শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা কমাতে ভারতের সঙ্গে চুক্তিতে কানাডা

যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা কমাতে ভারতের সঙ্গে চুক্তিতে কানাডা

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাণিজ্যিক নির্ভরতা কমাতে ভারতের সঙ্গে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে কানাডা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংরক্ষণবাদী বাণিজ্যনীতির প্রেক্ষাপটে নিজেদের বাণিজ্য বহুমুখীকরণে জোর দিচ্ছে দেশটি। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে অটোয়ার। নয়াদিল্লিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনিতা আনন্দ বলেন, ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বাণিজ্য বহুমুখীকরণ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আগামী ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্যান্য দেশের সঙ্গে কানাডার বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় ভারত ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ করতে চায় কানাডা। তবে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে দেশটি। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। আরোও পড়ুন,সার পরিবহনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘের আহ্বানসম্প্রতি ভারতের বাণিজ্য আলোচকেরা কানাডা সফর করেছেন। অন্যদিকে, কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী মানিন্দর সিধু একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল নিয়ে বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও নরেন্দ্র মোদিও এ চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন। আগামী ডিসেম্বরে মোদির কানাডা সফরের কথা রয়েছে। কানাডার হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের পণ্য ও সেবাবাণিজ্য বছরে সাত হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২৫ সালে এই বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৪০ কোটি ডলার। দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে কানাডার প্রতিষ্ঠান কামেকো ও ভারতের মধ্যে ২৬০ কোটি কানাডীয় ডলারের ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তির কথাও উল্লেখ করেছেন অনিতা আনন্দ। পাশাপাশি ভারতের আইডিবিআই ব্যাংকের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা অধিগ্রহণে কানাডার ফেয়ারফ্যাক্স ফাইন্যানশিয়াল হোল্ডিংসের চুক্তিও অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কানাডা ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। বর্তমানে সেই সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনের শাসনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হলে কানাডার বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও নতুন গতি আসতে পারে।

