শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস

সারাদেশ

বেলকুচিতে ডাইং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে অভিযান

বেলকুচিতে ডাইং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে অভিযান

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ডাইং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে স্থানীয় পরিবারগুলোর দুর্ভোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর চারটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরিবেশদূষণ ও নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে কারখানাগুলোকে মোট দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার ভাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের তামাই গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফরিন জাহান। সোমবার সন্ধ্যার পর অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিরাজগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম। অভিযানে তামাই গ্রামের হাজী আব্দুল হামিদ লাকীর ডাইং কারখানাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া হাজী আনোয়ার হোসেন মোল্লা, জাকারিয়া খান ও মুন্সী পান্না আহমেদের মালিকানাধীন তিনটি ডাইং কারখানাকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। সব মিলিয়ে চারটি কারখানাকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এসব ডাইং কারখানার রাসায়নিক মিশ্রিত বর্জ্য খোলা জায়গায় ফেলার অভিযোগ ছিল। আরও পড়ুন,গফরগাঁওয়ে চলন্ত তিস্তা এক্সপ্রেসের দুটি বগি বিচ্ছিন্নএতে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে কারখানার কাছাকাছি বসবাসকারী পরিবারগুলোকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। বিষাক্ত বর্জ্য ও ধোঁয়ার কারণে বাড়ির আঙিনায় রান্নার চুলা জ্বালাতেও সমস্যায় পড়তেন তাঁরা। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ এবং তাঁদের দুর্বিষহ জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটি প্রশাসনের নজরে আসার পর কারখানাগুলোর বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহান জানান, পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করে বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়ার পর কারখানাগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উন্মুক্ত স্থানে ডাইং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য ফেলার দায়ে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে জরিমানা করা হয়েছে। তিনি বলেন, পরিবেশের ক্ষতি করে এবং সাধারণ মানুষের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ নেই। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশদূষণ বন্ধে কারখানাগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়মিত তদারকি এবং আইন মেনে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি।

গফরগাঁওয়ে চলন্ত তিস্তা এক্সপ্রেসের দুটি বগি বিচ্ছিন্ন

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে চলন্ত অবস্থায় আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের দুটি বগি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বগির সংযোগ হুক ভেঙে এ ঘটনা ঘটে। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে প্রায় এক ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে গফরগাঁও ও ধলা রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যবর্তী বড়তলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গফরগাঁও রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এইচ এম বাসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দেওয়ানগঞ্জগামী আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে যায়। পরবর্তী ধলা স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই হঠাৎ ট্রেনের দুটি বগির সংযোগ হুক ভেঙে যায়। এতে ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে ত ও থ নম্বর বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিচ্ছিন্ন বগি দুটি ট্রেনের বাকি অংশ থেকে আলাদা হয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে চলে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে ট্রেনের চালক দ্রুত ট্রেনটি থামিয়ে দেন। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। আরও পড়ুন,মহাসড়কে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধএদিকে বগি বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে ওই রেলপথে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে ওই পথে চলাচলকারী অন্যান্য ট্রেনও বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. হানিফ মিয়া জানান, ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জগামী তিস্তা এক্সপ্রেস গফরগাঁও ও ধলা স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ বগির হুক ভেঙে দুটি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চালক দ্রুত ট্রেন থামিয়ে দেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি। স্টেশন মাস্টার আরও জানান, বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া বগিগুলোর সংযোগ হুক মেরামতের জন্য রেলওয়ের কর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করেন। মেরামতের কাজ শেষ হলে ট্রেনটি আবার নির্ধারিত গন্তব্য দেওয়ানগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। চলন্ত ট্রেনের বগি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনায় রেলপথে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও মেরামত শেষে ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।

