শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি ও কারিগরি শিক্ষায় অস্ট্রেলিয়ার সহায়তা চান রাষ্ট্রপতি

দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি ও কারিগরি শিক্ষায় অস্ট্রেলিয়ার সহায়তা চান রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, অভিবাসন, কারিগরি শিক্ষা, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার করে বাস্তব অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বঙ্গভবনে ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং সাক্ষাতের তথ্য নিশ্চিত করেছে।সাক্ষাৎকালে অস্ট্রেলিয়ার গভর্নর জেনারেল স্যাম মস্টিনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানান হাইকমিশনার এবং আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছাপত্র প্রদান করেন। এ জন্য অস্ট্রেলিয়ার গভর্নর জেনারেলকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি।বাংলাদেশের জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির সুযোগ তৈরির প্রস্তাব দেন তিনি। অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি অনুসন্ধান, আড়ও পড়ুন,অনুমতিপত্র ছাড়া সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাকৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, চিকিৎসা প্রযুক্তি, লজিস্টিকস ও উৎপাদন খাতে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগামী নভেম্বরে ক্যানবেরায় অনুষ্ঠেয় সিনিয়র কর্মকর্তাদের বৈঠক এবং টিআইএফএ বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।দক্ষ জনশক্তি অভিবাসনের বিষয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল ও অন্যান্য কারিগরি খাতে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় কাজের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে বৃত্তি ও একাডেমিক বিনিময় কর্মসূচিতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং ঢাকায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরার একটি ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠায় অস্ট্রেলিয়ার সহায়তা কামনা করেন।বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কর্মশক্তিকে কর্মোপযোগী করে তুলতে অস্ট্রেলিয়ার টেকনিক্যাল অ্যান্ড ফার্দার এডুকেশন বা টিএএফই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রস্তাবও দেন রাষ্ট্রপতি।আড়ও পড়ুন,১৫ সাক্ষীর জবানবন্দিতে অভিযোগ প্রমাণের দাবি, রোববার শেষ হতে পারে সাক্ষ্যগ্রহণ কেয়ারগিভারসহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।সাক্ষাতে রোহিঙ্গা সংকটও আলোচনায় আসে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ সংকটে অস্ট্রেলিয়ার মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি সংকটের টেকসই সমাধানে দেশটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করেন। এ ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, কর সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং ইতিবাচক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে সংস্কারেরও প্রশংসা করেন হাইকমিশনার। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করতে অস্ট্রেলিয়া আগ্রহী বলেও জানান তিনি। সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাইকমিশনার ক্লিনটন পবকে উপস্থিত ছিলেন।