শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস

আন্তর্জাতিক

৭০ বছর পর চালু হলো বাংলাদেশ-আসাম নৌবাণিজ্যপথ

৭০ বছর পর চালু হলো বাংলাদেশ-আসাম নৌবাণিজ্যপথ

দেশভাগের পর দীর্ঘ ৭০ বছর বন্ধ থাকার পর আবারও সচল হলো বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক নৌবাণিজ্যপথ। ভারতের আসাম রাজ্যের ডিব্রুগড় থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে সরাসরি বাংলাদেশের বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে পণ্যবাহী জাহাজ। এই উদ্যোগকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ৫ অক্টোবর আসামের ব্রহ্মপুত্র নদের বগিবিল টার্মিনাল থেকে ৫৪০ মেট্রিক টন মিথানল নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেয় ‘ডিএলবি পাটকাই’ নামের একটি কার্গো জাহাজ। জাহাজটিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে ‘কুশল কোঁয়র’ নামের একটি শক্তিশালী টাগবোট। মিথানল উৎপাদন করেছে আসাম সরকারের প্রতিষ্ঠান আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেডের নামরূপ কারখানা। ভারতের বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রণালয় এই যাত্রাকে ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। কারণ, স্বাধীনতার পর এই প্রথম আসামের ডিব্রুগড় থেকে উৎপাদিত কোনো বাণিজ্যিক পণ্য সরাসরি বাংলাদেশের বন্দরের উদ্দেশে নদীপথে পাঠানো হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাহাজটি ভারতের জাতীয় নৌপথ-২ ধরে প্রায় ৭৬৮ কিলোমিটার অতিক্রম করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছাবে। এরপর দুই দেশের অভ্যন্তরীণ নৌ ট্রানজিট ও বাণিজ্য প্রটোকল রুট ব্যবহার করে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পানগাঁও বন্দরের দিকে এগিয়ে যাবে। বগিবিল থেকে পানগাঁও পর্যন্ত মোট দূরত্ব প্রায় এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার।আরোও পড়ুন,যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা কমাতে ভারতের সঙ্গে চুক্তিতে কানাডা এই নৌপথ চালুর ফলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পণ্য পরিবহনে নতুন বিকল্প তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডোর দিয়ে সড়ক ও রেলপথে পণ্য পরিবহনের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বাজারে আসামের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি পণ্য সরবরাহও সহজ হতে পারে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এই উদ্যোগকে রাজ্যের জন্য গর্বের মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে নৌপথটি কতটা লাভজনক হবে, তা নির্ভর করবে পণ্য পৌঁছানোর সময়, পরিবহন খরচ এবং নিয়মিত জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর। এর আগে ২০২২ সালে বাংলাদেশের জলপথ ব্যবহার করে টাটা স্টিলের পণ্যবাহী বার্জ ভারতের পান্ডুতে পৌঁছেছিল। ২০২৩ সালে পর্যটকবাহী ‘এমভি গঙ্গা বিলাস’ও বাংলাদেশ অতিক্রম করে ডিব্রুগড়ের পথে যাত্রা করেছিল। তবে এবারের বিশেষত্ব হলো, আসাম থেকে সরাসরি বাংলাদেশের উদ্দেশে বাণিজ্যিক পণ্য পাঠানো। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি চালানের মাধ্যমে এই নৌপথের পূর্ণ সম্ভাবনা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। নিয়মিত পণ্য পরিবহন এবং ফিরতি পথে পণ্য বহনের সুযোগ তৈরি হলে দুই দেশের বাণিজ্য আরও গতিশীল হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ঐতিহাসিক এই যাত্রা কত দ্রুত একটি নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বাণিজ্যপথে পরিণত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা কমাতে ভারতের সঙ্গে চুক্তিতে কানাডা

