শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস

রাজনীতি

১১ মাসের সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তায় তৌফিকের স্ত্রী

১১ মাসের সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তায় তৌফিকের স্ত্রী

গাজীপুরের শ্রীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিক হোসেনের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। স্বামীকে হারিয়ে ১১ মাসের শিশুসন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা তৌফিকের স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলে পরিবারের আর্থিক অবস্থা ও বর্তমান দুরবস্থার খোঁজ নিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান জামায়াত আমির। পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান জানান, তৌফিক ও তার বড় ভাই দুজনই এতিম। দরিদ্র পরিবারে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা দুই ভাই একই পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। শ্রমিক আন্দোলনের সময় বড় ভাইয়ের চোখের সামনেই ছোট ভাই তৌফিকের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পরও তৌফিক সংজ্ঞাহীন থাকায় শেষবারের মতো তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাননি বড় ভাই। তৌফিকের পরিবারের আর্থিক সংকটের কথাও তুলে ধরেন জামায়াত আমির। তিনি জানান, অভাবের কারণে তৌফিকের স্ত্রীও আগে পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তবে সন্তান জন্মের পর তার দেখাশোনার জন্য চাকরি ছেড়ে দেন। বর্তমানে শিশুটির বয়স মাত্র ১১ মাস। স্বামীকে হারিয়ে সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তার। পরিবারটির নিজস্ব কোনো বসতভিটাও নেই। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে তাদের নামে মাথা গোঁজার মতো এক ইঞ্চি জমিও নেই। আরও পড়ুন,পোশাকশ্রমিকদের ওপর নির্যাতন ও গ্রেপ্তারের অভিযোগবর্তমানে স্বামীর চাচার ছোট একটি ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন তৌফিকের স্ত্রী ও সন্তান। তৌফিকের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষের বিচার পাওয়ার সুযোগ নিয়ে সংশয় থাকলেও তারা ন্যায়বিচারের দাবি জানাবেন। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা গেলে অসহায় স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা কিছুটা হলেও সান্ত্বনা পাবেন। পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ইনশাআল্লাহ তারা এই পরিবারের পাশে থাকবেন। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে অসহায় পরিবারটির জন্য সহায়তা কামনা করেন তিনি। ফোনালাপের সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের গাইবান্ধা জেলা আমির ও সংসদ সদস্য আব্দুল করিম, সাবেক জেলা আমির ডা. আব্দুর রহিম সরকার, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমিরসহ স্থানীয় নেতারা। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং স্বজনদের সান্ত্বনা জানান।

পোশাকশ্রমিকদের ওপর নির্যাতন ও গ্রেপ্তারের অভিযোগ

পোশাকশ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে চলমান আন্দোলন দমনে সরকার মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল না হয়ে সরকার দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বুধবার (৪ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে এসব কথা বলেন জি এম কাদের। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়নের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি। জি এম কাদের বলেন, দেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে পোশাকশিল্প খাত থেকে। অথচ উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমবর্ধমান দামের কারণে বর্তমান বেতন কাঠামোতে শ্রমিকদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, চিকিৎসা ব্যয় ও রান্নার জ্বালানির খরচ মেটানোও তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে উঠছে। আরও পড়ুন,আইজিপিকে অপসারণের দাবি এনসিপিরতিনি বলেন, গার্মেন্টস খাতে কর্মরত লাখ লাখ শ্রমিক জীবনধারণের ন্যূনতম ব্যয় নির্বাহ করতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে আন্দোলন করছেন। আন্দোলন বন্ধ করতে শ্রমিকসহ আশপাশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে শারীরিক নির্যাতন ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। গণমাধ্যমের খবরের বরাত দিয়ে জি এম কাদের দাবি করেন, গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আহত তৌফিক নামে এক পোশাকশ্রমিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি পরিবারটিকে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান। কারখানার উৎপাদন পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহ সংকট, ব্যাংকিং খাতের সমস্যা, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং বন্দরগুলোর অব্যবস্থাপনার কারণে পোশাকশিল্পের মালিকেরাও চাপে রয়েছেন।শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের দাবিকে ন্যায্য উল্লেখ করে জি এম কাদের বলেন, সংকট সমাধানে সরকারকে শ্রমিকদের মজুরি বাস্তবায়নে ভর্তুকি দিতে হবে।এ জন্য নগদ অর্থসহায়তা অথবা রেশনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে চাল, ডাল, আটা, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ ও এলপিজি গ্যাসের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ভর্তুকি মূল্যে শ্রমিকদের সরবরাহের প্রস্তাব দেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।

