শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস

অর্থনীতি

ভ্যাট রিটার্ন জমায় নতুন সময়সীমা নির্ধারণ

ভ্যাট রিটার্ন জমায় নতুন সময়সীমা নির্ধারণ

ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। নতুন বিধান অনুযায়ী, সাধারণ নিবন্ধিত ও তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে মূল্য সংযোজন কর বা মূসক রিটার্ন জমা দিতে হবে। তবে সরকারি ও আধা-সরকারি সংস্থা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারীদের জন্য সময়সীমা রাখা হয়েছে ২০ দিন। গত ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ প্রকাশিত হয়। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৩ অক্টোবর অধ্যাদেশটি জারি করেন। এতে বলা হয়েছে, নতুন বিধান ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে। অধ্যাদেশের মাধ্যমে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ৬৪ ধারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। আরও পড়ুন,৬৪ বছর ধরে মিষ্টির স্বাদে মুগ্ধ পটিয়ার আদর্শ মিষ্টি ভান্ডারনতুন নিয়মে রিটার্ন দাখিলের নির্ধারিত ১৫তম দিনে সরকারি ছুটি থাকলে পরবর্তী কার্যদিবসে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। এ ছাড়া জনস্বার্থে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর আদেশ জারির মাধ্যমে সুদ ও জরিমানা ছাড়াই ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়াতে পারবে। ফলে বিশেষ পরিস্থিতিতে করদাতাদের জন্য সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগ থাকছে। নতুন অধ্যাদেশে ভ্যাট রিটার্নের সঙ্গে সম্পূরক শুল্ক পরিশোধের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি এনবিআর আদেশের মাধ্যমে কোনো নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের জন্য ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করতে পারবে। সরকারের এই সংশোধনীর ফলে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ও পদ্ধতি আরও সুনির্দিষ্ট হলো। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিজ নিজ শ্রেণি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদের অধিবেশন না থাকা এবং জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন বিবেচনায় সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের ১ উপ-অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ জারি করেছেন।

৬৪ বছর ধরে মিষ্টির স্বাদে মুগ্ধ পটিয়ার আদর্শ মিষ্টি ভান্ডার

৬৪ বছরের ঐতিহ্য আর মিষ্টির অনন্য স্বাদে ক্রেতাদের আকর্ষণ ধরে রেখেছে চট্টগ্রামের পটিয়ার আদর্শ মিষ্টি ভান্ডার। সময়ের পরিবর্তনে হাটের স্থান বদলেছে, বদলেছে ক্রেতাদের আনাগোনাও। তবে বদলায়নি এই দোকানের মিষ্টির প্রতি মানুষের ভালোবাসা। ছানার মিষ্টি থেকে শুরু করে রসগোল্লা, ল্যাংচা, জিলাপি ও নিমকি হরেক পদের স্বাদ নিতে প্রতিদিনই এখানে ভিড় করেন মিষ্টিপ্রেমীরা। দোকানে প্রবেশ করতেই নাকে আসে মিষ্টির মনমাতানো ঘ্রাণ। সামনের আলমারিতে সাজানো থাকে লাড্ডু, নারকেলের নাড়ু, ল্যাংচা, জিলাপি ও নিমকি। বড় গামলায় রসে ডুবে থাকে রসগোল্লা। ছোট্ট দোকানটির ভেতরে রয়েছে বসে মিষ্টি খাওয়ার ব্যবস্থা। আর পেছনেই মিষ্টি তৈরির কারখানা। দোকানের সাজসজ্জা সাদামাটা হলেও ক্রেতাদের উপস্থিতিতে সব সময় প্রাণবন্ত থাকে পরিবেশ। কেউ বসে মিষ্টি খাচ্ছেন, কেউ আবার পরিবারের সদস্যদের জন্য পছন্দের মিষ্টি প্যাকেট করে নিয়ে যাচ্ছেন। এখানকার ছানার মিষ্টির স্বাদে মুগ্ধ ক্রেতা মোহাম্মদ আলী। মিষ্টি খেতে খেতেই তিনি জানান, আরোও পড়ুন,সুদ জরিমানা ছাড়াই ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভ্যাট রিটার্নএ দোকানের ছানার মিষ্টি অত্যন্ত সুস্বাদু। তুলতুলে মিষ্টি মুখে দিলেই গলে যায়। এক-দুটি খেয়ে তৃপ্তি মেটে না। শুধু ছানার মিষ্টিই নয়, এখানকার নিমকির স্বাদও অন্য রকম বলে জানান তিনি। দোকানের এক পাশে বসে ক্রেতাদের আসা-যাওয়া দেখছিলেন অমল দত্ত। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে এই দোকানকে ঘিরেই তাঁর কর্মজীবন। প্রতিদিন পরিচিত-অপরিচিত নানা মানুষের আনাগোনা দেখেই কেটে যাচ্ছে তাঁর দিন। আদর্শ মিষ্টি ভান্ডারের যাত্রা শুরু হয় ৬৪ বছর আগে। দোকানটি প্রতিষ্ঠা করেন অমল দত্তের বাবা হরিমোহন দত্ত। সে সময় পটিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের সামনের বটগাছের নিচে বসত থানার হাট। হাটের দিন ক্রেতাদের ভিড়ে ব্যস্ত সময় পার করতে হতো দোকানটিকে। পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণা করে অমল দত্ত জানান, হাট বসার সময় ক্রেতাদের সামলাতে হিমশিম খেতে হতো। পরে হাটের স্থান পরিবর্তন হলে ক্রেতাদের ভিড় কিছুটা কমে আসে। তবু দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, পরিচিত স্বাদ আর ক্রেতাদের আস্থাকে সঙ্গী করে টিকে আছে পটিয়ার আদর্শ মিষ্টি ভান্ডার। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে এই দোকান শুধু মিষ্টি বিক্রির জায়গা নয়, বরং স্থানীয় মানুষের স্মৃতি ও ভালোবাসারও একটি অংশ হয়ে রয়েছে।