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাণিজ্যিক নির্ভরতা কমাতে ভারতের সঙ্গে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে কানাডা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংরক্ষণবাদী বাণিজ্যনীতির প্রেক্ষাপটে নিজেদের বাণিজ্য বহুমুখীকরণে জোর দিচ্ছে দেশটি। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে অটোয়ার। নয়াদিল্লিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনিতা আনন্দ বলেন, ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বাণিজ্য বহুমুখীকরণ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আগামী ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্যান্য দেশের সঙ্গে কানাডার বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় ভারত ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ করতে চায় কানাডা। তবে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে দেশটি। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। আরোও পড়ুন,সার পরিবহনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘের আহ্বানসম্প্রতি ভারতের বাণিজ্য আলোচকেরা কানাডা সফর করেছেন। অন্যদিকে, কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী মানিন্দর সিধু একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল নিয়ে বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও নরেন্দ্র মোদিও এ চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন। আগামী ডিসেম্বরে মোদির কানাডা সফরের কথা রয়েছে। কানাডার হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের পণ্য ও সেবাবাণিজ্য বছরে সাত হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২৫ সালে এই বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৪০ কোটি ডলার। দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে কানাডার প্রতিষ্ঠান কামেকো ও ভারতের মধ্যে ২৬০ কোটি কানাডীয় ডলারের ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তির কথাও উল্লেখ করেছেন অনিতা আনন্দ। পাশাপাশি ভারতের আইডিবিআই ব্যাংকের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা অধিগ্রহণে কানাডার ফেয়ারফ্যাক্স ফাইন্যানশিয়াল হোল্ডিংসের চুক্তিও অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কানাডা ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। বর্তমানে সেই সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনের শাসনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হলে কানাডার বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও নতুন গতি আসতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা কমাতে ভারতের সঙ্গে চুক্তিতে কানাডা

সার পরিবহনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘের আহ্বান

হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় এশিয়া ও আফ্রিকার কয়েকটি অঞ্চলে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর প্রভাবে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির প্রস্তাব, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে সার পরিবহনের ব্যবস্থা করা হোক। বুধবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংকের বৈঠকের ফাঁকে রয়টার্সকে এ কথা জানান জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল হোর্হে মোরেইরা দা সিলভা। তিনি বলেন, বীজ বপনের মৌসুম ঘনিয়ে আসায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবে সম্মত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। নির্ধারিত সময়ে কৃষকেরা সার না পেলে ফসলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়বে খাদ্যের বাজারেও, বাড়তে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। জাতিসংঘের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওমানে সংস্থাটির কর্মীদের পরিচালনায় একটি সমন্বয়কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এই কেন্দ্র থেকে জাহাজ নিবন্ধন এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচল তদারকি করা হবে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হলে মাত্র সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে এ ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন দা সিলভা।আরোও পড়ুন,জ্যোতিনগর কলোনিতে পানিসংকট, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগতাঁর মতে, প্রতিদিন মাত্র পাঁচটি জাহাজ চলাচল করতে পারলেও জরুরি ভিত্তিতে সার প্রয়োজন এমন দেশগুলোতে সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। এদিকে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দামও বাড়ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার খাদ্যমূল্য সূচক সেপ্টেম্বরে প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কা এর অন্যতম কারণ। এল নিনোর প্রভাবে চিনির দাম ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। অন্যদিকে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের কারণে গমের ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তির দামও তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ইউরিয়া ও সালফারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সার এবং সার তৈরির কাঁচামাল পরিবহনও সংকটে পড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট ইউরিয়া পরিবহনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত সালফারের প্রায় অর্ধেক এই প্রণালি দিয়ে যেত। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং খাদ্যনিরাপত্তার সংকট আরও গভীর হতে পারে। তাই সম্ভাব্য বড় ধরনের খাদ্যসংকট এড়াতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার পরিবহন স্বাভাবিক করতে দ্রুত আন্তর্জাতিক সমঝোতার ওপর জোর দিচ্ছে জাতিসংঘ।