গফরগাঁওয়ে চলন্ত তিস্তা এক্সপ্রেসের দুটি বগি বিচ্ছিন্ন

মহাসড়কে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের পাশে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলার মনসুর ধুল্যা এলাকায় মহাসড়কের পাশে এসব ওষুধ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনার পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালে রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ বরাদ্দ না থাকলেও মেয়াদোত্তীর্ণের পর তা যমুনা নদীসহ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হচ্ছে, যা সরকারি ওষুধের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সুশাসনের ওপর বড় প্রশ্ন চিহ্ন তুলে ধরছে। এর আগে গত ২৭ আগস্ট টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সরকারি হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে বিতরণের সরকারি ওষুধ পিকআপ ভ্যানে করে রাতের আঁধারে যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছিল। আরও পড়ুন,বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যুসেই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নইম মো. সোহেলকে ওএসডি এবং অফিস সহকারী মো. ফরহাদকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই মির্জাপুরে আবারও মহাসড়কের পাশে সরকারি ওষুধ পাওয়ার ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদুল ইসলাম জানান, রাস্তার পাশে সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের সিলযুক্ত ওষুধপত্র পড়ে থাকার খবর তিনি শুনেছেন। তবে তাঁর দাবি, মির্জাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রোগীদের নিয়মিত বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয় এবং এখানে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই। কে বা কারা এই ওষুধগুলো মহাসড়কের পাশে ফেলে গেছে, সে বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই। অন্যদিকে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি, তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহাসড়কে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু

নোয়াখালীর সেনবাগে বাড়ির পাশের সবজি ক্ষেত থেকে লাউ আনতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চন্দ্র বানু (৫৫) নামে এক নারীর নির্মম মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মাকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর মেয়ে রেহানা বেগম (২০)। আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নের মতইন গ্রামের চিনা বাড়ির পাশে এই বেদনাদায়ক ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে চন্দ্র বানু বাড়ির পাশের ক্ষেত থেকে সবজি তোলার জন্য যান। সেখানে অসাবধানতাবশত জমিতে থাকা সেচপাম্পের বৈদ্যুতিক তারে তাঁর পা জড়িয়ে গেলে তিনি বিদ্যুতায়িত হন। মাকে ছটফট করতে দেখে বাঁচাতে ছুটে যান মেয়ে রেহানা বেগম, আরও পড়ুন,৫০ লাখ টাকা দাবি ও মারধরের ঘটনায় তোলপাড়কিন্তু তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চন্দ্র বানুকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে আহত রেহানা বেগমের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সেনবাগ থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) হযরত আলী মিলন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং এই দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনীয় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু

৫০ লাখ টাকা দাবি ও মারধরের ঘটনায় তোলপাড়

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ব্যবসায়িক বিরোধ ও টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে সহযোগী সংগঠনের চার নেতাকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এই হামলায় আহত চারজনের মধ্যে একজনের পায়ের হাড় ভেঙে গেছে এবং তাদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার দুপুরে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। গত শনিবার রাতে নড়িয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বৈশাখীপাড়া এলাকায় এই মারামারির ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত বিএনপি নেতার নাম সালাউদ্দিন ছৈয়াল, যিনি নড়িয়া পৌরসভা বিএনপির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। অন্যদিকে আহতরা হলেন নড়িয়া উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নোমান চোকদার, নড়িয়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদ খান, যুগ্ম আহ্বায়ক তাজুল শিকদার এবং পৌরসভা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব দেওয়ান। স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, আহত নেতারা ঠিকাদারি এবং জমি কেনাবেচার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এসব ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন ছৈয়ালের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলে আসছিল। গত শনিবার সন্ধ্যার পর সালাউদ্দিন ওই চারজনকে বৈশাখীপাড়া এলাকায় ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছানোর পর তার ২০ থেকে ২৫ জন সমর্থক তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আহতদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মাসুদ খান অভিযোগ করেছেন,আরও পড়ুন,পদ্মায় অভিযানে দুই লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ সালাউদ্দিন তাদের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন এবং টাকা দিতে অস্বীকার করায় বন্দুকের বাঁট দিয়ে তাদের পিটিয়ে আহত করা হয়। তবে অভিযুক্ত সালাউদ্দিন ছৈয়াল দাবি করেছেন, গত চার মাসে তিনি ব্যবসায় দুই দফায় তাদের ৪৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু তারা মুনাফা বা মূলধন কোনোটিই ফেরত দিচ্ছিলেন না। শনিবার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তারা তালবাহানা করায় কথা কাটাকাটি ও একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তিনি তাদের থামানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি বলে জানান। শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক তমাল কুমার দাস জানান, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং এক্স-রে পরীক্ষার পর তাজুল নামের একজনের বাম পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৫০ লাখ টাকা দাবি ও মারধরের ঘটনায় তোলপাড়