পোশাকশ্রমিকদের ওপর নির্যাতন ও গ্রেপ্তারের অভিযোগ

আইজিপিকে অপসারণের দাবি এনসিপির

সরকারের অনুমতি পেলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে—পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ বক্তব্যকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অনুমতি চাওয়ার শামিল বলে মন্তব্য করেছে দলটি। একই সঙ্গে আইজিপিকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অপসারণ এবং স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে তারা। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানায় এনসিপি। দলের দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ফারজানার সই করা বিবৃতিতে বলা হয়, আইজিপির এ ধরনের বক্তব্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের নতুন পথ তৈরি করতে পারে এবং মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের বেআইনি বলপ্রয়োগে উৎসাহিত করতে পারে। এর আগে সোমবার দুপুরে পুরান ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, যেখানে ক্রসফায়ার প্রয়োজন, সরকার অনুমতি দিলে পুলিশ তা করবে। তাঁর এ বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিবৃতিতে এনসিপি বলেছে, সরকারের অনুমোদন বা সম্মতির অজুহাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ নেই। দলটির মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতা আড়াল করতে ক্রসফায়ারের প্রসঙ্গ সামনে আনা পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার প্রকাশ। আরও পড়ুন,তারেক রহমানের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করবে যুবদল: রিজভীবিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার অঙ্গীকারের প্রসঙ্গ তুলে এনসিপি অভিযোগ করেছে, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে আইজিপির বক্তব্য সাংঘর্ষিক। এ ধরনের বক্তব্য রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ এবং জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে দাবি দলটির। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের গুম, নিপীড়ন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের প্রসঙ্গও বিবৃতিতে তুলে ধরে এনসিপি। দলটির বক্তব্য, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিয়ে পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এমন বক্তব্য দেওয়া উদ্বেগজনক। প্রশাসনিক ব্যর্থতা আড়াল করতে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে না। এনসিপি আরও বলেছে, সরকারের কোনো বেআইনি নির্দেশ পালন করতে পুলিশ বাধ্য নয়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীকে বেআইনি চর্চা থেকে বের করে জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে। বিবৃতিতে বর্তমান আইজিপিকে অবিলম্বে অপসারণের পাশাপাশি জুলাই সনদের আলোকে দ্রুত একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়।

আইজিপিকে অপসারণের দাবি এনসিপির

তারেক রহমানের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করবে যুবদল: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না, যার মাধ্যমে পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি উৎসাহিত হয় বা রাজনীতিতে আবারও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠার সুযোগ পায়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের বিরত থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রিজভী। এর আগে সোমবার রাতে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কার্যালয়ে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আহ্বান জানান। এ ধরনের কর্মকাণ্ড পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে প্রাসঙ্গিক করে তোলার সুযোগ তৈরি করছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও আশপাশের জেলা থেকে নেতাকর্মীরা জিয়া উদ্যানে সমবেত হন।আরও পড়ুন,রিজভীর বক্তব্যপরে রিজভীর নেতৃত্বে যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নসহ নেতাকর্মীরা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় রিজভী বলেন, বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে যেসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো পরিকল্পিত বলে মনে করে দলটি। এসব প্রচারণা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থামাতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শেখ হাসিনার সরকারের দমন-পীড়ন উপেক্ষা করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুবদলের নেতাকর্মীরা ভূমিকা রেখেছেন বলে উল্লেখ করেন রিজভী। তিনি আরও বলেন, মানুষের অধিকার রক্ষা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুবদলের অসংখ্য নেতাকর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে ৪৮ বছর আগে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যুবদল দেশের অন্যতম বৃহৎ যুব সংগঠনে পরিণত হয়েছে। অতীতের নির্যাতনের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, রাজনৈতিক আন্দোলনের কারণে যুবদলের নেতাকর্মীদের বারবার দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়েছে। অনেককে দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকতে হয়েছে। তারপরও তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে পিছিয়ে যাননি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উৎপাদন, উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষাভিত্তিক রাজনীতি বাস্তবায়নে যুবদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের পুনর্গঠন এবং মানুষের আর্থিক উন্নয়নেও সংগঠনটি কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তারেক রহমানের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করবে যুবদল: রিজভী