সার পরিবহনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘের আহ্বান

জ্যোতিনগর কলোনিতে পানিসংকট, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দাদের পানি সরবরাহ বন্ধ ও উচ্ছেদের নোটিশ ঘিরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য সমীরুল ইসলাম।সম্প্রতি কলোনিটির পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে চিঠিটি প্রকাশ করেন তিনি। সমীরুলের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিশোধ এবং ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কলোনির বাসিন্দাদের মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তবে তাঁর এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কলকাতার জ্যোতিনগর কলোনিতে পাঁচটি পানির কল দিয়ে প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত পানি সরবরাহ করা হতো। কিন্তু গত ২৯ জুলাই থেকে কলগুলোতে পানি আসছে না। তাঁদের অভিযোগ, রাস্তা মেরামতের কাজ চলার সময় ২৮ জুলাই রাতে কলোনির মূল পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। একই সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। আরোও পড়ুন,রিয়াদ বিমানবন্দরে একের পর এক হামলা, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসার উদ্বেগ সৌদিরবাসিন্দারা আরও জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ পরে পুনরায় চালু করা হলেও পানির সংকট কাটেনি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেও স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি বলে তাঁদের অভিযোগ। সমীরুল ইসলাম তাঁর চিঠিতে বলেছেন, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ পাওয়া মানুষের মৌলিক মানবাধিকারের অংশ। দীর্ঘদিন পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় কলোনির বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ ও বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এদিকে, কলোনির জমির মালিকানা ও উচ্ছেদ নিয়েও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। জমিটি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্ট ট্রাস্টের অধীন। বন্দর কর্তৃপক্ষের উচ্ছেদ নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বাসিন্দারা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কলকাতা হাইকোর্ট উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, বন্দর কর্তৃপক্ষ জমি দখল, রাজস্ব ক্ষতি ও নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয় তুলে ধরেছে। ফলে পানি সরবরাহ পুনরুদ্ধার, বাসিন্দাদের অধিকার এবং জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দাদের দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

জ্যোতিনগর কলোনিতে পানিসংকট, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

হরমুজে জাহাজে হামলা বাড়াচ্ছে ইরান, চাপে বিশ্ববাজার

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম চড়া রাখতে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে ইরান। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার ধরন ও গতি পরিবর্তন করেছে দেশটি। ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে তেহরান। বিশ্বের মোট উৎপাদিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যুদ্ধের আগে এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। ইরানের হুমকি ও হামলার কারণে প্রণালিটি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আরোও পড়ুন,রিয়াদ বিমানবন্দরে একের পর এক হামলা, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসার উদ্বেগ সৌদিরএতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে ইরানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রায় ১০ দিন আগে থেকে বিধিনিষেধ অমান্যকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে নতুন ধরনের আক্রমণাত্মক কৌশল প্রয়োগ শুরু করেছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের তেলের দাম কমানোর প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করাই এই কৌশলের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে দাবি করেছেন তিনি। এদিকে, মার্কিন সামরিক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে ছোট নৌযানে অস্ত্রবিহীন পর্যবেক্ষক বা ‘স্পটার’ ব্যবহার করছে। এসব পর্যবেক্ষক মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ ও জ্বালানি সংকট যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী নভেম্বরে দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। সংঘাতের অবসানে সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। দেশটির বন্দর ঘিরে নৌ অবরোধ জোরদার এবং নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা, জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।

হরমুজে জাহাজে হামলা বাড়াচ্ছে ইরান, চাপে বিশ্ববাজার

সিজেপি নেতাদের জেল হেফাজত, প্রতিবাদে সরব রাহুল গান্ধী

ভারতের দিল্লিতে যন্তর মন্তরে লোহার ফটক টপকে প্রবেশ করে বিক্ষোভ করার অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। বুধবার সকালে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলে দিল্লি পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে দলের আরেক নেতা অজিঙ্ক শিন্ডেকে শান্তি ভঙ্গ না করার শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে আশুতোষ, সৌরভ ও অজিঙ্ক তাঁদের সমর্থকদের নিয়ে পুলিশের নজর এড়িয়ে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেন। সেখানে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর বাতিলের দাবিতে স্লোগান দেন তাঁরা। পরে পুলিশ তাঁদের আটক করে। দিনভর আটকে রাখার পর গভীর রাতে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সিজেপির অভিযোগ, আটকে রাখার দীর্ঘ সময় নেতাদের আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি এবং তাঁদের ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আদালতে দিল্লি পুলিশ দাবি করে, আরোও পড়ুন,https://crimeexpress.net/post/6545/রিয়াদ বিমানবন্দরে একের পর এক হামলা, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসার উদ্বেগ সৌদিরসিজেপি নেতারা ফোন করে লোক জড়ো করেছিলেন এবং বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত নয়—এমন স্থানে বেআইনিভাবে প্রবেশ করেছিলেন। তাঁদের মুক্তি দেওয়া হলে আবারও শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা রয়েছে বলেও যুক্তি দেয় পুলিশ। এদিকে, সিজেপির দুই নেতাকে জেল হেফাজতে পাঠানোর ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়। এ কারণে তরুণদের কারাগারে পাঠানোকে কাপুরুষতার লক্ষণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাহুল গান্ধী আরও বলেন, ছাত্র, যুবক, সাংবাদিক ও বিরোধী জোটের ব্যানার আলাদা হলেও তাঁদের উদ্দেশ্য অভিন্ন। নাগরিকেরা তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার চাইছেন। অন্যদিকে, সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপক জানিয়েছেন, তাঁদের দল একটি স্বাধীন চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে তাঁরা ইন্ডিয়া জোটের বিরোধী। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে দুই পক্ষের লক্ষ্য এক বলেও দাবি করেন তিনি।

