শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস

রাজনীতি

চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস

চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন। বুধবার রাতে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির এই সদস্য। মির্জা আব্বাসের সহকারী একান্ত সচিব মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে তাঁর দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন মির্জা আব্বাস। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী আফরোজা আব্বাস ও ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস। বর্তমানে মির্জা আব্বাস অনেকটাই সুস্থ রয়েছেন বলেও জানান তিনি। এর আগে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে গত ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরেছিলেন মির্জা আব্বাস। তবে পরবর্তী চিকিৎসা ও ফলোআপের জন্য গত ১৬ সেপ্টেম্বর আবারও মালয়েশিয়ায় যান তিনি। আরোও পড়ুন,নীতিনির্ধারণে পরামর্শ নিতে উপদেষ্টা পরিষদ গড়ছে জামায়াতদেশটির প্রিন্স কোর্ট মেডিক্যাল সেন্টারে তাঁর চিকিৎসা চলে। চলতি বছরের ১১ মার্চ ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। পরে তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে প্রায় দেড় মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসা গ্রহণের পর দেশে ফিরে আসেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ফলোআপ চিকিৎসার জন্য আবারও মালয়েশিয়া যেতে হয়েছিল তাঁকে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর মির্জা আব্বাসের দেশে ফেরার খবরে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী ও অনুসারীদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক কার্যক্রম ও দায়িত্ব পালনে ফেরার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

নীতিনির্ধারণে পরামর্শ নিতে উপদেষ্টা পরিষদ গড়ছে জামায়াত

দলের নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নিতে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সরাসরি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন, তবে বিভিন্নভাবে জামায়াতকে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছেন—এমন ব্যক্তিদের এই পরিষদে যুক্ত করার চিন্তা করছে দলটি। বিশেষ করে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ও তুলনামূলক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের পরিষদে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের আলোচনা শুরু হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা আরও গতি পায়। গত জুনে দলের সর্বশেষ মজলিশে শুরার বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম জানিয়েছেন, উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। আগামী মজলিশে শুরার বৈঠকে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, উপদেষ্টা পরিষদের কাঠামো, সদস্য নির্বাচন, আরোও পড়ুন,পাচার করা অর্থ দিয়ে নাশকতার ষড়যন্ত্র চলছে: রুহুল কবির রিজভীদায়িত্ব এবং নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এর ভূমিকা এসব বিষয় বিস্তারিত পর্যালোচনা করতে চায় জামায়াত। এ জন্য কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও মজলিশে শুরার পরবর্তী বৈঠকে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পরবর্তী শুরার বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব তোলা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার দলের আমির শফিকুর রহমানের। প্রস্তাবটি আলোচনায় এলে শুরার সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। পরিষদ গঠনের অনুমোদন পাওয়া গেলে দলের গঠনতন্ত্রে আলাদা ধারা বা উপধারা যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে উপদেষ্টা পরিষদের সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি করা হবে। জামায়াত নেতাদের ভাষ্য, দলের প্রতি সমর্থন থাকলেও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত নন—এমন অনেক ব্যক্তির অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান নীতিনির্ধারণে কাজে লাগাতেই এই উদ্যোগ। তবে পরিষদের সদস্যসংখ্যা, সদস্য বাছাইয়ের প্রক্রিয়া ও দায়িত্ব সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

নীতিনির্ধারণে পরামর্শ নিতে উপদেষ্টা পরিষদ গড়ছে জামায়াত

দাওয়াতি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে চরমোনাই পীর

১৪ দিনের দাওয়াতি সফরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, যিনি চরমোনাই পীর হিসেবে পরিচিত। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানসহ দলের ঊর্ধ্বতন নেতারা। দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, ১৪ দিনের এই সফরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন চরমোনাই পীর। এ ছাড়া বিভিন্ন মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটিতে দাওয়াতি সভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। আরোও পড়ুন,পাচার করা অর্থ দিয়ে নাশকতার ষড়যন্ত্র চলছে: রুহুল কবির রিজভীপাশাপাশি ব্যবসায়ী ও বৈশ্বিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন তিনি। এদিকে, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ঢাকায় আটকে পড়া প্রবাসী শ্রমিকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন। মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা খলিলুর রহমান বলেন, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হামলার কারণে ৬০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে হাজার হাজার প্রবাসী শ্রমিক ঢাকা বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, সীমিত আয়ের এসব শ্রমিকের ঢাকায় থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। তাই সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ফ্লাইট বাতিলের কারণে প্রবাসী শ্রমিকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়ছেন উল্লেখ করে মাওলানা খলিলুর রহমান টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