৬৪ বছর ধরে মিষ্টির স্বাদে মুগ্ধ পটিয়ার আদর্শ মিষ্টি ভান্ডার

টেসলা-স্পেসএক্সের শেয়ারে দরপতন, কমল মাস্কের সম্পদ

মাত্র চার দিনের ব্যবধানে আবারও বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার বা এক লাখ কোটি ডলারের সম্পদের মালিক হওয়ার মর্যাদা হারিয়েছেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে তাঁর মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় সম্পদে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। ফোর্বস ম্যাগাজিনের হিসাব অনুযায়ী, এক দিনেই তাঁর সম্পদ কমেছে প্রায় ৩ হাজার ৬৩০ কোটি ডলার। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বাংলাদেশ সময় বেলা ২টা ৪৫ মিনিটে ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৭ হাজার ৪ কোটি ডলারে। স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ায় তাঁর সম্পদ কমেছে প্রায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ। এদিকে তাঁর বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ারেও দরপতন হয়েছে। মাস্কের মোট সম্পদের বড় অংশ নির্ভর করে স্পেসএক্স ও টেসলায় তাঁর মালিকানাধীন শেয়ারের ওপর। গত আগস্টে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, স্পেসএক্সে তাঁর মালিকানা ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ। আরোও পড়ুন,স্বপ্নের ফ্ল্যাট কেনার আগে আইনি ও আর্থিক সতর্কতাঅন্যদিকে টেসলায় তাঁর অংশীদারত্ব প্রায় ১১ শতাংশ। দুটি প্রতিষ্ঠানেরই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তিনি। এর আগে গত জুনে স্পেসএক্সের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হন মাস্ক। তবে পরবর্তী সময়ে শেয়ারের দামে পতন হলে সেই মর্যাদা হারান তিনি। এরপর কয়েক মাস ধরে তাঁর সম্পদ এক লাখ কোটি ডলারের আশপাশে ওঠানামা করছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে টেসলা ও স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লে চার দিন আগে আবারও ট্রিলিয়নিয়ারের মর্যাদা ফিরে পান মাস্ক। কিন্তু মঙ্গলবারের দরপতনে সেই অবস্থান ধরে রাখতে পারেননি তিনি। এদিকে প্রযুক্তি খাতেও দেখা গেছে বিক্রির চাপ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম কমেছে। এশিয়ার বাজারে দক্ষিণ কোরিয়ার এসকে হাইনিক্স ও স্যামসাং এবং তাইওয়ানের টিএসএমসির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরপতন হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এনভিডিয়া, ব্রডকম ও ইন্টেলের শেয়ারেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তিন শেয়ারসূচক ডাও জোন্স, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাকও কমেছে। প্রযুক্তি খাতের এই দরপতনের প্রভাবে জাপানের সফটব্যাংকের প্রধান নির্বাহী মাসায়োশি সনের সম্পদ কমেছে প্রায় ৫৫০ কোটি ডলার।

