ঋণের প্রতিশ্রুতি হ্রাস
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবাহে বড় ধরনের স্থবিরতার চিত্র ফুটে উঠেছে চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই–সেপ্টেম্বর) বিদেশি ঋণের হালনাগাদ তথ্যে। আজ সোমবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, আলোচিত তিন মাসে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), চীন, রাশিয়া কিংবা ভারতের মতো প্রধান কোনো আন্তর্জাতিক উন্নয়ন-সহযোগী নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। বড় উন্নয়ন-সহযোগীদের মধ্যে কেবল জাপান মাত্র ৩৫ লাখ ডলারের নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকালে আগামী ৫ বছরে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের বড় ধরনের বিনিয়োগ চুক্তির প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যা এই মন্দা কাটাতে সহায়ক হতে পারে। নতুন প্রতিশ্রুতির গতি শ্লথ হলেও আগের প্রতিশ্রুত ঋণ ছাড় করার ক্ষেত্রে বড় অর্থায়নকারী সংস্থাগুলো এগিয়ে রয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি ১৯ কোটি ৬৫ লাখ ডলার ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক। ১৬ কোটি ২১ লাখ ডলার ছাড় করে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে এডিবি। এছাড়া ভারত সাড়ে ১০ কোটি ডলার, রাশিয়া ২ কোটি ডলার এবং চীন দেড় কোটি ডলার ছাড় করেছে। আরও পড়ুন,ই-টিন থাকলেই সবার ৫ হাজার টাকা জরিমানা নয়: এনবিআরসব মিলিয়ে তিন মাসে বিভিন্ন উন্নয়ন-সহযোগী দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে মোট ৬৬ কোটি ডলার অর্থছাড় পেয়েছে বাংলাদেশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের (১১৫ কোটি ডলার) তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। সব মিলিয়ে জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে মোট বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে মাত্র ১২৭ কোটি ডলারের। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদের দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া পরিশোধের বোঝা। একই সময়ে প্রাপ্ত অর্থছাড়ের দ্বিগুণেরও বেশি টাকা বাংলাদেশকে শোধ করতে হয়েছে। ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে পূর্ব গৃহীত ঋণের আসল ও সুদ বাবদ বাংলাদেশকে পরিশোধ করতে হয়েছে প্রায় ১৩৫ কোটি ডলার। একদিকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতির ঘাটতি ও অর্থছাড় অর্ধেকে নেমে আসা, অন্যদিকে শোধের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে দেশের সার্বিক বৈদেশিক মুদ্রার ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।