দাওয়াতি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে চরমোনাই পীর

পাচার করা অর্থ দিয়ে নাশকতার ষড়যন্ত্র চলছে: রুহুল কবির রিজভী

বিদেশে পাচার করা ও দেশে লুকিয়ে রাখা অবৈধ অর্থ দিয়ে অরাজকতা, বোমাবাজি ও নাশকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তাঁর দাবি, পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে চায়। এ বিষয়ে গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষকে দিন-রাত সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ জনঅধিকার পার্টি আয়োজিত আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, অতীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ মহলের হাতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ ছিল। পাচার করা অর্থের বড় অংশ বিদেশে চলে গেলেও কিছু অর্থ দেশে রয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। আরও পড়ুন,বিএনপি নেতাদের স্বজনদের সারের ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ এনসিপি নেতারতাঁর অভিযোগ, সেই অর্থ ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা চলছে। তবে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে এবং ষড়যন্ত্রকারীদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর দাবি, দেশে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা। ঋণের নামে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট করেছেন বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা। রিজভী আরও বলেন, বিপুল ঋণের বোঝা ও ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করেও বর্তমান সরকার দেশ পুনর্গঠনে কাজ করছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং দীর্ঘ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তরুণ ও ছাত্রনেতাদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, তরুণদের সাহসিকতা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ সুগম করেছে। তাঁদের অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরেও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান রিজভী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা যেন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে উদযাপিত হয়, সে জন্য রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

পাচার করা অর্থ দিয়ে নাশকতার ষড়যন্ত্র চলছে: রুহুল কবির রিজভী

বিএনপি নেতাদের স্বজনদের সারের ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ এনসিপি নেতার

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি ও সারের ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। তাঁর অভিযোগ, সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের পরিবারের সদস্যরা সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন। এ নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সোমবার (১২ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব অভিযোগ করেন সারোয়ার তুষার। পোস্টে তিনি ব্যঙ্গ করে লেখেন, ‘সারেও ফ্যামিলি কার্ড! দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে বিএনপি সরকারের ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প!’ নিজের বক্তব্যের সমর্থনে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর দাবি, ডিমলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মনোয়ার হোসেনের ছেলে মাবরুক আল ইসলাম জোয়াদ সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। সারোয়ার তুষারের ভাষ্য অনুযায়ী, মাবরুক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক ছিলেন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও পড়ুন,দেশে হত্যা-ধর্ষণ-ছিনতাই রোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি মামুনুল হকেরএ ছাড়া ডিমলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রাব্বানী প্রধানের ছেলে তানভির রাফসান ডিমলা সদর ইউনিয়নের সারের ডিলার হয়েছেন বলে দাবি করেন সারোয়ার তুষার। তাঁর পোস্টে উল্লেখ করা হয়, তানভির রাফসান খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। সারোয়ার তুষার আরও অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের সন্তান, স্ত্রী, শ্যালক, শ্যালকের স্ত্রী, ভাগ্নে ও ছোট ভাইয়েরা সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার বদলে আর্থিক লেনদেন প্রভাব ফেলেছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। নিজের পোস্টে একটি স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার বক্তব্য উদ্ধৃত করে এ প্রসঙ্গে ‘সবই টাকার খেলা’ মন্তব্য করেন। তবে সারের ডিলার নিয়োগ নিয়ে সারোয়ার তুষারের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, বিএনপি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট নথি ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।

বিএনপি নেতাদের স্বজনদের সারের ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ এনসিপি নেতার

সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, এমপিদের পরিবার নিয়ে হাসনাতের কটাক্ষ