পদ্মায় অভিযানে দুই লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ

শরীয়তপুরের জাজিরায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্যসহ উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে জেলেদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ৩৬ জন জেলেকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানে প্রায় দুই লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ৩০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। সোমবার ১৯ অক্টোবর সকালে জাজিরা উপজেলার পালেরচর এলাকায় পদ্মা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান চালানোর সময় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নদীতে অভিযান চলাকালে জেলেদের সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে প্রায় ১০০ জন জেলে লাঠিসোঁটা নিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে অভিযানে থাকা কর্মকর্তাদের ধাওয়া দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ আসলাম, জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেবকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ ওঠে। আরও পড়ুন,ফ্যামিলি কার্ডে দারিদ্র্য ৫ শতাংশ কমার আশাপরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযানে থাকা সদস্যরা নদীর পাড়ে অবস্থান নেন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তাকে কিছুক্ষণের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখে জেলেদের একটি অংশ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান জোরদার করলে জেলেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। এ সময় ৩৬ জনকে আটক করা হয়। পাশাপাশি জব্দ করা হয় প্রায় দুই লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ৩০ কেজি মা ইলিশ। জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান জানান, ঘটনার সময় তাঁরা পদ্মা নদীতে অবস্থান করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিলেন। যারা অভিযান প্রতিহত করছিল, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দেব বলেন, পালেরচর এলাকায় অভিযান চালাতে গেলে গ্রেপ্তারের ভয়ে জেলেরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে অভিযান জোরদার করা হলে তাঁরা পালিয়ে যান এবং ৩৬ জনকে আটক করা হয়। অন্যদিকে সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ আসলাম বলেন, বিষয়টিকে তিনি সরাসরি নিজের ওপর হামলা হিসেবে দেখছেন না। তাঁর ভাষ্য, অভিযান প্রতিহত করতে গিয়ে জেলেরা তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযান চলাকালে এ ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎপর রয়েছে সংশ্লিষ্ট বাহিনী।

পদ্মায় অভিযানে দুই লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ

কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে বাড়ছে প্রাণহানি

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটোয়ারটেক সৈকক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটোয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন আরও ছয়জন। তাঁদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি চারজনের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে এ আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও পুলিশের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজে অংশ নেন। বেলা সোয়া দুইটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজারের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আরও মরদেহ থাকতে পারে। এ কারণে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিহতদের মধ্যে ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা, মিলিতা মেহেজাবিন আলভী, খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা ও নাফিসতা মীম, চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদের পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকি চারজনের মরদেহ আগুনে পুড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আকতার। অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ছয়জন হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন, তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান এবং মান্নান, মেহেরুন্নেসা, মাসুদ ও সামিদা। তাঁরা সবাই কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, রিসোর্টের রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আগুনের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং ধ্বংসস্তূপে আর কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে উদ্ধার অভিযান চলছে।কতে কাঠের তৈরি একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন আরও ছয়জন। তাঁদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি চারজনের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে এ আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আরও পড়ুন,গাজীপুরে ওষুধ কারখানায় আগুন, ছড়িয়ে পড়ছে ধোঁয়াস্থানীয় বাসিন্দারাও পুলিশের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজে অংশ নেন। বেলা সোয়া দুইটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজারের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আরও মরদেহ থাকতে পারে। এ কারণে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিহতদের মধ্যে ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা, মিলিতা মেহেজাবিন আলভী, খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা ও নাফিসতা মীম, চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদের পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকি চারজনের মরদেহ আগুনে পুড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আকতার। অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ছয়জন হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন, তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান এবং মান্নান, মেহেরুন্নেসা, মাসুদ ও সামিদা। তাঁরা সবাই কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, রিসোর্টের রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আগুনের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং ধ্বংসস্তূপে আর কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে উদ্ধার অভিযান চলছে।

কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে বাড়ছে প্রাণহানি

গাজীপুরে ওষুধ কারখানায় আগুন, ছড়িয়ে পড়ছে ধোঁয়া

গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ওষুধ উৎপাদন কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট। পাশাপাশি আগুন নেভানোর কাজে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের বিজিবির সদস্যরা। বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে কারখানাটির ইউনিট-২-এ আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা দ্রুত কারখানার বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। বাড়তে থাকে আগুনের শিখা ও ধোঁয়া। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, খবর পেয়ে টঙ্গী, গাজীপুর, উত্তরা, কুর্মিটোলা, রাজেন্দ্রপুর ও পূর্বাচলসহ আশপাশের বিভিন্ন স্টেশনের ২০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এ ছাড়া মিরপুর থেকে একটি বিশেষ হ্যাজম্যাট টেন্ডার ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন অফিসার শাহিন আলম জানিয়েছেন, কারখানার ভবনটি ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি। আরোও পড়ুন,কোটি টাকার সেতু রক্ষা করা গেল না, বিচ্ছিন্ন দুই জেলার যোগাযোগভবনটিতে কাচও রয়েছে। এ কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং তা নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের। অগ্নিকাণ্ডে কারখানার ভেতরে থাকা ওষুধ, উৎপাদনসংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ও বিভিন্ন মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে ভবনের কোন তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে, বুধবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে কারখানার ভেতরে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও কাজ করছেন। পরিস্থিতির বিষয়ে প্রশাসন সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে। কারখানাটির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

গাজীপুরে ওষুধ কারখানায় আগুন, ছড়িয়ে পড়ছে ধোঁয়া

কোটি টাকার সেতু রক্ষা করা গেল না, বিচ্ছিন্ন দুই জেলার যোগাযোগ

ফরিদপুরে পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৪০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু। নির্মাণের মাত্র ছয় বছরের মাথায় সেতুটি নদীগর্ভে ধসে পড়ায় ফরিদপুর ও মানিকগঞ্জের অন্তত দুই হাজার মানুষের যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই জেলার কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা। সোমবার, ১২ অক্টোবর, ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামে পদ্মার ভাঙনে সেতুটি ধসে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে সাত কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এর দৈর্ঘ্য ছিল ৪০ মিটার এবং প্রস্থ ১২ ফুট। সেতুটি দিয়ে ফরিদপুরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের আজমত আলী মণ্ডলের ডাঙ্গী, মোনতাজ মাদবরের ডাঙ্গী ও আদর্শ গ্রামের মানুষ যাতায়াত করতেন। আরও পড়ুন,স্টিচিং ইন্টারপ্লাস্টের সহযোগিতায় ১৩৫ রোগীর অস্ত্রোপচারপাশাপাশি মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের সেলিমপুর, জয়পুর, নতুন হাট, গঙ্গাবর্দী, হরিহরদিয়া, পাটগ্রাম ও নটাখোলা গ্রামের বাসিন্দারাও সেতুটি ব্যবহার করতেন। এটি ধসে পড়ায় এসব এলাকার মানুষের চলাচলে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান জানান, সেতুটির পূর্ব পাশের পাইলিংয়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় এটি নদীতে ধসে পড়ে। সেতুটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বালুর বস্তা ফেলা হলেও শেষ পর্যন্ত তা কাজে আসেনি। ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, সেতুটি রক্ষার জন্য ১৫০ মিটার এলাকায় বালুর বস্তা ফেলা হয়েছিল। কিন্তু নদীভাঙন প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলায় সেতুটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। বর্ষা মৌসুমে শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ নেওয়াও কঠিন ছিল। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম জানান, গত কয়েক মাস ধরে ওই এলাকায় তীব্র ভাঙন চলছে। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে এমন ভাঙন দেখা যায়নি বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

কোটি টাকার সেতু রক্ষা করা গেল না, বিচ্ছিন্ন দুই জেলার যোগাযোগ

ফতুল্লার বিলাসনগরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, রক্ষা পেলেন সবাই

