বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
কমলনগরে যুবককে অপহরণ করে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

কমলনগরে যুবককে অপহরণ করে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মো. আজাদ উদ্দিন নামে এক যুবককে অপহরণ করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে দোকানে যাওয়ার পথে অপহরণের শিকার হন তিনি। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে কমলনগর থানায় অভিযোগ করেছেন তাঁর শ্বশুর মো. ছানা উল্যাহ। অপহৃত যুবককে উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। অপহৃত আজাদ উদ্দিনের বয়স ৩৫ বছর। তিনি উপজেলার চর ফলকন গ্রামের ছায়েদুল হকের ছেলে। উপজেলা সদর হাজিরহাট বাজারে তাঁর একটি কনফেকশনারির দোকান রয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে দোকানের উদ্দেশে রওনা হন আজাদ। বাজারের কাছাকাছি পৌঁছালে পথিমধ্যে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁর গতিরোধ করে। পরে তাঁকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায় তারা। কমলনগর থানার উপপরিদর্শক মো. ফারুক হোসেন জানান, বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাড়ি থেকে বাজারে আসার পথে কয়েকজন ব্যক্তি আজাদের গতিরোধ করে তাঁকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে যায়।আরও পড়ুন,ভবনের অংশ ধসে আহত কেরামত উল্লাহর মৃত্যুখবর পাওয়ার পর থেকেই তাঁকে উদ্ধারে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে। পুলিশ জানায়, অপহরণকারীরা আজাদের শ্বশুরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। তবে সন্ধ্যার পর থেকে তারা একের পর এক স্থান পরিবর্তন করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যে সিএনজিতে করে আজাদকে অপহরণ করা হয়েছে, সেটির নম্বর লক্ষ্মীপুর-ঠ-১১-৫৮৩৬। সিএনজিচালকের মুঠোফোন নম্বরও সংগ্রহ করেছে পুলিশ। তবে বর্তমানে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। উপপরিদর্শক ফারুক হোসেন আরও জানান, সিএনজিটির নম্বর উল্লেখ করে জেলার বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে। কোথাও গাড়িটির সন্ধান পাওয়া গেলে সেটি আটকানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অপহৃত আজাদ উদ্দিনকে দ্রুত উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পাঠাওয়ের ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁসের দাবি

ডিজিটাল প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান পাঠাওয়ের প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য নিজেদের কাছে থাকার দাবি করেছে একটি সাইবার অপরাধী চক্র। এসব তথ্য প্রকাশ না করার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটির কাছে চার লাখ মার্কিন ডলার দাবি করেছে চক্রটি। তবে ডার্ক ওয়েবে প্রকাশিত তথ্য ফাঁসের দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ডেইলি ডার্ক ওয়েব বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ বিষয়ে একটি পোস্ট প্রকাশ করে। সেখানে সাইবার অপরাধী চক্রটির দাবির পাশাপাশি ডার্ক ওয়েবে দেওয়া পোস্টের স্ক্রিনশটও প্রকাশ করা হয়। চক্রটির দাবি, তাদের কাছে পাঠাওয়ের প্রায় ১৩৩ গিগাবাইট তথ্য রয়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে প্রায় ২৫ কোটি রেকর্ড এবং ৫৯১টি তথ্যভান্ডার রয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা। সবচেয়ে বড় তথ্যভান্ডারে ১ কোটি ৯০ লাখ ৬৩ হাজার ৯১৮টি হিসাবের তথ্য থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চক্রটির দাবি অনুযায়ী, এসব তথ্যের মধ্যে ব্যবহারকারীদের মুঠোফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ছবি, ফেসবুক পরিচিতি ও বাসার ঠিকানা রয়েছে। প্রায় ৫৭ লাখ বাসার ঠিকানাও তাদের কাছে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঠাওয়ের কর্মী, ব্যবসায়ী ও চালকদের বিভিন্ন তথ্য এবং ব্যাংক হিসাব, অর্থ লেনদেন ও পণ্য সরবরাহের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য থাকার দাবিও করেছে তারা।আরও পড়ুন,নতুন অবকাঠামো যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডার্ক ওয়েবে দেওয়া পোস্টে তথ্য প্রকাশ না করার বিনিময়ে পাঠাওয়ের কাছে চার লাখ মার্কিন ডলার দাবি করা হয়েছে। নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ না করলে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক, কর্মী ও প্রশাসনিক তথ্য প্রকাশের হুমকিও দিয়েছে চক্রটি। এদিকে বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার লিখিত বিবৃতিতে পাঠাও জানিয়েছে, দুষ্কৃতকারীরা ব্যবহারকারীদের নাম, ই-মেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ কিছু ব্যক্তিগত তথ্য অ্যাকসেস করেছে বলে তারা জানতে পেরেছে। তবে চক্রটির দাবি করা সব তথ্যের পরিমাণ ও ধরন পাঠাওয়ের বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, গত ৪ অক্টোবর সাইবার নিরাপত্তাসংক্রান্ত একটি ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিস্টেম সাময়িকভাবে অফলাইনে নেওয়া হয়েছিল। এর ফলে পাঠাওয়ের বিভিন্ন সেবা কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়। পরে সেবাগুলো পুনরায় চালু করা হয়েছে। পাঠাওয়ের ভাষ্য, ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পরপরই তা নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাইরের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদেরও যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে সিস্টেম পুরোপুরি স্থিতিশীল করার কাজ চলছে। এ কারণে ব্যবহারকারীরা সাময়িকভাবে কিছু কারিগরি সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন।

