অপরাধ করলে দলীয় পরিচয়েও ছাড় নেই বলছে বিএনপি
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের আগে বলেছিলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজ যে দলেরই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি নিজ দলের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম আসার পর তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে দলীয় সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। দ্রুত পদত্যাগ না করলে আরও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।আড়ও পড়ুন,তিন কারা কর্মকর্তার সম্পদ বিবরণী চাইল দুদক বিএনপির নেতারা বলছেন, দলের নেতাকর্মী হলেও অপরাধের অভিযোগে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। এর আগে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া নেতাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন পর্যায়ে বহিষ্কারসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে দলটি। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আইনগত তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ফলাফলের ওপরই অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ভর করবে। দলীয় এমপির বিরুদ্ধে পদত্যাগের নির্দেশের এই ঘটনা বিএনপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, এই সিদ্ধান্তের পর দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে বিএনপি কী ধরনের সাংগঠনিক ও আইনগত পদক্ষেপ নেয়।