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৬টি ঝুটের গুদামের মালামাল পুড়ে গেছে। গুদামমালিকদের দাবি, এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এক কোটি টাকার বেশি। তবে আগুনে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। রোববার, ১১ অক্টোবর, দিবাগত রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার বিলাসনগর এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় রাত সাড়ে ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বিলাসনগর এলাকার একটি ঝুটের গুদামে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের গুদামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে শিবু মার্কেট, নারায়ণগঞ্জ ও হাজীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। আরও পড়ুন,স্টিচিং ইন্টারপ্লাস্টের সহযোগিতায় ১৩৫ রোগীর অস্ত্রোপচারদীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এর আগেই ২৬টি গুদামে থাকা ঝুটের কাপড়সহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণের কাজ চলছে। অন্যদিকে, পুড়ে যাওয়া কয়েকটি গুদামের মালিক ইমরান হোসেন জানান, রাতে হঠাৎ একটি গুদামে আগুন লাগে। পরে তা দ্রুত আশপাশের গুদামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে গুদামগুলোর সব মালামাল পুড়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। ইমরান হোসেনের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে সব গুদামের মালামাল মিলিয়ে এক কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত পরিমাণ এখনো জানানো হয়নি। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটকে আগুনের সম্ভাব্য কারণ মনে করা হলেও তদন্তের পর প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ফতুল্লার বিলাসনগরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, রক্ষা পেলেন সবাই

স্টিচিং ইন্টারপ্লাস্টের সহযোগিতায় ১৩৫ রোগীর অস্ত্রোপচার

মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে দুই সপ্তাহব্যাপী বিনা মূল্যে প্লাস্টিক সার্জারি ক্যাম্প সম্পন্ন হয়েছে। যমুনা ব্যাংক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক সংস্থা স্টিচিং ইন্টারপ্লাস্টের সহযোগিতায় এই ক্যাম্প আয়োজন করা হয়। গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত এ ক্যাম্পে ঠোঁটকাটা, তালুকাটা ও পোড়া সমস্যায় আক্রান্ত ৩২৬ জন রোগীর মধ্যে ১৩৫ জনকে বিনা মূল্যে বিশেষায়িত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার সেবা দেওয়া হয়েছে। যমুনা ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।আরও পড়ুন,সারা বছর ফল আমদানির শুল্ককাঠামো যৌক্তিক করার আশ্বাস বাণিজ্যমন্ত্রীররাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সার্জারি ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যমুনা ব্যাংক ফাউন্ডেশন ও ব্যাংকটির নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্টিচিং ইন্টারপ্লাস্ট হল্যান্ডের টিম লিডার মেনো হুইকেশোভেন ও তাঁর দলের চিকিৎসকেরা। অনুষ্ঠানে যমুনা ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ আমন্ত্রিত অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ঠোঁটকাটা, তালুকাটা ও পোড়াজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের বিশেষায়িত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

স্টিচিং ইন্টারপ্লাস্টের সহযোগিতায় ১৩৫ রোগীর অস্ত্রোপচার

সারা বছর ফল আমদানির শুল্ককাঠামো যৌক্তিক করার আশ্বাস বাণিজ্যমন্ত্রীর

শুধু রমজানকে কেন্দ্র করে নয়, সারা বছর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারদর স্থিতিশীল রাখতে মাল্টাসহ সব ধরনের ফল আমদানির শুল্ককাঠামো দ্রুত যুক্তিসংগত করার আশ্বাস দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশ্বাস দেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও বাজার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এ সভার আয়োজন করে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সারা বছর পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার বিষয়ে আগে সমন্বিতভাবে কাজ করা হয়নি। আরও পড়ুন,গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ধানক্ষেত থেকে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারএখন সরকার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। মৌসুমের বাইরেও যাতে পণ্যের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা যায়, সে জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আমদানি শুল্ককাঠামোয় যেসব পরিবর্তন আনা হবে, তা শুধু রমজানকে সামনে রেখে নয়, বরং সারা বছরের জন্য কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। আসন্ন রমজানে পণ্যসংকটের আশঙ্কা নেই বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, রমজানের আগে পর্যাপ্ত ভোগ্যপণ্য আমদানি হয়েছে। এ পর্যন্ত যে পরিমাণ ঋণপত্র বা এলসি এবং আমদানির অনুমতিপত্র খোলা হয়েছে, তাতে রমজানে পণ্যের ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। একই সঙ্গে বাজারদর স্থিতিশীল রাখার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। কৃষি ও আবহাওয়ার পরিবর্তন প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গ্রিন ফার্মিংয়ের কারণে কৃষিতে পরিবর্তন আসছে। বাংলাদেশেও এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি সিলেট অঞ্চলে তরমুজ চাষের কথা উল্লেখ করেন। তবে বর্ষাকাল সবজি উৎপাদনের প্রধান মৌসুম না হওয়ায় ওই সময়ে দাম সব সময় কম রাখা সম্ভব নাও হতে পারে বলে জানান তিনি।