সিজেপি নেতাদের জেল হেফাজত, প্রতিবাদে সরব রাহুল গান্ধী

রিয়াদ বিমানবন্দরে একের পর এক হামলা, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসার উদ্বেগ সৌদির

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং তাঁকে বাংকার-সুবিধাসম্পন্ন বিভিন্ন রাজপ্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তবে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। হামলার পর বিমানবন্দরটির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। উড়োজাহাজ চলাচলবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতির কারণে বিমানবন্দরের নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল করতে হচ্ছে। হামলার পর থেকে সৌদি যুবরাজের জনসমক্ষে উপস্থিতি নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর থেকে তাঁকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। আরও পড়ুন,সৌদি আরবে হাউছিদের হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চেতাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা পরিস্থিতির অবনতি বিবেচনায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে হুতি বিদ্রোহীদের এক মুখপাত্র রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছেন এবং সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোয় হামলা অব্যাহত রাখার হুমকি দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গত পাঁচ দিনে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চারবার হামলার ঘটনা ঘটেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান বলেছেন, হুতিদের হামলার ভয়াবহতা বিবেচনায় সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়াও কঠোর হবে। অন্যদিকে, একের পর এক হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসছে বলে কয়েকজন সৌদি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সৌদি আরব ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

রিয়াদ বিমানবন্দরে একের পর এক হামলা, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসার উদ্বেগ সৌদির

সৌদি আরবে হাউছিদের হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চে

সৌদি আরবে হাউছিদের অব্যাহত হামলার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আল জাজিরার সোমবার, ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১১টা ২৪ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২৪ ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১০৬ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়ায়। ২৯ সেপ্টেম্বরের পর এটিই ব্রেন্টের সর্বোচ্চ দাম। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ১১ ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৯২ দশমিক ৯৬ ডলারে ওঠে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে হাউছিরা। ওই হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। আরও পড়ুন,অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ডসোমবার বিমানবন্দরে আরেকটি হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে চলতি মাসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনাও বেড়েছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। অন্যদিকে রাশিয়া থেকে নতুন করে ডিজেল সরবরাহ এবং রাশিয়া-ইউক্রেনের জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতির প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসব ঘটনায় বাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও সৌদি আরবে হামলা ও হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম কমার পরিবর্তে বেড়েছে।

সৌদি আরবে হাউছিদের হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চে

অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড

অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতির ভিত্তি তৈরিতে গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড। অর্থনীতির ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ এবং মন্দা মোকাবিলায় নীতিনির্ধারণের কার্যকারিতা বাড়াতে তাঁদের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। সোমবার সুইডেনের স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস তাঁদের নাম ঘোষণা করে। রবার্ট ই হল যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। ১৯৪৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। অন্যদিকে মাইকেল উডফোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তাঁর জন্ম ১৯৫৫ সালে। ‘মাইক্রোইকোনমিক ফাউন্ডেশনস অব ম্যাক্রোইকোনমিক স্ট্যাবিলাইজেশন’ বা সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার ক্ষুদ্র অর্থনৈতিক ভিত্তি নিয়ে গবেষণা এবং নতুন তাত্ত্বিক মডেল তৈরির মাধ্যমে তাঁরা অর্থনীতিতে অবদান রেখেছেন। অর্থনীতিতে কখনো মন্দা দেখা দেয়, আবার কখনো দ্রুত প্রবৃদ্ধি ঘটে। আরও পড়ুন,রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে করাচিতে রাজনৈতিক বিধিনিষেধএসব ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে সুদের হার, সরকারি ব্যয় ও করনীতির মতো পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মন্দার সময় সুদের হার কমানো এবং সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেলে চাহিদা নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ১৯৭০-এর দশকে তেল সংকটের পর অর্থনৈতিক মন্দা, উচ্চ বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতি প্রচলিত অর্থনৈতিক নীতির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করে। সেই প্রেক্ষাপটে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আরও কার্যকর নীতির প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে। রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ডের গবেষণায় পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত কীভাবে সামগ্রিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে, তা গুরুত্ব পেয়েছে। পরিবারের সঞ্চয়-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পণ্য মূল্য নির্ধারণের মতো বিষয় তাঁদের মডেলে বিবেচনা করা হয়েছে।

অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড

রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে করাচিতে রাজনৈতিক বিধিনিষেধ

পাকিস্তানের বন্দরনগরী করাচিতে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। জনদুর্ভোগ কমানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) করাচির কমিশনার সৈয়দ হাসান নাকভির জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শহরের প্রধান সড়ক, মোড় ও চত্বরগুলোতে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি ও মিছিলের কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে। এতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি সড়ক অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল, জরুরি সেবা এবং হাসপাতালে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় করাচি বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি, মিছিল এবং পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জনশান্তি বজায় রাখা,আরও পড়ুন,রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার জেরে ফ্লাইট বন্ধ, সৌদি আরব ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার পরামর্শনাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি সেবার যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। পাকিস্তানে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই করাচি প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত এলো। এর আগে খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারি এবং প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতা সোহেল আফ্রিদিকে গ্রেপ্তারের পর দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ ছাড়া পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি রয়েছেন। তাঁর কারাবাস এবং দলটির নেতাদের ঘিরে বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতিতে টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে করাচিতে ১৪৪ ধারা জারির মাধ্যমে জনসমাগম ও বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় প্রশাসন। তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকাকালে শহরের স্বাভাবিক জনজীবন ও রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর এর কী প্রভাব পড়ে, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে করাচিতে রাজনৈতিক বিধিনিষেধ

তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে প্যারাগুয়ে ও বেলিজের দুই মন্ত্রীর ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা

তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার জেরে প্যারাগুয়ের যোগাযোগমন্ত্রী গুস্তাভো ভিলাতে এবং বেলিজের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিস ফনসেকার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। সোমবার (১২ অক্টোবর) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দেয়। ঘোষণার দিন থেকেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় দুই মন্ত্রীর চীনে থাকা সম্পদ জব্দ করা হবে। পাশাপাশি তাঁরা হংকং ও ম্যাকাওয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। চীনের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাঁদের সঙ্গে লেনদেন, সহযোগিতা কিংবা অন্য কোনো ধরনের কার্যক্রমেও অংশ নিতে পারবে না। বেইজিংয়ের অভিযোগ, কিছু ‘চীনবিরোধী রাজনীতিক’ নিজ নিজ দেশকে তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে উৎসাহিত করেছেন। চীনের দাবি, সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রী এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং মন্তব্য করেছেন, যা দেশটির মূল স্বার্থের ক্ষতি করছে। তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা ১২টি দেশের মধ্যে প্যারাগুয়ে ও বেলিজ অন্যতম। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। আরও পড়ুন,রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার জেরে ফ্লাইট বন্ধ, সৌদি আরব ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার পরামর্শতবে তাইওয়ানের সরকার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। সম্প্রতি তাইওয়ানের জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন প্যারাগুয়ের যোগাযোগমন্ত্রী গুস্তাভো ভিলাতে। ওই পোস্টে তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে তাইওয়ানের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে, তাইওয়ানে অবস্থিত বেলিজের দূতাবাস দুই পক্ষের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৩৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে বার্তা প্রকাশ করে। গত মাসে তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং বেলিজ সফর করেন। এ সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে বলে জানায় তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও ওয়াশিংটন দ্বীপটির আত্মরক্ষার সক্ষমতা জোরদারে সহায়তা করে আসছে। চীনের সম্ভাব্য আক্রমণের আশঙ্কায় তাইওয়ান যখন প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে, তখনই দুই মন্ত্রীর ওপর চীনের এই নিষেধাজ্ঞা নতুন করে আঞ্চলিক কূটনৈতিক উত্তেজনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে প্যারাগুয়ে ও বেলিজের দুই মন্ত্রীর ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা

রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার জেরে ফ্লাইট বন্ধ, সৌদি আরব ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার পরামর্শ