কোনো সরকার নতুন করে বিধবা কিংবা বেকার কার্ড চালু করলে সংসদ সদস্যদের স্ত্রীরাই সবার আগে তা নেবেন—এমন মন্তব্য করে স্বজনপ্রীতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের সমালোচনা করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। সাম্প্রতিক সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যদের পরিবারের সদস্যদের সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি এ মন্তব্য করেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মহানগর ছাত্রশক্তি আয়োজিত জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বক্তব্যে সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সম্প্রতি ডিলার নিয়োগে সংসদ সদস্যদের ছেলে-মেয়ে এমনকি শ্যালিকারাও ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে দেখা গেছে।আরও পড়ুন,দেশে হত্যা-ধর্ষণ-ছিনতাই রোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি মামুনুল হকেরএ পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে সরকার বিধবা কিংবা বেকার কার্ড চালু করলে সংসদ সদস্যদের স্ত্রীরাই সবার আগে তা নেবেন। তাঁর এ বক্তব্যে সরকারি সুবিধা বণ্টন ও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে যেসব সার ডিলার নিয়োগের প্রসঙ্গ তিনি উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর বিস্তারিত তথ্য বা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। শিক্ষাঙ্গনের পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন এনসিপির এই নেতা। এ সময় তিনি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্যকে ঘিরে অসন্তোষের প্রসঙ্গ তোলেন। হাসনাত আবদুল্লাহর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কেউই বর্তমান উপাচার্যকে চান না। এ ছাড়া একটি বিশেষ গোষ্ঠী দেশকে আবারও পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ সরকারি সুবিধা বণ্টন, সার ডিলার নিয়োগ এবং শিক্ষাঙ্গনের পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে স্বজনপ্রীতি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা বণ্টনে যোগ্যতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো আবারও আলোচনায় এসেছে।

সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, এমপিদের পরিবার নিয়ে হাসনাতের কটাক্ষ

রাউজানে পুলিশ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের পাহারায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রোটনের দাফন

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে চট্টগ্রামের রাউজানে। পুলিশ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা ও সহযোগিতায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই তাঁর শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। জানাজা ও দাফনে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে রাউজানের গহিরায় রোটনের নিজ বাড়ির উঠানে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গহিরার বক্স আলী চৌধুরী বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিল। জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে রোটনের মরদেহবাহী গাড়ি গহিরার বক্স আলী চৌধুরী বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় বিএনপির নেতারা মরদেহ গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে গভীর রাত থেকেই গহিরা ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। জানাজা ও দাফনের সময়ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা সক্রিয় ছিলেন। আরও পড়ুন,দেশে হত্যা-ধর্ষণ-ছিনতাই রোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি মামুনুল হকেরদাফনের কাজ তদারককারী প্রতিবেশী ও গহিরা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জুয়েল চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন মানুষ হিসেবে ভালো ছিলেন। তিনি দেশের বড় মাপের রাজনীতিবিদ ছিলেন বলেও মন্তব্য করেন জুয়েল। রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর নির্দেশনায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা জানাজায় অংশ নেন বলে জানান তিনি।  উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি সাবের সুলতান কাজল বলেন, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক বিবেচনায় তাঁরা সাবেক ছাত্রলীগ নেতার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেছেন। রাউজান উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহাজান সাহিল বলেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় রোটনের জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে, পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাহাদাত মির্জা জানান, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁরা ঘরছাড়া ছিলেন এবং তাঁদের নেতা-কর্মীদের দাফন নিয়েও সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ রয়েছে। তবে মানবিক বিবেচনায় রোটনের শেষযাত্রায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁরা সহযোগিতা করেছেন।

রাউজানে পুলিশ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের পাহারায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রোটনের দাফন

দেশে হত্যা-ধর্ষণ-ছিনতাই রোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি মামুনুল হকের

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যা, ধর্ষণ, ছিনতাই, হামলা ও ভাঙচুরের মতো অপরাধের ঘটনা জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি অপরাধের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সোমবার ঢাকায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নিয়মিত মাসিক বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠক পরিচালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মামুনুল হক বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। আরও পড়ুন,বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার জামায়াত নেতা রেজাউল করিমেরএদিকে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির। হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বেসামরিক মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষায় সংঘাতসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রধান শত্রু ইসরায়েল। ইসরায়েলকে শক্তিশালী করে এমন সব ধরনের কার্যক্রম থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় আঞ্চলিক দেশগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এই বৈঠকে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুল হক ও মাওলানা কুরবান আলী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা আবদুল আজিজ, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজি ও মুফতি শরাফত হোসাইন। এ ছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলালসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বৈঠকে অংশ নেন।