কানাডার লেক লুইজে মেরিলিন মনরো থেকে হৃতিক রোশনের সিনেমার স্মৃতি

কানাডার রকি পর্বতমালার কোলে অবস্থিত লেক লুইজ শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই বিখ্যাত নয়, হলিউড ও বলিউডের বহু সিনেমার স্মৃতিও জড়িয়ে আছে এই অঞ্চলের সঙ্গে। মেরিলিন মনরো থেকে আলফ্রেড হিচকক এবং হৃতিক রোশন থেকে প্রীতি জিনতা বিনোদনজগতের তারকাদের নানা গল্পে সমৃদ্ধ কানাডার এই জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। কানাডার আলবার্টা প্রদেশের ব্যানফ ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত লেক লুইজের চারপাশে রয়েছে বরফঢাকা পাহাড়, স্বচ্ছ পানির হ্রদ, ঘন বন ও ভিক্টোরিয়া হিমবাহ। ক্যালগারি থেকে গাড়িতে প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার পথ পেরিয়ে পৌঁছানো যায় এই মনোরম স্থানে। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের পাশাপাশি ঐতিহাসিক ফেয়ারমন্ট শাতো লেক লুইজ হোটেলও পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। এই হোটেলের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৮৯০ সালে। কানাডিয়ান প্যাসিফিক রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক কর্নেলিয়াস ভ্যান হর্ন এখানে একটি ছোট কাঠের শ্যালে নির্মাণ করেন। শুরুতে ছিল খাবারের জায়গা, একটি বার ও দুটি শোবার ঘর। সময়ের সঙ্গে সম্প্রসারণ, অগ্নিকাণ্ড ও পুনর্নির্মাণের মধ্য দিয়ে ছোট স্থাপনাটি রূপ নেয় বর্তমানের বিশাল ঐতিহাসিক হোটেলে। লেক লুইজের সিনেমার ইতিহাসও প্রায় এক শতাব্দী পুরোনো।আড়ও পড়ুন,মুক্তির অপেক্ষায় দীঘির ‘বিদায়’ কবে ফিরবেন চেনা ছন্দে ১৯২৯ সালে মুক্তি পাওয়া আর্নস্ট লুবিচ পরিচালিত নির্বাক চলচ্চিত্র ‘ইটারনাল লাভ’-এর সঙ্গে কানাডিয়ান রকিজের এই অঞ্চলের যোগ রয়েছে। জন ব্যারিমোর ও ক্যামিলা হর্ন অভিনীত ছবিটির গল্পের পটভূমি ছিল সুইস আল্পস। সেই পাহাড়ি পরিবেশ ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার করা হয়েছিল কানাডার রকিজের প্রাকৃতিক দৃশ্য। ১৯৫৩ সালে হলিউড অভিনেত্রী মেরিলিন মনরো ‘রিভার অব নো রিটার্ন’ সিনেমার শুটিং করতে কানাডিয়ান রকিজে আসেন। রবার্ট মিচামের সঙ্গে অভিনীত ছবিটি পরিচালনা করেন অটো প্রিমিঞ্জার। ১৯৫৪ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমার দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল ব্যানফ ও জ্যাসপার ন্যাশনাল পার্কসহ রকিজের বিভিন্ন এলাকায়। শুটিংয়ের সময় গোড়ালিতে আঘাত পাওয়ায় কয়েক দিন কাজ থেকেও বিরত থাকতে হয়েছিল মনরোকে। ঐতিহাসিক ফেয়ারমন্ট শাতো লেক লুইজ হোটেলের বিখ্যাত অতিথিদের তালিকায় আরও রয়েছেন আলফ্রেড হিচকক, মেরি পিকফোর্ড, ডগলাস ফেয়ারব্যাংকস ও ক্রিস্টোফার রিভ। তবে তাঁদের সবাই যে সিনেমার শুটিংয়ের জন্য সেখানে গিয়েছিলেন, এমন নয়। বিশেষ করে হিচককের ক্ষেত্রে হোটেলে অতিথি হিসেবে থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও সেখানে তাঁর কোনো বিখ্যাত সিনেমার শুটিং হয়েছি এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য মেলেনি। হলিউডের পাশাপাশি বলিউডের সিনেমাতেও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে কানাডার এই অঞ্চল। হৃতিক রোশন ও প্রীতি জিনতা অভিনীত ২০০৩ সালের জনপ্রিয় সিনেমা ‘কোই...মিল গায়া’র বেশ কিছু দৃশ্য ও গানের শুটিং হয়েছিল কানাডিয়ান রকিজের বিস্তীর্ণ এলাকায়। সিনেমাটির ‘হায়লা হায়লা হুয়া হুয়া’ গানেও পাহাড়, হ্রদ ও প্রাকৃতিক প্রান্তরের দৃশ্য দেখা যায়।আড়ও পড়ুন,মাসুমা রহমান নাবিলার সঞ্চালনায় আসছে ‘লং ড্রাইভ এ ছাড়া ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া অনুভব সিনহা পরিচালিত ‘তুম বিন’ সিনেমার বড় অংশের শুটিং হয়েছিল ক্যালগারিতে। ২০০৬ সালের ‘হামকো দিওয়ানা কার গায়ে’ সিনেমার দৃশ্য ধারণ করা হয় ক্যালগারি, ড্রামহেলার ও এডমন্টনে। অক্ষয় কুমার অভিনীত ২০০৯ সালের ‘এইট বাই টেন তাসভির’ সিনেমার শুটিংও হয়েছিল ক্যালগারিতে। একই অঞ্চলে হ্রদ, হিমবাহ, বরফঢাকা পাহাড়, বন ও উপত্যকার বৈচিত্র্য সিনেমা নির্মাতাদের আকৃষ্ট করেছে দীর্ঘদিন ধরে। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে বদলে যায় প্রকৃতির রং ও দৃশ্যপট। ফলে একই ভূদৃশ্যকে কখনো কানাডা, কখনো ইউরোপের পাহাড়ি অঞ্চল হিসেবে পর্দায় তুলে ধরা সম্ভব হয়। নির্বাক চলচ্চিত্রের যুগ থেকে আধুনিক ডিজিটাল সিনেমা—সময়ের সঙ্গে বদলেছে চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রযুক্তি। বদলেছে লেক লুইজের তীরের স্থাপনাও। কিন্তু রকি পর্বতমালা, হ্রদ ও হিমবাহের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখনো পর্যটক ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের আকর্ষণ করে চলেছে। তাই লেক লুইজ শুধু ভ্রমণের গন্তব্য নয়, হলিউড ও বলিউডের সিনেমার ইতিহাসের সঙ্গেও জড়িয়ে থাকা এক বিশেষ স্থান।

কানাডার লেক লুইজে মেরিলিন মনরো থেকে হৃতিক রোশনের সিনেমার স্মৃতি