পাঠাওয়ের ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁসের দাবি

পলাতকরা দেশ অশান্তের চেষ্টা করছে দাবি রিজভীর

দেশের চলমান পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।রিজভী অভিযোগ করেন, পলাতক ফ্যাসিস্টরা দেশের বাইরে থেকে দেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, দেশের ভেতরে থাকা গুপ্ত ও সুপ্তরা এতে বাতাস দিচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি সমাবেশে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ তুলে ধরেননি।জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির দাবিতে একটি পক্ষ সড়কে নেমেছে। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু বাংলাদেশের নয় বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশও নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে বিরোধী দলের নেতাদের আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খবরাখবর রাখার আহ্বান জানান তিনি।জ্বালানি সংকটের মধ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর লংমার্চ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর দাবি, জামায়াত প্রায় এক হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চ করেছে। এত গাড়িতে যে পরিমাণ জ্বালানি ব্যয় হয়েছে তা সাশ্রয় করা গেলে রাষ্ট্রের কিছুটা সাশ্রয় হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বরের বক্তব্যে রিজভী রংপুরমুখী লংমার্চে ৪৫০টি গাড়ি ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে সমালোচনা করেছিলেন।আড়ও পড়ুন,সংসদে নোটিশের গুরুত্ব না পেয়ে রাজপথে বিরোধী দল: শফিকুর রহমানরিজভী আরও বলেন, নানা সংকটের মধ্যেও সরকার জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার অর্থনীতিকে উন্নতির দিকে নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ করছে।বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে রিজভী এর আগেও বলেছেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশে সরকারের সমালোচনা ও কর্মসূচি পালনের সুযোগ রয়েছে। তবে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী কর্মসূচির নামে সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতা তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয়।এদিকে জ্বালানি সংকটের কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবের কথাও তুলে ধরেছেন রিজভী। তিনি দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়ে দেশের জ্বালানি সংকটের পুরো দায় সরকারের ওপর চাপানো ঠিক নয়।নয়াপল্টনের সমাবেশে এসব বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি জ্বালানি সংকট এবং বিরোধী দলগুলোর কর্মসূচি নিয়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরেন রুহুল কবীর রিজভী।

পলাতকরা দেশ অশান্তের চেষ্টা করছে দাবি রিজভীর