টেসলা-স্পেসএক্সের শেয়ারে দরপতন, কমল মাস্কের সম্পদ

স্বপ্নের ফ্ল্যাট কেনার আগে আইনি ও আর্থিক সতর্কতা

জীবনের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে নিজের একটি ফ্ল্যাট কেনা অনেকেরই স্বপ্ন। তবে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন কিংবা ভবনের বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিলে পরবর্তী সময়ে আইনি জটিলতা, নির্মাণগত ত্রুটি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। তাই ফ্ল্যাট কেনার আগে জমির মালিকানা, ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা, ভবনের নিরাপত্তা এবং মোট ব্যয়ের হিসাবসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করা জরুরি। প্রথমেই জমির মালিকানা ও আইনি বৈধতা নিশ্চিত করতে হবে। জমির খতিয়ান, দলিল, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের তথ্য এবং মালিকানার ধারাবাহিকতা যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জমিটি কোনো ব্যাংকে বন্ধক আছে কি না কিংবা মামলা-মোকদ্দমা চলছে কি না, তা অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে পরীক্ষা করা উচিত। প্রকল্পের অনুমোদিত নকশা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনও নিশ্চিত করতে হবে। আরোও পড়ুন,১৫ অক্টোবর থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকে টাকা তুলতে পারবেন আমানতকারীরাএরপর ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, পূর্ববর্তী প্রকল্পের নির্মাণমান এবং নির্ধারিত সময়ে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের রেকর্ড যাচাই করা দরকার। প্রয়োজনে আগে ফ্ল্যাট কিনেছেন এমন গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যেতে পারে। ফ্ল্যাটের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। কাছাকাছি হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও গণপরিবহনের সুবিধা রয়েছে কি না, তা দেখতে হবে। পাশাপাশি বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা, এলাকার নিরাপত্তা এবং পরিবেশ বসবাসের উপযোগী কি না, সে বিষয়েও খোঁজ নেওয়া জরুরি। ভবনের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, লিফট, জরুরি সিঁড়ি, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং ভূমিকম্পসহনশীল নির্মাণের বিষয়গুলো যাচাই করতে হবে। ভবনটি প্রযোজ্য জাতীয় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী নির্মিত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, ফ্ল্যাটের মূল দামের বাইরেও রেজিস্ট্রেশন ফি, কর, ভ্যাট, পার্কিং, ইউটিলিটি সংযোগ এবং সার্ভিস চার্জের মতো অতিরিক্ত ব্যয় থাকতে পারে। তাই চুক্তির আগেই সব খরচের লিখিত হিসাব নেওয়া উচিত। ব্যাংকঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে ঋণের শর্ত ও প্রকল্পের গ্রহণযোগ্যতাও যাচাই করতে হবে। সব মিলিয়ে, ফ্ল্যাট কেনার আগে আবেগের পরিবর্তে তথ্য, আইনি নথি ও নির্মাণমানকে গুরুত্ব দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ একটি বড় বিনিয়োগকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে সহায়তা করতে পারে।

স্বপ্নের ফ্ল্যাট কেনার আগে আইনি ও আর্থিক সতর্কতা

১৫ অক্টোবর থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকে টাকা তুলতে পারবেন আমানতকারীরা

আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে ন্যাশনাল ব্যাংককে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ঋণ হিসেবে এই অর্থ দেবে। আর ঋণের গ্যারান্টি দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। কয়েক ধাপে এই অর্থ ছাড় করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর বড় অংশ দিয়ে আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধ করা হতে পারে। সোমবার, ১২ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ২০ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চেয়েছিল ন্যাশনাল ব্যাংক। তবে শেষ পর্যন্ত ১০ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি অর্থ না দিয়ে ঋণের জামিনদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। অতীতের অনিয়ম ও আর্থিক দুরবস্থার কারণে সংকটে পড়া ব্যাংকটিকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সম্প্রতি ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন এবং ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আরও পড়ুন,ঢাকায় আবাসন ও বাণিজ্যিক ভবনে নতুন সংযোজন, শেল্‌টেকের দুই প্রকল্পে থাকছে আধুনিক সুবিধাওই বৈঠকে ১৫ অক্টোবর থেকে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এদিকে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে ন্যাশনাল ব্যাংক। গত ১১ অক্টোবর থেকে টাকা উত্তোলনের আবেদন নেওয়া হচ্ছে, যা চলবে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত। এরপর ১৫ অক্টোবর থেকে আমানতকারীরা টাকা তুলতে পারবেন বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন জানান, ১৫ অক্টোবর থেকে সব শাখা ও এটিএম চালু করা হবে। শাখাগুলোতে আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনের চাহিদা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ২০ অক্টোবর থেকে আবেদন না করলেও সব গ্রাহক টাকা ফেরত পাবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, অনেক আমানতকারী আপাতত টাকা তুলতে আগ্রহী নন। ফলে উত্তোলনের আবেদন তুলনামূলক কম এসেছে। নিজস্ব তহবিল থেকে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। তবে প্রয়োজন দেখা দিলে বাংলাদেশ ব্যাংক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। এখন ১০ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য তারল্য সহায়তা এবং আমানত ফেরতের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ন্যাশনাল ব্যাংকের আর্থিক সংকট মোকাবিলা ও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সহায়তার অর্থ ছাড় ও গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের অগ্রগতি থাকবে আমানতকারীদের নজরে।