সারা বছর ফল আমদানির শুল্ককাঠামো যৌক্তিক করার আশ্বাস বাণিজ্যমন্ত্রীর

গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ধানক্ষেত থেকে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় ফসলি মাঠ থেকে জান্নাতুল তাজমিন নামে ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার জগতপুর গ্রামের নির্জন পাকা সড়কের পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেছেন নিহতের বাবা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে নির্জন সড়কের পাশে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা উল্টে পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় এলাকাবাসীর। গাড়িটি থেকে প্রায় ২০ থেকে ৩০ গজ দূরে পড়ে ছিল একটি ভ্যানিটি ব্যাগ। আশপাশের চার থেকে পাঁচটি ধানক্ষেতের ধানগাছও দুমড়েমুচড়ে এলোমেলো অবস্থায় ছিল। এসব চিহ্ন ধরে এগিয়ে গিয়ে ধানক্ষেতের কাদার মধ্যে মুখ গোঁজা অবস্থায় কিশোরীর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। আরও পড়ুন,মহানবীর আদর্শে পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক ভূমিকা সম্ভবতার গলায় প্যাঁচানো ছিল একটি গামছা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ ও অটোরিকশাটি উদ্ধার করে। নিহত জান্নাতুল তাজমিন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা আব্দুল আলিম ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রেনেটার কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত। তাদের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামে। তবে পরিবারের সঙ্গে তাজমিন কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত। কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সদর দক্ষিণ সার্কেলের মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাজমিনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে দৃশ্যমান বড় কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং অন্য কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা নিবন্ধিত অটোরিকশাটির সূত্র ধরে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার রাতেই তাজমিনের মরদেহ নিয়ে যশোরের উদ্দেশে রওনা হন স্বজনরা। পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে। এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন।

গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ধানক্ষেত থেকে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

মহানবীর আদর্শে পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক ভূমিকা সম্ভব

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা:-এর শিক্ষা ও জীবনাদর্শ অনুসরণের মধ্যেই মানবতার প্রকৃত মুক্তির পথ নিহিত বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও তরুণ গবেষক মুফতি আহমাদ শরীফ বিন আসাদ। তিনি বলেছেন, মহানবী সা: ছিলেন মানবতার মুক্তিদূত। তাঁর শিক্ষা, আদর্শ ও জীবনদর্শন নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাক্ষেত্রে মুসলমানদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে জানাতে হবে। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর দুপুরে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা পাঠানটুলায় তামাদ্দুনিক ও সীরাত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং সীরাতুন্নবী সা:-এর মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মুফতি আহমাদ শরীফ বিন আসাদ বলেন, জ্ঞানার্জন, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে মহানবী সা: যে শিক্ষার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন, তা অনুসরণ করেই মুসলমানরা একসময় শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়েছে। আরও পড়ুন,কমলনগরে যুবককে অপহরণ করে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবিতাঁর জীবন ছিল জ্ঞান, শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবকল্যাণের অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি আরও বলেন, মহানবী সা: মানুষকে অজ্ঞতা ও অন্ধকার থেকে জ্ঞানের আলোয় নিয়ে এসেছেন। তাঁর শিক্ষায় মানুষে মানুষে ভেদাভেদ, অন্যায় ও অবিচারের পরিবর্তে সাম্য, ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও কল্যাণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। তাই আদর্শ মানুষ এবং আলোকিত সমাজ গঠনে মহানবী সা:-এর জীবনাদর্শের চর্চা অপরিহার্য। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন অধ্যক্ষ মাওলানা লুৎফুর রহমান হুমায়দী বলেন, মুসলমানদের ইতিহাসে জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষার যে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে, তা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে। শিক্ষা কেবল সনদ অর্জনের মাধ্যম নয়; বরং মানুষের চরিত্র, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ উপায়। মহানবী সা:-এর আদর্শে শিক্ষিত প্রজন্ম পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। জামেয়ার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক মাওলানা ফখরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপাধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার, অতিরিক্ত উপাধ্যক্ষ মাওলানা কমর উদ্দীন এবং অধ্যাপক মাওলানা আব্দুন নুর।