দেশে হত্যা-ধর্ষণ-ছিনতাই রোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি মামুনুল হকের

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায় কার্যকর না হলে সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি বলেছেন, সরকার গঠনের জন্য জনগণ যেমন ভোট দিয়েছেন, তেমনি গণভোটেও নিজেদের মতামত জানিয়েছেন। তাই জনগণের উভয় ভোটের রায়কে গুরুত্ব দিতে হবে। রোববার সকালে লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ড. রেজাউল করিম বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষ দুটি ভোট দিয়েছেন। এর একটি সরকার গঠনের জন্য, অন্যটি গণভোটে নিজেদের মতামত জানানোর জন্য। সরকার দলীয় ভোটের ভিত্তিতে ক্ষমতায় এলেও গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায় অস্বীকার করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, একটি ভোট বৈধ হলে অন্য ভোট অবৈধ হবে কেন? গণভোটের রায় মেনে না নিলে সরকারের বৈধতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে। নিজেদের লংমার্চের উদ্দেশ্য তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা বলেন, তাঁদের কর্মসূচি সরকার পতনের জন্য নয়; বরং গণভোটে জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে। আরও পড়ুন,এমপিদের জনগণের ভালো-মন্দ দেখতে হবে: রিজভীএকই সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। রেজাউল করিম আরও বলেন, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদককারবারিদের কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না। অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধ দমন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সব রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং স্থিতিশীল ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। ক্যাম্পেইনে লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমির এস ইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া, সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্লাহ, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা নাছিরুদ্দিন মাহমুদ, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মমিন উল্যাহ পাটওয়ারী, শহর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আবুল ফারাহ নিশানসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে উত্তর তেমুহনী এলাকায় মশক নিধনের ওষুধ ছিটানো ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি পথচারীদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের

এমপিদের জনগণের ভালো-মন্দ দেখতে হবে: রিজভী

দুর্গাপূজায় নাশকতা চালিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টের ষড়যন্ত্র করছে পরাজিত শক্তি—এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। এ ষড়যন্ত্রে দেশের অভ্যন্তরীণ একটি পক্ষ মদদ দিচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর প্রেসক্লাবে বিএনপির প্রয়াত নেতা হান্নান শাহর স্মরণসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। পূজাকে ঘিরে সম্ভাব্য নাশকতার বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন তিনি। আরও পড়ুন,পুলিশ ও বিএনপির পাহারায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা রোটনের দাফন সম্পন্নবিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বিএনপি লুটপাটের রাজনীতির পুনরাবৃত্তি করতে চায় না। সংকটের মধ্যেও জনগণকে স্বস্তি দিতে সরকার কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাজনীতিতে ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থের বিষয়টি তুলে ধরে রিজভী বলেন, তাঁরা টাকার জন্য রাজনীতি করেন না। সংসদ সদস্যদের জনগণের ভালো-মন্দের দিকে নজর দিতে হবে। সারের ডিলার কিংবা ঠিকাদারি করার উদ্দেশ্যে কেউ রাজনীতি করবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রিজভীর বক্তব্যে দুর্গাপূজাকে ঘিরে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আশঙ্কার বিষয়টি উঠে আসে। তবে নাশকতার ষড়যন্ত্রে কারা জড়িত এবং অভ্যন্তরীণ কোন পক্ষ এতে মদদ দিচ্ছে—সে বিষয়ে বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

এমপিদের জনগণের ভালো-মন্দ দেখতে হবে: রিজভী

পুলিশ ও বিএনপির পাহারায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা রোটনের দাফন সম্পন্ন