১৫ অক্টোবর থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকে টাকা তুলতে পারবেন আমানতকারীরা

এলপিজি ব্যবসায়ীদের সাত দফা দাবি, সমাধান না হলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

এলপিজি ব্যবসায়ীদের সাত দফা দাবি আদায়ে আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারা দেশে এলপিজি বিক্রির দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। এই দুই দিনের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য দোকান বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মো. সেলিম খান এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ব্যবসায়ীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সিলিন্ডারপ্রতি কমিশন বৃদ্ধি, গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধ এবং অযৌক্তিক জরিমানা প্রত্যাহার। সেলিম খান জানান, পাঁচ বছর আগে সিলিন্ডারপ্রতি ৫০ টাকা কমিশন নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু এ সময়ে পরিবহন ব্যয়, গুদামভাড়া, শ্রমিকের মজুরি, লাইসেন্স ফি এবং সিলিন্ডার ওঠানো-নামানোর খরচ বেড়েছে। এসব ব্যয় বিবেচনায় কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা অথবা বিক্রয়মূল্যের সাত শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কিছু কোম্পানি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্ধারিত সময়ের বাইরে নিজেদের ইচ্ছামতো এলপিজির দাম পরিবর্তন করে। তাই মাসে একাধিকবার দাম সমন্বয় করতে হলে বিইআরসির মাধ্যমে তা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।আরও পড়ুন,ঢাকায় আবাসন ও বাণিজ্যিক ভবনে নতুন সংযোজন, শেল্‌টেকের দুই প্রকল্পে থাকছে আধুনিক সুবিধাপাশাপাশি কোম্পানির চালানে প্রকৃত মূল্য উল্লেখ এবং পরিবেশকের গুদামে সিলিন্ডার পৌঁছে না দিলে ন্যায্য পরিবহনভাড়া দেওয়ারও দাবি রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এলপিজি সরবরাহসংকট ও ঋণপত্র খোলার জটিলতার বিষয়টিও তুলে ধরেন ব্যবসায়ী নেতারা। তাঁদের দাবি, অনেক কোম্পানি গ্যাস সরবরাহ করতে না পারায় সারা দেশে বিপুলসংখ্যক খালি সিলিন্ডার পড়ে রয়েছে। এসব সিলিন্ডারে পুনরায় গ্যাস ভরে বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা। এদিকে, গত ৪ অক্টোবর বিইআরসি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। অন্যদিকে, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ—লোয়াবের দাবি, দেশে এলপিজির আমদানি ও সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। নির্ধারিত দামের বেশি নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। ব্যবসায়ীদের সাত দফা দাবি পূরণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এলপিজি বিক্রি বন্ধের কর্মসূচি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। এতে ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা করছেন গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক কাজে এলপিজি ব্যবহারকারীরা।

এলপিজি ব্যবসায়ীদের সাত দফা দাবি, সমাধান না হলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

ঢাকায় আবাসন ও বাণিজ্যিক ভবনে নতুন সংযোজন, শেল্‌টেকের দুই প্রকল্পে থাকছে আধুনিক সুবিধা