রিজভীর বক্তব্য

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সত্যনিষ্ঠ ও আদর্শবান সাংবাদিকদের সাহসী ভূমিকা স্মরণ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গিয়াস কামাল চৌধুরী, আতাউস সামাদ ও ফয়েজ আহমেদের মতো বরেণ্য সাংবাদিকেরা সত্য ও ন্যায়ের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। তাঁদের নীতিবোধ ও দৃঢ় অবস্থান সেসময়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে অত্যন্ত শক্তিশালী করেছিল। আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এরশাদবিরোধী স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনের দিনগুলোর স্মৃতিচারণা করে রিজভী বলেন, ওই সময়ে দেশের প্রকৃত রাজনৈতিক পরিস্থিতি জানতে মানুষ মূলত বিবিসি ও ভয়েস অব আমেরিকার ওপর নির্ভর করতেন। আরও পড়ুন,গোপন বৈঠকের অভিযোগসেই সংকটময় মুহূর্তে ভয়েস অব আমেরিকার সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী এবং বিবিসির সাংবাদিক আতাউস সামাদের নির্ভীক সংবাদ পরিবেশন জনগণের কাছে ছিল অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য। নানামুখী চাপ, গ্রেপ্তার ও হয়রানির ঝুঁকি সত্ত্বেও গিয়াস কামাল চৌধুরী চরম সাহসিকতার সঙ্গে সংবাদ প্রচার অব্যাহত রেখেছিলেন। এমনকি নিরাপত্তার কারণে তাঁকে অনেক সময় সংবাদ পাঠানোর স্থানও গোপন রাখতে হতো। পেশাগত দায়িত্বের প্রতি এমন আপসহীন নিষ্ঠাই তাঁকে অনন্য মর্যাদায় ভূষিত করেছিল। রুহুল কবির রিজভী আরও উল্লেখ করেন, তৎকালীন সময়ের প্রথিতযশা সাংবাদিকেরা লোভ-লালসা ও ভয়ের ঊর্ধ্বে থেকে আদর্শিক ও নীতিবান সাংবাদিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, যা বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য সবসময় অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। মরহুম গিয়াস কামাল চৌধুরীর সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনি কেবল একজন সাহসী ও পেশাদার সাংবাদিকই ছিলেন না, বরং তরুণদের প্রতি স্নেহশীল ও অভিভাবকসুলভ এক মহান ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। পরিশেষে তিনি মরহুম গিয়াস কামাল চৌধুরীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

