শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
খাবার আসে না ডোপামিন আসে

খাবার আসে না ডোপামিন আসে

ফুড নেভার কামস’ এমন একটি ব্যতিক্রমী ওয়েবসাইট যেখানে ব্যবহারকারী খাবার বেছে নিয়ে কার্টে যোগ করতে পারেন এবং অর্ডারও সম্পন্ন করতে পারেন। বাটার চিকেন বা বিবিমবাপের মতো খাবারের ছবি থেকে শুরু করে দাম চেকআউট ব্যবস্থা এবং ডেলিভারি ট্র্যাকার—সবকিছুই বাস্তব খাবার সরবরাহের মতো সাজানো। এমনকি অর্ডারের পর এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ফোনকলও আসতে পারে। কিন্তু বাস্তবে কোনো খাবারই আসে না। অর্থাৎ এখানে পণ্য নয় বরং কেনাকাটার পুরো অভিজ্ঞতাটিই মূল আকর্ষণ।ভারতের উদয়পুরের সফটওয়্যার ডেভেলপার পূর্বাংশ পারমার ও অংশুল শর্মা নিজেদের অনলাইন কেনাকাটার অভিজ্ঞতা থেকেই এই ধারণা তৈরি করেন। তাঁরা লক্ষ্য করেন মানুষ অনেক সময় বিভিন্ন পণ্য কার্টে জমা করে রাখে কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেনে না। তাঁদের নিজেদের ক্ষেত্রেও খাবার বা ইলেকট্রনিক পণ্য কার্টে যোগ করার অভ্যাস ছিল। এতে তাঁরা ধারণা করেন যে মানুষ সবসময় পণ্যটির জন্য আকৃষ্ট হয় না বরং পণ্য খোঁজা তুলনা করা কার্টে যোগ করা এবং অর্ডারের অপেক্ষার মধ্যেও একধআনন্দের রাসায়নিক’ বলা হলেও বিজ্ঞানীদের মতে এর ভূমিকা আরও জটিল। এটি কোনো পুরস্কার পাওয়ার প্রত্যাশা এবং কোনো কিছু পাওয়ার তাগিদের সঙ্গে সম্পর্কিত। স্নায়ুবরনের আনন্দ খুঁজে পেতে পারে।আড়ও পড়ুন,আউটসোর্সিং সেবায় বড় পরিবর্তন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাদএই ধারণার সঙ্গে ডোপামিনের বিষয়টি জড়িত। সাধারণভাবে ডোপামিনকে ‘আনন্দের রাসায়নিক’ বলা হলেও বিজ্ঞানীদের মতে এর ভূমিকা আরও জটিল। এটি কোনো পুরস্কার পাওয়ার প্রত্যাশা এবং কোনো কিছু পাওয়ার তাগিদের সঙ্গে সম্পর্কিত। স্নায়ুবিজ্ঞানী কেন্ট বেরিজের গবেষণায় ‘চাওয়া’ এবং ‘ভালো লাগা’ আলাদা প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়। অর্থাৎ কোনো কিছু পাওয়ার প্রবল ইচ্ছা থাকা মানেই সেটি পাওয়ার পর সমান মাত্রায় ভালো লাগবে এমন নয়।এই ধারণা থেকেই তৈরি হয়েছে ‘ডোপামিন সাইট’ নামের নতুন ধরনের ডিজিটাল অভিজ্ঞতা। এখানে ব্যবহারকারী বাস্তবে টাকা খরচ না করেও কেনাকাটা বা ভ্রমণের মতো অভিজ্ঞতা নিতে পারেন। উদ্যোক্তাদের আরেকটি ওয়েবসাইট ‘ট্রিপ নেভার লিভ্‌জ’-এ ভ্রমণের পরিকল্পনা করা যায়। গন্তব্য নির্বাচন থেকে শুরু করে ফ্লাইট আসন হোটেল ও বিভিন্ন কার্যক্রম বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও সেই ভার্চ্যুয়াল ফ্লাইট কখনো বাস্ত নিশ্চিত নয়। এটি কারও জন্য সাময়িক চাপমুক্তির উপায় হতে পারে। আবার একই সঙ্গে যে কেনাকাটার অভ্যাস কমানোর কথা সেই অভ্যাসই বারবারবে উড্ডয়ন করে না।তবে কাল্পনিক কেনাকাটা মানুষের আকাঙ্ক্ষা সত্যিই কমিয়ে দেয় কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। এটি কারও জন্য সাময়িক চাপমুক্তির উপায় হতে পারে। আবার একই সঙ্গে যে কেনাকাটার অভ্যাস কমানোর কথা সেই অভ্যাসই বারবার করার প্রবণতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।