শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
 তুলতেই কৌঁসুলিকে থামালেন বিচারক

তুলতেই কৌঁসুলিকে থামালেন বিচারক

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় রিমান্ড শুনানি হয়েছে। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে শুনানি হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুললে বিচারক তাকে মামলার মূল ঘটনা নিয়ে কথা বলতে বলেন।রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পুলিশ নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয়। ওই রাতেই মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ নজরুল ইসলাম, মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে মামলা করেন।সোমবার দুপুরে নজরুল ইসলাম ও মাকছুদাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দিলেও আসামিপক্ষ তা বাতিল করে জামিনের আবেদন করে।আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান আদালতে বলেন, নজরুল ইসলাম চারবারের এমপি এবং বয়স্ক ব্যক্তি। তার দাবি, রিমান্ডে নেওয়ার মতো যথেষ্ট কারণ রাষ্ট্রপক্ষ দেখাতে পারেনি। তিনি তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে জামিনের আবেদন করেন।অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী অভিযোগ করেন, মরিয়মকে বিয়ে করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয় ছিল এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তিনি মামলাটিকে গুরুত্ব দিয়ে আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।শুনানির এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুলে ধরলে বিচারক তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, “এ মামলার ঘটনায় থাকি। পলিটিকাল বিষয়ে না যাই।আড়ও পড়ুন,লংমার্চের সময় বিদেশে জামায়াতের ৩৪ সংসদ সদস্য এরপর তিনি মামলার অভিযোগ ও তদন্তের প্রয়োজনীয়তার মধ্যেই বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখেন।উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।এদিকে এজাহারে মরিয়মের বাবা অভিযোগ করেছেন, গত জুনে নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকছুদা তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে পরিবারের কাছে মরিয়ম জানিয়েছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।এর আগে জুলাইয়ে একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে নজরুল ইসলামের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়। পরে নজরুল ইসলাম ওই তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিকস্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় এখন আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে। রিমান্ডে পুলিশ ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি, অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্ত করবে।