আমেরিকান জ্যাজ গায়িকা ও গীতিকার ক্যাসান্দ্রা উইলসন মারা গেছেন। দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে সংগীতাঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই দুইবার গ্র্যামি বিজয়ী শিল্পীর মৃত্যু হয়েছে ৭০ বছর বয়সে।গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ক্যাসান্দ্রা উইলসনের মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সংগীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চার দশকের বেশি সময় ধরে জ্যাজ সংগীতে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি।১৯৫৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসনে ক্যাসান্দ্রা ফোকস নামে জন্মগ্রহণ করেন উইলসন। মাত্র ছয় বছর বয়সে পিয়ানো বাজানো শুরু করেন তিনি। পরে ১২ বছর বয়সে গিটার শেখেন। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি আগ্রহ তাঁকে ধীরে ধীরে পেশাদার সংগীতজগতে নিয়ে যায়।১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে নিউইয়র্ক শহরে যাওয়ার পর স্যাক্সোফোনবাদক স্টিভ কোলম্যানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তিনি এম-বেস কালেক্টিভের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে সংগীতাঙ্গনে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন।১৯৮৮ সালে প্রকাশিত তাঁর অ্যালবাম ব্লু স্কাইস ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। এরপর ১৯৯৩ সালে ব্লু লাইট টিল ডাউন অ্যালবামের মাধ্যমে বড় ধরনের সাফল্য পান তিনি।তবে ক্যাসান্দ্রা উইলসনের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন আসে ১৯৯৭ সালে। নিউমুন ডটার অ্যালবামের জন্য বেস্ট জ্যাজ ভোকাল অ্যালবাম বিভাগে গ্র্যামি পুরস্কার পান তিনি।আড়ও পড়ুন,নিজের স্বভাব নিয়ে মুখ খুললেন ওমর সানীএরপর ২০০৯ সালে লাভারলি অ্যালবামের জন্য একই বিভাগে দ্বিতীয়বার গ্র্যামি পুরস্কার অর্জন করেন ক্যাসান্দ্রা উইলসন। তাঁর কণ্ঠের স্বাতন্ত্র্য এবং জ্যাজ সংগীতে নিজস্ব পরিবেশনশৈলী তাঁকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করে তোলে।সংগীতে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২২ সালে তাঁকে ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর দ্য আর্টস জ্যাজ মাস্টার হিসেবে ঘোষণা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে জ্যাজ সংগীতশিল্পীদের জন্য এটিকে অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মাননা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।দীর্ঘ সংগীতজীবনে অসংখ্য শ্রোতা ও সংগীতশিল্পীর ওপর প্রভাব রেখে গেলেন ক্যাসান্দ্রা উইলসন। তাঁর মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্যাজ সংগীতাঙ্গনেও নেমে এসেছে শোকের আবহ।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।