ঢাকার আবাসন ও বাণিজ্যিক স্থাপনা খাতে নতুন সংযোজন হতে যাচ্ছে শেল্‌টেকের দুটি প্রকল্প। রাজধানীর আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিংয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ‘শেল্‌টেক্‌ উইন্ডফ্লাওয়ার’ নামের একটি আবাসিক কন্ডোমিনিয়াম। অন্যদিকে, তেজগাঁও বাণিজ্যিক এলাকার লাভ রোডে গড়ে উঠছে ‘ভিঞ্চিয়া শেল্‌টেক্‌ টাওয়ার’। দুটি প্রকল্পেই আবাসন ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিংয়ে ৮১ কাঠার বেশি জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে শেল্‌টেক্‌ উইন্ডফ্লাওয়ার। ১০ তলা বা গ্রাউন্ড ফ্লোরসহ নয়তলা এই ভবনে থাকছে মোট ১৯২টি অ্যাপার্টমেন্ট। প্রতিটি অ্যাপার্টমেন্টের আয়তন ১ হাজার ৪৪০ বর্গফুট এবং এতে থাকছে তিনটি বেডরুম। আরও পড়ুন,প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কা, বাড়ছে মূল্যস্ফীতির চাপ বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগপ্রকল্পটিতে ১৯২টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা, আটটি লিফট ও তিনটি সিঁড়ি রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে একটি সিঁড়ি অগ্নিনিরাপত্তার জন্য নির্ধারিত থাকবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। শুধু বসবাসের জন্য অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি নয়, বরং বাসিন্দাদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কন্ডোমিনিয়াম পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে প্রকল্পটির। অন্যদিকে, তেজগাঁও বাণিজ্যিক এলাকার লাভ রোডে প্রায় ২৫ কাঠার বেশি জমির ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে ভিঞ্চিয়া শেল্‌টেক্‌ টাওয়ার। দুটি বেসমেন্টসহ ১৪ তলাবিশিষ্ট এই ভবনে থাকবে ৫১টি বাণিজ্যিক ইউনিট। এসব ইউনিটের আয়তন ৫৪৬ থেকে ৩ হাজার ৮০৯ বর্গফুট পর্যন্ত। টাওয়ারটিতে ৬৭টি গাড়ি রাখার জায়গা, চারটি লিফট এবং অগ্নিনিরাপত্তা দরজাসহ দুটি সিঁড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি থাকছে দ্বিউচ্চতার প্রবেশপথ, রিসেপশন, ওপেন স্কাই টেরেস, প্রার্থনার জায়গা, ল্যান্ডস্কেপ এবং জলাধার। অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার কন্ট্রোল রুম ও ফায়ার হাইড্রেন্ট ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।

ঢাকায় আবাসন ও বাণিজ্যিক ভবনে নতুন সংযোজন, শেল্‌টেকের দুই প্রকল্পে থাকছে আধুনিক সুবিধা

প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কা, বাড়ছে মূল্যস্ফীতির চাপ বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ

চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমতে পারে, অন্যদিকে বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অক্টোবর ২০২৬-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে ৩ দশমিক ২ শতাংশে। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি ও মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী চাপ দেশের বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের যৌথ বার্ষিক সভা চলাকালে মঙ্গলবার প্রকাশিত আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ওই অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়াতে পারে ৮ দশমিক ৭ শতাংশে। সেই হিসাবে পরবর্তী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার আরও কমার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।আরও পড়ুন,দেশের বাজারে ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমল সোনার দাম, কমেছে রুপাওআইএমএফের পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির হার বর্তমান পর্যায়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, খাদ্য, বাসস্থান ও অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রবৃদ্ধি কমে গেলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রত্যাশিত মাত্রায় না বাড়লে শিল্প উৎপাদন, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়লে মানুষের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান আরও বাড়বে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির অক্টোবর ২০২৬-এর বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেটে বলা হয়েছে, দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতির সমস্যা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কা, বাড়ছে মূল্যস্ফীতির চাপ বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ

দেশের বাজারে ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমল সোনার দাম, কমেছে রুপাও

দেশের বাজারে সোনার দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমেছে। একই সঙ্গে কমানো হয়েছে রুপার দামও। বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমে যাওয়ার প্রভাবেই দেশের বাজারে মূল্যবান এই দুই ধাতুর দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা। আরও পড়ুন,ডলারের শক্তিতে বিশ্ববাজারে সোনার দামে পতনএর আগে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ২০ হাজার ৯১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা। ফলে নতুন দামে ২২ ক্যারেটের সোনার ভরিতে কমেছে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। এর আগে গত ৯ অক্টোবর দেশের বাজারে সোনার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। পাঁচ দিনের ব্যবধানে এবার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিল বাজুস।এদিকে সোনার পাশাপাশি কমেছে রুপার দামও। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৩ হাজার ৪৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬২৪ টাকা। রুপার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ১১৬ টাকা কমানো হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি সোনা ও রুপার দাম কমে যাওয়ায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের ওঠানামাও এই মূল্য সমন্বয়ের অন্যতম প্রভাবক।

