শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস

আন্তর্জাতিক

চাবড়ি বাজারে ভবন ধসে নিহত অন্তত দুই

চাবড়ি বাজারে ভবন ধসে নিহত অন্তত দুই

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে তিনতলা একটি ভবন ধসে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর সকালে দিল্লির চাবড়ি বাজার মেট্রো স্টেশনের কাছে গলি সিতারা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে হঠাৎ ভবনটি ধসে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের অন্তত ছয়টি ইউনিট। উদ্ধারকাজে পানিবাহী গাড়ি ও বিভিন্ন ধরনের উদ্ধারকারী যান মোতায়েন করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে চলছে উদ্ধার অভিযান। এদিকে, ভবন ধসের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আম আদমি পার্টির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার সরকারের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেছেন, গত কয়েক মাসের মধ্যে রাজধানীতে এটি তৃতীয় ভবন ধসের ঘটনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সৌরভ ভরদ্বাজ বলেন, আরও পড়ুন,অভিশংসন ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটদের কড়া বার্তা ট্রাম্পেরচাবড়ি বাজার বা চাঁদনি চক এলাকায় আরেকটি তিনতলা ভবন ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকের আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তার প্রশ্ন, দিল্লির সরকার ও পৌর করপোরেশন বিভিন্ন ভবনে একাধিকবার নিরাপত্তা নিরীক্ষা চালানোর পরও কেন এমন দুর্ঘটনা ঘটছে? আরেকটি পোস্টে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, নিরাপত্তা নিরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হলেও কার্যকর পদক্ষেপের পরিবর্তে বিভিন্ন বিভাগে ঘুষ আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। তার অভিযোগ, এ কারণেই রাজধানীতে বারবার ভবন ধসের ঘটনা ঘটছে। তবে ভবন ধসের প্রকৃত কারণ এবং হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। উদ্ধার অভিযান চলছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

অভিশংসন ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটদের কড়া বার্তা ট্রাম্পের

আগামী বছর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে তারা যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে তাতে দলটি ধ্বংস হয়ে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পরদিন সম্ভাব্য অভিশংসন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, আরও পড়ুন,সুদানে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলাডেমোক্র্যাটরা যদি তাকে অভিশংসনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে তা তাদের দলের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হবে। নিজের অবস্থানে অনড় থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, তাকে অভিশংসন করার মতো কোনো কারণ নেই। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল এবং কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ট্রাম্পের এমন মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিশংসন ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটদের কড়া বার্তা ট্রাম্পের

সুদানে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা

সুদানের রাজধানী খার্তুমের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালিয়েছে দেশটির আধা-সামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) চালানো এ হামলায় খার্তুম ও আল-জাজিরা প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর মাত্র এক দিন আগে দেশটির চারটি প্রদেশের ছয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল বাহিনীটি। সুদানের জাতীয় বিদ্যুৎ কোম্পানির এক কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, আরএসএফের ড্রোনগুলো আল-মারখিয়াত ট্রান্সফরমার স্টেশনকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এতে রাজধানী খার্তুমসহ আল-জাজিরা প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর আগে সোমবার সমন্বিত ড্রোন হামলায় পূর্ব সুদানের চারটি প্রদেশে ছয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই হামলার পর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়। ধারাবাহিক এসব হামলায় দেশটির বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের নিয়মিত সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে সংঘাত চলছে। দীর্ঘ এই যুদ্ধে দেশটির মধ্যাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের বড় অংশ বর্তমানে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘাতের কারণে সুদানে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। ত্রাণকর্মীদের ধারণা, আরও পড়ুন,ইরানি নাবিকদের উদ্ধারএ পর্যন্ত যুদ্ধে দুই লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ব্যাপকভাবে এবং বহু মানুষ খাদ্যসংকটে পড়েছেন। জাতিসংঘ বারবার সতর্ক করে বলেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা লাখ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবা সচল রাখার ক্ষেত্রে বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হলে হাসপাতাল, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। গত বছর সেনাবাহিনী খার্তুম পুনর্দখল করার পর প্রায় ৩০ লাখ মানুষ খার্তুম প্রদেশে ফিরে এসেছেন। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত রাজধানীতে ফিরে অনেকেই নতুন করে জীবন গড়ে তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ এখনো অনিয়মিত। অবিস্ফোরিত বোমার ঝুঁকি এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বর্তমানে সুদানের যুদ্ধে ড্রোন হামলা অন্যতম প্রধান কৌশল হয়ে উঠেছে। উভয় পক্ষই উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহার করছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম তিন সপ্তাহেই ড্রোন হামলায় ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েকশ। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় ধারাবাহিক হামলায় দেশটির বিদ্যুৎ, পানি ও স্বাস্থ্যসেবা আরও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