রিজভীর বক্তব্য

গোপন বৈঠকের অভিযোগ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া পৃথক দুটি পোস্টে তিনি এই বিস্ফোরক তথ্য ও চাঞ্চল্যকর মন্তব্য প্রকাশ করেন। রাশেদ খাঁন তাঁর পোস্টে দাবি করেন, গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যার পর রাজধানীর বারিধারার একটি বাসায় এই গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং দলটির অপর নেতা এ. টি. এম. মাছুম উপস্থিত ছিলেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা প্রকাশ্যে ক্রমাগত ভারতের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে থাকে, আরও পড়ুন,এলিজার মনোনয়নতারা কী উদ্দেশ্যে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে এমন গোপন আলোচনায় অংশ নিল? তিনি স্পষ্ট করেন যে, কোনো সাধারণ কূটনৈতিক কর্মকর্তার সাথে দেখা করা আর একটি দেশের উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করা এক বিষয় নয়। রাশেদ খাঁন আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নৈতিক রাজনীতির স্বার্থে মিয়া গোলাম পরওয়ারের উচিত এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্যে জাতির সামনে খোলসা করা। অন্যথায় জামায়াত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গভীর কোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলেই গণ্য হবে। তিনি অভিযোগ করেন, এই ষড়যন্ত্রের মূল ফাঁদ হলো আওয়ামী লীগকে সাথে নিয়ে জামায়াতের রাজনৈতিক আন্দোলনের পরিকল্পনা করা। প্রথম পোস্টের প্রায় এক ঘণ্টা পর অপর একটি স্ট্যাটাসে রাশেদ খাঁন পুনর্বার নিশ্চিত করে বলেন, ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে জামায়াত নেতাদের এই গোপন বৈঠকের খবরটি শতভাগ সত্যি ও নির্ভরযোগ্য।

গোপন বৈঠকের অভিযোগ

এলিজার মনোনয়ন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে দলীয় ও জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন এলিজা জামান। গত ১ অক্টোবর তৎকালীন সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করায় ৩২৩ নম্বর সংরক্ষিত নারী আসনটি শূন্য হয়। এরপর নির্বাচন কমিশন এই উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত দিনে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তা মঈন উদ্দীন খানের কাছে নিজের মনোনয়নপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেন এলিজা জামান। মনোনয়নপত্র জমাদানের পর তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁকে এই গুরুদায়িত্ব প্রদান করায় দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আইনগত বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের মোট ৩৫০টি আসনের মধ্যে ৩০০টি সরাসরি সাধারণ ভোটারদের ভোটে এবং বাকি ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। দল বা জোটগুলোর প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে এই সংরক্ষিত আসনগুলো বণ্টন করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিএনপি মোট ৩৬টি সংরক্ষিত নারী আসন লাভ করে, যার মধ্যে একটিতে নির্বাচিত হয়েছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। আরও পড়ুন,জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান এলডিপি প্রধানেরতবে রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় নাম আসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশক্রমে তিনি গত ১ অক্টোবর সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ফলে আসনটি শূন্য হলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন জেলা পর্যায়ের প্রায় ৭০ জন নারী নেত্রী দলীয় মনোনয়নের জন্য ফরম সংগ্রহ করেন। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত দলীয় হাইকমান্ডের আস্থাভাজন হিসেবে এলিজা জামানকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত ২২ অক্টোবরের চিঠিতে তাঁকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক পরিচয়ে এলিজা জামান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পিরোজপুর জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বেও সক্রিয় আছেন। এর আগে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি পিরোজপুর-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী ২৭ অক্টোবর মনোনয়নপত্র বাছাই, ১ নভেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং আগামী ১২ নভেম্বর এই শূন্য আসনে ভোট গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। তবে সংরক্ষিত নারী আসনে সাধারণত একক প্রার্থী থাকায় ভোটাভুটির প্রয়োজন হয় না।