দেশের বাজারে ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমল সোনার দাম, কমেছে রুপাও

ডলারের শক্তিতে বিশ্ববাজারে সোনার দামে পতন

বিশ্ববাজারে এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে ওঠার পর সোমবার সোনার দাম কমেছে। শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে মূল্যবান এই ধাতুর দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। তবে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩১ হাজার ২৭৯ টাকায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৭৬ ডলার ৮৬ সেন্টে নেমে আসে। এর আগে দিনের লেনদেনে সোনার দাম গত ২ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত সোনার ফিউচার মূল্যও শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০০ ডলার ৯০ সেন্টে দাঁড়ায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের দাম সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের কাছাকাছি থাকায় সোনার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। আরও পড়ুন,মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে স্বর্ণে সতর্ক বিনিয়োগকারীরাঅ্যাকটিভট্রেডসের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিকার্ডো ইভানজেলিস্তার মতে, মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হতে পারে। এতে ডলার ও ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা বাড়লে সোনার দামে আরও চাপ তৈরি হতে পারে। তবে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে সোনার দাম কিছুটা সমর্থন পেতে পারে। সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ১৮ শতাংশ বলে মনে করছেন বাজারের অংশগ্রহণকারীরা। ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখছেন ৮৫ শতাংশ। এদিকে সোমবার বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। প্রতি আউন্স রুপার দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৬০ ডলার ৬২ সেন্টে এবং প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৮৪ ডলার ৭১ সেন্টে নেমেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৪৯ ডলার ২০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।

ডলারের শক্তিতে বিশ্ববাজারে সোনার দামে পতন

মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে স্বর্ণে সতর্ক বিনিয়োগকারীরা

যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের প্রভাবে সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। তবে দিনের শুরুতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল মূল্যবান এই ধাতুর দাম। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ১৪ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৮৫ ডলার ১৩ সেন্টে দাঁড়ায়। দিনের শুরুতে দাম ২ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার দর ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০৯ ডলার ৭০ সেন্টে নেমে আসে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির হার প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে স্বর্ণের বাজারে তার গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে।আরও পড়ুন,সারা দেশে কয়েক লাখ অব্যবহৃত সিলিন্ডার, বাজারে ফেরানোর দাবি ব্যবসায়ীদেরএতে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এবং প্রকৃত সুদের হারের চাপ কমতে পারে। তবে স্বর্ণের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ধারাবাহিক স্বর্ণ কেনা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমে আসা। এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন ডলার শক্তিশালী অবস্থানে থাকায় স্বর্ণের দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ডলারের দর বাড়লে অন্যান্য মুদ্রায় লেনদেন করা ক্রেতাদের জন্য ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। বাজারসংশ্লিষ্টদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের দিকে। বুধবার দেশটির ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই এবং বৃহস্পতিবার উৎপাদক মূল্যসূচক বা পিপিআই ও খুচরা বিক্রির তথ্য প্রকাশের কথা রয়েছে। এসব তথ্য থেকে মূল্যস্ফীতির গতিপ্রকৃতি এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নীতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে স্বর্ণে সতর্ক বিনিয়োগকারীরা