সুদানে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা

ইরানি নাবিকদের উদ্ধার

শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের নিকটবর্তী আন্তর্জাতিক জলসীমায় অসুস্থ হয়ে পড়া ৪০ জন ইরানি নাবিককে সফলভাবে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে গত শনিবার রাতে তাঁদের বিশেষ বিমানে করে নিরাপদে ইরানে ফেরত পাঠানো হয়। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র থুশারা রদ্রিগো বিবিসি সিনহালাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, কলম্বোয় অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের উদ্যোগে এবং স্থানীয় শিপিং কোম্পানির সহায়তায় এই উদ্ধার ও চিকিৎসার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। মার্কিন নৌ অবরোধ ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানি জাহাজগুলো আটকা পড়ায় নাবিকদের মধ্যে এই সংকট তৈরি হয়েছিল।আরও পড়ুন,ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধ্বসজরুরি সাহায্য চেয়ে আবেদন পাওয়ার পর মানবিক বিবেচনা ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন মেনে শ্রীলঙ্কা এই উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে। তবে শ্রীলঙ্কা এই সংঘাতে নিজেদের কঠোরভাবে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার কথা স্পষ্ট করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিপদসংকেত পেলেই সাড়া দেওয়া আন্তর্জাতিক প্রথা এবং মানবতা রক্ষার্থে জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদান করা তাদের বাধ্যবাধকতা। এর আগে গত মার্চেও মার্কিন হামলায় ডুবে যাওয়া ইরানি জাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’র বেঁচে যাওয়া নাবিকদের শ্রীলঙ্কা চিকিৎসা দিয়েছিল। তবে সম্প্রতি উপকূলের কাছে আটকে থাকা ১৯টি ইরানি জাহাজে খাদ্য ও জ্বালানির সংকট দেখা দিলেও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে কোনো সহায়তা পাঠানো হয়নি বলে জানিয়েছে লঙ্কান কর্তৃপক্ষ।

ইরানি নাবিকদের উদ্ধার

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধ্বস

যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পূর্বমুহূর্তে প্রকাশিত একাধিক শীর্ষস্থানীয় জনমত জরিপে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা আশঙ্কাজনকভাবে কমার চিত্র ফুটে উঠেছে। তবে এসব জরিপের বৈজ্ঞানিক ফলাফলকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প দাবি করেছেন, এসব জনমত জরিপ ‘ভুয়া’ এবং মার্কিন জনগণের মধ্যে তাঁর প্রকৃত সমর্থন মূলত ৬০ শতাংশের কাছাকাছি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন এক্সামিনারের সাংবাদিক বাইরন ইয়র্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জোর গলায় মন্তব্য করেন যে, বর্তমানে নির্বাচনে তাঁকে পরাজিত করা কারোর পক্ষেই সম্ভব নয়। সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন রিয়েলক্লিয়ারপলিটিকসের গড় ফলাফল তুলে ধরা হলে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের দায়িত্ব পালনে সন্তুষ্ট মাত্র ৩৮.৮ শতাংশ নাগরিক, যার বিপরীতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ৬০.৪ শতাংশ। আরও পড়ুন,ছাত্র আন্দোলন অব্যাহতএ ছাড়া নিউইয়র্ক টাইমস-সিয়েনা কলেজের সাম্প্রতিক জরিপে তাঁর সমর্থনের হার নেমে এসেছে ৩৪ শতাংশে, যা ১৯৪৬ সালে হ্যারি ট্রুম্যানের (৩৩%) পর মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কোনো প্রেসিডেন্টের জন্য সর্বনিম্ন। রয়টার্স-ইপসোসের জরিপেও তাঁর সমর্থন তাঁর দুই মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্ন ৩১ থেকে ৩৪ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপেও তাঁর প্রতি সমর্থন মিলছে মাত্র ৩০ শতাংশ। নিজের দাবির পক্ষে ট্রাম্প সিএনএনের প্রধান তথ্য বিশ্লেষক হ্যারি এনটেনের একটি বিশ্লেষণ উল্লেখ করে বলেন, 'মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন' (মাগা) সমর্থক ও রিপাবলিকানদের মধ্যে ৯৮ থেকে ৯৯ শতাংশ ভোটার এখনো তাঁর পক্ষে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, রিপাবলিকান ঘাঁটিতে জনপ্রিয়তা থাকলেও মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় ব্যর্থতার কারণে সাধারণ ভোটারদের মাঝে ট্রাম্পের জনঅসন্তোষ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, যাকে ‘পাঁচ মাত্রার ভয়াবহ বিপর্যয়’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবুও এসব পরিসংখ্যানকে তোয়াক্কা না করে ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, সাধারণ জনগণের শক্ত সমর্থনেই তিনি জয়ী হবেন।