মহানবীর আদর্শে পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক ভূমিকা সম্ভব

কমলনগরে যুবককে অপহরণ করে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মো. আজাদ উদ্দিন নামে এক যুবককে অপহরণ করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে দোকানে যাওয়ার পথে অপহরণের শিকার হন তিনি। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে কমলনগর থানায় অভিযোগ করেছেন তাঁর শ্বশুর মো. ছানা উল্যাহ। অপহৃত যুবককে উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। অপহৃত আজাদ উদ্দিনের বয়স ৩৫ বছর। তিনি উপজেলার চর ফলকন গ্রামের ছায়েদুল হকের ছেলে। উপজেলা সদর হাজিরহাট বাজারে তাঁর একটি কনফেকশনারির দোকান রয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে দোকানের উদ্দেশে রওনা হন আজাদ। বাজারের কাছাকাছি পৌঁছালে পথিমধ্যে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁর গতিরোধ করে। পরে তাঁকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায় তারা। কমলনগর থানার উপপরিদর্শক মো. ফারুক হোসেন জানান, বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাড়ি থেকে বাজারে আসার পথে কয়েকজন ব্যক্তি আজাদের গতিরোধ করে তাঁকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে যায়।আরও পড়ুন,ভবনের অংশ ধসে আহত কেরামত উল্লাহর মৃত্যুখবর পাওয়ার পর থেকেই তাঁকে উদ্ধারে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে। পুলিশ জানায়, অপহরণকারীরা আজাদের শ্বশুরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। তবে সন্ধ্যার পর থেকে তারা একের পর এক স্থান পরিবর্তন করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যে সিএনজিতে করে আজাদকে অপহরণ করা হয়েছে, সেটির নম্বর লক্ষ্মীপুর-ঠ-১১-৫৮৩৬। সিএনজিচালকের মুঠোফোন নম্বরও সংগ্রহ করেছে পুলিশ। তবে বর্তমানে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। উপপরিদর্শক ফারুক হোসেন আরও জানান, সিএনজিটির নম্বর উল্লেখ করে জেলার বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে। কোথাও গাড়িটির সন্ধান পাওয়া গেলে সেটি আটকানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অপহৃত আজাদ উদ্দিনকে দ্রুত উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

কমলনগরে যুবককে অপহরণ করে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

ভবনের অংশ ধসে আহত কেরামত উল্লাহর মৃত্যু

নওগাঁর মান্দায় পুরোনো ভবন ভাঙার কাজ করতে গিয়ে ভবনের একাংশ ধসে গুরুতর আহত কেরামত উল্লাহ সরদার নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত কেরামত উল্লাহ সরদারের বয়স ৪০ বছর। তিনি উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের উত্তর চকরামরপুর গ্রামের মৃত অফের আলী সরদারের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার সকালে মান্দা উপজেলার কশব ইউনিয়নের তালপাতিল গ্রামে লুৎফর রহমানের একটি পুরোনো ভবন ভাঙার কাজে যান কেরামত উল্লাহ। সকাল ১০টার দিকে কাজ করার সময় হঠাৎ ভবনের একটি অংশ ধসে তার ওপর পড়ে। আরও পড়ুন,কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণ দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডএতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। বুধবার রাত ১০টার দিকে অস্ত্রোপচারের জন্য কেরামত উল্লাহকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার মান্দা থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। নিহতের বোন ময়না বিবি বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মান্দা থানার পরিদর্শক তদন্ত আলেফ উদ্দিন জানান, ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভবনের অংশ ধসে আহত কেরামত উল্লাহর মৃত্যু