সারা দেশে কয়েক লাখ অব্যবহৃত সিলিন্ডার, বাজারে ফেরানোর দাবি ব্যবসায়ীদের

কমিশন পুনর্নির্ধারণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হয়রানি বন্ধ এবং অব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার পুনরায় বাজারে ছাড়ার দাবিতে আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর সারা দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস এলপিজি বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন পরিবেশকেরা। দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিক্রি বন্ধের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি সেলিম খান। সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন—বিইআরসি প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার পর কোম্পানিগুলো যেন নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম পরিবর্তন করতে না পারে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। পরবর্তী সময়ে দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন হলে তা বিইআরসির মাধ্যমে করার দাবি জানান তাঁরা। এ ছাড়া বাজারে পড়ে থাকা হাজার হাজার অব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডার পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে বাজারে ছাড়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, অনেক কোম্পানি কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। আরও পড়ুন,দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.২১ বিলিয়ন ডলারআবার কিছু কোম্পানি এলপিজি আমদানির জন্য ঋণপত্র বা এলসি খুলতে পারছে না। ফলে বিপুলসংখ্যক সিলিন্ডার অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেলিম খান বলেন, বর্তমানে মাত্র ছয় থেকে সাতটি কোম্পানি সক্রিয় রয়েছে। এতে সারা দেশে কয়েক লাখ গ্যাস সিলিন্ডার অব্যবহৃত পড়ে আছে। এসব সিলিন্ডারে সরকার কিংবা এলপিজি কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে গ্যাস ভরে ডিলারদের কাছে সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এতে ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে এলপিজি কিনতে পারবেন বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক জরিমানা এবং হয়রানির অভিযোগও তোলেন তাঁরা। সেলিম খান জানান, সংবাদ সম্মেলন চলাকালে বিইআরসির চেয়ারম্যান তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ব্যবসায়ীদের দাবিগুলো কমিশন পর্যালোচনা করছে এবং শিগগিরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে চেয়ারম্যান তাঁকে জানিয়েছেন। এখন নজর থাকবে, নির্ধারিত দুই দিনের কর্মসূচির আগে ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়ে কোনো সমাধান আসে কি না। অন্যথায় এলপিজি সরবরাহ ও বাজারে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে পারে।

সারা দেশে কয়েক লাখ অব্যবহৃত সিলিন্ডার, বাজারে ফেরানোর দাবি ব্যবসায়ীদের

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.২১ বিলিয়ন ডলার

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল—আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলারে। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ হাজার ২১৩ দশমিক ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৪০৩ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলারে। এর আগে, গত ৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৬ হাজার ১৫৮ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন ডলার। আরও পড়ুন,২০৩০ সালের আগেই বিশ্বঋণ জিডিপির ১০০ শতাংশ ছাড়ানোর শঙ্কা, চাপে বাংলাদেশওআর বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ৩৪৯ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই হিসাব অনুযায়ী, তিন দিনের ব্যবধানে দেশের গ্রস রিজার্ভ বেড়েছে ৫৪ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ বেড়েছে ৫৪ দশমিক ১৬ মিলিয়ন ডলার। এখানে গ্রস রিজার্ভ ও বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। গ্রস রিজার্ভ হলো দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। অন্যদিকে, আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের হিসাব করা হয় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করে। নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায়সহ প্রযোজ্য সমন্বয় বাদ দিয়ে প্রকৃত রিজার্ভের হিসাব নির্ধারণ করা হয়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেশের আমদানি ব্যয় মেটানো, আন্তর্জাতিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং বৈদেশিক আর্থিক চাপ মোকাবিলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.২১ বিলিয়ন ডলার

২০৩০ সালের আগেই বিশ্বঋণ জিডিপির ১০০ শতাংশ ছাড়ানোর শঙ্কা, চাপে বাংলাদেশও

বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানি সরবরাহে সংকট, উচ্চ সুদহার ও সরকারি ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝায় চাপে পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি। এমন পরিস্থিতিতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হয়েছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফের বার্ষিক সভা। সোমবার, ১২ অক্টোবর শুরু হওয়া এ সম্মেলন চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং আর্থিক খাতের নীতিনির্ধারকেরা অংশ নিচ্ছেন। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সরকারি ঋণের চাপ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার বিষয়গুলো এবারের বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রভাব সম্মেলনের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বিশ্ববাজারে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। আরও পড়ুন,ডলারের গড় দাম ১২৩ টাকা ২৮ পয়সা, বেড়েছে বেশির ভাগ মুদ্রার দরবিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ঘিরে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে বড় ধরনের ধাক্কার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তা তুলনামূলকভাবে সামলানো সম্ভব হয়েছে। তবে ডিজেল ও সারের দাম বৃদ্ধি এবং এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এতে কৃষি উৎপাদন ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে জ্বালানি সরবরাহের চাপ মোকাবিলায় জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে জি-৭ জোটের দেশগুলো বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ শতাংশ। তবে যুদ্ধের প্রভাব, খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে এ পূর্বাভাস পরিবর্তিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সরকারি ঋণ নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। আইএমএফের আশঙ্কা, ২০৩০ সালের আগেই বৈশ্বিক সরকারি ঋণ মোট দেশজ উৎপাদনের ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। উচ্চ সুদহারের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে পুঁজি বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। এ পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে বাড়তে পারে আমদানি ব্যয়, চাপে পড়তে পারে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে চাহিদা কমে গেলে তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