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধ্বস

ছাত্র আন্দোলন অব্যাহত

ভারতের দিল্লির ঐতিহাসিক সংখ্যালঘু কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়া-তে দুই সপ্তাহ ধরে চলা প্রবল ছাত্র আন্দোলনের মুখে অবশেষে নতিস্বীকার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের পর আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ মাহতাব আলম রিজভী ঘোষণা করেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা হবে। একই সাথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিল করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তাও পর্যালোচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের পর থেকে এই ক্যাম্পাসে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি, যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমে ছিল। তবে কর্তৃপক্ষের মৌখিক প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা তাঁদের আন্দোলন ও অনশন কর্মসূচি এখনই স্থগিত করছেন না। আরও পড়ুন,কমপ্লায়েন্ট স্বীকৃতি পেল প্রায় ৩৯ হাজার কুয়েতি প্রতিষ্ঠানঅনশনরত এবং আন্দোলনকারী ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেওয়া এই নির্দেশ বিভ্রান্তিকর এবং তা আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত আকারে দেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীরা কেবল নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখই চান না, বরং আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নেওয়া সমস্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার, বহিস্কৃতদের পুনর্বাহাল এবং প্রধান প্রক্টর ও নিরাপত্তা উপদেষ্টার অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। ১৭ অক্টোবর ভোরে শিক্ষার্থীদের বলপ্রয়োগ করে সরানোর চেষ্টা এবং গত শনিবার বিশ্বাবদ্যালয়ের ৭ নম্বর গেটে নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশের সাথে সংঘাতের ঘটনারও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে। ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে ও সংকটজনক। গত শনিবার থেকে ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাইরে থেকে খাবার বা রসদ ঢুকতে না দেওয়ায় ভেতরের শিক্ষার্থীরা খাদ্য সংকটে পড়েছেন বলেও জানা গেছে। এরই মধ্যে রাসায়নিক বিজ্ঞান বিভাগের দেয়ালে 'ফ্রি কাশ্মীর' ও 'ফ্রি শারজিল ইমাম'-এর মতো বিতর্কিত গ্রাফিতি আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা শিক্ষার্থীরা স্পষ্টত ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সার্বিকভাবে, লিখিত নিশ্চয়তা এবং অন্যান্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের 'গুলস্তাঁ-ই-গালিব' ভবনে অবস্থান ধর্মঘট ও গালিব লনে অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন।

ছাত্র আন্দোলন অব্যাহত

কমপ্লায়েন্ট স্বীকৃতি পেল প্রায় ৩৯ হাজার কুয়েতি প্রতিষ্ঠান

কুয়েতে কর্মীদের নিয়মিত বেতন পরিশোধে অনিয়ম এবং বিভিন্ন আর্থিক জটিলতার সঙ্গে জড়িত ৮ হাজার ৮৪৯টি প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করেছে সে দেশের পাবলিক অথরিটি ফর ম্যানপাওয়ার (প্যাম)। একই সঙ্গে সরকারি নীতিমালা সঠিকভাবে মেনে সময়মতো কর্মীদের বেতন পরিশোধ করায় ৩৯ হাজার ৫৫৯টি প্রতিষ্ঠানকে নিয়মনিষ্ঠ বা কমপ্লায়েন্ট হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। প্যামের ডিজিটাল মজুরি পর্যবেক্ষণ বা ওয়েজ-পেমেন্ট মনিটরিং সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাদের সিস্টেমে মোট ১ লাখ ২৫২টি ফাইল নিবন্ধিত রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনের কম কর্মী রয়েছে এমন ক্ষুদ্র ব্যবসা ও নিয়োগকর্তার সংখ্যা ৫১ হাজার ৮৪৪টি। অন্যদিকে, পাঁচ বা ততোধিক কর্মী রয়েছে এমন মাঝারি ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের মোট ফাইল সংখ্যা ৪৮ হাজার ৪০৮টি। আরও পড়ুন,ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলে পুড়েছে ১৯ লাখ হেক্টরএই বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকেই ৮ হাজার ৮৪৯টি প্রতিষ্ঠানের ফাইলে কর্মীদের বেতন প্রদানে অনিয়মের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এদিকে প্রবাসী কর্মীদের বেতন থেকে যত্রতত্র অর্থ কর্তন রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কুয়েত কর্তৃপক্ষ। বেতন কাটার জন্য সুনির্দিষ্ট ১৩টি বৈধ কারণ নির্ধারণ করে দিয়েছে প্যাম। এর মধ্যে রয়েছে অবৈতনিক ছুটি, সন্তান প্রতিপালন ও অসুস্থতাজনিত ছুটি, আংশিক বেতনভুক্ত ছুটি, সাময়িক বরখাস্ত, কর্মক্ষেত্র থেকে অনুমতি ছাড়া প্রস্থান, কাজ করতে অস্বীকৃতি জানানো এবং নোটিশ ছাড়া অনুপস্থিতির মতো পেশাগত বিভিন্ন কারণ। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো কর্মীর বেতন থেকে অর্থ কাটতে হলে সেটির আইনগত যৌক্তিকতা প্রমাণে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ও বৈধ নথিপত্র বাধ্যতামূলকভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। তাছাড়া কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্যাম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনো অবস্থাতেই এক মাসে কোনো কর্মীর মূল বেতনের ২৫ শতাংশের বেশি অর্থ কাটা যাবে না। এই সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ কর্তনের ক্ষেত্রেও কর্তনের বৈধতা নিশ্চিতকারী সুনির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য নথিপত্র সংযুক্ত করা আবশ্যক করা হয়েছে। কুয়েত প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপে দেশটিতে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কমপ্লায়েন্ট স্বীকৃতি পেল প্রায় ৩৯ হাজার কুয়েতি প্রতিষ্ঠান

ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলে পুড়েছে ১৯ লাখ হেক্টর

ইন্দোনেশিয়ায় চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ভয়াবহ দাবানলে পুড়ে গেছে ১৯ লাখ হেক্টরেরও বেশি এলাকা। স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে বন উজাড় পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নুসানতারা অ্যাটলাস। সংস্থাটির আশঙ্কা, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রকাশিত হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে। নুসানতারা অ্যাটলাসের প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড গ্যাভো জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ায় মোট ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৫৮৮ হেক্টর এলাকা পুড়ে যাওয়ার চিহ্ন শনাক্ত করা হয়েছে। পুড়ে যাওয়া এই এলাকার আয়তন যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের প্রায় ১২ গুণ। তবে এই পরিসংখ্যানকে প্রাথমিক ও সতর্ক হিসাব হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। আরও পড়ুন,১৩০ বছর বয়সে হজ করে আলোচনায় আসা নারীর মৃত্যুডেভিড গ্যাভোর মতে, ছোট ছোট পোড়া এলাকা হিসাবের বাইরে থেকে যাওয়া এবং ভুল শনাক্তকরণ এড়ানোর কারণে মোট ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিমাণ কম ধরা পড়তে পারে। এ ছাড়া, ঘন ধোঁয়াশার কারণে অনেক ক্ষেত্রে স্যাটেলাইটের ছবিতে আগুনে পুড়ে যাওয়া এলাকা স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এদিকে, ইন্দোনেশিয়া সরকার সর্বশেষ গত জুলাইয়ের শেষে জানিয়েছিল, তখন পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ২ লাখ ২ হাজার হেক্টর এলাকা দাবানলে পুড়ে গেছে। এরপর থেকে সরকারিভাবে নতুন কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বেসরকারি পর্যবেক্ষণ সংস্থার সাম্প্রতিক হিসাবের সঙ্গে সরকারি তথ্যের বড় ব্যবধান দেখা যাচ্ছে। নুসানতারা অ্যাটলাসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত পুড়ে যাওয়া এলাকার পরিমাণ ২০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় ৩৮ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০১৫ সালে ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে সে সময় বর্তমান পর্যবেক্ষণব্যবস্থায় ব্যবহৃত স্যাটেলাইটগুলো চালু না থাকায় ওই বছরের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই। ডেভিড গ্যাভো আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, চলতি বছরের দাবানলও ২০১৫ সালের মতো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাঁর মতে, স্যাটেলাইটে শনাক্ত হওয়া আগুনের হটস্পটের সংখ্যা এখনো বাড়ছে, যা পরিস্থিতির আরও অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। সব মিলিয়ে, ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার প্রকৃত পরিমাণ এবং আগুনের বিস্তার সম্পর্কে আরও স্পষ্ট চিত্র পেতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলে পুড়েছে ১৯ লাখ হেক্টর

