শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
ভারতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়াদের নাম ফেরাতে বিশেষ উদ্যোগ

ভারতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়াদের নাম ফেরাতে বিশেষ উদ্যোগ

ভারতে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার এবং বুথ লেভেল কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বাদ পড়া ভোটারদের যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুক্রবার প্রকাশ্যে আসা নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেছে, তাঁদের মধ্যে প্রকৃত ও বৈধ ভোটারদের শনাক্ত করতে আগের ও বর্তমান তালিকা মিলিয়ে দেখা হবে। মৃত, স্থানান্তরিত এবং একাধিক জায়গায় নাম থাকা ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে অন্যদের নাম কী কারণে বাদ পড়েছে, তা পর্যালোচনা করা হবে। কমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শুধু ভোটারদের আবেদনের অপেক্ষায় থাকলে চলবে না। আড়ও পড়ুন,চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত হলে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও সক্রিয়ভাবে খুঁজে দেখতে হবে, কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে কি না। প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম-৬ পূরণ করিয়ে নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এদিকে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়া নিয়ে ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক ও প্রতিবাদ চলছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে নির্বাচনে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য ও যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো প্রয়োজন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসআইআর হওয়া ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এসব নামের মধ্যে মৃত, স্থানান্তরিত, একাধিক জায়গায় নিবন্ধিত এবং কথিত অবৈধ ভোটারদের নাম রয়েছে। তবে বিরোধীদের মূল আপত্তি, বৈধ নাগরিকদের নামও বাদ পড়ে থাকতে পারে। ভোটারসংখ্যার পরিসংখ্যান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। প্রতিবেদনে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এসআইআর প্রক্রিয়ার আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোতে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৯৫ কোটি ২০ লাখ। আড়ও পড়ুন,খসড়া তালিকায় তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮১ কোটি ৭৯ লাখে। যদিও নাম বাদ পড়া প্রত্যেক ব্যক্তির অবস্থা ও যোগ্যতা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন। তাঁদের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পক্ষপাতের প্রভাব রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুললেও এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন। অন্যদিকে, অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি কতজনের নাম কোন কারণে বাদ গেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রকাশের দাবিও উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের নতুন উদ্যোগে বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এই উদ্যোগের মাধ্যমে কতজন ভোটার তালিকায় ফিরতে পারবেন, তা যাচাই কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।