এলিজার মনোনয়ন

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান এলডিপি প্রধানের

ক্ষমতাসীন সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, কর্মসংস্থান, বিচারব্যবস্থা ও প্রবাসীদের সমস্যাসহ সার্বিক জাতীয় পরিস্থিতি নিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অলি আহমেদ দাবি করেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বাস্তব চিত্র তার সম্পূর্ণ উল্টো। নতুন বিনিয়োগ প্রায় বন্ধ এবং কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ইতোমধ্যেই প্রায় ৮০ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ এখন রাতে বা রাস্তায় চলাচলে বিন্দুমাত্র নিরাপত্তা বোধ করছে না। দেশের বিচারব্যবস্থায় বৈষম্য তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আরও পড়ুন,ইশরাকের অস্ত্র হাতে নামার কারণ রাষ্ট্রের ব্যর্থতাব্যাংকিং খাতের সংকট তুলে ধরে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার পাশাপাশি নির্দোষ মালিকদের ব্যাংক পরিচালনার সুযোগ দিয়ে অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর আহ্বান জানান। এছাড়া বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের জটিলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূতদের দ্রুত হস্তক্ষেপ না থাকলে প্রবাসীরা দেশে ফিরে এলে অর্থনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। একই সাথে ইউএনও ও ওসিদের সংসদ সদস্যদের পেছনে না ঘুরে দাপ্তরিক কাজ করার তাগিদ দেন তিনি। ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক সমঝোতার স্মৃতিচারণ করে অলি আহমেদ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সতর্ক করে বলেন, তাঁর চারপাশের ভুল পরামর্শদাতারা দল ও দেশের জন্য ক্ষতিকর। শেষভাগে তিনি দেশের বিরাজমান সংকট নিরসনে এবং জন দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত ‘জুলাই সনদ’ ও সংস্কারসমূহ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান এলডিপি প্রধানের

ইশরাকের অস্ত্র হাতে নামার কারণ রাষ্ট্রের ব্যর্থতা

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণেই রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তাঁর দাবি, পরিস্থিতির কারণেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া ইশরাক হোসেনকে অস্ত্র হাতে মাঠে নামতে হয়েছে। সোমবার ১৯ অক্টোবর সকালে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মাদক, চাঁদাবাজি, গুম, খুন ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। ইশরাক হোসেনের ঘটনাতেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা সামনে এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আখতার হোসেনের অভিযোগ, মাদক নির্মূলে নিয়োজিত সংস্থাগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। আরও পড়ুন,প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দিলেন ইশরাকস্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে মাদক দেশে প্রবেশ করলেও তা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, শুধু ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে, এমন কোনো উদ্যোগ সরকারের পক্ষ থেকে দেখা যাচ্ছে না। তাঁর মতে, পরিস্থিতির প্রকৃত উন্নয়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সীমান্ত সুরক্ষিত করতে হবে, যাতে অবৈধ মাদক দেশে প্রবেশ করতে না পারে। ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের পেছনের কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, পদত্যাগের বিষয়টি শুধু অস্ত্র হাতে নেওয়ার ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, নাকি এর পেছনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলও রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, লোকদেখানো পদক্ষেপ কিংবা একজন ব্যক্তির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ইশরাকের অস্ত্র হাতে নামার কারণ রাষ্ট্রের ব্যর্থতা

প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দিলেন ইশরাক

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নেওয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত সামনে এলো। সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন জানান, তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে ঢাকা-৬ আসনসহ আশপাশের এলাকায় মাদক নির্মূল এবং জনজীবনের অন্যান্য সমস্যা সমাধানে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর এই প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন বলেও জানান ইশরাক। মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ইশরাক বলেন, অভিযানের সময় তাঁর দ্বারা কেউ আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে থাকলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন। তবে তিনি দাবি করেন, সেদিন তিনি কোনো ভুল করেননি। নিজের নিরাপত্তার জন্য যতটুকু সময় প্রয়োজন ছিল, ততক্ষণই অস্ত্রটি হাতে রেখেছিলেন বলে জানান তিনি। আরও পড়ুন,মক্কা-মদিনার পবিত্রতা রক্ষায় ঢাকায় সেমিনারএর আগে সোমবার সকাল সাড়ে আটটার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা জানান ইশরাক। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিমন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হিসেবে নয়, এবার একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে আরও বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করবেন। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি জোরদার এবং বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর কথাও জানান তিনি। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। এ নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এরপর রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ইশরাকের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী জড়ো হন। তাঁরা তাঁর পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। নেতা-কর্মীদের ঘিরে রেখেই প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় সংবাদ সম্মেলনস্থলে যান তিনি। প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে ইশরাক এখন মাদকবিরোধী কার্যক্রম ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে বেশি মনোযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দিলেন ইশরাক