বিদেশি বিনিয়োগে বদলে যাচ্ছে এথেন্সের পুরোনো পাড়া

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের এক্সারখিয়া এলাকায় বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটন বৃদ্ধির কারণে বদলে যাচ্ছে দীর্ঘদিনের আবাসিক পরিবেশ। একের পর এক ভবন কিনে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার আবাসনে রূপান্তর করছেন বিনিয়োগকারীরা। এতে বাড়ছে বাড়িভাড়া, উচ্ছেদের মুখে পড়ছেন পুরোনো বাসিন্দারা, আর হারিয়ে যাচ্ছে এলাকার ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধন। এক্সারখিয়া দীর্ঘদিন ধরে বামপন্থী রাজনীতি, প্রতিবাদ আন্দোলন এবং ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতির জন্য পরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এলাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইসরায়েলি ক্রেতাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। তবে এথেন্সে বাড়ির মালিকদের জাতীয়তা নিয়ে সরকারি পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান নেই। ১৯৮৬ সাল থেকে এলাকাটিতে বসবাস করছেন স্থপতি টোনিয়া ক্যাটেরিনি। তাঁর ভাষ্য, বিদেশি বিনিয়োগের কারণে পরিচিত পাড়ার চেহারা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তিনি ও তাঁর প্রতিবেশীরা সরকারি নথির ভিত্তিতে বিদেশিদের কেনা সম্পত্তির একটি ডিজিটাল মানচিত্রও তৈরি করেছেন। তাঁদের দাবি, নতুন গড়ে ওঠা কোম্পানি পরিচালিত হোটেল ও ভাড়ার আবাসনের উল্লেখযোগ্য অংশ ইসরায়েলি বিনিয়োগকারীদের মালিকানাধীন। আরও পড়ুন,১৩০ বছর বয়সে হজ করে আলোচনায় আসা নারীর মৃত্যুএদিকে, দীর্ঘদিনের বাসিন্দা ও স্কুলশিক্ষিকা ক্রিসুলা পাপাজর্জিওর অভিযোগ, করোনাভাইরাস মহামারির পর পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন ঘটে। ব্যক্তিগতভাবে ঘর ভাড়া দেওয়ার পরিবর্তে বিভিন্ন কোম্পানি পুরো ভবন কিনে পর্যটকদের জন্য ব্যবহার করতে শুরু করে। এর ফলে অনেক ভাড়াটিয়াকে এলাকা ছাড়তে হয়েছে। বাসিন্দা কমে যাওয়ায় স্থানীয় স্কুলগুলো শিক্ষার্থী হারিয়েছে, বন্ধ হয়েছে পুরোনো বইয়ের দোকান, ক্যাফে ও মুদি দোকান। বাড়িভাড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি মেট্রো স্টেশন নির্মাণ ও পর্যটকের সংখ্যা বাড়াও স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, এক্সারখিয়া ধীরে ধীরে আবাসিক এলাকা থেকে পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হবে। ২০২২ সাল থেকে এলাকাটির স্কয়ারে মেট্রো স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। গ্রিসের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটির আবাসন খাতে বিদেশি অনাবাসীদের বিনিয়োগ রেকর্ড ২৭৫ কোটি ইউরোতে পৌঁছায়। আবাসন সংকট মোকাবিলায় সরকার বিদেশি ক্রেতাদের ওপর কর বাড়ানো এবং স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে। মধ্য এথেন্সে নতুন স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার লাইসেন্স দেওয়ার নিষেধাজ্ঞাও ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আবাসন ব্যবসায়ীদের মতে, সরকারি নিয়ম এবং তরুণ গ্রিকদের বাড়ি কেনার আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে বিদেশি ক্রেতাদের অংশগ্রহণ কিছুটা কমেছে। তবে বাড়িভাড়া ও আবাসন সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এক্সারখিয়ার বাসিন্দাদের দাবি, উন্নয়ন ও বিনিয়োগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সাশ্রয়ী আবাসনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে বিদেশি বিনিয়োগের চাপে এলাকার পুরোনো বাসিন্দা, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধন আরও হারিয়ে যেতে পারে।

বিদেশি বিনিয়োগে বদলে যাচ্ছে এথেন্সের পুরোনো পাড়া

১৩০ বছর বয়সে হজ করে আলোচনায় আসা নারীর মৃত্যু

আলজেরিয়ার সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ নারী হিসেবে পরিচিত হাজ্জা সারহুদা সিতিতি মারা গেছেন। প্রচলিত জন্মসন অনুযায়ী, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১৩২ বছর। জীবনের শেষ দিকে পবিত্র হজ পালন করে আলোচনায় আসা এই নারীর মৃত্যুর খবর জানিয়েছে সৌদি সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া। ১৮৯৪ সালে আলজেরিয়ার গালমা প্রদেশের শিনিউ এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন সারহুদা সিতিতি। পরবর্তী সময়ে তিনি তেবেসা শহরে বসবাস করতেন। দীর্ঘ জীবন, বড় পরিবার এবং জীবনের শেষ পর্যায়ে হজ পালনের কারণে তিনি দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন। মাত্র ২০ বছর বয়সে বিয়ে করেন সারহুদা। তাঁর ছিল ১৫ সন্তান। জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি সন্তান, নাতি-নাতনি ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে কাটিয়েছেন। তাঁর জীবনকাহিনি আলজেরিয়ার একাধিক প্রজন্মের পারিবারিক ও সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।আরও পড়ুন,নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়ালেন ট্রাম্প ২০২৪ সালের জুনে ১৩০ বছর বয়সে পবিত্র হজ পালন করেন সারহুদা সিতিতি। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করে সৌদি আরবে হজ করতে যাওয়ার ঘটনা সে সময় গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এর আগে তিনি দুইবার ওমরাহ পালন করেছিলেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি আল আরাবিয়া তাঁর হজ পালনের বিশেষ ভিডিওচিত্র প্রকাশের পাশাপাশি মৃত্যুর খবরও জানায়। ১৮৯৪ সালের জন্মসন সঠিক হলে সারহুদা তাঁর দীর্ঘ জীবনে আলজেরিয়ার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ নানা অধ্যায়ের সাক্ষী হয়েছেন। তিনি দেখেছেন ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসন, স্বাধীনতার সংগ্রাম এবং দেশটির স্বাধীনতা অর্জন। পাশাপাশি স্বাধীনতা-পরবর্তী কয়েক দশকের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনও প্রত্যক্ষ করেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে আলজেরিয়ায় শোকের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে আগ্রহ। তবে তাঁর জন্মসন অনুযায়ী ১৩২ বছর বয়সের দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে এমন তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। দীর্ঘ জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, বড় পরিবার এবং জীবনের শেষদিকে পবিত্র হজ পালনের মধ্য দিয়ে হাজ্জা সারহুদা সিতিতি আলজেরিয়ার মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

