রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
৫০ লাখ টাকা দাবি ও মারধরের ঘটনায় তোলপাড়

৫০ লাখ টাকা দাবি ও মারধরের ঘটনায় তোলপাড়

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ব্যবসায়িক বিরোধ ও টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে সহযোগী সংগঠনের চার নেতাকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এই হামলায় আহত চারজনের মধ্যে একজনের পায়ের হাড় ভেঙে গেছে এবং তাদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার দুপুরে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। গত শনিবার রাতে নড়িয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বৈশাখীপাড়া এলাকায় এই মারামারির ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত বিএনপি নেতার নাম সালাউদ্দিন ছৈয়াল, যিনি নড়িয়া পৌরসভা বিএনপির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। অন্যদিকে আহতরা হলেন নড়িয়া উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নোমান চোকদার, নড়িয়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদ খান, যুগ্ম আহ্বায়ক তাজুল শিকদার এবং পৌরসভা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব দেওয়ান। স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, আহত নেতারা ঠিকাদারি এবং জমি কেনাবেচার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এসব ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন ছৈয়ালের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলে আসছিল। গত শনিবার সন্ধ্যার পর সালাউদ্দিন ওই চারজনকে বৈশাখীপাড়া এলাকায় ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছানোর পর তার ২০ থেকে ২৫ জন সমর্থক তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আহতদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মাসুদ খান অভিযোগ করেছেন,আরও পড়ুন,পদ্মায় অভিযানে দুই লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ সালাউদ্দিন তাদের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন এবং টাকা দিতে অস্বীকার করায় বন্দুকের বাঁট দিয়ে তাদের পিটিয়ে আহত করা হয়। তবে অভিযুক্ত সালাউদ্দিন ছৈয়াল দাবি করেছেন, গত চার মাসে তিনি ব্যবসায় দুই দফায় তাদের ৪৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু তারা মুনাফা বা মূলধন কোনোটিই ফেরত দিচ্ছিলেন না। শনিবার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তারা তালবাহানা করায় কথা কাটাকাটি ও একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তিনি তাদের থামানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি বলে জানান। শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক তমাল কুমার দাস জানান, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং এক্স-রে পরীক্ষার পর তাজুল নামের একজনের বাম পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।