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে একের পর এক হামলার ঘটনায় দেশটিতে ভ্রমণের বিষয়ে নাগরিকদের সতর্ক করেছে বিশ্বের একাধিক দেশ। হামলার জেরে রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দুটি বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের পর এবার সৌদি আরব ভ্রমণ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। এসব দেশের নির্দেশনায় নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ জানিয়েছে, দেশটির নাগরিকদের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এড়িয়ে চলা উচিত। আরও পড়ুন,ইউপি নির্বাচনের পাঁচ ধাপের তারিখ চূড়ান্ত করল ইসিপাশাপাশি সৌদি আরবের অন্যান্য বিমানবন্দরে যাতায়াতের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাদের নাগরিকদের সৌদি আরবের রাজধানীর প্রধান বিমানবন্দর এবং নাজরান, জাজান ও আসির প্রদেশে কোনো অবস্থাতেই ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পুরো সৌদি আরবে ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে বলেছে দেশটি। রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও ইরান ও সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলার হুমকির কথা উল্লেখ করে সৌদি আরব ভ্রমণের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন নাগরিকদের। কানাডা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সৌদি আরবের যেকোনো অংশে ভ্রমণ না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৌদি আরবে অবস্থানরত নাগরিকদের জরুরি কাজ না থাকলে দেশটি ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে তা বাতিল করতে বলেছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরও জেদ্দা, দাম্মাম ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়া অন্যান্য বিমানবন্দরে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যাতায়াত এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে।

রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার জেরে ফ্লাইট বন্ধ, সৌদি আরব ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার পরামর্শ

নির্বাচন কমিশনবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশের অভিযান, কেজরিওয়ালসহ এএপির একাধিক নেতা আটক

ভারতের দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ চলাকালে আম আদমি পার্টির আহ্বায়ক ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় দলটির আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতাকেও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেজরিওয়াল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার ১০ অক্টোবর দিল্লির লোধি এস্টেটে নিজ বাড়ির সামনে থেকে কেজরিওয়ালকে আটক করা হয়। একটি বাসের ভেতর থেকে ভিডিও প্রকাশ করে কেজরিওয়াল জানান, তিনি এবং আম আদমি পার্টির অন্য নেতারা দিল্লি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। এ সময় বাসে থাকা বিক্ষোভকারীদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এর আগে, যন্তর মন্তরে নির্বাচন কমিশনবিরোধী বিক্ষোভে যোগ দিতে ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচির আহ্বান জানিয়েছিলেন কেজরিওয়াল। আরও পড়ুন,সোয়াবি ইন্টারচেঞ্জে পিটিআইয়ের সমাবেশ, হুঁশিয়ারি শাহবাজ সরকারেরসেই আহ্বানের কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাকে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, বিক্ষোভ দমনে পুলিশের অভিযানের সময় কেজরিওয়ালকে পুলিশ সদস্যরা হেনস্তা করেছেন বলে অভিযোগ করেছে আম আদমি পার্টি। দলটির দাবি, গুজরাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা গোপাল রাই, সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জয় সিং ও দুর্গেশ পাঠকসহ একাধিক শীর্ষ নেতাকেও আটক করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন কিংবা পুলিশের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় বিস্তারিত বক্তব্যের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এবং কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নও আটক হয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। বিক্ষোভ, আটক এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা দিতে পারে।

নির্বাচন কমিশনবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশের অভিযান, কেজরিওয়ালসহ এএপির একাধিক নেতা আটক

