ও শিল্প খাত। তবে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে সহজ ঋণের পাশাপাশি কার্যকর বাস্তবায়ন ও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রুফটপ সোলারে ৫০০ কোটি টাকার ঋণ চুক্তি