১৩০ বছর বয়সে হজ করে আলোচনায় আসা নারীর মৃত্যু

নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়ালেন ট্রাম্প

ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর প্রতি সরাসরি সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহুর প্রশংসা করেন ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে মিত্র হিসেবে পাশে থাকার জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে নেতানিয়াহুর প্রতি নিজের ‘পূর্ণাঙ্গ ও সম্পূর্ণ সমর্থন’ রয়েছে বলে ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘বিবি নেতানিয়াহু আপনাদের কখনো হতাশ করবেন না!’ নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ করে দেওয়া ট্রাম্পের এই বার্তা ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। আরও পড়ুন,ড্রোন হামলায় রুশ তেল টার্মিনালে আগুনইসরায়েলের রাজনীতিতে নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তবে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। জনমত জরিপগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আভাস পাওয়ায় ক্ষমতায় থাকা তাঁর জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিকভাবে কতটা সহায়ক হবে, তা নিয়ে নজর রয়েছে পর্যবেক্ষকদের। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পাশাপাশি ইরানকে কেন্দ্র করে দুই দেশের নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতাও এই সমর্থনের পটভূমিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে ট্রাম্পের সমর্থন নির্বাচনের ফলাফলে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের ভোটাররা কোন দল ও নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখেন, সেটিই নির্ধারণ করবে দেশটির পরবর্তী সরকারের রাজনৈতিক সমীকরণ। আসন্ন নির্বাচন ঘিরে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন—দুই বিষয়ই এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজরে।

নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়ালেন ট্রাম্প

ড্রোন হামলায় রুশ তেল টার্মিনালে আগুন

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ ও আশপাশের লেনিনগ্রাদ অঞ্চলে ইউক্রেনের ১২৬টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ। রোববার ১৮ অক্টোবরের এ ঘটনায় সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি তেল টার্মিনালে আগুন ধরে যায়। পাশাপাশি দেশটির অন্যতম ব্যস্ত পুলকোভো বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলও ব্যাহত হয়েছে। লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার দ্রোজদেনকো জানান, বড় পরিসরে চালানো ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে অভিযান চালানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ বাড়িঘর, গাড়ি ও বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়েছে। এতে কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকজান্ডার বেগলভ জানান, ইউক্রেনের হামলায় সেন্ট পিটার্সবার্গ অয়েল টার্মিনালে আগুন ধরে যায়। গত জুনেও এই টার্মিনালে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। আরও পড়ুন,বিদেশি কর্মীদের ‘দাস’ বলা নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন ভ্যান্সহামলার পর নিরাপত্তার কারণে শহরটির প্রধান বিমানবন্দর পুলকোভোর কার্যক্রম সীমিত করা হয়। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, বিমানবন্দরটিতে উড়োজাহাজের বহির্গমন ব্যাহত হয়েছে। এদিকে, রাশিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিকে দাবি করেছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ওই অঞ্চলে তাদের একটি ডেটা সেন্টার। তবে কেন্দ্রটির কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে আবারও হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদপত্র ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার জবাবে ইউক্রেন দেশটির ভূখণ্ডে পাল্টা হামলা চালাবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও তেলের ডিপোতে ইউক্রেনের হামলার সমালোচনা করেছেন। শুক্রবার রাশিয়ার জ্বালানি খাতের আয় লক্ষ্য করে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক স্থগিত করার বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন তিনি। এ পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে সমালোচনার মুখে পড়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ড্রোন হামলায় রুশ তেল টার্মিনালে আগুন

বিদেশি কর্মীদের ‘দাস’ বলা নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন ভ্যান্স