সোয়াবি ইন্টারচেঞ্জে পিটিআইয়ের সমাবেশ, হুঁশিয়ারি শাহবাজ সরকারের

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) লংমার্চ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। দলটির কর্মসূচির পাল্টা হিসেবে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি কিংবা গভর্নর শাসন আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। একই সঙ্গে প্রদেশের বাইরে লংমার্চ না নেওয়ার বিষয়ে পিটিআইকে সতর্ক করেছেন কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীরা। আগামীকাল ১১ অক্টোবর সোয়াবি ইন্টারচেঞ্জে সমবেত হতে সারা দেশের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। সেখান থেকে লংমার্চের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে পিটিআইয়ের। জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি পিটিআইকে ‘উগ্রবাদী’ রাজনীতি পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, সংঘাতমুখী রাজনৈতিক অবস্থান শেষ পর্যন্ত দলটির জন্যই ক্ষতিকর হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইমরান খান বর্তমান রাজনৈতিক পথ অব্যাহত রাখলে দীর্ঘ সময় কারাবন্দী থাকার ঝুঁকি রয়েছে। এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। আরও পড়ুন,ঐক্যই শক্তি আলেমদের বিভক্তি নিয়ে উদ্বেগ সাবেক ধর্ম উপদেষ্টারএ নিয়ে শনিবার ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এতে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা। বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক কেন্দ্রশাসিত উপজাতীয় এলাকাসহ প্রদেশের ১২টি জেলায় জরুরি অবস্থা জারির একটি প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতাগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। তবে বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারির মতে, গভর্নর শাসন আরোপ হবে একেবারে শেষ পদক্ষেপ। ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দী। তাঁর মুক্তির দাবিতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চ শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল পিটিআই। পরে কর্মসূচি পিছিয়ে ৪ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়। লংমার্চ শুরুর আগে সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুই দফা আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি জানিয়েছেন, পেশোয়ার ও মালাকান্দ ডিভিশন থেকে গাড়িবহর ১৩ অক্টোবর সোয়াবি ইন্টারচেঞ্জে পৌঁছাবে। একই দিনে হাজারা ডিভিশনের জন্যও পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কোহাট ডিভিশন থেকেও গাড়িবহর সেখানে যোগ দেবে। অন্যদিকে, বান্নু ও ডেরা ইসমাইল খান ডিভিশনের গাড়িবহর চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর বা সিপিইসি সড়ক দিয়ে লংমার্চে অংশ নেবে।

সোয়াবি ইন্টারচেঞ্জে পিটিআইয়ের সমাবেশ, হুঁশিয়ারি শাহবাজ সরকারের

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে শঙ্কা

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলীয় জলপথে একের পর এক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। তেহরানের অনুমোদিত রুটের বাইরে বা অননুমোদিত জলপথ ব্যবহার করতে গিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারগুলো সামুদ্রিক মাইনে আঘাত হেনে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। ইরানি সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাতে আইআরআইবি জানায়, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ট্যাংকার সামুদ্রিক মাইনের সংস্পর্শে আসার পর একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে।আরও পড়ুন,নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে বিচার ব্যবস্থায় লিঙ্গ-সংবেদনশীলতা জরুরিতবে বিস্ফোরণে কতটি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলোর মালিকানা কী কিংবা কোনো হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না তাৎক্ষণিকভাবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বিস্ফোরণের এই খবর সামনে এসেছে। এর আগে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে তেহরানের অনুমোদিত নিরাপদ রুট ছাড়া বিকল্প বা অননুমোদিত জলপথ ব্যবহার না করার জন্য প্রণালিটি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক ও জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোকে সতর্ক করা হয়েছিল। হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তেল পরিবহন ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। বিস্ফোরণের খবরের পর আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে শঙ্কা

নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে বিচার ব্যবস্থায় লিঙ্গ-সংবেদনশীলতা জরুরি

পারিবারিক সহিংসতার বিচার চাইতে আদালতে পৌঁছানোর আগেই নানা বাধার মুখে পড়েন পাকিস্তানের নারীরা। কখনো পুলিশের অভিযোগ গ্রহণে অনীহা আবার কখনো ঘরের ভেতরের সহিংসতাকে পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখার প্রবণতা তাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এমন বাস্তবতায় নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় লিঙ্গ-সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। গত ১৪ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক রায়ে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে শুধু সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন যথেষ্ট নয়। আরও পড়ুন,দুধ থেকে প্রদর্শনী সবখানেই জনপ্রিয় ছিল প্রেসিডেন্টের গাভীপুলিশের তদন্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়াতেও লিঙ্গবৈষম্যমূলক মানসিকতা দূর করতে হবে। বিচারপতি মুহাম্মদ হাশিম খান কাকারের নেতৃত্বাধীন দুই বিচারপতির বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানায়, নারীর ওপর নির্যাতনের ঘটনা মোকাবিলায় পুলিশ কর্মকর্তাদের পিতৃতান্ত্রিক ও লিঙ্গবৈষম্যমূলক ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। একটি পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের মামলার সূত্রে এ পর্যবেক্ষণ এলেও এর তাৎপর্য একটি মামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আদালত মনে করেন, ঘরের ভেতরে সংঘটিত সহিংসতাকে সামাজিক গোপনীয়তা কিংবা লোকলজ্জার অজুহাতে বিচারপ্রক্রিয়ার বাইরে রাখা উচিত নয়।

নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে বিচার ব্যবস্থায় লিঙ্গ-সংবেদনশীলতা জরুরি