মক্কা-মদিনার পবিত্রতা রক্ষায় ঢাকায় সেমিনার

পবিত্র মক্কা মুকাররমা ও মদিনা মুনাওয়ারার নিরাপত্তা, মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারের বক্তারা। তাঁরা বলেছেন, পবিত্র দুই মসজিদের নিরাপত্তার প্রতি যেকোনো হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় মুসলিম বিশ্বের সংহতি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। গত শনিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে ‘হারামাইন শরীফাইনের নিরাপত্তা ও মর্যাদায় মুসলিম উম্মাহর করণীয়’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সৌদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি, বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি ড. মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ। সেমিনারে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ইসলামি স্কলার ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মানযুর এ ইলাহী, প্রফেসর ড. আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া, প্রফেসর ড. মুসলেহুদ্দীন, অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ ফারুক, ড. শহীদুল্লাহ খান মাদানীসহ অন্যরা। বক্তারা বলেন, মক্কা ও মদিনা শুধু সৌদি আরবের নয়, বরং বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের ঈমান, ভালোবাসা ও ধর্মীয় অনুভূতির কেন্দ্রবিন্দু। আরও পড়ুন,ইশরাকের পিস্তল উঁচানোর ঘটনায় জামায়াতের নিন্দাতাই পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সচেতনতা, সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা ও সশস্ত্র সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা ইয়েমেনের হাউছি গোষ্ঠীর হামলার ঘটনাগুলোকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁদের মতে, পবিত্র স্থান, বেসামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর ও তৈলশোধনাগারে হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক শান্তির পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। সেমিনারে মুসলিম বিশ্বের বিভেদ ও পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর করে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, সংলাপ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, আবেগনির্ভর প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ, দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজতে হবে। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়ে তাঁরা বাংলাদেশ সরকারকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে পবিত্র দুই মসজিদের নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সংস্থা, মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দ ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন সেমিনারের বক্তারা।

মক্কা-মদিনার পবিত্রতা রক্ষায় ঢাকায় সেমিনার

ইশরাকের পিস্তল উঁচানোর ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

মাদকবিরোধী অভিযানের নামে পিস্তল উঁচিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ তুলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তাঁর দাবি, গেন্ডারিয়া এলাকায় প্রতিমন্ত্রীর এমন কর্মকাণ্ড ত্রাসের রাজত্বের ইঙ্গিত দেয়। রোববার ১৮ অক্টোবর দেওয়া এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি জুবায়ের। বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশে মাদকের বিস্তার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। সরকারের স্বল্প সময়ের মধ্যে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর চেষ্টা করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জুবায়েরের দাবি, এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ অক্টোবর শনিবার বিকেলে গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পিস্তল উঁচিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, তা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।আরও পড়ুন,সরকারকে নয় ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবে জামায়াত জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, দেশের প্রচলিত অস্ত্র আইন অনুযায়ী নিজের নিরাপত্তা ছাড়া বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা উচিত নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন থাকা সত্ত্বেও একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র উঁচিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং তাঁর দেহরক্ষীদের আগ্রাসী ভূমিকা অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ইশরাক হোসেন নিজের কর্মকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করে জনমনে ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দায়িত্বশীল ব্যক্তির আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা সন্ত্রাসীদের আরও উৎসাহিত করতে পারে। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে এ ঘটনার প্রতিকার চেয়েছেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় করা, আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মাদক নির্মূলসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে মার্জিত ও জনবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণেরও আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।