এইচ-১বি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করা বিদেশি কর্মীদের ‘চুক্তিবদ্ধ দাস’ বলার বিষয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি স্বীকার করেছেন, বক্তব্যের ভাষা হয়তো যথাযথ ছিল না। একই সঙ্গে নিজের ভারতীয় শ্বশুর-শাশুড়ির কথা উল্লেখ করে তাদের প্রতি ভালোবাসার কথাও জানিয়েছেন তিনি। রোববার ১৮ অক্টোবর ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসননীতিতে এমন ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন, যাতে বিদেশি কর্মীদের প্রতি সম্মান বজায় রাখার পাশাপাশি মার্কিন কর্মীদের স্বার্থও সুরক্ষিত থাকে। ভ্যান্সের স্ত্রী ঊষা ভ্যান্সের পরিবারের শিকড় দক্ষিণ ভারতে। তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়েছিলেন। ভ্যান্স বলেন, দক্ষিণ ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা তাঁর শ্বশুর-শাশুড়িকে তিনি ভালোবাসেন। তাঁদের মেয়ে ঊষা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে দেশটির সেকেন্ড লেডি। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি গর্বিত বলেও জানান। ভ্যান্সের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রে অবদান রাখতে আগ্রহী বিদেশি কর্মীদের স্বাগত জানানো উচিত। তবে বিদেশি কর্মী নিয়োগের অজুহাতে কোনো প্রতিষ্ঠান আগে থেকে কর্মরত মার্কিন নাগরিকদের চাকরিচ্যুত করতে পারে না।আরও পড়ুন,মৃত যমজ ভাইয়ের পরিচয়ে ১৯ বছর পালিয়ে অবশেষে গ্রেপ্তারতাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বিদেশি ও মার্কিন উভয় কর্মীর জন্যই ক্ষতিকর। এই বিতর্কের সূত্রপাত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অভিবাসনসংক্রান্ত কঠোর অবস্থান থেকে। চলতি মাসের শুরুতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম বা পিইআরএমের আওতায় আবেদনপ্রক্রিয়া স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। তালিকায় মাইক্রোসফট, কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস, উইপ্রো, এইচসিএল ও ক্যাপজেমিনির মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় পিইআরএম গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। এর মাধ্যমে নিয়োগকর্তারা নির্দিষ্ট শর্তে বিদেশি কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের আবেদনে স্পনসর করতে পারেন। বিদেশি পেশাজীবীদের ‘চুক্তিবদ্ধ দাস’ হিসেবে বর্ণনা করার ঘটনায় এর আগে প্রতিবাদ জানিয়েছিল ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মন্তব্যটিকে অযৌক্তিক ও গভীরভাবে আপত্তিকর বলে উল্লেখ করে। ভারতের বক্তব্য, দেশটিতে জন্ম নেওয়া বহু দক্ষ পেশাজীবী যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও উদ্ভাবন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। ভ্যান্সের সর্বশেষ বক্তব্যে ভাষার জন্য দুঃখ প্রকাশের ইঙ্গিত থাকলেও অভিবাসননীতিতে মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষার অবস্থান তিনি বজায় রেখেছেন। ফলে এইচ-১বি ভিসা, বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ এবং গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বিতর্ক অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত মিলছে।

বিদেশি কর্মীদের ‘দাস’ বলা নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন ভ্যান্স

মৃত যমজ ভাইয়ের পরিচয়ে ১৯ বছর পালিয়ে অবশেষে গ্রেপ্তার

মৃত যমজ ভাইয়ের পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘ ১৯ বছর পুলিশের চোখ এড়িয়ে চলা চীনের এক পলাতক ডাকাত অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন। মৃত ভাইয়ের সাবেক প্রেমিকার দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে ২০০২ সালের একটি ডাকাতির ঘটনার ২৪ বছর পর তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা সামনে আসার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনাটি ২০০২ সালের। চীনের পূর্বাঞ্চলীয় ঝেজিয়াং প্রদেশের ইউহুয়ানে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে নগদ অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটের ঘটনায় সাতজন জড়িত ছিলেন। পুলিশ দ্রুত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করতে পারলেও চেন নামের সপ্তম সন্দেহভাজন পালিয়ে যান। দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পাওয়ায় একপর্যায়ে তদন্ত থমকে যায়। এর পাঁচ বছর পর, ২০০৭ সালে মধ্য চীনের আনহুই প্রদেশ থেকে পুলিশ জানতে পারে, সড়ক দুর্ঘটনায় চেনের মৃত্যু হয়েছে এবং তার নাগরিক নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে তাকে মৃত ধরে তদন্ত স্থগিত করা হয়। আরও পড়ুন,অভিবাসন পথে শিশু মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা অজানাতবে দীর্ঘদিন পর মামলাটি পুনরায় পর্যালোচনা করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, আনহুইয়ের এক ব্যক্তি তার মৃত যমজ ভাইয়ের পরিচয় ব্যবহার করে বসবাস করছেন। পুরোনো মামলার নথি যাচাই করে তদন্তকারীরা ওই ব্যক্তির পরিচয়, জন্মস্থান ও পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে মিল খুঁজে পান। তদন্তে আরও জানা যায়, ২০০৭ সালে কথিত মৃত্যুর মাত্র নয় দিন পর চেনের নাম পরিবর্তনের আবেদন করা হয়েছিল। পুরোনো ও নতুন পরিচয়পত্রের ছবি তুলনা করে তদন্তকারীরা চেহারা ও অভিব্যক্তির কিছু পার্থক্য শনাক্ত করেন। এতে তাদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পেয়ে পুলিশ চেনের মৃত যমজ ভাইয়ের সাবেক প্রেমিকা দেং-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে। দুর্ঘটনার আগে ওই ভাইয়ের সঙ্গে দেং-এর বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। পুলিশকে তিনি জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন বড় ভাই, আর বেঁচে থাকা ব্যক্তিই ছিলেন পলাতক চেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে গত জুন মাসে চেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। চীনের ফৌজদারি আইন অনুযায়ী, ডাকাতির অপরাধে তার তিন থেকে দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে সাবেক প্রেমিকার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, পলাতক আসামির পরিচয় গোপন রাখতে পরিবারের সদস্যরা সহায়তা করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।