পুলিশ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা ও পাহারায় চট্টগ্রামের রাউজানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার ১২ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে উপজেলার গহিরায় নিজ বাড়ির উঠানে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বক্স আলী চৌধুরী বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছাড়াও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীও। জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে রোটনের মরদেহবাহী গাড়ি রাউজানের গহিরার বক্স আলী চৌধুরী বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় বিএনপির নেতারা মরদেহ গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গভীর রাত থেকেই গহিরা ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দাফনের সময়ও পুলিশ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। দাফনের কাজ তদারককারী গহিরা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জুয়েল চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও মানুষ হিসেবে রোটন ভালো ছিলেন। তিনি দেশের বড় মাপের রাজনীতিবিদ ছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।আরও পড়ুন,ইউপি নির্বাচনের পাঁচ ধাপের তারিখ চূড়ান্ত করল ইসিরাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর নির্দেশনায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা জানাজায় অংশ নেন বলে জানান জুয়েল চৌধুরী। উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি সাবের সুলতান কাজল বলেন, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা কাজ করেছেন। মানবিক বিবেচনায় তাঁরা সাবেক ছাত্রলীগ নেতার জানাজা ও দাফনে সহযোগিতা করেছেন। রাউজান উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহাজান সাহিল বলেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। অন্যদিকে, পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাহাদাত মির্জা জানান, মানবিক বিবেচনায় রোটনের শেষযাত্রায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁরা ভূমিকা রেখেছেন। রোটনের বড় ভাই নাসিবুল হায়দার চৌধুরী মিল্টন জানাজা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতার জন্য সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি তিনি সবাইকে তাঁর ভাইকে ক্ষমা করে দেওয়ার এবং তাঁর জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানান। রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলম জানান, জানাজা ও দাফন ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন প্লাটুন পুলিশ ও এক প্লাটুন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই রোটনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

পুলিশ ও বিএনপির পাহারায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা রোটনের দাফন সম্পন্ন

আলেক খানকে হত্যাচেষ্টার মামলা, কারাগার থেকে আদালতে সাবেক এমপি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় আলেক খান নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত। সোমবার, ১২ অক্টোবর, কারাগার থেকে তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানানো হয়। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারা ফারজানা হক পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন আলেক খান। আরও পড়ুন,ইউপি নির্বাচনের পাঁচ ধাপের তারিখ চূড়ান্ত করল ইসিওই সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে চিকিৎসা শেষে ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় তদন্তের অংশ হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। আবুল কালাম আজাদ রাজশাহী-৪, বাগমারা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতার বিভিন্ন ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমের মধ্যে এ মামলাতেও তাঁর নাম এসেছে। তবে মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে তাঁকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আলেক খানকে হত্যাচেষ্টার মামলা, কারাগার থেকে আদালতে সাবেক এমপি

ইউপি নির্বাচনের পাঁচ ধাপের তারিখ চূড়ান্ত করল ইসি

দেশে পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ হবে আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি। দ্বিতীয় ধাপ থেকে পঞ্চম ধাপ পর্যন্ত নির্বাচনের তারিখও চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের নির্বাচনের পাঁচ ধাপের তারিখ জানান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। ইসি ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ভোটগ্রহণ হবে আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৪ ফেব্রুয়ারি। তৃতীয় ধাপে ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ এপ্রিল। চতুর্থ ধাপে ভোট হবে ১৩ মে এবং পঞ্চম ও শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৭ মে। এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। আরও পড়ুন,শহীদ ওসমান হাদীকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে রাশেদ খাঁনের সমালোচনাসে সময় ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। তবে পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠকে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অসুবিধার বিষয় উঠে আসে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আরও আলোচনা করে ভোটের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সাত ধাপের পরিবর্তে পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি চূড়ান্ত করল নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে ধাপে ধাপে দেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হবে। তবে নির্বাচনের বিস্তারিত তফসিল ও অন্যান্য নির্দেশনা সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই নির্বাচনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইউপি নির্বাচনের পাঁচ ধাপের তারিখ চূড়ান্ত করল ইসি

শহীদ ওসমান হাদীকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে রাশেদ খাঁনের সমালোচনা

জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ‘গাঁজাখোর’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। শহীদ ওসমান হাদীর রাজনৈতিক আদর্শ, ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন এবং তাকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি। শনিবার, ১০ অক্টোবর দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, জীবদ্দশায় শহীদ ওসমান হাদীর সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিরোধ থাকলেও তার মৃত্যুর পর তাকে নিজেদের আদর্শিক নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পোস্টে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, ঢাকা-৮ আসনে শহীদ ওসমান হাদীর বিপরীতে এনসিপি রিকশাচালক সুজনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। অন্যদিকে, জামায়াতের আমিরের ব্যক্তিগত সহকারী ও বুয়েট শাখা ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সভাপতি জুবায়ের তাকে ওই আসনে নির্বাচন না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন রাশেদ খাঁন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে সাদিক কায়েমের নাম জানানো হয়েছিল। রাশেদ খাঁনের দাবি, তখন ওসমান হাদী প্রয়োজনে ৫০০ ভোট পেলেও ঢাকা-৮ আসন থেকেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা বলেছিলেন। আরও পড়ুন,ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটন মারা গেছেনএ বিষয়ে ওসমান হাদীর ভাই ওমর হাদী ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এনসিপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, জীবদ্দশায় ওসমান হাদী এনসিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জুলাইয়ের ঐক্য বিনষ্ট এবং জুলাইকে কুক্ষিগত করার অভিযোগ তুলেছিলেন। একই সঙ্গে জামায়াতের সমালোচনাও করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, শহীদ ওসমান হাদীকে রাজনৈতিক বিতর্কের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের এ ধরনের বিতর্কে না জড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি। এ ছাড়া জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজারের পাশে ওসমান হাদীকে দাফন করা নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খাঁন বলেন, হত্যাকাণ্ডের শিকার একজন ব্যক্তির দাফন নিয়ে বিতর্ক করা উচিত নয়। পোস্টের শেষাংশে তিনি জানান, ওসমান হাদীর বড় ভাইয়ের সঙ্গেও তার কথা হয়েছে এবং মৃত ব্যক্তিকে ঘিরে বিরোধীপক্ষকে বিতর্কের সুযোগ দেয় এমন বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন বলে তারা একমত হয়েছেন।

শহীদ ওসমান হাদীকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে রাশেদ খাঁনের সমালোচনা

ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটন মারা গেছেন

নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন মারা গেছেন। শনিবার সকালে ভারতের কলকাতার কসবা এলাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর।কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক দুই সংসদ সদস্যের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পাকস্থলীর ক্যানসারে ভুগছিলেন রোটন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি ভারতে চলে যান। আরও পড়ুন,ঐক্যই শক্তি আলেমদের বিভক্তি নিয়ে উদ্বেগ সাবেক ধর্ম উপদেষ্টারক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর চেন্নাইয়ে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। পরে তাঁকে কলকাতায় নেওয়া হয়। সেখানে রুবি জেনারেল হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গেছেন।

ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটন মারা গেছেন

ঐক্যই শক্তি আলেমদের বিভক্তি নিয়ে উদ্বেগ সাবেক ধর্ম উপদেষ্টার

ইসলাম প্রতিষ্ঠা ও দেশ গঠনে আলেমসমাজের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, আলেমসমাজ বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল ওলামা সামিটে’ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সাবেক এই ধর্ম উপদেষ্টা। আলেমদের বিভক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, একটি পিঁপড়াও একা হাঁটে না, এমনকি বনের মধ্যে হাতিও একা চলে না। অথচ আলেমসমাজ বিভিন্ন দলে ও গ্রুপে বিভক্ত। বৃহত্তর স্বার্থে এই বিভক্তি কাটিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ঐক্যই শক্তিতে পরিণত হবে। ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ আগামী দিনেও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সংগঠন ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের ভিত্তি শক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা। তিনি বলেন, কাদামাটির ওপর দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করা যায় না। তাই কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার আগে নিজেদের পায়ের নিচের মাটি শক্ত আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। ইসলামী দলগুলোর জনসমর্থন ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়েও বক্তব্য দেন তিনি। তাঁর মতে, ওয়াজ মাহফিলে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিলেও তাঁদের সবাইকে রাজনৈতিক সমর্থক হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। জনসমাগম আর ভোটের সমর্থন এক বিষয় নয়—এই বাস্তবতা উপলব্ধি করার তাগিদ দেন তিনি। বিগত নির্বাচনের ভোটের হিসাব তুলে ধরে ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, বিএনপি ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য। জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দল মিলিয়ে ভোটের হিসাব উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব ইসলামী দল এক হলেও ক্ষমতায় যাওয়া নিশ্চিত নয়। জামায়াতে ইসলামীকে বাদ দিলে ইসলামী দলগুলোর ভোটের হার নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন।

ঐক্যই শক্তি আলেমদের বিভক্তি নিয়ে উদ্বেগ সাবেক ধর্ম উপদেষ্টার