ইশরাকের পিস্তল উঁচানোর ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

সরকারকে নয় ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবে জামায়াত

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পথেই বিএনপি সরকার হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতায় আসার পর গত সাত মাসে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে। বিরোধী দলের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় এখন থেকে সরকারকে নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবে জামায়াত। রোববার ১৮ অক্টোবর দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার এক বছর সালতামামি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ পার্টি এবি পার্টি। শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার পর বিএনপি নিজেদের অতীত ভুলে গেছে। গণভোটের বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের মতপার্থক্য ছিল বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াত চেয়েছিল নির্বাচন থেকে আগে গণভোট আয়োজন করা হোক, যাতে বিষয়টি অনিশ্চয়তায় না পড়ে। কিন্তু একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আরও পড়ুন,সাত মাসে ১৭ বার প্রতারণা করেছে বিএনপি: হাসনাতবিরোধীদলীয় নেতা আরও অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপির সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। তাঁর দাবি, গণভোটের রায় যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হলে বিরোধী দলকে সংসদের বাইরে আন্দোলনে যেতে হতো না। সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের কোনো সংসদ সদস্য বরাদ্দ পাননি বলেও অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, সরকারি দলের ২০৮টি আসনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অথচ বিরোধী দলের সদস্যদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এ সময় তিনি মহিষের ওপর কর আরোপের বিষয়টিও তুলে ধরে সরকারের নীতির সমালোচনা করেন। জামায়াত আমির বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পুরোনো রাজনীতির অবসান এবং নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা হবে বলে মানুষ আশা করেছিল। কিন্তু দেশকে আবারও পুরোনো ধারায় ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে অটল থাকবে। তাঁর ভাষ্য, সরকারকে সহযোগিতা করার ঘোষণা দিলেও সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই এখন থেকে দেশের ১৮ কোটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হবে তাদের লক্ষ্য।

সরকারকে নয় ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবে জামায়াত

সাত মাসে ১৭ বার প্রতারণা করেছে বিএনপি: হাসনাত

জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বিএনপি গত সাত মাসে ১৭ বার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার ১৮ অক্টোবর রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আমার বাংলাদেশ পার্টি এবি পার্টি আয়োজিত ‘জুলাই সনদের এক বছর সালতামামি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় তিনি এ অভিযোগ করেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিএনপি প্রতিদিনই একেকটি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে। অথচ দলটি বারবার জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের ঘোষণা দিচ্ছে। তার দাবি, এরই মধ্যে সনদের ১৭টি ধারা লঙ্ঘন করেছে বিএনপি। সাত মাসে জনগণের সঙ্গে ১৭ বার প্রতারণা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এনসিপির এই নেতা বলেন, জনগণ গণভোটের মাধ্যমে ৩০০ সংসদ সদস্যকে ১৮০ দিনের জন্য সংস্কারের ক্ষমতা দিয়েছিল। এ কারণে বারবার একটি সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানানো হয়েছিল। আরও পড়ুন,জয়পুরহাটে ল্যাপটপ ও সার ডিলারশিপ নিয়ে বিএনপি নেতার অভিযোগকিন্তু গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গণভোটের ফলাফলের একটি অংশ মেনে নিলেও বাকি অংশ মানেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক ছিল। তার অভিযোগ, বিএনপিও এখন একইভাবে নিজেদের পক্ষে থাকা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে, আর বিপক্ষে গেলে তা মানছে না। গণভোটের ফলাফল পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করায় সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার দাবি, এর ফলে জুলাই জাতীয় সনদের কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিএনপি একদিকে সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, অন্যদিকে সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থান নিচ্ছে। তবে বিএনপির বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে দলটির বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। রাজনৈতিক অঙ্গনে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের ফলাফল নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এনসিপি নেতার এ বক্তব্য সামনে এলো।