মৃত যমজ ভাইয়ের পরিচয়ে ১৯ বছর পালিয়ে অবশেষে গ্রেপ্তার

অভিবাসন পথে শিশু মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা অজানা

উন্নত জীবন ও নিরাপত্তার আশায় ঝুঁকিপূর্ণ পথে অভিবাসনের চেষ্টা করতে গিয়ে গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে চার হাজার ৪১৪ জনের বেশি শিশু মারা গেছে অথবা নিখোঁজ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএমের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক তথ্য। তবে নিখোঁজের ঘটনা এবং বয়স-পরিচয় শনাক্ত করতে না পারার কারণে শিশু মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন অভিবাসন রুটে এসব শিশু মৃত্যুর ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ, মরুভূমির তীব্র গরম, পানিশূন্যতা, অনাহার এবং মানব পাচারকারীদের নির্যাতন বিভিন্ন কারণে প্রাণ হারাচ্ছে শিশুরা। শিশুদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক অভিবাসন রুট হিসেবে উঠে এসেছে ভূমধ্যসাগর। উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে দুই হাজারের বেশি শিশুর মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার সময় মরুভূমির চরম আবহাওয়া ও নদীতে ডুবে অন্তত ৮৫০ শিশুর মৃত্যুর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আরও পড়ুন,ভূমিকম্পে কাঁপল খুজদারসহ আশপাশের এলাকাসাহারা মরুভূমি ও হর্ন অব আফ্রিকার দুর্গম পথেও পানিশূন্যতা ও তীব্র গরমে প্রাণ হারাচ্ছে বহু শিশু। আইওএম ও জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহ কিংবা দুর্ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের বড় একটি অংশের বয়স ও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। ফলে প্রকৃত চিত্র নথিভুক্ত পরিসংখ্যানের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মৃত শিশুদের মধ্যে যাদের বয়স শনাক্ত করা গেছে, তাদের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুও রয়েছে। তবে বহু ঘটনার ক্ষেত্রে বয়স ও লিঙ্গের তথ্য পাওয়া যায়নি। গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮১ হাজার অভিবাসীর মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে আইওএম। এর মধ্যে ৪৪ হাজার ৮৬২টি ঘটনায় বয়সসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। আইওএমের মহাপরিচালক বলেছেন, আইনি ও নিরাপদ অভিবাসনের সুযোগের অভাব শিশুদের চরম ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যদিকে সংস্থাটির ডেটা ও পলিসি বিভাগের প্রধান স্টুয়ার্ট ক্যাম্পো প্রতিটি শিশুর মৃত্যুর তথ্য সঠিকভাবে নথিভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। শিশুদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সীমান্তে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার, মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং দেশগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।

অভিবাসন পথে শিশু মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা অজানা

ভূমিকম্পে কাঁপল খুজদারসহ আশপাশের এলাকা

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শনিবার ১৭ অক্টোবর স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৬ মিনিটে এ কম্পন অনুভূত হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া যায়নি। পাকিস্তানের আবহাওয়া দপ্তরের সিসমিক শাখা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল বেলুচিস্তানের খুজদার জেলা থেকে ৪৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি হওয়ায় আশপাশের এলাকায় তুলনামূলক তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, খুজদার ছাড়াও আশপাশের খারান ও কালাত জেলায় ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়। বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি কিংবা প্রাণহানির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আরও পড়ুন,ইরানের হামলায় গোপন হুমকিতে ছিল আমিরাততবে খুজদারের কাছাকাছি গ্রামীণ এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূপৃষ্ঠের ৭০ কিলোমিটারের কম গভীরে সংঘটিত ভূমিকম্পকে অগভীর ভূমিকম্প বলা হয়। এ ধরনের ভূমিকম্পের তরঙ্গ ভূপৃষ্ঠে পৌঁছানোর সময় তুলনামূলক কম শক্তি হারায়। ফলে দুর্বল কাঠামোর ভবনে ফাটল দেখা দেওয়া এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। উল্লেখ্য, প্রায় ৩ লাখ ৪৭ হাজার ১৯০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বেলুচিস্তান ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও অ্যারাবিয়ান—এই তিনটি বড় টেকটোনিক প্লেটের সক্রিয় সংযোগস্থলে অবস্থিত। প্লেটগুলোর নড়াচড়ার কারণে অঞ্চলটিতে প্রায়ই মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়। বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, ৬ মাত্রার বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্প তুলনামূলক বিরল হলেও বেলুচিস্তানে ৫ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প মাঝেমধ্যে আঘাত হানে।

ভূমিকম্পে কাঁপল খুজদারসহ আশপাশের এলাকা