বাংলাদেশের আকাশসীমা থেকে বছরে ৮০৫ কোটি টাকা আয়
বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল থেকে বাড়ছে দেশের রাজস্ব আয়। গত এক বছরে শুধু ওভারফ্লাই ফি বা আকাশসীমা ব্যবহারের মাশুল বাবদ ৮০৫ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে ওভারফ্লাই ফি বাবদ মোট ৮০৫ কোটি ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৬৫ টাকা ২০ পয়সা রাজস্ব আয় করেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।এর মধ্যে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আয় হয়েছে ৩৮৮ কোটি ১০ লাখ ১৫ হাজার ৪৫১ টাকা। আর ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে আয় হয়েছে ৪১৬ কোটি ৯১ লাখ ৪৪ হাজার ৯১৪ টাকা।পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতি বছরই ওভারফ্লাই ফি থেকে রাজস্ব আয় বাড়ছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এ খাত থেকে আয় হয়েছিল ৫৩ কোটি ৫ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের একই মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকায়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আয় ছাড়িয়ে যায় ৮০ কোটি ১৬ লাখ টাকা।এ ছাড়া ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আয় ছিল ৪৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয় ৫৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা এবং ২০২৬ সালে ৬৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকার বেশি।এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আড়ও পড়ুন,দুই বাজারেই লেনদেন বেড়েছে কমেছে সূচকদক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যগামী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আকাশপথের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থান থাকায় দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিমান।আঞ্চলিক আকাশপথে রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক জটিলতার কারণে নিরাপত্তার বিবেচনায় কিছু আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসও বাংলাদেশের ওপর দিয়ে রুট বেছে নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।এদিকে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বেবিচকের বকেয়া মাশুল আদায়ে কড়াকড়ি এবং ডিজিটাল বিলিং ব্যবস্থা চালুর ফলে রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হয়েছে।বেবিচকের এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম জানিয়েছেন, প্রতি বছরই ওভারফ্লাই থেকে রাজস্ব আয় বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে এ আয় আরও বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার এ টি এম নজরুল ইসলামও ওভারফ্লাই চার্জ থেকে রাজস্ব বৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এয়ারস্পেস ব্যবস্থাপনা আরও বাড়ানো গেলে এই খাত থেকে রাজস্ব কয়েকগুণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।