সাত মাসে ১৭ বার প্রতারণা করেছে বিএনপি: হাসনাত

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

দীর্ঘ ১৭ বছর প্রতিকূলতা ও প্রবাসজীবনের মধ্যেও তারেক রহমান দেশের প্রতিটি সংকট ও দুর্যোগে মানুষের পাশে থেকেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রোববার ১৮ অক্টোবর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ফাতেহা পাঠ শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। রুহুল কবির রিজভী বলেন, তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছে।আরও পড়ুন,জয়পুরহাটে ল্যাপটপ ও সার ডিলারশিপ নিয়ে বিএনপি নেতার অভিযোগকরোনা মহামারি, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও শীতসহ বিভিন্ন দুর্যোগের সময় প্রবাসে থেকেও তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন এবং মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন তরুণ ও কিশোরদের বিজ্ঞান ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে অনলাইন সায়েন্স এক্সিবিশনসহ বিভিন্ন ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পরিচালনা করেছে। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ববরণ করা ব্যক্তিদের কৃত্রিম পা সংযোজন, বৃক্ষরোপণ এবং চিকিৎসাসহায়তা দেওয়ার মতো নানা মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সংগঠনটি। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করা। অনুষ্ঠানে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. ফরহাদ হালিম ডোনার, ড. মোর্শেদ হাসান খানসহ দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক ও জ্যেষ্ঠ পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই কর্মসূচিতে সংগঠনটির মানবিক কার্যক্রম ও দেশের সংকটকালীন সময়ে সহায়তার উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন বিএনপির নেতারা।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

জয়পুরহাটে ল্যাপটপ ও সার ডিলারশিপ নিয়ে বিএনপি নেতার অভিযোগ

জয়পুরহাটে জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে বিনা মূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ ও সার ডিলারশিপ বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সাল আলিম। একই সঙ্গে নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বঞ্চিত করার অভিযোগও করেছেন তিনি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং দলের অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পোস্টে ফয়সাল আলিম অভিযোগ করেন, ল্যাপটপ বিতরণে ভাগাভাগি হয়েছে এবং গত ছয় মাসে বিভিন্ন প্রকল্পে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত অনিয়ম হয়েছে। তাঁর দাবি, সার ডিলারশিপ বণ্টনের ক্ষেত্রেও দলের নির্যাতিত নেতা-কর্মীরা সুযোগ পাননি। বরং কারও শাশুড়ি ও কারও শ্যালকের নামে ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যের ঘরে কেউ তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন, আবার কেউ স্থানীয় পর্যায়ে অনিয়মের নতুন অভিযোগ তুলেছেন। তারিক হোসেন খান নামের একজন স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়ন বা প্রার্থী বাছাইয়ে অর্থ লেনদেনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো তথ্য দেননি তিনি। অন্যদিকে, বেলাল হোসেন ফয়সাল আলিমের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, আরও পড়ুন,শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানএ ধরনের পোস্ট দলের মধ্যে বিতর্ক ও কোন্দল বাড়াতে পারে। জিল্লুর রহমানও তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করে দাবি করেন, এতে রাজনৈতিকভাবে জামায়াত লাভবান হতে পারে। তবে এসব মন্তব্য ও অভিযোগের পক্ষেও কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় ফয়সাল আলিম বলেন, তিনি দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং দলের পক্ষে কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো অনিয়ম-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন না। তাই এসব বিষয়ে সত্য প্রকাশ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। জয়পুরহাট জেলা পরিষদ থেকে সম্প্রতি জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে বিনা মূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়। তবে ল্যাপটপ বিতরণ, প্রকল্পের কথিত পারসেন্টেজ এবং সার ডিলারশিপ বণ্টন নিয়ে তোলা অভিযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রকল্প বা নথির বিস্তারিত তথ্য দেননি ফয়সাল আলিম। এদিকে, জয়পুরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন ফয়সাল আলিমের ফেসবুক পোস্টের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, পোস্টটি দেখেছেন, তবে সেটি পড়তে তাঁর রুচিতে বাধছিল। সব মিলিয়ে জয়পুরহাটে ল্যাপটপ বিতরণ ও সার ডিলারশিপ বণ্টন নিয়ে ফয়সাল আলিমের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

জয়পুরহাটে ল্যাপটপ ও সার ডিলারশিপ নিয়ে বিএনপি নেতার অভিযোগ