২০৩০ সালের আগেই বিশ্বঋণ জিডিপির ১০০ শতাংশ ছাড়ানোর শঙ্কা, চাপে বাংলাদেশও

ডলারের গড় দাম ১২৩ টাকা ২৮ পয়সা, বেড়েছে বেশির ভাগ মুদ্রার দর

দেশের মুদ্রাবাজারে ডলারের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ২৮ পয়সা। মধ্যপ্রাচ্য সংকটসহ বিভিন্ন কারণে কয়েক মাস ধরেই বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে ওঠানামা চলছে। এর মধ্যে সোমবার সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে বেশির ভাগ বিদেশি মুদ্রার দাম বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাজারে ডলারের গড় দাম ১২৩ টাকা ২৮ পয়সা। ডলারের পাশাপাশি ইউরো, ব্রিটিশ পাউন্ড, চীনা ইউয়ান, অস্ট্রেলীয় ডলার ও সিঙ্গাপুরি ডলারের দামও বেড়েছে। তবে ভারতীয় রুপি ও জাপানি ইয়েনের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন মুদ্রার বিনিময় হারে।আরও পড়ুন,জেট ফুয়েলের নতুন দাম ঘোষণা করল বিইআরসি তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত বিনিময় হার এবং খোলাবাজারের দামের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সাধারণত খোলাবাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত হারের তুলনায় কিছুটা বেশি দামে বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা হয়। ফলে বিদেশে ভ্রমণ, আমদানি-রপ্তানি কিংবা আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রকৃত বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বৈদেশিক মুদ্রার দামের এই ওঠানামা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর পণ্য, শিল্পের কাঁচামাল এবং বিদেশ থেকে পণ্য ও সেবা কেনার খরচ বিনিময় হারের পরিবর্তনের সঙ্গে বাড়তে বা কমতে পারে। একইভাবে বিদেশে অর্থ পাঠানো ও বৈদেশিক লেনদেনের ব্যয়ও প্রভাবিত হতে পারে। অর্থনীতির জন্য বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ। তাই ডলারসহ প্রধান বিদেশি মুদ্রার বিনিময় হার কোন দিকে যাচ্ছে, সেদিকে নজর রাখছেন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে মুদ্রার প্রকৃত ক্রয়-বিক্রয়মূল্য ব্যাংক, মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান ও লেনদেনের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ বিনিময় হার জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ডলারের গড় দাম ১২৩ টাকা ২৮ পয়সা, বেড়েছে বেশির ভাগ মুদ্রার দর

জেট ফুয়েলের নতুন দাম ঘোষণা করল বিইআরসি

দেশে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বা বিইআরসি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা। আর আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ দশমিক ১৮৮২ মার্কিন ডলার। বুধবার ৭ অক্টোবর বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম বাড়ানোর বিষয়টি জানায় বিইআরসি। নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলের দাম আগের তুলনায় প্রতি লিটারে ১৭ টাকা ৬ পয়সা বেড়েছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে জেট ফুয়েলের দাম কমানো হয়েছিল। তখন অভ্যন্তরীণ রুটের জন্য প্রতি লিটারের দাম নির্ধারণ করা হয় ১৬৫ টাকা ৬৫ পয়সা। আর আন্তর্জাতিক রুটের জন্য দাম ছিল প্রতি লিটার ১ দশমিক ০৮ মার্কিন ডলার। আরও পড়ুন,দেশের রিজার্ভে ঊর্ধ্বগতি জানাল বাংলাদেশ ব্যাংকচলতি বছর জেট ফুয়েলের দামে একাধিকবার পরিবর্তন এসেছে। বিইআরসি সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম, ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময়মূল্য এবং জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে গত ৪ অক্টোবর অটোগ্যাস ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির দামও বাড়ানো হয়। অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে প্রায় ১২ টাকা বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা করা হয়েছে। জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানির দাম বাড়ায় পরিবহন ও বিমান চলাচল খাতে ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধির ফলে বিমানভাড়া বাড়বে কি না, তা সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

জেট ফুয়েলের নতুন দাম ঘোষণা করল বিইআরসি